25/11/2025
বাউল ধর্ম মূলত শিয়া, মাজুসি ও হিন্দুধর্মের কিছু উপাদান মিলিয়ে গঠিত একটি নিজস্ব মতবাদ, যার প্রচলিত রূপকে আজ “বাউল ধর্ম” বলা হয়। এই মতবাদের প্রধান প্রচারক ছিলেন লালন ফকির (লালন শাহ)। ধারণা করা হয়, তার জন্ম ১৭৭৪ সালে এবং মৃত্যু ১৮৯০ সালে। লালন তার জীবদ্দশায় এই মতবাদ সর্বত্র প্রচার করে গেছেন, এবং সে সময় দেশের শাসকগোষ্ঠীর আনুকূল্য পাওয়ায় আলেম-ওলামারা অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি এর বিরোধিতা করতে পারেননি।
রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার ফলে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী এই মতবাদ বহু গ্রামাঞ্চলে চায়ের দোকান থেকে জনসমাজে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ অনেক সময় মনে করে বাউলরা ধর্ম সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখে, অথচ বাস্তবে অনেকে সুরা ফাতিহাও শুদ্ধভাবে পড়তে পারেন না। ধর্মীয় জ্ঞান ছাড়া কেউ মতবাদ প্রচার করলে এবং মানুষ ব্যাপকভাবে তা গ্রহণ করলে একটি সমাজে ইসলামের অবস্থা কী হতে পারে—তা সহজেই অনুমেয়।
কিছু অঞ্চলে বাউলদের সমালোচনা করলে সহজেই বিরোধ বা ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। অথচ বাউল মতবাদ অনুসারীরা ইসলামের আকীদা ও আমলের দৃষ্টিতে স্পষ্টভাবে শিরক ও কুফরিতে জড়িত—এ বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই।
‘সরকার’ উপাধি ব্যবহারের কারণ
লালনের অনুসারীদের একজন ছিলেন বিজয় সরকার (জন্ম ১৯০৩ – মৃত্যু ১৯৮৫)। তাঁর প্রভাবেই বর্তমানে অনেক বাউল তাদের নামের শেষে “সরকার” উপাধি ব্যবহার করে—যেমন রশীদ সরকার, আবুল সরকার, সুবাহান সরকার, দলিল উদ্দিন সরকার, লতিফ সরকার, শাহ আলম সরকার ইত্যাদি।
এদের অনেককে দেখা যায় কৃষ্ণনাম জপ করতে গিয়ে সম্মানের সাথে দু’হাত কপালে নিতে, এবং বেশিরভাগ সময় ধুতি পরিধান করতে। অন্যদিকে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলা বা উপহাস করা—নাউজুবিল্লাহ—এদের মধ্যে বিরল নয়। তাই স্পষ্টভাবে বলা যায়, বাউল মতবাদের অনুসারীরা মুসলমান নয়; আকীদা, আমল ও বিশ্বাসের দিক থেকে তারা স্পষ্ট মুশরিক।
#বাউল #বাউলগান #লালন