Society of Islamic Thought and Culture, CUET

Society of Islamic Thought and Culture, CUET A non-political student organization devoted to promoting Islamic values, fostering moral character

27/08/2026

উপমহাদেশের কালজয়ী ও হৃদয়স্পর্শী কাওয়ালি "ভার দো ঝোলি মেরি তাজেদারে মদিনা"— মোহাম্মদ হারুন আল ক্বাদেরীর সুরেলা ও আবেগঘন কণ্ঠে।

নবীপ্রেমের আকুল আরজি আর দরূদের পবিত্র আবহ ছুঁয়ে যাক প্রতিটি প্রাণ।

সবাইকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মোবারক।

ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ২০২৫

26/08/2026

কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী নাতে রাসূল
“আল্লাহকে যে পাইতে চায়”—
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (CUET)-এর যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২১ আবর্তের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবের কণ্ঠে।

“রসুল নামের রশি ধ’রে,
যেতে হবে খোদার ঘরে…”

নবীপ্রেম ও দরূদের সুরে মুখরিত হোক প্রতিটি হৃদয়।

সবাইকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মোবারক।

ইসলামী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ২০২৫

26/08/2026

A soulful performance of the timeless Naat, “Faslon Ko Takalluf Hai Humse Agar,” beautifully performed by Sakib Uddin Fahim, a student of the Mechanical Engineering Department, CUET, 21 Batch.

A voice filled with love for the Beloved Prophet ﷺ

Eid-e-Milad-un-Nabi ﷺ Mubarak

Islami Cultural Night 2025

মাওলিদ মুবারক আহ্লান ওয়া সাহলান ইয়া রাসুলুল্লাহ (দ.)
25/08/2026

মাওলিদ মুবারক
আহ্লান ওয়া সাহলান ইয়া রাসুলুল্লাহ (দ.)

25/08/2026

"উপমা তোমার কেউ দেখেনি কখন,
তোমারি মত কেউ হয়নি সৃজন। "

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ–এর অনুপম সৌন্দর্য ও মহিমার বন্দনায়
শায়ের আসরার তানজিম কাদেরী।

ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও অগণিত দরূদে সিক্ত হোক এই পবিত্র ক্ষণ।

ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মোবারক।

18/08/2026

উম্মতের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসা
কখনো কি ভেবে দেখেছেন, এমন একজন ছিলেন, যিনি আমাদের কখনো দেখেননি, আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি, আমাদের সময়ে জন্মগ্রহণও করেননি; অথচ আমাদের জন্য কেঁদেছেন এবং আজও কাঁদছেন?
আমরা তাঁকে দেখিনি, তাঁর কণ্ঠ শুনিনি, তাঁর নূরানি বদন পানে তাকিয়ে বসিনি, তাঁর পবিত্র হাতের স্পর্শ পাইনি। অথচ তিনি আমাদের কথা ভেবেছেন—আমাদের গুনাহের কথা, আমাদের দুর্বলতার কথা, আমাদের আখিরাতের কথা। এমনকি তাঁর হৃদয় কেঁদেছে এমন মানুষদের জন্য, যাদের অধিকাংশ তখনও পৃথিবীতে আসেনি। তিনি হলেন আমাদের প্রিয় নবী, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَقَدْ جَآءَكُمْ رَسُولٌۭ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِٱلْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌۭ رَّحِيمٌۭ
“নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টদায়ক; তিনি তোমাদের কল্যাণের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী; আর মুমিনদের প্রতি তিনি স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১২৮)
এই একটি আয়াত যেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হৃদয়ের একটি দরজা আমাদের সামনে খুলে দেয়। আমরা কষ্ট পেলে তিনি কষ্ট পেতেন। আমরা বিপথে গেলে তিনি চিন্তিত হতেন। আমরা জাহান্নামের দিকে এগিয়ে গেলে তিনি আমাদের থামাতে চাইতেন। আমরা ক্ষমা পেলে তিনি খুশি হতেন।
“আমার উম্মত… আমার উম্মত…”
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি ঘটনা হৃদয়কে কাঁপিয়ে দেয়।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইবরাহিম (আ.)-এর সেই দোয়া পাঠ করলেন, যেখানে তিনি তাঁর অনুসারীদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমতের কথা বলেছেন। এরপর তিনি ঈসা (আ.)-এর সেই কথাও পাঠ করলেন, যেখানে তিনি তাঁর জাতির ব্যাপারে আল্লাহর কাছে আরজি জানিয়েছিলেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ দুই হাত উঠিয়ে বললেন—
“আল্লাহুম্মা উম্মাতি, উম্মাতি…” “হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত…”
আর তিনি কাঁদতে লাগলেন। তিনি কাঁদছিলেন কার জন্য?
আমাদের জন্য। আমাদের মধ্যে যারা তখনও জন্মগ্রহণ করেনি—তাদের জন্য। জিবরাইল (আ.) এলেন। আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর কান্নার কারণ কী। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথা শুনে আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-কে বললেন, মুহাম্মাদ ﷺ-এর কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে জানাতে—
“নিশ্চয়ই আমি তোমাকে তোমার উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করব এবং তোমাকে অসন্তুষ্ট করব না।” (সহিহ মুসলিম ২০২)
ভাবুন তো—যাঁর উম্মত হওয়ার দাবি আমরা করি, তিনি আমাদের জন্য কেঁদেছেন। অথচ আমরা কতবার তাঁর সুন্নাহ ভুলে যাই, তাঁর আদর্শ থেকে দূরে সরে যাই, তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করতেও অলসতা করি!
তিনি এত কষ্ট পেতেন যে আল্লাহ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষের হিদায়াতের জন্য কী পরিমাণ ব্যাকুল ছিলেন, তা বোঝা যায় সূরা আল-কাহফের এই আয়াত থেকে—
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا
“তারা যদি এই বাণীতে ঈমান না আনে, তবে হয়তো তাদের জন্য দুঃখ করতে করতে তুমি নিজেকেই ধ্বংস করে ফেলবে।” (সূরা আল-কাহফ ১৮:৬)
তিনি শুধু মানুষকে সত্যের দিকে ডাকেননি—মানুষ সত্য গ্রহণ না করলে তাঁর নিজের হৃদয় ভেঙে যেত।
আজ আমরা কাউকে ইসলামের পথে না দেখে সহজেই বলে দিই, “তার ব্যাপার সে বুঝবে।”
কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হৃদয় এমন ছিল না।
তিনি মানুষের ধ্বংস চাননি।
তিনি চাইতেন—মানুষ ফিরে আসুক।
মানুষ আল্লাহকে চিনুক।
মানুষ জাহান্নাম থেকে বাঁচুক।
মানুষ জান্নাতে পৌঁছাক।
তিনি আমাদের জন্য তাঁর বিশেষ দোয়াটি রেখে দিয়েছিলেন
প্রত্যেক নবীর একটি বিশেষ কবুল হওয়া দোয়া ছিল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, প্রত্যেক নবী তাঁর সেই বিশেষ দোয়া দুনিয়াতেই করে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি তাঁর দোয়াটি সংরক্ষণ করে রেখেছেন— কিয়ামতের দিন তাঁর উম্মতের জন্য সুপারিশ করার জন্য।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিসের কথা একটু গভীরভাবে ভাবুন। একজন নিজের সবচেয়ে মূল্যবান দোয়াটি নিজের জন্য ব্যবহার না করে উম্মতের জন্য রেখে দিলেন।
আমরা সাধারণত কী চাই?
আরও সম্পদ। আরও সম্মান। আরও দীর্ঘ জীবন। আরও আরাম।
কিন্তু তিনি ﷺ তাঁর বিশেষ দোয়াটিও আমাদের জন্য রেখে গেলেন।
প্রতি নামাজান্তে উম্মতের জন্য দুআ
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসার আরেকটি হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা পাওয়া যায় আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে। আয়েশা (রা.) বলেন, একবার তিনি দেখলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত প্রফুল্ল ও হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় আছেন। তখন তিনি বললেন— “হে আল্লাহর রাসূল, আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।” তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জন্য দোয়া করলেন—
“হে আল্লাহ, আয়েশার পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্য—সব গুনাহ ক্ষমা করে দিন।”
এই দোয়া শুনে আয়েশা (রা.) এতটাই আনন্দিত হলেন যে, হাসতে হাসতে তাঁর মাথা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কোলে এসে পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন “আমার দোয়া কি তোমাকে আনন্দিত করেছে?” আয়েশা (রা.) বললেন— “আপনার দোয়া আমাকে কীভাবে আনন্দিত করবে না?” এরপর বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন—
“আল্লাহর কসম! এটি আমার উম্মতের জন্য প্রতি সালাতে করা দোয়া।”
বর্ণনাটি আমাদের সামনে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হৃদয়ের এক অপূর্ব ছবি তুলে ধরে—তিনি শুধু নিজের পরিবারের জন্য দোয়া করতেন না; তাঁর দোয়ার হৃদয়ে ছিল পুরো উম্মত।
আয়েশা (রা.)-এর জন্য যে ক্ষমার দোয়া শুনে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলেন, সেই একই মমতা তিনি তাঁর উম্মতের জন্যও বহন করতেন—এটাই এই বর্ণনার সবচেয়ে আবেগময় শিক্ষা।
আমরা কতবার নিজের জন্য দোয়া করতে ভুলে যাই।
কত গুনাহ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।
কত ভুল নিয়ে দিন পার করি।
কতবার আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে চাই, কিন্তু নিজের দুর্বলতার কাছে হেরে যাই।
আর সেই উম্মতের নবী ﷺ—যিনি আমাদের দেখেননি, আমাদের নাম জানতেন না, আমাদের যুগে ছিলেন না—তিনি তাঁর উম্মতের জন্য ক্ষমা চাইতেন।
কী আশ্চর্য ভালোবাসা!
আমরা তাঁর কথা কতটা মনে রাখি?
আর তিনি আমাদের কতটা মনে রেখেছেন!
তাই যখন আমরা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করি, তখন শুধু ঠোঁট নড়ানো নয়—একবার মনে করা উচিত:
তিনি আমাদের আগুন থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন
একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজের এবং আমাদের সম্পর্ক বোঝাতে আগুনের একটি অসাধারণ উপমা দিয়েছেন।
একজন মানুষ আগুন জ্বালাল। আগুন চারপাশ আলোকিত করতেই পতঙ্গেরা আগুনের দিকে ছুটে যেতে লাগল। লোকটি তাদের আটকানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু তারা তার হাত ফসকে আগুনের মধ্যে পড়ছে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কও তেমন। তিনি আমাদের কোমর ধরে আগুন থেকে পিছনে টেনে ধরছেন এবং ডাকছেন— “আগুন থেকে দূরে থাকো! আগুন থেকে দূরে থাকো!” কিন্তু আমরা তাঁকে ছাড়িয়ে আগুনের দিকে ছুটছি। (সহিহ মুসলিম ২২৮৪)
কী ভয়ংকর দৃশ্য!
আজও যেন আমরা সেই পতঙ্গ।
হারাম আমাদের কাছে আকর্ষণীয়। গুনাহ আমাদের কাছে ছোট। দুনিয়ার মোহ আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
আর আমাদের প্রিয় নবী ﷺ-এর শিক্ষা যেন আমাদের দিকে হাত বাড়িয়ে বলছে—
“সাবধান! এ পথে আগুন।”
তিনি শুধু মুসলিমদের প্রতিই কোমল ছিলেন না
তাঁর রহমত ছিল অসাধারণ। এক বেদুঈন তাঁর কাছে এসে কিছু চাইল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে দিলেন। কিন্তু লোকটি সন্তুষ্ট না হয়ে বলল, তিনি ভালো ব্যবহার করেননি।
সাহাবায়ে কেরাম এতে কষ্ট পেলেন। কেউ কেউ তাকে শাস্তি দিতে চাইলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ তাদের থামিয়ে দিলেন। তারপর লোকটিকে ডেকে আবার কিছু দিলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন— “এবার কি আমি তোমার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছি?” লোকটি বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ ﷺ শুধু তাকে ক্ষমা করেই থামলেন না; তিনি চাইলেন সাহাবাদের অন্তরের কষ্টও দূর হোক। লোকটিকে বললেন, সে যেন সাহাবাদের সামনে প্রকাশ্যে জানায় যে সে সন্তুষ্ট।
তারপর তিনি বোঝালেন—মানুষকে কঠোরভাবে তাড়া করলে সে আরও দূরে সরে যেতে পারে; কোমলতা তাকে কাছে ফিরিয়ে আনতে পারে। এটাই ছিল তাঁর পদ্ধতি। তিনি মানুষকে ভাঙতে আসেননি। তিনি মানুষকে ফিরিয়ে আনতে এসেছিলেন।
যারা তাঁকে আঘাত করেছিল, তাদের জন্যও তিনি হিদায়াত চেয়েছিলেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ এমন একজন, যাঁর জাতি তাঁকে প্রহার করেছিল এবং তাঁর মুবারক চেহারা রক্তাক্ত করে দিয়েছিল। তবুও তিনি বলেছিলেন— “হে আল্লাহ, আমার জাতিকে ক্ষমা করুন; তারা জানে না।” এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, তাদের বংশধরদের মধ্য থেকেই এমন মানুষ আসবে যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে।
এ কেমন হৃদয়!
যে হৃদয় প্রতিশোধের সুযোগেও হিদায়াত চায়।
যে হৃদয় অপমানের পরও মানুষের ভালো চায়।
যে হৃদয় আঘাতের উত্তরেও রহমত দেয়।
তিনি নামাজে শিশুর কান্নাও শুনতেন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কখনো তিনি নামাজ দীর্ঘ করার ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াতেন। কিন্তু কোনো শিশুর কান্না শুনলে তিনি নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন—কারণ তিনি চাননি শিশুটির মায়ের ওপর কষ্ট হোক। (সহিহ বুখারি ৭০৭, সহিহ মুসলিম ৪৭০)
এটি শুধু একটি ফিকহি শিক্ষা নয়। এটি তাঁর হৃদয়ের পরিচয়। তিনি ইবাদতের মধ্যেও মানুষের কষ্ট শুনতেন।
একজন মায়ের অস্থিরতা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একটি শিশুর কান্না তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কারণ তিনি ছিলেন রহমতের নবী।
তিনি বলেছিলেন—আমি তোমাদের জন্য পিতার মতো
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— “আমি তোমাদের জন্য একজন পিতার মতো; আমি তোমাদের শিক্ষা দিই।” তিনি শুধু আকীদা ও ইবাদত শেখাননি। জীবনের ছোট ছোট বিষয়ও শিখিয়েছেন—পবিত্রতা, শিষ্টাচার, পরিচ্ছন্নতা, মানুষের সঙ্গে আচরণ—সবকিছু। তিনি এমন একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তর নিয়ে চিন্তা করতেন।
উম্মতের পক্ষ থেকে কুরবানিও করেছেন
ঈদের দিন তিনি কুরবানি করেছেন এবং বলেছেন—
“এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মতের যারা কুরবানি করতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকে।” (জামে তিরমিজি ১৫২১)
আমরা তাঁর জন্য কতটুকু করেছি?
তিনি আমাদের কথা মনে রেখেছেন এমন সময়েও, যখন আমরা তাঁর কথা ভাবিনি।
তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন
একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ কবরস্থানে গিয়ে মুমিনদের সালাম দিলেন। তারপর বললেন— “আমি আশা করি, আমরা যদি আমাদের ভাইদের দেখতে পেতাম…” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন— “আমরা কি আপনার ভাই নই?”
তিনি বললেন— “তোমরা আমার সাহাবি। আর আমাদের ভাই হলো তারা, যারা এখনও আসেনি।” অর্থাৎ—
আমরা। যারা তাঁর পরে পৃথিবীতে এসেছে। তিনি আমাদের দেখেননি, তবুও আমাদের “ভাই” বলেছেন। আর বলেছেন, তিনি হাওজে আমাদের আগে পৌঁছে থাকবেন। আমরা তাঁর কাছে যেতে পারিনি। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
একদিন আমরা তাঁর সামনে দাঁড়াব
কিয়ামতের দিন তিনি তাঁর উম্মতের কথা ভাববেন।
শাফাআতের আশা থাকবে।
মানুষের সবচেয়ে কঠিন সময়ে তাঁর ভূমিকা থাকবে।
আর আমরা?
আমরা কি তাঁর সুন্নাহ নিয়ে দাঁড়াতে পারব?
আমরা কি তাঁর ভালোবাসার যোগ্য উম্মত হতে পারব?
আমরা কি তাঁর শেখানো দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য ও সত্যবাদিতা নিজেদের জীবনে ধারণ করেছি?
নাকি আমরা শুধু মুখে বলেছি—
“মুহাম্মাদ ﷺ আমাদের প্রিয় নবী”
কিন্তু তাঁর প্রিয় কাজগুলোকে জীবনে স্থান দিইনি?
শেষ প্রশ্নটি আমাদের নিজেদের জন্য
একবার চোখ বন্ধ করুন।
ভাবুন—
আপনি কিয়ামতের ময়দানে দাঁড়িয়ে আছেন।
চারদিকে আতঙ্ক।
মানুষ নিজের চিন্তায় ব্যস্ত।
সেদিন আপনি সেই নবীর উম্মত, যিনি দুনিয়ায় থাকতেই আপনার কথা ভেবে কেঁদেছিলেন।
যিনি বলেছিলেন—
“আমার উম্মত, আমার উম্মত।”
যিনি তাঁর বিশেষ দোয়া আপনার জন্য রেখে দিয়েছিলেন।
যিনি আপনাকে আগুন থেকে বাঁচাতে সতর্ক করেছিলেন।
যিনি আপনার কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করতেন।
যিনি আপনার মতো অদেখা মানুষদের “ভাই” বলে অভিহিত করেছিলেন।
তখন প্রশ্ন হবে না শুধু—
“তুমি কি মুহাম্মাদ ﷺ-কে ভালোবাসতে?”
প্রশ্ন হবে—
“তোমার জীবনে সেই ভালোবাসার প্রমাণ কোথায়?”
তাই আজ থেকেই ফিরে আসি।
গুনাহ থেকে তাওবা করি।
নামাজকে আঁকড়ে ধরি।
সুন্নাহকে জীবনে ফিরিয়ে আনি।
মানুষের প্রতি কোমল হই।
ক্ষমা করতে শিখি।
দরুদ পাঠ করি।
এবং আল্লাহর কাছে কান্নাভেজা কণ্ঠে বলি—
হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মত।
তিনি আমাদের জন্য কেঁদেছেন—আপনি আমাদের তাঁর ভালোবাসার যোগ্য করে দিন।
তিনি আমাদের আগুন থেকে বাঁচাতে চেয়েছেন—আপনি আমাদের জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।
তিনি আমাদের জন্য শাফাআত রেখে গেছেন—আপনি আমাদের তাঁর শাফাআতের অন্তর্ভুক্ত করুন।
হে আল্লাহ, কিয়ামতের দিন আমাদের এমনভাবে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করান, যেন তিনি আমাদের দেখে বলেন—
“এরা আমার উম্মত।”
আর আমরা যেন বলতে পারি—
“হে আল্লাহর রাসূল ﷺ, আমরা আপনাকে দেখিনি; কিন্তু আপনাকে ভালোবেসে জীবন কাটানোর চেষ্টা করেছি।”
‎اللهم صل وسلم وبارك على نبينا محمد ﷺ
আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম ওয়া বারিক ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ।
হে আল্লাহ, আমাদের নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর প্রতি অসংখ্য দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন এবং আমাদের তাঁর সত্যিকারের উম্মত হিসেবে কবুল করুন। আমিন।
©️Badruzzaman Riad

31/07/2026

খোদাভীতির তলোয়ার দ্বারা শহীদ
এক বুজুর্গ কোন মাদ্রাসার বাহিরে একটি বাচ্চাকে দেখতে পেল যে কান্না করছিল, কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করাতে সে বলল: আমার শিক্ষক মহোদয় আজকের সবকে বোর্ডে কিছু আয়াতে কারীমা লিখেছেন, যা আমাকে কাঁদাচ্ছে, এটা বলে সে বোর্ডটি দেখালো, তাতে লিখা ছিল:

أَلْهَىكُمُ التَّكَاثُرُ ۝ حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ ۝ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ۝ ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ ۝ كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ ۝

(পারা: ৩০, সূরা তাকাসুর, আয়াত: ১-৫)
কানযুল ঈমানের অনুবাদ:
''তোমাদেরকে উদাসীন করে রেখেছে সম্পদের অধিক কামনা, যেই পর্যন্ত তোমরা কবরসমূহের মুখ দেখেছো, হ্যাঁ, হ্যাঁ, শীঘ্রই জেনে যাবে, অতঃপর হ্যাঁ, হ্যাঁ, শীঘ্রই জেনে যাবে, হ্যাঁ, হ্যাঁ, যদি “ইয়াক্বিন-এর জানা” জানতে তবে সম্পদের মোহ রাখতে না।''

ঐ বাচ্চাটি কান্না করে করে চলে যাচ্ছিল, সেই বুজুর্গটি তার কান্না দেখে খুবই প্রভাবিত হলেন আর বলতে লাগলেন: বৎস! এই সূরার সবকটি এখানেই শেষ নয় এবং সামনে আরও আছে, হয়তো সেগুলো তোমাকে কাল সবক দিবে। এটা বলে তিনি সূরা তাকাসুরের বাকি আয়াতে কারীমাও তাকে পড়ে শোনালেন:
لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ۝ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ ۝ ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ ۝

(পারা: ৩০, সূরা তাকাসুর, আয়াত: ৬-৮)
কানযুল ঈমানের অনুবাদ:
''নিশ্চয় নিশ্চয় জাহান্নামকে দেখবে, অতঃপর নিশ্চয় নিশ্চয় সেটিকে ' ইয়াক্বিন-এর দেখা' দেখবে, অতঃপর নিশ্চয় নিশ্চয় সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামতসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।''

জাহান্নামের কথা শুনে সেই শিশুটি থরথর করে কেঁপে উঠল, কাঁপতে কাঁপতে মাটিতে পড়ে ছটফট করতে লাগল এবং আছাড় খেতে খেতে একপর্যায়ে নিথর (ঠাণ্ডা) হয়ে গেল। তার ওস্তাদ দৌড়ে আসলেন এবং ওই বুজুর্গকে ধরে ফেললেন। লোকজন জড়ো হলো, মরহুম বাচ্চাটির মা-বাবাও আসলেন। ওই বুজুর্গকে হত্যাকারী হিসেবে আদালতে নেয়া হলো। বিচারক ওই বুজুর্গ থেকে মূল ঘটনা জানতে চাইলে তো তিনি পুরো ঘটনা খুলে বললেন। এটা শুনে বিচারক বললেন: বাচ্চাটি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান ছিল আর খোদাভীতির তলোয়ার দ্বারা শহীদ হয়েছে। ওই বুজুর্গকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া হলো। (নুযহাতুল মাজালিস, ২/৯৪)

আল্লাহ পাকের রহমত তার উপর বর্ষিত হোক আর তার সদকায় আমাদের বিনা হিসাবে ক্ষমা হোক।

09/07/2026

জীবনের উপর সঠিক ইলমের প্রতিক্রিয়া
হাতেম (রঃ) বলেন: আমি যখন চারটি বিষয়ে জ্ঞানলাভ করলাম তখন থেকে অন্য কোনো বিষয়ে জ্ঞানলাভ করার প্রয়োজন আর আমার অবশিষ্ট থাকল না।
লোকেরা প্রশ্ন করল: উক্ত চার প্রকার ইলম কী? তিনি বললেন—
১. যখন থেকে আমি জানতে পারলাম যে আমার জীবিকা আমার জন্য বণ্টন করে রাখা হয়েছে এবং কোনো অবস্থায় তা কমবেশি হবে না, তখন থেকে আমি আমার জীবিকার বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের চিন্তা-ভাবনা করছি না।
২. আমি জানতে পারলাম যে আমার প্রতি আল্লাহর যে দাবি রয়েছে, আমি ব্যতীত অন্য আর কেউ তা পূরণ করতে পারবে না। তখন থেকেই আমি উক্ত দাবি পূর্ণ করায় লিপ্ত হলাম।
৩. যখন আমার প্রত্যয় জন্মিল যে মৃত্যুর হাত থেকে কোনোভাবেই রেহাই পাব না, তখন থেকেই আমি মৃত্যুর জন্য তৈরি হচ্ছি।
৪. যখন থেকে আমি জানতে পারলাম যে আমার একজন আল্লাহ আছেন এবং তিনি আমার সকল কাজের খবর রাখেন, তখন থেকে আমি এমন কাজ থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছি যার জন্য রোজ হাশরে তাঁর দরবারে আমাকে লজ্জিত হতে হবে।
কথিত আছে, বসরার একজন জ্ঞানীলোক তার বাগানবাড়িতে যান। সেখানে তার মালীর সুন্দরী স্ত্রীর উপর তার দৃষ্টি পড়ে। বাদশাহ মালীকে কোনো কাজের অজুহাতে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে তার স্ত্রীকে বললেন, “ঘরের জানালার কপাট বন্ধ কর।”
মালীর স্ত্রী বলল, “একটি ব্যতীত আমি আর সকল দরজা বন্ধ করেছি।”
বাদশাহ বললেন, “সেটা আবার কোন দরজা?”
মালীর স্ত্রী বলল, “যে দরজা দিয়ে আল্লাহ সর্বকিছু দেখেন।”
বাদশাহ তার কথায় লজ্জিত হয়ে মালীর স্ত্রীর নিকট ক্ষমা চেয়ে ফিরে চললেন।

পবিত্র আশুরা, শোহাদায়ে কারবালা এবং ২৫ ব্যাচের সংবর্ধনা উপলক্ষে মিটআপআসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।পবিত্র আশুরার তা...
04/07/2026

পবিত্র আশুরা, শোহাদায়ে কারবালা এবং ২৫ ব্যাচের সংবর্ধনা উপলক্ষে মিটআপ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য, শোহাদায়ে কারবালার মহান আত্মত্যাগের স্মরণ এবং আমাদের প্রিয় ২৫ ব্যাচকে সংবর্ধনা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ মিটআপে আপনাকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

📅 তারিখ: ৯ জুলাই ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)
🕔 সময়: বিকেল ৫:০০টা (আসরের নামাজের পর)
📍 স্থান: TSC, CUET

আয়োজনে:
Society of Islamic Thought and Culture, CUET

তত্ত্বাবধানে:
Dawate Islami

আসুন, কারবালার আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করি এবং ২৫ ব্যাচকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় বরণ করে নিই।

আপনার আন্তরিক উপস্থিতিই আমাদের আয়োজনকে সার্থক ও প্রাণবন্ত করে তুলবে।

সবাইকে সাদর আমন্ত্রণ।

Registration form:
https://forms.gle/LvPuM8MqDpoYAaRf8

আশুরার শিক্ষা শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।সত্যের জন্য আত্মত্যাগের উজ্জ্বল ...
25/06/2026

আশুরার শিক্ষা শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়, বরং সত্য ও ন্যায়ের জন্য সংগ্রামের অনুপ্রেরণা।সত্যের জন্য আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

of Islamic Thought and Culture, CUET

Address

CUET
Raozan

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Society of Islamic Thought and Culture, CUET posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share