09/12/2024
আমি আর উম্মে সুহাইব (স্ত্রী) একসাথে কানাডার বিভিন্ন স্থানে দাওয়াতি সফরে যেতাম। নারীদের দাওয়াত দিতে গেলে বেশিরভাগ সময় একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতাম—ইসলামে নারীর মর্যাদা নেই। একজন পুরুষ একাধিক বিয়ে করতে পারে। এটা নারীর অবমাননা।
আমি প্রথম প্রথম তাদের বক্তব্যের পাল্টা জবাব না দিয়ে, কিছুটা কাঁচুমাচু ভঙ্গিতে ক্ষমাপ্রার্থনার ভঙ্গি নিয়ে তাদের দাওয়াত দিতাম। কিছুদিন পর কানাডার নওমুসলিম বোনেরাই আমার দাওয়াতপদ্ধতির ভুল ধরিয়ে দিয়ে বলেছে, আপনি ইসলামের একটি বিধান নিয়ে কেন আপস করবেন? তারা আপনার চোখে এক আঙুল ঢুকিয়ে দিলে আপনি তাদের চোখে দুই আঙুল দিয়ে দেবেন। প্রত্যাঘাত না করলে তারা বুঝতে চাইবে না। আমি পরামর্শ চাইলাম, কী করা যেতে পারে? তারা বলল, সবচেয়ে ভালো হয় নারীদের জবাব অন্য কোনো নারী দিলে। উম্মে সুহাইব বললেন, আমি এ কাজে অংশ নিতে ইচ্ছুক।
সামনের আয়োজনে প্রত্যাশিত প্রশ্ন এলো। উম্মে সুহাইব বললেন, ‘ধরা যাক, স্ত্রীর এমন কোনো সমস্যা আছে, যার কারণে স্বামীর প্রয়োজন-চাহিদা মেটানো স্ত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। তখন স্বামী কী করবে? পাপের পথে অগ্রসর হবে? আর প্রথম স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় স্বামীকে অনুমতি দেয়, তাহলে অন্যদের এ নিয়ে মাথাব্যথা হওয়ার তো কোনো কারণ নেই। যেমন আমি আলহামদুলিল্লাহ পুরোপুরি সুস্থ, তারপরও আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করলে আমার কোনো আপত্তি থাকবে না।’ এরপর আর কেউ দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে আপত্তি তোলেনি।
আমরা দাওয়াতি মাহফিল থেকে ফিরছিলাম। গাড়িতে উঠেই উম্মে সুহাইব বললেন, ‘আপনি আবার আমার কথাকে সিরিয়াস মনে করবেন না। ওখানে দাওয়াতের খাতিরে বলেছি...!’
আতীক উল্লাহ হুজুরের 'দোস্ত, জানেমান' বই থেকে
ডা. আবদুর রহমান সুমাইতের গল্প।
- সংগৃহীত