আহলে যিকির أهل الذكر

আহলে যিকির  أهل الذكر Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আহলে যিকির أهل الذكر, Religious Center, Rangpur City, Rangpur.

🤲🏻জ্ঞানী সম্প্রদায়🤲🏻
যারা আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন এবং তা তিলাওয়াত ও আমল করেন, তারাই আহল যিকির ।

আল-কুরআনের সূরা আন-নাহল আয়াত ৪৩ এবং সূরা আল-আম্বিয়ায় (আয়াত ৭) বলা হয়েছে- তোমরা যদি না জানো, তবে আহলে যিকিরদের (জ্ঞানীদের) জিজ্ঞেস করো।

25/03/2026

নারীরা ভুলেও এই ৩টি কাজ করবেন না | আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ |

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

" তোমরা নেতা হবার পূর্বেই জ্ঞানার্জন করে নাও "    - উমার (রাযি.)মানুষের অন্তরে নেতৃত্বের এক অদৃশ্য আকাঙ্ক্ষা থাকে। কেউ প...
01/03/2026

" তোমরা নেতা হবার পূর্বেই জ্ঞানার্জন করে নাও "
- উমার (রাযি.)
মানুষের অন্তরে নেতৃত্বের এক অদৃশ্য আকাঙ্ক্ষা থাকে। কেউ পরিবারে, কেউ সংগঠনে, কেউ সমাজে—প্রভাব রাখতে চায়। কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখি—নেতৃত্ব মানে আসলে কী? এটি কি সম্মান, পরিচিতি আর অনুসারীর সংখ্যা? নাকি এটি এক ভয়ংকর আমানত, যার হিসাব একদিন আল্লাহর সামনে দিতে হবে?
ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—নেতৃত্বের আগে প্রয়োজন জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও তাকওয়া। জ্ঞানহীন নেতৃত্ব যেমন দিকহীন নৌকা, তেমনি তা সমাজকে বিভ্রান্তির সাগরে ডুবিয়ে দিতে পারে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?”
— আল-কুরআন ৩৯:৯
এই আয়াত আমাদের অন্তরকে নাড়া দেয়। জ্ঞানী ও অজ্ঞ কখনও সমান হতে পারে না। বিশেষত নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তো নয়ই। যে ব্যক্তি দ্বীনের মৌলিক বিধান জানে না, হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত নয়, মানুষের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নয়—সে কিভাবে মানুষের পথপ্রদর্শক হবে?
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দেন আমানত তার হকদারের নিকট পৌঁছে দিতে।”
— আল-কুরআন ৪:৫৮
নেতৃত্ব একটি আমানত। এটি ক্ষমতার চেয়ারের নাম নয়; এটি জবাবদিহিতার ভার। এই ভার যে বহন করতে পারবে না, তার জন্য নেতৃত্ব সম্মান নয়—বরং বিপদ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যখন দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে সোপর্দ করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।”
- সহিহ বুখারি - ৫৩
এই হাদিস আমাদের সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে মিলে যায়। আজ সমাজের বহু সংকটের মূলেই রয়েছে অযোগ্য নেতৃত্ব। আমরা নেতৃত্ব চাই, কিন্তু নিজেকে গড়ার মেহনত করি না। আমরা অনুসারী চাই, কিন্তু জ্ঞান অর্জনের ধৈর্য রাখি না।
আরেক হাদিসে এসেছে:
“তোমরা সবাই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।”
- সহিহ বুখারী - ৭১৩৮
অর্থাৎ নেতৃত্ব কেবল রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য নয়। একজন বাবা তার পরিবারের নেতা, একজন শিক্ষক তার ছাত্রদের নেতা, একজন সংগঠক তার দলের নেতা। তাই জ্ঞানার্জন সবার জন্য অপরিহার্য।
নবী ﷺ আরও বলেছেন:
“আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন।”
- মুখতাসার সহিহ আল-বুখারি - ৬৪
এই হাদিস আমাদের স্পষ্ট করে দেয়—জ্ঞানই কল্যাণের চাবিকাঠি। একজন জ্ঞানী নেতা আবেগে নয়, দলাদলিতে নয়—হক ও ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি নিজের ইচ্ছাকে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেন।
আজ আমাদের তরুণ সমাজ নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখে। কিন্তু নেতৃত্বের আগে নিজেকে প্রশ্ন করা জরুরি—
আমি কি কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক জ্ঞান অর্জন করেছি?
আমি কি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত?
আমার অন্তরে কি তাকওয়া আছে?
আমি কি দায়িত্বকে মর্যাদা নয়, আমানত হিসেবে দেখি?
যদি উত্তর দুর্বল হয়, তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং এটাই নতুন শুরুর আহ্বান। নেতৃত্বের আগে নিজেকে গড়ো। ইলম অর্জন করো। চরিত্র শুদ্ধ করো। আত্মাকে পরিশুদ্ধ করো। কারণ জ্ঞান মানুষকে বিনয়ী করে, ন্যায়পরায়ণ করে, আল্লাহভীরু করে।
জ্ঞানী নেতা সমাজকে আলোকিত করে, আর অজ্ঞ নেতা সমাজকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করে। আসুন, আমরা নেতা হওয়ার আগে ছাত্র হই। নেতৃত্বের আগে ইলমের পথে চলি। যাতে আমাদের মাধ্যমে সমাজে বিভ্রান্তি নয়, বরং হিদায়াতের আলো ছড়িয়ে পড়ে।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান দান করুন, আমানতের হক আদায় করার তাওফিক দিন এবং দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জনের শক্তি দিন। আমীন।

© মুহাম্মদ তাজ-মিরুল আল হাসান সাওন
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

18/02/2026

আহলান সাহলান,চারদিক দিয়ে বইতেছে মাহে রমাদানের সুগ্রাণ..! 🌸🤍

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

আজ রাতে সেহরি খাবেন কাল সোমবার রোযা রাখবেন ইন শা আল্লাহপুরো মাস রোজার সওয়াবরাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:“প্রতি মাসে তিন দিন রোজ...
01/02/2026

আজ রাতে সেহরি খাবেন কাল সোমবার রোযা রাখবেন ইন শা আল্লাহ

পুরো মাস রোজার সওয়াব
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখা যেন পুরো মাস রোজা রাখার সমান।”
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

শাবান মাস টানা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রোযা রাখার নিয়ত করুন,
রাসুল (সঃ) এই মাসে বেশি বেশি রোযা রাখতেন সুবর্ণ সুযোগ উত্তম মাসে সুন্নত পালন হবে,সারা মাস রোজা রাখারও সওয়াব পাবেন ইন শা আল্লাহ তাই দ্বীনি বোনেরা যত পারুন নিজের আমলনামাকে ভারি করুন যৌবনকালটা আল্লাহ'র ইবাদতে কাটান ইন শা আল্লাহ !

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y



#ইসলামিক_জীবন

#আল্লাহর_ভালোবাসা



#আত্মশুদ্ধি


#আখিরাতের_প্রস্তুতি
#জান্নাতের_পথ


ধৈর্যের মহিমা: জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ । মানবজীবন এক চলমান পরীক্ষার ময়দান। প্রতিটি মুহূর্...
31/01/2026

ধৈর্যের মহিমা: জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথ ।

মানবজীবন এক চলমান পরীক্ষার ময়দান। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের এই জীবন কখনোই বাধাহীন নয় বরং বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট এবং চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হই। এই কঠিন সময়গুলোতে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ধৈর্য বা সবর।ইসলামে ধৈর্য শুধুমাত্র অপেক্ষা করার নাম নয়, বরং এটি একটি ইবাদত, যা আল্লাহ তায়ালার নিকট অত্যন্ত প্রিয় এবং যার মাধ্যমে একজন বান্দা তার রবের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে।
কুরআন মাজিদে আল্লাহ তায়ালা প্রায় অনেক স্থানে ধৈর্যের কথা উল্লেখ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে ইসলামী জীবনব্যবস্থায় ধৈর্যের গুরুত্ব কতখানি।

ধৈর্য আরবি শব্দ ‘সবর’ (صَبْرٌ) থেকে উদ্ভূত, যার আভিধানিক অর্থ হলো নিজেকে সংযত রাখা, কষ্ট সহ্য করা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অবিচল থাকা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে ধৈর্য বলতে বোঝায় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মনের অসন্তোষ, জিহ্বার অভিযোগ এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অস্থিরতা থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

ইসলামী শরীয়তে ধৈর্যকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে:

১. আনুগত্যের ক্ষেত্রে ধৈর্য ( আল্লাহ্‌র বিধান পালন করতে গিয়ে যেসব বাধা ও কষ্ট আসে )

২. পাপ থেকে বিরত থাকার ধৈর্য ( গুনাহ থেকে নিজেকে বিরত রেখে ধৈর্য ধরা এবং দুনিয়াবী ক্ষতির ওপর ধৈর্য ধারন করা )

৩. এবং সর্বশেষ বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য

ধৈর্যশীল বান্দারা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, জান্নাতের ফেরেশতারা প্রতিটি দরজা থেকে এসে তাদের অভিনন্দন জানাবে। আল্লাহ বলেন:
“এবং ফেরেশতারা প্রত্যেক দরজা দিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হবে (এবং বলবে): তোমরা ধৈর্যধারণ করেছ বলে তোমাদের প্রতি শান্তি। কতই না উত্তম এই পরিণাম!” (সুরা আর-রা’দ, আয়াত: ২৩-২৪)

ধৈর্য দুর্বলতার নাম নয়; ধৈর্য হলো শক্তিশালী ঈমানের পরিচয়। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরে, সে আসলে আল্লাহর ওপর নিজের পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে। আজ হয়তো মানুষ তার কষ্ট বুঝবে না, কিন্তু আল্লাহ বুঝেন—এটাই সবচেয়ে বড় শান্তি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে ধৈর্যশীল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।

✍️ মুহাম্মদ তাজ-মিরুল আল হাসান সাওন
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

#ধৈর্য


#ইসলামিক_উক্তি





#ইসলামিক_জীবন

#আল্লাহর_ভালোবাসা



#আত্মশুদ্ধি


#আখিরাতের_প্রস্তুতি
#জান্নাতের_পথ




#ধৈর্য #সবর #ইসলামিক_জীবন #কুরআন_হাদিস #আল্লাহর_ভালোবাসা
#আত্মশুদ্ধি

আল্লাহ তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ...
24/01/2026

আল্লাহ তাঁর বিশ্বাসী বান্দাদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়ে বলেন, وَتُوْبُوْا إِلَى اللهِ جَمِيْعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُوْنَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে ফিরে যাও। তাহ’লে তোমরা সফলকাম হবে’ (নূর ২৪/৩১)।

তওবা শুদ্ধ হবার শর্তাবলী : আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার বিষয় হ’লে তওবা শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হ’ল তিনটি।

(১) ঐ পাপ থেকে বিরত থাকবে
(২) কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হবে
(৩) ঐ পাপ পুনরায় না করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হবে। আর যদি পাপটি বান্দার সাথে সম্পৃক্ত হয়, তাহ’লে তাকে ৪র্থ শর্ত হিসাবে বান্দার নিকটে ক্ষমা চাইতে হবে। কোন হক বা কিছু পাওনা থাকলে তাকে তা বুঝে দিতে হবে। নইলে তার তওবা শুদ্ধ হবে না’।

( তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, দারেমী, মিশকাত হা/২৩৪১, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করা’ অনুচ্ছেদ-৪ )

তওবার দো‘আ :

أَسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِيْ لآ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
আস্তাগফিরুল্লা-হাল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূমু ওয়া আতূবু ইলাইহে’ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক এবং আমি তাঁর দিকেই ফিরে যাচ্ছি (বা তওবা করছি)।

( তিরমিযী, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/২৩৫৩, ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, অনুচ্ছেদ-৪; ছহীহাহ হা/২৭২৭ )

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

রজব শেষের পথে, প্রস্তুতির ডাক এখনইদেখতে দেখতে রজব মাস প্রায় শেষ।আর খুব বেশি দেরি নেই , দরজায় কড়া নাড়ছে শাবান, তার পরেই স...
14/01/2026

রজব শেষের পথে, প্রস্তুতির ডাক এখনই

দেখতে দেখতে রজব মাস প্রায় শেষ।
আর খুব বেশি দেরি নেই , দরজায় কড়া নাড়ছে শাবান, তার পরেই সেই বহুল প্রতীক্ষিত রামাদান।

প্রশ্ন হলো -
আমরা কি আদৌ প্রস্তুত?

রাসূলুল্লাহ ﷺ রজব মাস আসলেই একটি দুয়া নিয়মিত পড়তেন -
“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা‘বান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।”
(হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবানকে বরকতময় করে দিন এবং আমাদেরকে রামাদান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।)
— (মুসনাদ আহমাদ)

এই দুয়াটা শুধু মুখে উচ্চারণের জন্য ছিল না। এটার পেছনে ছিল গভীর প্রস্তুতির শিক্ষা।

বরকত মানে কী? বরকত মানে শুধু সময় বেড়ে যাওয়া না।
বরকত মানে ,
অল্প সময়েও বেশি আমল করার তাওফিক পাওয়া।
বরকত মানে ,
ইবাদাতে মন বসা, গুনাহ থেকে দূরে থাকা, অন্তর নরম হওয়া। রাসূল ﷺ রজব ও শাবান মাসে যে বরকত চাইতেন, তা ছিল মূলত রামাদানের জন্য নিজেকে তৈরি করার বরকত।

শাবান ছিল আমলের মহড়া

হযরত আয়িশা (রা.) বলেন -
“আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে রামাদান ছাড়া অন্য কোনো মাসে শাবানের মতো বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।”
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

কারণ কী?

উসামা ইবনু যায়েদ (রা.) জিজ্ঞেস করলে রাসূল ﷺ বলেন -
“শাবান হলো এমন এক মাস, যাকে মানুষ অবহেলা করে , রজব ও রামাদানের মাঝখানে। অথচ এই মাসেই আমলসমূহ আল্লাহর কাছে তুলে ধরা হয়।”
— (নাসাঈ)

আমরা যেটাকে অবহেলা করি,
রাসূল ﷺ সেটাকেই বানিয়েছিলেন প্রস্তুতির মাস। সালাফদের গভীর উপলব্ধি , আমাদের সালাফগণ খুব সুন্দর একটি কথা বলতেন -

“রজব হলো বীজ বপনের মাস,
শাবান হলো পানি দেওয়ার মাস,
আর রামাদান হলো ফসল তোলার মাস।”

এখন প্রশ্ন হলো—
আমরা কী বীজ বপন করেছি?

এই রজব মাসে ............!

কয় রাত তাহাজ্জুদের জন্য জেগেছি?
কয়দিন নফল সিয়াম রেখেছি?
কয় পৃষ্ঠা কুরআন তিলাওয়াত করেছি?
কয়বার চোখ ভিজে উঠেছে আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে?

বরং বাস্তবতা অনেক সময় উল্টো -
এই রজব মাসেই আমাদের অনেকের পাঁচ ওয়াক্ত সালাতই নিয়মিত হচ্ছে না। প্রস্তুতি ছাড়া রামাদান একটা হারানো সুযোগ

কুরআনে আল্লাহ বলেন -
“হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।”
— (সূরা বাকারা: ১৮৩)

তাকওয়া হঠাৎ করে আসে না। তাকওয়া গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে রজব, শাবান—এই প্রস্তুতির সময়েই।
যে ব্যক্তি কোনো প্রস্তুতি ছাড়া রামাদানে ঢোকে, সে অনেক সময় রোজা রাখে ঠিকই - কিন্তু রামাদান তার জীবন বদলায় না।

এখনো সময় আছে , রজব শেষ হলেও সব শেষ হয়ে যায়নি। শাবান সামনে আর শাবান মানেই শেষ সুযোগ।
আজ থেকেই যদি সালাত ঠিক করা যায়,কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়া যায়,গুনাহ ছাড়ার আন্তরিক চেষ্টা শুরু হয়,

তাহলে ইনশাআল্লাহ
এই রামাদান আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
রামাদান যেন আমাদের ওপর দিয়ে না চলে যায়, বরং আমাদের ভেতর দিয়ে চলে যায়।

✍️ লেখক - মুহাম্মদ তাজ-মিরুল আল হাসান শাওন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y







#রজব
#শাবান
#রামাদান
#রমাদান_প্রস্তুতি
#স্বাগতম_রামাদান
#রামাদানের_পথে

নজরের হিফাজত: ইমান, চরিত্র ও সমাজ রক্ষার মৌলিক দায়িত্বনজরের হিফাজত—শুধু চোখ নামানো নয়।এটা আসলে হৃদয়, চিন্তা, আচরণ ও সীমা...
12/01/2026

নজরের হিফাজত:
ইমান, চরিত্র ও সমাজ রক্ষার মৌলিক দায়িত্ব

নজরের হিফাজত—শুধু চোখ নামানো নয়।
এটা আসলে হৃদয়, চিন্তা, আচরণ ও সীমারেখা রক্ষা করার নাম।
ইসলাম মানুষের প্রবৃত্তিকে অস্বীকার করে না; বরং তাকে শাসন করে, পরিশুদ্ধ করে, সঠিক পথে পরিচালিত করে। আর সেই পথের প্রথম দরজাটাই হলো নজর।

১. কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ: আগে পুরুষ, তারপর নারী
আল্লাহ তাআলা প্রথমে পুরুষদের উদ্দেশ্য করেই বলেছেন -

“মুমিন পুরুষদের বলে দিন - মুমিন পুরুষদেরকে বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।”
— (সূরা নূর: ৩০)

এরপর নারীদের জন্য—

“আর মুমিন নারীদেরকে বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে।”
— (সূরা নূর: ৩১)

এখানে লক্ষ্য করার বিষয় ,
নজরের হিফাজত কোনো একপাক্ষিক দায়িত্ব নয়।
এটা ছেলে-মেয়ে, পুরুষ-মহিলা সবার জন্য ফরজ পর্যায়ের নির্দেশনা।

২. নজরই প্রথম ফাঁদ

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন -
“চোখের যিনা হলো তাকানো।”
(সহিহ বুখারী - ৫৮০৯)

মানুষ অনেক সময় বলে - আমি তো কিছু করিনি, শুধু তাকিয়েছি। কিন্তু ইসলাম বলে -
সব বড় গুনাহের শুরু হয় ছোট ‘তাকানো’ থেকেই। একবার নয়, বারবার তাকানো হৃদয়ে কল্পনা তৈরি করে, কল্পনা ইচ্ছা জন্ম দেয়, ইচ্ছা মানুষকে সীমা ভাঙতে শেখায়।

৩. নরম সুরে কথা বলা: কুরআনের সতর্কতা
বিশেষ করে নারী-পুরুষ কথাবার্তার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা খুব সূক্ষ্মভাবে সতর্ক করেছেন -
“যদি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে (পরপুরুষের সাথে) কোমল কণ্ঠে কথা বলো না, তাহলে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে সে প্রলুব্ধ হয়।”
— (সূরা আহযাব: ৩২)

এখানে ‘নরম সুর’ বলতে শুধু কণ্ঠ নয় -
ভঙ্গি, হাসি, অপ্রয়োজনীয় বন্ধুত্ব, অতিরিক্ত আন্তরিকতাও এর অন্তর্ভুক্ত।
দ্বীনের কথা বলার নাম করে, দাওয়াতের অজুহাতে,
যদি সীমা ভাঙা হয় - সেটা দ্বীন নয়, জাহেলিয়াতের নতুন সংস্করণ।

৪. সহশিক্ষা ও নন-মাহারাম শিক্ষক–ছাত্রীর বিষয়টি

ইসলাম বাস্তববাদী। প্রয়োজনের কথা বলা হারাম করেনি।
কিন্তু প্রয়োজনের সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেখানেই ফিতনা শুরু হয়।
নন-মাহারাম শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর সাথে -
একান্তে কথা বলা , প্রাইভেট পড়া , অপ্রয়োজনীয় তাকানো , ব্যক্তিগত আলাপ , অতিরিক্ত হাসি-তামাশা ইত্যাদি ।

এসব বিষয়ে রাসূল ﷺ কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন—

আমের ইবন রাবি‘আহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
“জেনে রেখ, কোনো পুরুষ এমন নারীর সাথে একান্ত সাক্ষাত করবে না, যে তার জন্য হালাল নয়। কারণ, তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান, যদি না সে পুরুষটি হয় মাহরাম”। ( তিরমিযী, হাদীস নং ২১৬৫ )

এটা শিক্ষক হোক বা ছাত্র, আলেম হোক বা সাধারণ - পরিচয় নয়, অবস্থা বিবেচ্য।

৫. অন্ধ সাহাবীর ঘটনাটি—যা আমাদের চোখ খুলে দেয়

একবার অন্ধ সাহাবী হযরত ইবনু উম্মে মাকতুম (রা.) রাসূল ﷺ–এর ঘরে প্রবেশ করতে চাইলে -
নবী ﷺ তাঁর স্ত্রীদের বললেন—
“তোমরা পর্দার আড়ালে চলে যাও।” তাঁরা বললেন -
“ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি তো অন্ধ, আমাদের দেখবেন না। ”তখন রাসূল ﷺ বললেন - “ তোমরা তো অন্ধ নও”
(আবু দাউদ, তিরমিযি)

এই হাদিস আমাদের শিখিয়ে দেয় - পর্দা শুধু দেখানো না দেখানোর বিষয় নয়, এটা দেখার সামর্থ্য নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়।

৬. দ্বীনের নামে জাহেলিয়াত -

সবচেয়ে ভয়ংকর ফিতনা , আজ অনেক জায়গায় দেখা যায় ।
আমি তো দাওয়াত দিচ্ছি , আমি তো ইসলামের কাজ করছি , আমাদের নিয়ত ভালো । কিন্তু আচরণে থাকে সীমালঙ্ঘন, নজরে থাকে বেহায়াপনা, কথায় থাকে অপ্রয়োজনীয় ঘনিষ্ঠতা। নিয়ত ভালো হলেই কাজ হালাল হয়ে যায় না। দ্বীন নিয়ম দিয়ে চলে, আবেগ দিয়ে নয় । নজরের হিফাজত মানে চোখ নামানো নয় - নজরের হিফাজত মানে নিজের ইমানকে পাহারা দেওয়া। যে নিজের নজর হিফাজত করতে পারে,
আল্লাহ তার হৃদয় হিফাজত করেন।

আর যে নজরে বেপরোয়া হয় , তার পতন খুব নীরবে শুরু হয় , কিন্তু খুব ভয়ংকর জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।

✍️মুহাম্মদ তাজ-মিরুল আল হাসান শাওন

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

#নজরের_হিফাজত
#চোখের_পর্দা
#পর্দা
#হায়া
#ইসলামিক_শালীনতা
#চরিত্র_গঠন
#ইমানি_সচেতনতা
#যুবসমাজ
#ছাত্রসমাজ
#সহশিক্ষা
াহারাম
#খলওয়া_হারাম
#ইসলামি_নৈতিকতা

সমাজে যেসব বিষয়কে আজকাল স্বাভাবিক করে নেওয়া হয়েছে—* গালি-গালাজ করা* গান শোনা* অতীতের গুনাহ প্রকাশ করা* হিজাবে ঘাড়/গলা খো...
07/01/2026

সমাজে যেসব বিষয়কে আজকাল স্বাভাবিক করে নেওয়া হয়েছে—
* গালি-গালাজ করা
* গান শোনা
* অতীতের গুনাহ প্রকাশ করা
* হিজাবে ঘাড়/গলা খোলা রাখা
* হারাম বা নন-যবিহা খাবার খাওয়া
* বাবা-মা সম্পর্কে অভিযোগ করা
* সালাতের চেয়ে ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেওয়া
* ব্যাংকের সুদের টাকা উপার্জন করা
* দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মেকআপ সেলফি পোস্ট করা
* বিপরীত লিঙ্গের সাথে অনর্থক কথাবার্তা
তোমার দ্বীনকে রক্ষা করতে চাও? ভিন্ন হও। সমাজের বিপরীত পথে চলো।

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

মানুষ ধন-সম্পদ প্রার্থনায় কোন ক্লান্তি বোধ করেনা, কিন্তু যখন তাকে দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে অত্যন্ত নিরাশ ও হতাশ হয়ে ...
04/01/2026

মানুষ ধন-সম্পদ প্রার্থনায় কোন ক্লান্তি বোধ করেনা, কিন্তু যখন তাকে দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে অত্যন্ত নিরাশ ও হতাশ হয়ে পড়ে। দুঃখ-বিপদ মানুষকে স্পর্শ করার পর আমি যখন তাকে আমার অনুগ্রহ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্য অবশ্যই বলে- এটা আমার ন্যায্য পাওনা। ক্বিয়ামত যে সংঘটিত হবে আমি মোটেই তা মনে করি না। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের নিকট ফিরিয়ে নেয়া হয়ই, তবে তাঁর কাছে আমার জন্য অবশ্যই কল্যাণ আছে। অতঃপর আমি কাফিরদেরকে অবশ্য অবশ্যই জানিয়ে দেব তারা (দুনিয়াতে) কী কাজ করেছিল। আর অবশ্য অবশ্যই তাদেরকে আমি কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাব।আমি যখন মানুষের উপর কোনো অনুগ্রহ করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং উল্টা দিকে ধাবিত হয়। আবার যখন কোনো বিপদ এসে তাকে স্পর্শ করে তখন সে দীর্ঘ দোয়া নিয়ে আমার কাছে হাজির হয়।

{সূরা হামিম আস - সাজদাহ ৪১:৪৯-৫১}

কুরআন ও হাদিসের বার্তা জানতে ও অন্যকে জানাতে যুক্ত হোন হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে -
https://whatsapp.com/channel/0029Vb75uOxLNSa5Y7ASvq1Y

Address

Rangpur City
Rangpur
5440

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আহলে যিকির أهل الذكر posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share