07/08/2025
দেবী লক্ষ্মীর ধ্যান মন্ত্র:
ওঁ পাশাক্ষমালিকাম্ভোজ-সৃণিভির্ষাম্য-সৌম্যয়োঃ।
পদ্মাসনাস্থাং ধ্যায়েচ্চ শ্রিয়ং ত্রৈলোক্যমাতরম্।।
গৌরবর্ণাং সুরুপাঞ্চ সর্বলঙ্কার-ভূষিতাম্।
রৌক্মপদ্ম-ব্যগ্রকরাং বরদাং দক্ষিণেন তু।।
অষ্টলক্ষ্মীস্তোত্রম্
॥ আদিলক্ষ্মী ॥
সুমনসবন্দিত সুন্দরি মাধবি চন্দ্র সহোদরি হেমময়ে ।
মুনিগণমণ্ডিত মোক্ষপ্রদায়িনি মঞ্জুল়ভাষিণি বেদনুতে ॥
পঙ্কজবাসিনি দেবসুপূজিত সদ্গুণবর্ষিণি শান্তিয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি আদিলক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ১॥
॥ ধান্যলক্ষ্মী ॥
অহিকলি কল্মষনাশিনি কামিনি বৈদিকরূপিণি বেদময়ে ।
ক্ষীরসমুদ্ভব মঙ্গলরূপিণি মন্ত্রনিবাসিনি মন্ত্রনুতে ॥
মঙ্গলদায়িনি অম্বুজবাসিনি দেবগণাশ্রিত পাদয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি ধান্যলক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ২॥
॥ ধৈর্যলক্ষ্মী ॥
জয়বরবর্ণিনি বৈষ্ণবি ভার্গবি মন্ত্রস্বরূপিণি মন্ত্রময়ে ।
সুরগণপূজিত শীঘ্রফলপ্রদ জ্ঞানবিকাসিনি শাস্ত্রনুতে ॥
ভবভয়হারিণি পাপবিমোচনি সাধুজনাশ্রিত পাদয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি ধৈর্যলক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ৩॥
॥ গজলক্ষ্মী ॥
জয়জয় দুর্গতিনাশিনি কামিনি সর্বফলপ্রদ শাস্ত্রময়ে ।
রথগজ তুরগপদাদি সমাবৃত পরিজনমণ্ডিত লোকনুতে ॥
হরিহর ব্রহ্ম সুপূজিত সেবিত তাপনিবারিণি পাদয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি গজলক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ৪॥
॥ সন্তানলক্ষ্মী ॥
অহিখগ বাহিনি মোহিনি চক্রিণি রাগবিবর্ধিনি জ্ঞানময়ে ।
গুণগণবারিধি লোকহিতৈষিণি স্বরসপ্ত ভূষিত গাননুতে ॥
সকল সুরাসুর দেবমুনীশ্বর মানববন্দিত পাদয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি সন্তানলক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ৫॥
॥ বিজয়লক্ষ্মী ॥
জয় কমলাসনি সদ্গতিদায়িনি জ্ঞানবিকাসিনি গানময়ে ।
অনুদিনমর্চিত কুঙ্কুমধূসর-ভূষিত বাসিত বাদ্যনুতে ॥
কনকধরাস্তুতি বৈভব বন্দিত শঙ্কর দেশিক মান্য পদে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি বিজয়লক্ষ্মি জয় পালয় মাম্ ॥ ৬॥
॥ বিদ্যালক্ষ্মী ॥
প্রণত সুরেশ্বরি ভারতি ভার্গবি শোকবিনাশিনি রত্নময়ে ।
মণিময়ভূষিত কর্ণবিভূষণ শান্তিসমাবৃত হাস্যমুখে ॥
নবনিধিদায়িনি কলিমলহারিণি কামিত ফলপ্রদ হস্তয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি বিদ্যালক্ষ্মি সদা পালয় মাম্ ॥৭॥
॥ ধনলক্ষ্মী ॥
ধিমিধিমি ধিংধিমি ধিংধিমি ধিংধিমি দুন্দুভি নাদ সুপূর্ণময়ে ।
ঘুমঘুম ঘুংঘুম ঘুংঘুম ঘুংঘুম শঙ্খনিনাদ সুবাদ্যনুতে ॥
বেদপুরাণেতিহাস সুপূজিত বৈদিকমার্গ প্রদর্শয়ুতে ।
জয়জয় হে মধুসূদন কামিনি ধনলক্ষ্মি রূপেণ পালয় মাম্ ॥ ৮॥
শ্রী শ্রী লক্ষ্মীর প্রণাম মন্ত্র:
ওঁ বিশ্বরূপস্য ভার্যাসি পদ্মে পদ্মালয়ে শুভে
সর্বতঃ পাহি মাং দেবী মহালক্ষ্মী নমস্তুতে।
বৃহস্পতিবারের ব্রতকথা
শরৎ পূর্ণিমার নিশি, নির্মল গগন
মন্দ মন্দ বহিতেছে মলয় পবন
লক্ষ্মীদেবী বামে করি, বসি নারায়ণ
বৈকুণ্ঠ ধামেতে বসি করে আলাপন
হেনকালে বীণা হাতে আসি মুনিবর
হরি গুণগানে মত্ত হইয়া বিভোর
গান সম্বরিয়া উভে বন্দনা করিল
বসিতে আসন তারে নারায়ণ দিল
মধুর বচনে লক্ষ্মী জিজ্ঞাসিল তায়
কিবা মনে করি মুনি আসিলে হেথায়
কহে মুনি তুমি চিন্ত জগতের হিত
সবার অবস্থা আছে তোমার বিদিত
সুখেতে আছয়ে যত মর্ত্যবাসীগণ
বিস্তারিয়া মোর কাছে করহ বর্ণন
লক্ষ্মীমার হেন কথা শুনি মুনিবর
কহিতে লাগিলা তারে জুড়ি দুই কর
অপার করুণা তোমার, আমি ভাগ্যবান
মর্ত্যলোকে নাহি দেখি কাহার কল্যাণ
সেথায় নাই মা আর সুখ শান্তি লেশ
দুর্ভিক্ষ অনলে মাগো পুড়িতেছে দেশ
রোগ-শোক নানা ব্যাধি কলিতে সবায়
ভুগিতেছে সকলেতে, করে হায় হায়
অন্ন-বস্ত্র অভাবেতে আত্মহত্যা করে
স্ত্রী-পুত্র ত্যাজি সবাই যায় দেশান্তরে
স্ত্রী-পুরুষ সবে করে ধর্ম পরিহার
সদা চুরি প্রবঞ্চনা মিথ্যা অনাচার
তুমি মাগো জগতেরও সর্বহিতকারী
সুখ-শান্তি সম্পত্তির তুমি অধিকারী
স্থির হয়ে রহ যদি প্রতি ঘরে ঘরে
তবে কি জীবের এত দুঃখ হতে পারে?
নারদেরও বাক্য শুনি লক্ষ্মী বিষাদিতা
কহিলেন মুনি প্রতি দোষ দাও বৃথা
নিজ কর্মফলে সবে করে দুঃখ ভোগ
অকারণে মোর প্রতি কর অনুযোগ
শুন হে নারদ বলি যথার্থ তোমায়
মম অংশে জন্ম লয় নারী সমুদয়
তারা যদি নিজ ধর্ম রক্ষা নাহি করে
তবে কি অশান্তি হয় প্রতি ঘরে ঘরে
লক্ষ্মীর বচন শুনি মুনি কহে ক্ষুন্ন মনে
কেমনে প্রসন্ন মাতা হবে নারীগণে
কিভাবেতে পাবে তারা তব পদছায়া
দয়াময়ী তুমি মাগো না করিলে দয়া
মুনিরও বাক্যে লক্ষ্মীর দয়া উপজিল
মধুরও বচনে তারে বিদায় করিল
নারীদের সর্ব দুঃখ যে প্রকারে যায়
কহ তুমি নারায়ণ তাহার উপায়
শুনিয়া লক্ষ্মীরও বচন, কহে লক্ষ্মীপতি
কী হেতু উতলা প্রিয়ে, স্থির কর মতি
প্রতি গুরুবারে মিলি যত বামাগণে
করিবে তোমার ব্রত ভক্তিযুক্ত মনে
নারায়ণের বাক্যে লক্ষ্মী অতি হৃষ্টমন
ব্রত প্রচারিতে মর্ত্যে করিল গমন
মর্ত্যে আসি ছদ্মবেশে ভ্রমে নারায়ণী
দেখিলেন বন মধ্যে বৃদ্ধা বসিয়া আপনি
সদয় হইয়া লক্ষ্মী জিজ্ঞাসিল তারে
কহ মাগো কী হেতু এ ঘোর কান্তারে
বৃদ্ধা কহে শোন মাতা, আমি অভাগিনী
কহিল সে লক্ষ্মী প্রতি আপন কাহিনী
পতি-পুত্র ছিল মোর লক্ষ্মীযুক্ত ঘর
এখন সব ছিন্নভিন্ন, যাতনাই সার
যাতনা সহিতে নারি, এসেছি কানন
ত্যাজিব জীবন আজি করেছি মনন
নারায়ণী বলে শুন আমার বচন
আত্মহত্যা মহাপাপ, নরকে গমন
যাও মা গৃহেতে ফিরি কর লক্ষ্মী ব্রত
আবার আসিবে সুখ তব পূর্ব মতো
গুরুবারে সন্ধ্যাকালে মিলি এয়োগণ
করিবে লক্ষ্মীর ব্রত করি এক মন
কহি বাছা পূজা হেতু যাহা প্রয়োজন
মন দিয়া শুনি লও আমার বচন
জলপূর্ণ ঘটে দিবে সিঁদুরের ফোঁটা
আম্রের পল্লব দিবে তাহে এক গোটা
আসন সাজায়ে দিবে তাতে গুয়া-পান
সিঁদুর গুলিয়া দিবে ব্রতের বিধান
ধূপ-দীপ জ্বালাইয়া রাখিবে ধারেতে
শুনিবে পাঁচালী কথা দূর্বা লয়ে হাতে
একমনে ব্রত কথা করিবে শ্রবণ
সতত লক্ষ্মীর মূর্তি করিবে চিন্তন
ব্রত শেষে উলুধ্বনি দিয়ে প্রণাম করিবে
ত্রয়োগণে সবে মিলি সিঁদুর পরিবে
দৈবযোগে একদিন ব্রতের সময়
দীন দুঃখী নারী একজন আসি উপনীত হয়
পতি তার চির রুগ্ন, অক্ষম অর্জনে
ভিক্ষা করি অতি কষ্টে খায় দুইজনে
অন্তরে দেবীরে বলে আমি অতি দীনা
স্বামীরে কর মা সুস্থ আমি ভক্তি হীনা
লক্ষ্মীরও প্রসাদে দুঃখ দূর হইল তার
নীরোগ হইল স্বামী, ঐশ্বর্য অপার
কালক্রমে শুভক্ষণে জন্মিল তনয়
হইল সংসার তার সুখের আলয়
এইরূপে লক্ষ্মীব্রত করি ঘরে ঘরে
ক্রমে প্রচারিত হল দেশ দেশান্তরে
এই ব্রত করিতে যে বা দেয় উপদেশ
লক্ষ্মীদেবী তার প্রতি তুষ্ট সবিশেষ
এই ব্রত দেখি যে বা করে উপহাস
লক্ষ্মীর কোপেতে তার হয় সর্বনাশ
পরিশেষে হল এক অপূর্ব ব্যাপার
যেভাবে ব্রতের হয় মাহাত্ম্য প্রচার
বিদর্ভ নগরে এক গৃহস্থ ভবনে
নিয়োজিত বামাগণ ব্রতের সাধনে
ভিন্ন দেশবাসী এক বণিক তনয়
সি উপস্থিত হল ব্রতের সময়
বহুল সম্পত্তি তার ভাই পাঁচজন
পরস্পর অনুগত ছিল সর্বক্ষণ
ব্রত দেখি হেলা করি সাধুর তনয়
বলে এ কিসের ব্রত, এতে কিবা ফলোদয়
বামাগণ বলে শুনি সাধুর বচন
লক্ষ্মীব্রত করি সবে সৌভাগ্য কারণ
সদাগর শুনি ইহা বলে অহঙ্কারে
অভাবে থাকিলে তবে পূজিব উহারে
ধনজন সুখভোগ যা কিছু সম্ভব
সকল আমার কাছে আর কিবা অভাব
কপালে না থাকে যদি লক্ষ্মী দিবে ধন
হেন বাক্য কভু আমি না করি শ্রবণ
ধনমদে মত্ত হয়ে লক্ষ্মী করি হেলা
নানা দ্রব্যে পূর্ণ তরি বাণিজ্যেতে গেলা
গর্বিত জনেরে লক্ষ্মী সইতে না পারে
সর্ব দুঃখে দুঃখী মাগো করেন তাহারে
বাড়ি গেল, ঘর গেল, ডুবিল পূর্ণ তরি
চলে গেল ভ্রাতৃভাব, হল যে ভিখারী
কি দোষ পাইয়া বিধি করিলে এমন
অধম সন্তান আমি অতি অভাজন
সাধুর অবস্থা দেখি দয়াময়ী ভাবে
বুঝাইব কেমনে ইহা, মনে মনে ভাবে
নানা স্থানে নানা ছলে ঘুরাইয়া ঘানি
অবশেষে লক্ষ্মীর ব্রতের স্থানে দিলেন আনি
মনেতে উদয় হল কেন সে ভিখারী
অপরাধ ক্ষম মাগো কুপুত্র ভাবিয়া
অহঙ্কর দোষে, দেবী শিক্ষা দিলা মোরে
অপার করুণা তাই বুঝালে দীনেরে
বুঝালে যদি বা মাগো, রাখগো চরণে
ক্ষমা কর ক্ষমাময়ী আশ্রিত জনেরে
সত্যরূপিনী তুমি কমলা, তুমি যে মা
ক্ষমাময়ী নাম তব দীনে করি ক্ষমা
তুমি বিনা গতি নাই, এ তিন ভুবনে
স্বর্গেতে স্বর্গের লক্ষ্মী ত্রিবিধ মঙ্গলে
তুমি মা মঙ্গলা দেবী সকল ঘরেতে
বিরাজিছ মা তুমি লক্ষ্মী রূপে ভূতলে
দেব নর সকলের সম্পদরূপিনী
জগৎ সর্বস্ব তুমি ঐশ্বর্য দায়িনী
সর্বত্র পূজিতা তুমি ত্রিলোক পালিনী
সাবিত্রী বিরিঞ্চিপুরে বেদের জননী
ক্ষমা কর এ দাসের অপরাধ যত
তোমা পদে মতি যেন থাকে অবিরত
শ্রেষ্ঠ হতে শ্রেষ্ঠ তারা পরমা প্রকৃতি
কোপাদি বর্জিতা তুমি মূর্তিমতী ধৃতি
সতী সাধ্বী রমণীর তুমি মা উপমা
দেবগণ ভক্তি মনে পূজে সবে তোমা
রাস অধিষ্ঠাত্রী দেবী তুমি রাসেশ্বরী
সকলেই তব অংশ যত আছে নারী
কৃষ্ণ প্রেমময়ী তুমি কৃষ্ণ প্রাণাধিকা
তুমি যে ছিলে মাগো দ্বাপরে রাধিকা
প্রস্ফুটিত পদ্মবনে তুমি পদ্মাবতী
মালতি কুসুমগুচ্ছে তুমি মা মালতি
বনের মাঝারে তুমি মাগো বনরাণী
শত শৃঙ্গ শৈলোপরি শোভিত সুন্দরী
রাজলক্ষ্মী তুমি মাগো নরপতি পুরে
সকলের গৃহে লক্ষ্মী তুমি ঘরে ঘরে
দয়াময়ী ক্ষেমঙ্করী অধমতারিণী
অপরাধ ক্ষমা কর দারিদ্র্যবারিণী
পতিত উদ্ধার কর পতিতপাবনী
অজ্ঞান সন্তানে কষ্ট না দিও জননী
অন্নদা বরদা মাতা বিপদনাশিনী
দয়া কর এবে মোরে মাধব ঘরণী
এই রূপে স্তব করি ভক্তিপূর্ণ মনে
একাগ্র মনেতে সাধু ব্রত কথা শোনে
ব্রতের শেষে নত শিরে করিয়া প্রণাম
মনেতে বাসনা করি আছে নিজধাম
গৃহেতে আসিয়া বলে লক্ষ্মীব্রত সার
সবে মিলি ব্রত করি প্রতি গুরুবার
বধুরা অতি তুষ্ট সাধুর বাক্যেতে
ব্রত আচরণ করে সভক্তি মনেতে
নাশিল সাধুর ছিল যত দুষ্টু সহচর
দেবীর কৃপায় সম্পদ লভিল প্রচুর
আনন্দে পূর্ণিত দেখে সাধুর অন্তর
পূর্ণতরী উঠে ভাসি জলের উপর
সাধুর সংসার হল শান্তি ভরপুর
মিলিল সকলে পুনঃ ঐশ্বর্য প্রচুর
এভাবে নরলোকে হয় ব্রতের প্রচার
মনে রেখ সংসারেতে লক্ষ্মীব্রত সার
এ ব্রত যে রমণী করে এক মনে
দেবীর কৃপায় তার পূর্ণ ধনে জনে
অপুত্রার পুত্র হয়, নির্ধনের ধন
ইহলোকে সুখী অন্তে বৈকুণ্ঠে গমন
লক্ষ্মীর ব্রতের কথা বড়ই মধুর
অতি যতনেতে রাখ তাহা আসন উপর
যে জন ব্রতের শেষে স্তব পাঠ করে
অভাব ঘুচিয়া যায় লক্ষ্মী দেবীর বরে
লক্ষ্মীর পাঁচালী কথা হল সমাপন
ভক্তি করি বর মাগো যার যাহা মন
সিঁথিতে সিঁদুর দাও সব এয়োমিলে
উলুধ্বনি কর সবে অতি কৌতুহলে
দুই হাত জোড় করি ভক্তি যুক্ত মনে
নমস্কার করহ সবে দেবীর চরণে
নমস্কার করহ সবে দেবীর চরণে
নমস্কার করহ সবে দেবীর চরণে।
শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর অষ্টোত্তর শতনাম
পদ্মপলাশাক্ষি নাম জয় জয় জয় | ১
মহালক্ষ্মী নামে হয় সর্ব্বরোগ ক্ষয় || ২
সুরেশ্বরী নামে নতি করি ভক্তিভরে | ৩
হরিপ্রিয়া নাম স্মরি অন্তর-মাঝারে || ৪
পদ্মালয়া নামে লক্ষ্মী-পদে নমস্কার | ৫
সর্ব্বদাত্রী নামে হয় বিভব-সঞ্চার || ৬
বিশ্বেশ্বরী নামে ডাকি কমলা দেবীরে | ৭
ক্ষীরোদধিসুতা নাম স্মরি ভক্তিভরে || ৮
জগন্মাতা নামে নতি পদ্মযুগে করি | ৯
হৃদিমাঝে দয়াবতী নাম সদা স্মরি || ১০
ত্রৈলোক্যতারিণী নাম করি গো স্মরণ | ১১
বসুবৃষ্টিকরী নাম জগত-পাবন || ১২
সর্ব্বভূতহিতৈষিণী নামে নমস্কার | ১৩
দেবদেবেশ্বরী নাম সার হৈতে সার || ১৪
ভুবনপাবনী নাম স্মরি গো অন্তরে | ১৫
চপলা নামেতে নতি করি ভক্তিভরে || ১৬
ভুবন জননী নাম স্মরি বার বার | ১৭
আর্ত্তিহন্ত্রী নাম স্মরি অন্তর মাঝার || ১৮
ওগো দেবী তব নাম দারিদ্র-হরণী | ১৯
স্মরিলে দুঃখের নাম কমলবাসিনী || ২০
ললিতা নামেতে নতি তোমার চরণে | ২১
প্রদ্যুম্ন জননী নাম স্মরি হৃষ্টমনে || ২২
শরণ্যা নামেতে হয় দুঃখ বিনাশন | ২৩
শীলাবতী নামে স্মরে যত ভক্তগণ || ২৪
পিতৃ-মাতৃরূপা নাম স্মরি হৃদিমাঝে | ২৫
সম্পত্তিদায়িনী নামে সবে সুখে মজে || ২৬
বিদ্যাদাত্রী নাম তব জগতে প্রচার | ২৭
কল্যাণী নামেতে তোমা করি নমস্কার || ২৮
সাগর-নন্দিনী নাম সাগর-ভবনে | ২৯
গুণরাশি-প্রসবিনী তোমা সবে ভণে || ৩০
ক্ষমাশীলা নাম তব বিদিত ভুবন | ৩১
ভগবতী নামে তোমা ডাকে সর্ব্বজন || ৩২
শুদ্ধসত্ত্বস্বরূপিণী তোমারই নাম | ৩৩
সম্পত্তি-রূপিণী হয় তোমার আখ্যান ||৩৪
পার্ব্বতী নামেতে তুমি বিরাজ কৈলাসে | ৩৫
স্বর্গলক্ষ্মী নাম তব অমর নিবাসে || ৩৬
মর্ত্ত্যলক্ষ্মী নাম তব ভূতলে প্রচার | ৩৭
গৃহলক্ষ্মী নাম খ্যাত গৃহীর আগার || ৩৮
বৈকুন্ঠে বৈকুন্ঠপ্রিয়া তব এক নাম | ৩৯
গৃহে গৃহে ঘোষে তব তুলসী আখ্যান || ৪০
ব্রহ্মলোকে তব নাম সাবিত্রী সুন্দরী | ৪১
বৃন্দাবন-বনে নাম ধর রাসেশ্বরী || ৪২
গোলকে তোমার নাম কৃষ্ণপ্রাণাধিকা | ৪৩
ভক্ত-হৃদে তব নাম সর্ব্বার্থ-সাধিকা || ৪৪
মালতী নামেতে থাক মালতী-কাননে | ৪৫
চন্দ্রা নামে শোভা পাও চন্দনের বনে || ৪৬
সুন্দরী তোমার নাম শতশৃঙ্গে জানি | ৪৭
কুন্দবনে কুন্ডদন্তী নামে খ্যাত তুমি || ৪৮
পদ্মাবতী নাম তব হয়. পদ্মবনে | ৪৯
কৃষ্ণপ্রিয়া তব নাম ভান্ডীর-কাননে || ৫০
কেতকী-কাননে তব সুশীলা আখ্যান | ৫১
রাজগৃহে রাজলক্ষ্মী তব এক নাম || ৫২
আত্মবিদ্যা নামে তুমি খ্যাত সর্ব্বস্থানে | ৫৩
সিদ্ধগণ ডাকে তোমা সিদ্ধিদাত্রী নামে || ৫৪
এক নাম ধর তুমি শ্রীকদম্বমালা | ৫৫
কোচবধূপুরে তুমি কোচরাজবালা || ৫৬
সুমতি নামেতে তুমি খ্যাত সর্ব্বস্থান | ৫৭
কুমতি নাশিনী হয় তব এক নাম || ৫৮
এক নাম ধর তুমি সুপ্রিয়বাদিনী | ৫৯
কুলিনা তোমার নাম ওগো সুভাষিণী || ৬০
স্বাহা নামে শোভা পাও অগ্নির গোচরে | ৬১
স্বধা নাম ধর সদা পিতৃলোকপুরে || ৬২
যজ্ঞবিদ্যা তব নাম জগতে প্রচার | ৬৩
গুহ্যবিদ্যা নামে তোমা করি নমস্কার || ৬৪
আন্বীক্ষিকী তব নাম বিদিত ভুবন | ৬৫
দন্ডনীতি বলি নাম করহ ধারণ || ৬৬
জগদ্রূপা নামে তুমি বিদিত জগতে | ৬৭
সুধা নামে খ্যাত তুমি শশাঙ্কপুরেতে || ৬৮
এক নাম মেধা তুমি করিছ ধারণ | ৬৯
শ্রদ্ধা নামে ডাকে তোমা শ্রদ্ধাশীল জন || ৭০
সর্ব্বত্র বিদিত তুমি মহাবিদ্যা নামে | ৭১
মৃতসঞ্জীবনী নাম শমন-ভবনে || ৭২
মহাভাগা এক নাম জানি গো তোমার | ৭৩
সর্ব্বযজ্ঞময়ী নাম সর্ব্বত্র প্রচার || ৭৪
মোক্ষদা নামেতে কর মোক্ষ বিতরণ | ৭৫
সুরভি নামেতে কর গো-ধন রক্ষণ || ৭৬
সুখদা নামেতে সুখ দেও সবাকারে | ৭৭
হর্ষদা নামেতে তোমা স্মরি বারে বারে || ৭৮
শ্রীদাত্রী তোমার নাম করি গো স্মরণ | ৭৯
শস্যা নামে কর তুমি শস্য বিতরণ || ৮০
মহাদেবী তব নাম হিমালয়-ঘরে | ৮১
সুমেরুবাসিনী নাম সুমেরু-শিখরে || ৮২
ধর্ম্মদাত্রী তব নাম ধর্ম্মের গোচর | ৮৩
প্রভাবতী নামে ডাকে সতত ভাস্কর || ৮৪
পরমার্থদাত্রী নাম করহ ধারণ | ৮৫
ক্রোধহীনা তব নাম বিদিত ভুবন || ৮৬
হরিদাস্যপ্রদায়িনী আখ্যান তোমার | ৮৭
কারণরূপিণী নাম জগতে প্রচার || ৮৮
অসারহারিণী নাম খ্যাত সর্ব্বস্থানে | ৮৯
নারায়ণ পরায়ণা নামে তোমা ভণে || ৯০
এক নাম ধর তুমি মহাপুণ্যবতী | ৯১
নন্দিকেশী নাম তব খ্যাত বসুবতী || ৯২
শচী নামে শোভা পাও দেবরাজপুরে | ৯৩
ভোগবতী নামে থাক পাতাল-নগরে || ৯৪
অরিষ্টনাশিনী নাম জগতে প্রচার | ৯৫
হরিহৃদিবিলাসিনী হরির আগার || ৯৬
একবীরা নাম তুমি করহ ধারণ | ৯৭
ভ্রামরী নামেতে কর ভুবন ভ্রমণ || ৯৮
বিরোধিনী তব নাম খ্যাত ভূমন্ডলে | ৯৯
দিগ্ গজগণেরা তোমা বিধাতৃকা বলে || ১০০
শিবদূতী নাম তব জগতে প্রচার | ১০১
ষট্ রূপা তব নাম বেদের মাঝার || ১০২
হুঙ্কাররূপিণী নাম সমর-অঙ্গনে | ১০৩
জৃম্ভণী নামেতে খ্যাত যোদ্ধার সদনে || ১০৪
ভক্তাভিষ্টবিধায়িণী তব এক নাম | ১০৫
বিনোদিনী নামে তুমি খ্যাত সর্ব্ব স্থান || ১০৬
মদন-দমনী নাম মদনের পুরে | ১০৭
শ্রীরতিসুন্দরী নাম রতির গোচরে || ১০৮
নামমালা ভক্তিভরে করিয়া শ্রবণ |
শ্রীলাভ করেন পুনঃ অমর-রাজন ||
ফলশ্রুতি
এই স্তব ভক্তিভরে করিলে শ্রবণ |
কিম্বা অধ্যয়ণ করে যদি কোন জন ||
পাতক তাহার দেহে কভু নাহি রয় |
পুত্রহীন জন পায় সুপুত্র নিশ্চয় ||
ভ্রষ্টরাজ্য রাজা পায় ইহার প্রসাদে |
কীর্ত্তিহীন কীর্ত্তি লভে জানিবে জগতে ||
যশোলাভ ধনলাভ ইহাতেই হয় |
কল্যাণজনক স্তোত্র শাস্ত্রে হেন কয় ||
তাই বলি ভক্তগণ একান্ত অন্তরে |
সদা শুন, সদা পড় ভক্তি সহকারে ||
কমলে কমলে বলি ডাক নিরন্তর |
ডঙ্কা মারি যাবে চলি অমর-নগর ||
ইতি পন্ডিত কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর অষ্টোত্তর শতনাম সমাপ্ত ।