29/03/2023
#ফেসবুক অপর নাম ইলেক্ট্রনিক কোকেন বা ডিজিটাল হেরোইন
আপনারা কি ইলেক্ট্রনিক কোকেন বা ডিজিটাল হেরোইনের নাম শুনেছেন? যদি না শুনে থাকেন থাহলে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, ভিডিওটি দেখুন জানুন এবং সচেতন হউন। আর যদি জানেন ধন্যবাদ। তারপরেও মনোযোগ দিয়ে পড়তে অনুরোধ করব। যাতে আপনার জ্ঞান আরো সমৃদ্ধময় হয়, মেনে চলুন নিজেকে পৃথিবীর শ্রেষ্ট নেশা রাজ-রানী থেকে বাঁচুন।
যদি লেখাটি পড়েন তাহলে ফেসবুকের মানসিক আসক্তি ব্যাধির ধারণা, আসক্তির লক্ষণ, ফেসবুক আসক্তির অপকারিতা, শারিরীক সমস্যা ও ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় কি সামান্য ধারণা পাবেন।
ফেসবুক আসক্তি আর মাদকাসক্তি একই ব্যাপার। ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার করেন অনেকেই। এর ফলে অন্য কাজ করার সময় থাকে না বলে জীবনে ও কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে।
যুক্তরাজ্যের হার্লি স্ট্রিট রিহ্যাব ক্লিনিকের একটি গবেষণায় বলা হয়, শিশুর হাতে স্মার্টফোন/ ট্যাব তুলে দেওয়া আর কোকেন বা মদের বোতল তুলে দেওয়া একই কথা। স্মার্টফোন আসক্তি মানুষের মস্তিষ্কের কর্মকাঠামোতে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসায়েন্স বিভাগের পরিচালক ড. পিটার হোয়াইব্রোর মতে, স্মার্টফোন/ ট্যাব স্ক্রিন হলো ইলেক্ট্রনিক কোকেন। চীনা গবেষকরা একে বলছেন ডিজিটাল হেরোইন। আর পেন্টাগন ও ইউএস নেভির অ্যাডিকশন রিসার্চ বিভাগ ভিডিও গেম ও স্ক্রিন টেকনোলজিকে অভিহিত করেছে ডিজিটাল মাদক হিসেবে। অনলাইন গেমে আসক্ত ব্যক্তি বাস্তবতা ও কল্পনার মাঝে পার্থক্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
নটিংহ্যাম ট্রেন্ট ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় এ নিয়ে বিস্তারিত বলা হয়। বলা হয়, ফেসবুক যে আসক্তি তা বোঝার জন্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের আচরণের দিকে তাকানোই যথেষ্ট। জীবনের ব্যাপারে আগ্রহ না থাকা, জেদ, পলায়নী মনোবৃত্তি, মুড নির্ভরতা, গোপন প্রবণতা- ইত্যাদি যে সব বৈশিষ্ট্য একজন আসক্ত মানুষের থাকে, ফেসবুকের অতি ব্যবহারকারীদের মধ্যেও তা দেখা গেছে। এমনকি মাদকাসক্তির চিকিৎসা করানোর সময় রোগীদের মধ্যে যে সব উপসর্গ দেখা যায়, ফেসবুক বন্ধ করে দিলেও একই উপসর্গ দেখা গেছে। মাদক না পেলে একজন আসক্ত যেমন অস্থির হয়ে পড়ে, অশান্ত হয়ে ওঠে, ফেসবুক ব্যবহার করতে না পারলেও তাদের মধ্যে এমনি অস্থিরতা, অশান্তি দেখা দেয়।
আসক্তির লক্ষণ
১. নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত শেয়ার
২. যখন-তখন কারণ ছাড়াই ফেসবুকে ঢোকা
৩. প্রোফাইলের ছবিটি নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া
৪. ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিউজ ফিড পড়া এবং এগুলো নিয়ে সময় পার করা
৫. অনলাইনের জন্য বাস্তবের জীবনকে জলাঞ্জলি দেওয়া
৬. কাউকে বন্ধু করতে পাগলের মতো আচরণ করা
৭. ফোনের নোটিফিকেশন বা কোনো নোটিফিকেশনের চিহ্ন দেখলেই উত্তেজিত হয়ে ওঠা
৮. কোথাও গেলে সঙ্গে সঙ্গে চেক ইন করার মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া
৯. প্রায়ই মানুষকে ট্যাগ করা
১০. কাজের সময় লুকিয়ে গোপনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক ব্যবহার করা
১১. কেউ যখন কোনো ফেসবুক পোস্টে কোনো মন্তব্য করে না তখন হতাশ হয়ে পড়া
১২. বন্ধু সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অপরিচিতদের তালিকায় যুক্ত করার প্রবণতা
১৩. একেবারে মাঝ রাতে ঘুম থেকে ধড়ফড় করে উঠে ফেসবুক চেক করা
১৪. ফেসবুক ছাড়া জীবন অচল হয়ে পড়ছে এ রকম ভাবনা পেয়ে বসা
ফেসবুক আসক্তির ফলে যা ঘটে
১. আবেগ-অনুভূতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে
২. হতাশা ও দুশ্চিন্তা পেয়ে বসে
৩. একাকী বোধ হয় ও নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করে আসক্ত ব্যক্তি
৪. কাজের সময় ঠিকঠাক থাকে না, কাজের আগ্রহ হারিয়ে যায়
৫. সময় জ্ঞান লোপ পায়, অসৎ পথে পরিচালিত হতে বাধ্য করে
৬. নিজেকে অন্যর সঙ্গে তুলনা করে ঈর্ষাবোধ হতে শুরু করে
৭. দায়-দায়িত্ব ভুলে মনোযোগ ডুবে থাকে ফেসবুকে
৮. সম্পর্ক নষ্ট হয়, ঘর ভেঙে যেতে পারে
শারীরিক সমস্যা
১. পিঠব্যথা
২. মাথাব্যথা
৩. স্পন্ডাইলিটিজ বা মেরুদণ্ডে সমস্যা
৪. ওজনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে কারও ওজন বেড়ে যায় আবার কারও ওজন কমে যায়
৫. ইনসমনিয়া বা ঘুমের ব্যাঘাত
৬. চোখে দেখতে সমস্যা।
ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তির উপায়ঃ
ফেসবুক আসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া জন্য আপনাকে আহামরি কিছু করতে হবে না। শুধু কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলেই চলবে। আপনি চাইলে কিছু সহজ-সরল নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে আপনি এই আসক্তি থেকে পুরপুরি পরিত্রাণ পেতে পারেন। আপনার জন্য বেছে বেছে কয়েকটি টিপস & ট্রিকস নিচে দেওয়া হলো যেগুলোর আপনি যথাযথ প্রয়োগ করলে অবশ্যই এই ব্যাধি থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাবেন। তাহলে নিয়মগুলো জেনে নেওয়া যাক,
১, প্রথমেই মেনে নিন যে আপনি ফেসবুকে আসক্ত। কারন, আমরা যদি আমাদের নিজেদের সমস্যা স্বীকার না করি, তবে সেটার সমাধান করব কিভাবে। তাই প্রথমে নিজে স্বীকার করুন যে, আপনি ফেসবুক আসক্ত।
আসক্তির কারন চিহ্নিত করুন। কোন কারনে ফেসবুকে আপনি আসক্ত সেটা নিশ্চিত হোন। কেন আপনি বারবার ফেসবুকে যান সেটা ভাবুন
২. নিজেকে হীন মনে করা বন্ধ করুন। হতাশা কাটিয়ে উঠুন এবং নিজেকে ভালোবাসুন। আপনার যদি নিজের প্রতি ভালোবাসা না থাকে তবে আপনি কোন আসক্তি থেকেই পরিত্রাণ পেতে পারবেন না। কারন, আপনি যখন নিজেকে ভালোবাসবেন তখন নিজের ক্ষতি হয় এমন কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবেন।
যে সময়টা ফেসবুকে দিতেন চেষ্টা করুন সেটা আপানার পছন্দের কোন কাজে ব্যয় করতে। আপনার কোন সখের কাজও করতে পারেন। যেমন, কোন বই পড়া, গান সোনা, মুভি দেখা, ছবি আকা, ফুলের বাগান তৈরি করা বা গাছ লাগানো ইত্যাদি। অর্থাৎ, ফেসবুক বাদে অন্য কোথাও সময় কাটানোর বিকল্প উপায় খুজে বের করুন।
৩. যোগ বিয়াম বা মেডিটেশন করুন। মেডিটেশন মনকে নিয়ন্ত্রন করার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকরি উপায়। যেকোন আসক্তি দূর করার জন্যই এটি সবচেয়ে কার্যকরি মাধ্যম।
৪. ফেসবুকে আপনার যদি একান্তই কোন দরকার থাকে তবে দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন ফেসবুক চালানোর জন্য। দিনের যেকোন একসময় ফেসবুক ব্রাউজ করার জন্য নির্ধারন করুন। কিন্তু, সেই সময় যেন ৩০ মিনিটের বেশি না হয়। এরপর নিজের প্রতি দৃঢ় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ থাকুন যে “আমি ‘সেই নির্দিষ্ট সময় ছাড়া দিন-রাত ২৪ ঘন্টার অন্য কোন সময় ফেসবুকে ঢুকব না” ।
৫. সর্বশেষ যেই গুরুত্বপূর্ণ নিষয়টি মানবেন সেটা হলো কখনই সকালে ঘুমথেকে ওঠার পর ও রাতে ঘুমানোর আগে ফেসবুকে প্রবেশ করবেন না। কারন এই সময় আমাদের মন একদম শান্ত থাকে। এই সময় আমরা যদি কোন কাজ করি তাহলে সেটার প্রতি আমাদের একেবারে অন্য রকম আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
#আদিকল্যাণ
#মধ্যকল্যাণ
#অন্তেকল্যাণ
#শীলময়
#দানময়
#ভাবনাময়
#চেতনা
#দান
#শীল
#ভাবনা
#বুদ্ধ
#ধর্ম
#সংঘ
#কোকেন
#হেরোইন
***ne
#মাদকাসক্তি