12/01/2026
নজরের হিফাজত:
ইমান, চরিত্র ও সমাজ রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব
নজরের হিফাজত—শুধু চোখ নামানো নয়।
এটা আসলে হৃদয়, চিন্তা, আচরণ ও সীমারেখা রক্ষা করার নাম।
ইসলাম মানুষের প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করে না; বরং তাকে শাসন করে, পরিশুদ্ধ করে, সঠিক পথে পরিচালিত করে। আর সেই পথের প্রথম দরজাটাই হলো নজর।
১. কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ: আগে পুরুষ, তারপর নারী
আল্লাহ তাআলা প্রথমে পুরুষদের উদ্দেশ্য করেই বলেছেন -
“মুমিন পুরুষদের বলে দিন - মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।”
— (সূরা নূর: ৩০)
এরপর নারীদের জন্য—
“আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।”
— (সূরা নূর: ৩১)
এখানে লক্ষ্য করার বিষয় ,
নজরের হিফাজত কোনো একপাক্ষিক দায়িত্ব নয়।
এটা ছেলে-মেয়ে, পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ পর্যায়ের নির্দেশনা।
২. নজরই প্রথম ফাঁদ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন -
“চোখের যিনা হলো তাকানো।”
(সহিহ বুখারী - ৫৮০৯)
মানুষ অনেক সময় বলে - আমি তো কিছু করিনি, শুধু তাকিয়েছি। কিন্তু ইসলাম বলে -
সব বড় গুনাহের শুরু হয় ছোট ‘তাকানো’ থেকেই। একবার নয়, বারবার তাকানো হৃদয়ে কল্পনা তৈরি করে, কল্পনা ইচ্ছা জন্ম দেয়, ইচ্ছা মানুষকে সীমা ভাঙতে শেখায়।
৩. নরম সুরে কথা বলা: কুরআনের সতর্কতা
বিশেষ করে নারী-পুরুষ কথাবার্তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা খুব সূক্ষ্মভাবে সতর্ক করেছেন -
“যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়।”
— (সূরা আহযাব: ৩২)
এখানে ‘নরম সুর’ বলতে শুধু কণ্ঠ নয় -
ভঙ্গি, হাসি, অপ্রয়োজনীয় বন্ধুত্ব, অতিরিক্ত আন্তরিকতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
দ্বীনের কথা বলার নাম করে, দাওয়াতের অজুহাতে,
যদি সীমা ভাঙা হয় - সেটা দ্বীন নয়, জাহেলিয়াতের নতুন সংস্করণ।
৪. সহশিক্ষা ও নন-মাহারাম শিক্ষক–ছাত্রীর বিষয়টি
ইসলাম বাস্তববাদী। প্রয়োজনের কথা বলা হারাম করেনি।
কিন্তু প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেখানেই ফিতনা শুরু হয়।
নন-মাহারাম শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর সাথে -
একান্তে কথা বলা , প্রাইভেট পড়া , অপ্রয়োজনীয় তাকানো , ব্যক্তিগত আলাপ , অতিরিক্ত হাসি-তামাশা ইত্যাদি ।
এসব বিষয়ে রাসূল ﷺ কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন—
আমের ইবন রাবি‘আহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“জেনে রেখ, কোনো পুরুষ এমন নারীর সাথে একান্ত সাক্ষাত করবে না, যে তার জন্য হালাল নয়। কারণ, তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান, যদি না সে পুরুষটি হয় মাহরাম”। ( তিরমিযী, হাদীস নং ২১৬৫ )
এটা শিক্ষক হোক বা ছাত্র, আলেম হোক বা সাধারণ - পরিচয় নয়, অবস্থা বিবেচ্য।
৫. অন্ধ সাহাবীর ঘটনাটি—যা আমাদের চোখ খুলে দেয়
একবার অন্ধ সাহাবী হযরত ইবনু উম্মে মাকতুম (রা.) রাসূল ﷺ–এর ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে -
নবী ﷺ তাঁর স্ত্রীদের বললেন—
“তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও।” তাঁরা বললেন -
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি তো অন্ধ, আমাদের দেখবেন না। ”তখন রাসূল ﷺ বললেন - “ তোমরা তো অন্ধ নও”
(আবু দাউদ, তিরমিযি)
এই হাদিস আমাদের শিখিয়ে দেয় - পর্দা শুধু দেখানো না দেখানোর বিষয় নয়, এটা দেখার সামর্থ্য নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়।
৬. দ্বীনের নামে জাহেলিয়াত -
সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনা , আজ অনেক জায়গায় দেখা যায় ।
আমি তো দাওয়াত দিচ্ছি , আমি তো ইসলামের কাজ করছি , আমাদের নিয়ত ভালো । কিন্তু আচরণে থাকে সীমালঙ্ঘন, নজরে থাকে বেহায়াপনা, কথায় থাকে অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা। নিয়ত ভালো হলেই কাজ হালাল হয়ে যায় না। দ্বীন নিয়ম দিয়ে চলে, আবেগ দিয়ে নয় । নজরের হিফাজত মানে চোখ নামানো নয় - নজরের হিফাজত মানে নিজের ইমানকে পাহারা দেওয়া। যে নিজের নজর হিফাজত করতে পারে,
আল্লাহ তার হৃদয় হিফাজত করেন।
আর যে নজরে বেপরোয়া হয় , তার পতন খুব নীরবে শুরু হয় , কিন্তু খুব ভয়ংকর জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।
✍️মুহাম্মদ তাজ-মিরুল আল হাসান শাওন
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y
#নজরের_হিফাজত
#চোখের_পর্দা
#পর্দা
#হায়া
#ইসলামিক_শালীনতা
#চরিত্র_গঠন
#ইমানি_সচেতনতা
#যুবসমাজ
#ছাত্রসমাজ
#সহশিক্ষা
াহারাম
#খলওয়া_হারাম
#ইসলামি_নৈতিকতা