23/05/2026
“মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজার শরীফে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও উরস শরীফ উপলক্ষ্যে গিলাফ অর্পণ”
---------------------------------------------------------------------------------------------
সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজার শরীফে সংঘটিত ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬ইং, বাদ মাগরিব আশিক্বীনে আউলিয়া পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন এবং পবিত্র উরস শরীফ উপলক্ষ্যে রওজা শরীফে গিলাফ মোবারক অর্পণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব প্রদান করেন মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফের গদিনশীন পীর ও মুর্শীদ ক্বিবলা, শাহ্ মুজাদ্দেদ সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী (মা.জি.আ.)-এর একমাত্র শাহজাদা, আশিক্বীনে আউলিয়া পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী মুক্তাদির নূরী আল সুরেশ্বরী।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আশিক্বীনে আউলিয়া পরিষদের মাননীয় উপদেষ্টা হযরত ওয়াহিদ হোসাইন চিশতী আঙ্গারা শাহ্ (মা.জি.আ.), খাদেম সাহেব, আজমীর শরীফ, ভারত। আরো উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. আহসানুল হাদী ঢা.বি, পীর সাহেব লালকুঠি দরবার শরীফ, শাহ্ সূফী এইচ. এম. ড. মাসুদ রেজভী চিশতী, পরিচালক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিভাগ সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং আমিনুল হক স্বপন, আলহাজ্জ্ব ফেরদৌস আলম চৌধুরী, দেওয়ান আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ আশিক্বীনে আউলিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।
বক্তব্যে প্রফেসর ডক্টর সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী মুক্তাদির নূরী আল সুরেশ্বরী বলেন, “বাংলার জমিনে আউলিয়া-ই-কিরামের দরবারসমূহ যুগ যুগ ধরে শান্তি, মানবতা, সহনশীলতা ও ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্যের শিক্ষা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজার শরীফে সংঘটিত ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দেশবাসীকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতেই আঘাত হানে না, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ঐতিহ্যবাহী সূফী সংস্কৃতির জন্যও হুমকিস্বরূপ। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং জড়িত ধর্মীয় উগ্রবাদী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
প্রফেসর ড. আহসানুল হাদী বলেন, “বাংলাদেশের হাজার বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতি, সূফী ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে আউলিয়া-ই-কিরামের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে। যারা মাজার ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সমাজে অস্থিরতা ও বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।”এ সময় বক্তাগণ আউলিয়া-ই-কিরামের আদর্শ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা, মানবপ্রেম, সহনশীলতা ও ইসলামের শান্তির বাণী সমাজে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সময় বক্তাগণ আউলিয়া-ই-কিরামের আদর্শ, আধ্যাত্মিক শিক্ষা, মানবপ্রেম, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ইসলামের শান্তির বাণী সমাজে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিশেষে, রওজাপাকে গিলাফ মোবারক অর্পণ এবং দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং বিশ্ব মানবতার মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত ঘোষনা করা হয়।
মিরপুরে হযরত শাহ্ আলী বাগদাদী (রহ.)-এর মাজার শরীফে সংঘটিত ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দৃষ্টা.....