16/03/2026
*‘‘লাইলাতুল ক্বদরী খয়রুম মিন আলফি শাহ্ র্’’*
সূরা ক্বদরের এই আয়াত টা যতবারই মনে পড়ে অবসরে ভাবি ক্বদরের এই রাতে যা-ই আমল করবো, সেটা যত ক্ষুদ্র-ই হোক না কেনো তা-ই তো হবে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। মানে এক রাতের নফল নামাজের সওয়াব হবে টানা ৮৪ বছরের বেশি নামাজ পড়ার সমান! এক রাতের কুরআন তিলাওয়াত হবে ৮৪ বছরেরও বেশি দীর্ঘ, এই রাতে ইস্তেগফার/ দরূদ শরীফ পাঠ হবে ৮৪ বছর তথা হাজার মাসের চেয়ে বেশি!
হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে যার পক্ষ থেকে স্বয়ং সে রবের কি কোনো সীমা-পরিসীমা আছে? না জানি "হাজার মাসের চেয়ে উত্তম" প্রতিশ্রুত রাতের সীমা কতখানি/ কত হাজারে গিয়ে ঠেকবে! আল্লাহু আলাম!
একে তো হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাতের প্রতিশ্রুতি তার উপর হলো রমজান মাস, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নিজে দিবেন বলেছেন! সুবহান'আল্লাহ!
অথচ আমরা নিজেরা ৮৪ বছর হায়াত পাবো কিনা তার কোনো গ্যারান্টি নাই!
আচ্ছা ধরুন আপনাকে একটা সুযোগ দেয়া হলো আপনার অধীনে যত সম্পদ আছে তা আজকে একরাতের মধ্যেই হাজার গুণ করে দেয়া হবে। আমি নিশ্চিত এই সুযোগ কেউই মিস করবেনা৷ তদুপরি, এটা তো মাত্র একটা নিছক দুনিয়াবি উদাহরণ, অথচ দুনিয়ার ব্যস্ততায় ভুলে যাই আমাকে এখানে কি জন্যে পাঠানো হয়েছে।
যদিও ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ যেকোনো বেজোড় রাতের একটিতেই ক্বদর হয়ে যেতে পারে। তাই সব রাতকেই সমান গুরুত্ব দেয়া জরুরি তবে ২৭তম রাত্রিকেই অনেক উলামায়ে কেরামরা বেশি ফোকাস করে থাকেন। আর আজ সেই দিন!
ক্ষমা মহৎ গুণ, এমন এক গুণ যেটা আপনাকে ইনশাআল্লাহ জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে। এই আমলের চর্চা আজকের মহান দিনটা থেকেই করতে পারি যেই আমলের বদৌলতে সাহাবাদের নিয়ে মজলিসে পরপর ৩দিন হুজুর আক্বা (ﷺ) এক আনসারী সাহাবীকে জান্নাতি ঘোষণা করেছেন।
সেই সম্মানিত সাহাবীর ভাষ্যমতে রোজ রাতে ঘুমাতে যাবার আগে তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিতেন যারা উনাকে কষ্ট দিয়েছে, উনার প্রতি অন্যায় করেছে। তিনি তাদের প্রতি কোনো ক্ষোভ অন্তরে পুষে রেখে রাতে ঘুমাতে যেতেন না। সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েই ঘুমাতে যেতেন।
এই হাজার মাসের চাইতে শ্রেষ্ঠ রাতের উসিলায় আপনাদের যাকে যেভাবেই কষ্ট দিয়েছি, গীবত করেছি সবকিছুর জন্য ক্ষমা চাইছি। মনে ক্ষোভ থাকলেও ক্বদরের রাতের উসিলায় ক্ষমা করে দিয়েন। আমিও আপনাদের ক্ষমা করে দিলাম। চেষ্টা করবেন সাহাবাদের এই সুন্নাহ প্রতিরাতে ঘুমাতে যাবার আগে প্র্যাক্টিস করতে।
এইভাবে বলবেন-
ইয়া আল্লাহ, আমার উপর যারা অন্যায় করেছে, কষ্ট দিয়েছে, গীবত করেছে আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম। একইভাবে আমি যাদের উপর অন্যায় করেছি, কষ্ট দিয়েছি, গীবত করেছি তারাও যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়।
হয়তো এটাই হতে পারে আমাদের নাজাতের উসিলা। রমজান শেষ হয়ে যাচ্ছে, জানিনা গুনাহ মাফ হয়েছে কিনা। সবাই সবার গুনাহ মাফ ও সবার নেক দোয়া কবুল হবার জন্যে দোয়া করবেন। এই অধমের জন্যেও দোয়ার আর্জি থাকলো।
অন্যের জন্যে দোয়া করার মধ্যে বস্তুত নিজেরই কল্যাণ। হাদিসে আছে-
“কোনো মুসলিম যখন তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করে, তখন একজন ফেরেশতা তার কাছে নিযুক্ত থাকে। সে যখনই তার ভাইয়ের জন্য কল্যাণের দোয়া করে, ফেরেশতা বলে: ‘আমীন, এবং তোমার জন্যও তেমনই হোক।’’
ক্বদরের রাত্রির উসিলায় আল্লাহ সবার নেক দোয়া কবুল করুন।
©️Rezwan Shahriyar Tasin