12/05/2026
মা মঙ্গলচণ্ডীর উল্লেখ কালিকাপুরাণে উল্লেখিত। সেখানে তীক্ষ্ণকান্তা নামক এক দেবীকে মা মঙ্গলচণ্ডীর একটি রূপ বলে উল্লেখিত। যথা কালিকাপুরাণে লিখিত-
পরা ললিতকান্তাখ্যা যা শ্রীমঙ্গলচণ্ডিকা ।
তস্যাস্তু সততং রূপং তীক্ষ্ণকান্তাহ্বয়ং নৃপ ।।
( কালিকাপুরাণ/ আশিতম অধ্যায়/ ৩৮-৩৯)
অর্থাৎ- হে রাজন! ললিতকান্তা নাম্নী পরাৎপরা মঙ্গলচণ্ডিকারই নাম তীক্ষ্ণকান্তা ।
উক্ত পুরাণ মতে দেবী তীক্ষ্ণকান্তা ও উগ্রতারা রূপে দিক্করতীর্থে স্বয়ং মা দুর্গা বিরাজ করেন। এই দেবী কৃষ্ণা বর্ণ , লম্বোদরী ও একজটারূপ, এমনটাই কালিকাপুরাণে লিখিত। ঐ পুরাণে লেখা নরান্তক , ত্রিপুরান্তক, দেবান্তক, যমান্তক , বেতালান্তক , দুর্দ্ধরান্তক , গণান্তক এবং শ্রমান্তক এই কয়জন দেবী তীক্ষ্ণকান্তার দ্বারপাল। চামুণ্ডা, করালা, সুভগা, ভীষণা, ভগা এবং বিকটা এঁনারা দেবীর যোগিনী ।
তবে কালিকাপুরাণে মা মঙ্গলচণ্ডীর যে ধ্যান পাওয়া যায়, সেই মন্ত্রেই এই দেবীর পূজা হয় । যথা-
যৈষা ললিতকান্তাখ্যা দেবী মঙ্গলচন্ডীকা ।
বরদাভয়হস্তা সা দ্বিভুজা গৌরদেহিকা ।।
রক্তপদ্মাসনস্থা চ মুকুটোজ্জ্বলমণ্ডিতা ।
রক্তকৌশেয়বসনা স্মিতবক্ত্রা শুভাননা ।।
নবযৌবনসম্পন্না চার্ব্বাঙ্গী ললিতপ্রভা ।।
( কালিকাপুরাণ/ আশিতম অধ্যায়/ ৫২-৫৪)
অর্থাৎ- বরাভয়দায়িনী দ্বিভুজা গৌরবর্ণা, রক্তপদ্মাসনে অবস্থিতা মুকুট কুণ্ডল মণ্ডিতা রক্তকৌষেয়বসন পরিধানা সস্মিতমুখী ও প্রসন্নবদনা । তিনি নবযৌবনসম্পন্না ললিতপ্রভা ও ললিতকান্তা ।
কালিকাপুরাণে এই দেবীর পূজায় বিবিধ বলিদানাদি করতে বলেছেন। আরো লিখিত-
লোহিতাঙ্গস্য দিবসঃ প্রিয়োহস্যাঃ পরিকীর্ত্তিতঃ ।।
( কালিকাপুরাণ/ আশিতম অধ্যায়/ ৫৭)
অর্থাৎ- লোহিতাঙ্গ মঙ্গলের দিবস ললিতকান্তা দেবীর প্রিয়বার ।
পটেষু প্রতিমায়াং বা ঘটে মঙ্গলচণ্ডীকাম্ ।
যঃ পূজয়েদ্ভৌমদিনে শুভৈর্দূর্ব্বাঙ্কুরৈঃ শিবাম্ ।
সততং সাধকঃ সোহপি কামমিষ্টমবাপ্নুয়াৎ ।।
( কালিকাপুরাণ/ আশিতম অধ্যায়/ ৬৩-৬৪ )
অর্থাৎ- মঙ্গলবারে ঘটে, পটে, প্রতিমায় মঙ্গলচণ্ডী দেবীকে পূজা করলে সেই পূজকের অভিলাষ পূর্ণ হবে ।
দেবী ভাগবতপুরাণে মা মঙ্গলচণ্ডীর একটি ধ্যান পাওয়া যায়। যদিও আমাদের গৃহে গৃহে মঙ্গলচণ্ডীর যে ধ্যান পাঠ হয় সেটি “কালিকাপুরাণ” থেকে নেওয়া। আসুন দেখে নেই দেবীভাগবতে ধ্যানে কি বলা আছে-
দেবীং ষোড়শবর্ষীয়াং শশ্বৎসুস্থিরযৌবনাম্ ।
বিম্বোষ্ঠিং সুদতীং শুদ্ধাং শরৎপদ্মনিভাননাম্ ।।
শ্বেতচম্পকবর্ণাভাং সুনীলোৎপললোচনাম্ ।
জগদ্ধাত্রীঞ্চ দাত্রীঞ্চ সর্ব্বেভ্যঃ সর্ব্বসম্পদাম্ ।।
সংসারসাগরে ঘোরে জ্যোতিরূপাং সদা ভজে ।
( দেবীভাগবত/ সপ্তচত্বারিংশোহধ্যায়ঃ/ ২৩-২৫)
অর্থাৎ- যে দেবী ষোড়শবর্ষীয়া , স্থিরযৌবনা এবং সকল গুণের নিলয়স্বরূপা ; যাঁহার শারদ- পদ্মসদৃশ বদনে বিম্বফলসদৃশ ওষ্ঠ এবং শুদ্ধ দন্তপংক্তি বিরাজমান , যাঁহার গাত্র- কান্তি শ্বেতবর্ণ চম্পকসদৃশ ; যাঁহার নয়ন- যুগল নীলোৎপলের ন্যায় শোভা পাইতেছে এবং যে জগদ্ধাত্রী জগজ্জনকে সকল সম্পদ প্রদান করিতেছেন- ভয়ানক সংসাররূপ সাগরে জ্যোতিঃ- স্বরূপিণী সেই পরমেশ্বরীর উপাসনা করি ।
ভগবান শিব সুন্দর একটি স্তব করেছিলেন। যথা-
শঙ্কর উবাচঃ-
রক্ষ রক্ষ জগন্মাতর্দেবী মঙ্গলচণ্ডিকে ।
হারিকে বিপদাং রাশের্হর্ষমঙ্গলকারিকে ।।
হর্ষমঙ্গলদক্ষে চ হর্ষমঙ্গলচণ্ডিকে ।
শুভে মঙ্গলদক্ষে চ শুভমঙ্গলচণ্ডিকে ।।
মঙ্গলে মঙ্গলার্হে চ সর্ব্বমঙ্গলমঙ্গলে ।
সতাং মঙ্গলদে দেবি সর্ব্বেষাং মঙ্গলালয়ে ।।
পূজ্যে মঙ্গলবারে চ মঙ্গলাভীষ্টদেবতে ।
পূজ্যে মঙ্গলভূপস্য মনুবংশস্য সন্ততম্ ।।
মঙ্গলাধিষ্ঠাতৃদেবি মঙ্গলানাঞ্চ মঙ্গলে ।
সংসারমঙ্গলাধারে মোক্ষমঙ্গলদায়িনি ।।
সারে চ মঙ্গলাধারে পারে চ সর্ব্বকর্ম্মণাম্ ।
প্রতিমঙ্গলবারে চ পূজ্যে চ মঙ্গলপ্রদে ।।
স্তোত্রেণানেন শম্ভুশ্চ শ্রুত্বা মঙ্গলচণ্ডিকাম্ ।
প্রতিমঙ্গলবারে চ পূজাং কৃত্বা গতঃ শিবঃ ।।
দেব্যাশ্চ মঙ্গলস্ত্রোত্রং যঃ শৃণোতি সমাহিতঃ ।
তন্মঙ্গলং ভবেচ্ছশ্বন্ন ভবেৎ তদমঙ্গলম্ ।।
(ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ/ প্রকৃতিখণ্ড/ চতুশ্চত্বারিংশোহধ্যায়/ ২৯-৩৬)
অর্থাৎ- ভগবান শিব বলছেন, হে জগজ্জননী! বিপদ্বারিণি! হর্ষ- মঙ্গলদায়িনি ! দেবি ! মঙ্গলচণ্ডিকে ! কাতরকে রক্ষা কর , সঙ্কটগ্রস্তকে রক্ষা কর; তুমি হর্ষ এবং মঙ্গল দান কর এই নিমিত্ত তুমি হর্ষ- মঙ্গল- চণ্ডী বলিয়া বিখ্যাতা ; শুভ এবং মঙ্গল বিষয়ে নিপুণা বলিয়া শুভ- মঙ্গল- চণ্ডিকা নামে প্রসিদ্ধা হইয়াছ । হে মঙ্গলে ! মঙ্গলার্হে । সর্ব্ব – মঙ্গল- মঙ্গলে ! সাধুগণের মঙ্গলদায়িনি ! হে দেবি! তুমি সকলের মঙ্গল দান কর । হে মঙ্গলপদের অভীষ্টদেবী ! মঙ্গলবারেই তোমার পূজা বিধেয় এবং মনুবংশাবতংস মঙ্গলরাজা নিরন্তর তোমার অর্চনা করেন । হে মঙ্গলাধিষ্ঠাতৃদেবি ! পৃথিবীতে যত প্রকার মঙ্গলকর বস্তু আছে , তুমি সেই সকলের স্বরূপা । সংসার মঙ্গলসাধিকে ! তুমি মঙ্গলশ্রেষ্ঠ মোক্ষ দান করিতে পার । হে মঙ্গলজনয়িত্রি ! হে স্বারস্বরূপিণি! তুমি কর্মের অগোচর এবং প্রতি মঙ্গলবারে পূজিতা হইয়া মঙ্গল প্রদান কর ।
এমনই আধ্যাত্মিক পোষ্ট পেতে আমদের পেজে যুক্ত হয়ে লাইক করুন।