05/03/2026
#আধুনিক_ক্ষেপণাস্ত্র কিভাবে কাজ করে? আকাশে ছোঁড়া একটা ধাতব দণ্ড কিভাবে হাজার কিলোমিটার দূরের টার্গেট খুঁজে নেয়?
মনে হতে পারে—
একটা বোতাম চাপলেই রকেট ছুটে যায়, তারপর সোজা গিয়ে বিস্ফোরণ। বাস্তবে বিষয়টা তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল, অনেক বেশি হিসাবি।
একটা আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বুঝতে হলে এটাকে চারটা ধাপে ভাগ করতে হবে—লঞ্চ, গাইডেন্স, ফ্লাইট কন্ট্রোল, এবং টার্গেট হিট।
🔘প্রথম ধাপ: লঞ্চ
ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে থাকে শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম—সাধারণত রকেট ইঞ্জিন। জ্বালানি জ্বলে প্রচণ্ড গতিতে গ্যাস বের হয়, আর নিউটনের তৃতীয় সূত্র অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র সামনে ছুটে যায়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সলিড ফুয়েল ব্যবহার করে, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং দ্রুত ছোঁড়া যায়। আবার কিছুতে লিকুইড ফুয়েল থাকে, যা নিয়ন্ত্রণে সুবিধা দেয়।
🔘দ্বিতীয় ধাপ: গাইডেন্স
এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র “অন্ধ” হয়ে উড়ে না। এর ভেতরে থাকে ইনর্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম, জাইরোস্কোপ, অ্যাক্সিলেরোমিটার। অনেক ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট নেভিগেশন (যেমন GPS) ব্যবহার করা হয়। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে নিজের অবস্থান হিসাব করে বারবার পথ ঠিক করে নেয়।
আর টার্গেটের কাছে পৌঁছালে অ্যাক্টিভ রাডার, ইনফ্রারেড সেন্সর বা লেজার সিকার চালু হয়। তখন এটি নিজেই লক্ষ্যবস্তু “লক” করে।
🔘তৃতীয় ধাপ: ফ্লাইট কন্ট্রোল
ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে ছোট ছোট ফিন বা কন্ট্রোল সারফেস থাকে। ভেতরের কম্পিউটার হিসাব করে বলে দেয়—ডানে ঘুরবে, বাঁয়ে ঘুরবে, উচ্চতা কমাবে না বাড়াবে। পুরো সময়টা এটি বাতাসের গতি, মাধ্যাকর্ষণ, এমনকি পৃথিবীর ঘূর্ণনের প্রভাবও হিসাব করে।
🔘চতুর্থ ধাপ: টার্গেট হিট
টার্গেটে পৌঁছানোর আগেই ফিউজ সিস্টেম সক্রিয় হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়। কিছু আবার নির্দিষ্ট দূরত্বে পৌঁছে এয়ারবার্স্ট করে—যাতে ক্ষতি বেশি হয়।
আধুনিক প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইল কয়েক মিটারের ভেতরে নির্ভুলভাবে আঘাত করতে পারে।
⚠️ সব ক্ষেপণাস্ত্র কি একই রকম? না; মোটেই না!
▪️ব্যালিস্টিক মিসাইল: মহাকাশের কিনারা ছুঁয়ে আবার নেমে আসে।
▪️ক্রুজ মিসাইল: নিচু দিয়ে উড়ে রাডার এড়িয়ে যায়।
▪️অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল: লক্ষ্যবস্তুর দুর্বল জায়গা খুঁজে আঘাত করে।
▪️অ্যান্টি-এয়ার মিসাইল: আকাশে চলমান বিমানের পিছু নেয়।
সব মিলিয়ে, আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র হলো এক ধরনের উড়ন্ত কম্পিউটার।