Most Ven. Sadhanananda Mahathera

Most Ven. Sadhanananda Mahathera জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

মদ্যপায়ীরা সহজে মদ ছাড়তে পারে না। তাদেরকে উপদেশ দিলেও কর্ণপাত করতে চায় না। মদ্যপান এক প্রকার গর্তের মত। যে গর্ত থেকে খুব...
28/01/2026

মদ্যপায়ীরা সহজে মদ ছাড়তে পারে না। তাদেরকে উপদেশ দিলেও কর্ণপাত করতে চায় না। মদ্যপান এক প্রকার গর্তের মত। যে গর্ত থেকে খুব কম সংখ্যক লোকে উঠতে পারে। মরণের পর যখন গরু, মহিষ, ছাগল, শেয়াল, বাঘ প্রভৃতি তির্যক কুলে জন্ম ধারণ করবে তখন মদ কোথায় পাবে? আর বেশি মদপান করলে তো একে বারে নরকে। এ মনুষ্য জীবন লাভ করা খু-ব-ই দূর্লভ। সম্যক দৃষ্টি লাভ করা দূর্লভ। পঞ্চইন্দ্রিয় পরিপূর্ণ হয়ে জন্ম লাভ করা দুর্লভ। বুদ্ধের শাসন লাভ করা দুর্লভ। তোমরা এ দূর্লভ জিনিস লাভ করেও কেন উদাসীন! এটাই আশ্চর্য বিষয়! এ দূর্লভ জন্ম হারালে বর্ণনাতীত অপায় দুঃখ ভোগ করতে হবে। সুতরাং যাদের মদ্যপানের কুঅভ্যাস আছে তাদের অবনতি অবিলম্বে মদ্যপান ত্যাগ করা একান্ত উচিত।

— পূজ্য বনভন্তে

পার্বত্য অঞ্চলে বুদ্ধধর্ম সংস্কারে বনভান্তের অবদান সম্পর্কে প্রফেসর বি বি চাকমা তাঁর 'পার্বত্য বৌদ্ধগণের অতীত ও বর্তমান'...
27/01/2026

পার্বত্য অঞ্চলে বুদ্ধধর্ম সংস্কারে বনভান্তের অবদান সম্পর্কে প্রফেসর বি বি চাকমা তাঁর 'পার্বত্য বৌদ্ধগণের অতীত ও বর্তমান' নিবন্ধে লিখেছেন, 'আমাদের সৌভাগ্য পরম পূজ্য সিদ্ধপুরুষ শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভন্তে) মহোদয়ের জ্ঞানের প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে বৌদ্ধদের মধ্যে সেই সমস্ত রীতিনীতি (কুসংস্কার) ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রকৃত বুদ্ধধর্মীয় রীতি-নীতিগুলো বন বিহারেই প্রতিপালিত হয়। পরম পূজ্য বনভন্তে দীর্ঘ বারো বছর কঠোর সাধনালব্ধ জ্ঞানে আলোকিত। তিনি আমাদের গর্ব। তাঁর জ্ঞানের প্রভায় এই এলাকার বৌদ্ধ নরনারীবৃন্দ প্রকৃত বুদ্ধধর্মের স্বাদ পেতে শুরু করেছে। শ্রদ্ধেয় বনভন্তে শিষ্যমণ্ডলীকে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিকল্পনা অনুসারে এই এলাকার বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। পরম শ্রদ্ধেয় বনভন্তে যতদিন সুস্থ ও সবল ছিলেন ততদিন বিশ্বপ্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গলের জন্য এই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছিলেন এবং ভগবান বুদ্ধের অমোঘ বাণী প্রচার করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এই এলাকার বৌদ্ধ নরনারীগণ মুখো বলে বৌদ্ধ কিন্তুনপালন করে অন্য ধর্ম। বর্তমানে উঁনার জ্ঞানের প্রভাবে বুদ্ধধর্ম প্রতিপালনের জ্ঞান ফিরে পেয়েছে' [বনভন্তে জন্মস্মারক'১০]। পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধদের অবস্থা আগে এখনকার মত ছিল না। আগের দুরবস্থা হতে ক্রমান্বয়ে একটি সুন্দর উত্তরণ ঘটেছে। শ্রদ্ধেয় বনভন্তেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন।

_/\_সাধু সাধু সাধু_/\_

 #সারিপুত্র স্থবিরের এক শ্রামণের নাম ছিল  #সুখ। মাত্র সাত বছর তার বয়স। রোজই সে স্থবিরের সঙ্গে বেরোয় ভিক্ষাচরণে। কিন্তু এ...
26/01/2026

#সারিপুত্র স্থবিরের এক শ্রামণের নাম ছিল #সুখ। মাত্র সাত বছর তার বয়স। রোজই সে স্থবিরের সঙ্গে বেরোয় ভিক্ষাচরণে। কিন্তু একদিন সে আর গুরুর সঙ্গী হল না___গুরু সেদিন একাই বেরোলেন। এই অবসরে সুখ তার গুরুর ঘরে গিয়ে বসে ধ্যানস্থ হল। সুগভীর একাগ্র ধ্যানের মধ্যে দিয়ে সেদিনই সে অর্হত্ত্বে উত্তীর্ণ হল। বালকের পরমপ্রাপ্তির প্রসঙ্গে বুদ্ধ বললেন :

উদকং হি নযন্তি নেত্তিকা উসুকারা নমযন্তি তেজনং।
দারুং নমযন্তি তচ্ছকা অত্তানং দমযন্তি সুব্বতা।। ১৪৫

♥ #অনুবাদঃ জলসেচনকারীরা জলকে তাদের ইচ্ছামত পথে চালিয়ে নিয়ে যায়, শরনির্মাতা শরকে ইচ্ছানুযায়ী ঋজু করে, সূত্রধর যেমন ইচ্ছা নমিত করে কাষ্ঠখণ্ডকে। পণ্ডিত ব্যক্তি তেমনি দমন করেন নিজেকে।

♦ #ব্যাখ্যাঃ- মানুষ নিজে শ্রেষ্ঠতর জ্ঞানে নানা জড়বস্তুকে ইচ্ছানুসারে নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কাজে লাগায়। কিন্তু শুধু ইচ্ছায় তো কাজ হয় না; কাজ করতে গেলে কাজের কৌশল জানা চাই, যাকে নিয়ে কাজ তার ধর্ম জানা চাই। যিনি জ্ঞানী তাঁর কারবার আবার জড়পদার্থ নিয়ে নয়, নিজেকে নিয়ে। তিনি বাঁধতে চান নিজের 'পাগলা মনটারে', যে মনকে বাঁধা চঞ্চল বাতাসকে বাঁধার মতই দুরূহ। সেই দুষ্কর কর্মের সাধনাই তাঁর সাধনা। কারণ আত্মশাসনের পথই উন্নতির পথ, মুক্তির পথ।

টেনিসন (Tennyson) বলেছেন :

Self-reverence, self-knowledge, self-control,
These three alone lead life to sovereign power.

#খুদ্দক_নিকাযে_______ধম্মপদ

পূজ্য বনভান্তে যেসব গাথা অথবা কবিতা উল্লেখ করে দেশনা দিতেন তার মধ্যে অন্যতম হল,মোহন বড়ুয়া লিখিত ‘বুদ্ধ সংকীর্তন” থেকে 👇১...
21/01/2026

পূজ্য বনভান্তে যেসব গাথা অথবা কবিতা উল্লেখ করে দেশনা দিতেন তার মধ্যে অন্যতম হল,
মোহন বড়ুয়া লিখিত ‘বুদ্ধ সংকীর্তন” থেকে 👇

১। একবার পরান ভরিয়ে বুদ্ধ-ধর্ম-সংঘ বল (২)
উত্তরিতে ভবনদী অভিলাষ থাকে যদি,
কর ঐ নাম সম্বল-
বুদ্ধ-ধর্ম-সংঘ বল ॥
দারাসূত ত্যাজিয়ে সংসার ছাড়িয়ে,
চালিয়া যাইবে একদিন (২)
অন্তিম নিঃশ্বাসে ঐ নাম গেলে মিশে,
পাইবে নিশ্চয় সুগতি সুফল।
বুদ্ধ-ধর্ম-সংঘ বল ॥
তন্ময় হয়ে ত্রিরতন জপিয়ে,
চিত্ত হইলে বিমল (২)।
ব্রহ্মবিহার ভেবে আনিবার,
হাতে হাতে পাইবে ফল।
বুদ্ধ-ধর্ম-সংঘ বল ॥
#বনভান্তেরধর্মদেশনা #বনভান্তে

তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি মুক্ত তুমি জ্ঞানের প্রতীক নহে কেহ সম তব নহে তোমারি অধিক। তুমি সেরা জ্ঞানী সেরা ত্যাগী এই যুগের তুমি সে...
12/01/2026

তুমি শ্রেষ্ঠ তুমি মুক্ত তুমি জ্ঞানের প্রতীক
নহে কেহ সম তব নহে তোমারি অধিক।
তুমি সেরা জ্ঞানী সেরা ত্যাগী এই যুগের
তুমি সেরা গুণী সেরা মানী এই বিশ্বের
তুমি সেরা বীর অজেয় বুদ্ধের প্রতীক।

তুমি মুক্ত বলাকা মুক্ত নীল আকাশের
তুমি মুক্ত মহামানব প্রতিরূপ বিশ্বের
তুমি ধৃতিমান তুমি সদ্ধর্মের প্রতীক।

তুমি শান্তির দূত তুমি নির্বাণগামী
তুমি দয়ার সাগর তুমি অন্তর্যামী
তুমি মঙ্গলঘট তুমি শান্তির প্রতীক।

কথা : গয়াসুর চাকমা
সুর ও কণ্ঠ : উস্যাংমা চৌধুরী

★দেশ-কাল-পাত্র ভেদে চলিবে নচেৎ প্রাণ হারাইবে★ #পরমপূজ্য বনভান্তে কোন এক সময় রাজবন বিহার দেশনালয়ে পূণ্যার্থী উপাসক-উপাসিক...
12/01/2026

★দেশ-কাল-পাত্র ভেদে চলিবে নচেৎ প্রাণ হারাইবে★

#পরমপূজ্য বনভান্তে কোন এক সময় রাজবন বিহার দেশনালয়ে পূণ্যার্থী উপাসক-উপাসিকাদের উদ্দেশ্য বললেন - ভগবান বুদ্ধ বলেছেন- দেশ, কাল, পাত্র বিচার করে চলবে নতুবা প্রাণ হারাবে। হ্যাঁ, একথাটি ঠিক। আমি শুনেছি ধর্মতিলক মহাস্থবিরের মৃত্যুর কথা। সেদিন আকিয়াবের কোন এক জায়গায় বৌদ্ধ, মুসলিমের মধ্যে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছিল। এদিকে মহাস্থবির ফাং হতে বিহারাভিমুখে ফিরছিলেন সেই পথ দিয়েই। অনেক দায়ক-দায়িকা নাকি তাকে বারণ করে বলছিল- ‘ভন্তে, এই পথে বৌদ্ধ, মুসলিমের মধ্যে দাঙ্গা চলছে।

সুতরাং আপনি এপথে আজ বিহারে ফিরবেন না; আপনি এখানে থেকে যান। আগামীকাল-না হয় বিহারে ফিরবেন। কিন্তু মহাস্থবির তাদের কথায় আমল দেননি। তাঁর এক কথা আমি তো ভিক্ষু, আমার কী-ই হবে। এভাবে আপন গন্থব্যে চলতে থাকেন। ইতোমধ্যে দাঙ্গার স্থানে এসে পড়লে মুসলিমেরা তাকে মেরে ফেলে। এখানে বুদ্ধের কথাটি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে নয় কি? হ্যাঁ ভন্তে, সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। বুদ্ধ কি বলেছেন? দেশ, কাল, পাত্র বিচার করে চলবে; নতুবা প্রাণ হারাবে। তাই তোমাদেরকে দেখতে হবে ‘এটা কোন দেশ? কি কাল? কোন পাত্র বা এরা কোন শ্রেণীর মানুষ?’ অন্যথায় বিপদে পড়তে হবে। এমন কি জীবন হারানোর সম্ভাবনাও থেকেই যায়। বর্তমানে আমি বাংলাদেশের লোকজন মুসলিম, হিন্দু, চাকমা, মারমা, বড়-য়া সবাইকে চিনেছি, জেনেছি- ‘এরা কোন শ্রেণীর লোক। কীই-বা তাদের অভিপ্রায়।’ আমি আবারো বলছি তোমরা দেশ, কাল, পাত্র বিচার করে চলবে।

👉অবিদ্যা হতে যাবতীয় দুঃখের সৃষ্টি🌹এ দেহ অসার, মূল্যহীন; দেহে কোনো সার নেই, কোনো মূল্য নেই শুধু অশুচি পদার্থে ভরা। তাই জ্...
11/01/2026

👉অবিদ্যা হতে যাবতীয় দুঃখের সৃষ্টি

🌹এ দেহ অসার, মূল্যহীন; দেহে কোনো সার নেই, কোনো মূল্য নেই শুধু অশুচি পদার্থে ভরা। তাই জ্ঞানীজনেরা দেহের প্রতি সর্বদা অনাসক্ত থাকেন। তোমরা দেহের প্রতি মমতা ত্যাগ কর, দেহকে নিয়ে নানাবিধ ভোগের আকাঙ্ক্ষা করিও না। সারহীন, মূল্যহীন দেহে কিসের ভোগ? কিসের আসক্তি? দেহকে অশুচি জ্ঞানে দর্শন করলে দেহের প্রতি আসক্তিভাব উৎপত্তি হয় না। দেহ হতেই নানাবিধ দুঃখ, ভয়ের কারণ উৎপন্ন হয়; দেহকে যত ত্যাগ করা যায় ততই সুখ। যেইজন দেহকে যত ত্যাগ করতে পারছে সেইজন তত বেশি সুখে অবস্থান করতেছে বলে জানবে।

প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি সম্বন্ধে জ্ঞান থাকলে ধর্মের প্রতি সন্দিহানভাব দূর হয় এবং দৃঢ় বিশ্বাস উৎপন্ন হয়। প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি সম্বন্ধে অজ্ঞান হলে ধর্মের প্রতি সন্দেহ উৎপন্ন হয়, অবিশ্বাস ভাব জন্মে। চারি আর্যসত্য সম্বন্ধে জ্ঞান না থাকলে জগতে সুখ খোঁজে বেড়াতে হয়। স্ত্রী-পুত্র, ধন-জন, ভোগ-ঐশ্বর্য নিয়ে সংসারী হয়ে সুখাকাঙ্ক্ষী হয়। কামলোক, রূপলোক, অরূপলোক এই ত্রিলোকে ঘুরে ঘুরে সুখ অন্বেষণ করতে হয়। চারি আর্যসত্য সম্বন্ধে জ্ঞান লাভ হলে ত্রিলোকের মধ্যে কোনোপ্রকার সুখ অন্বেষণ করে না স্ত্রী-পুত্র, ধন-জন দ্বারা সংসারী হয়ে সংসারে সুখ দেখে না এবং কোথাও সুখ অন্বেষণ করে না। এককথায় সুখের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করে। প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান হলে সদ্ধর্মে সন্দেহ উদয় হয় না, সংস্কাররাশি উৎপন্ন হয় না। মনচিত্ত কুশল-সংস্কার, অকুশল-সংস্কার, আনেঞ্জা-সংস্কার কোনোপ্রকার সংস্কারে লিপ্ত থাকে না। সংস্কারের অপর নাম হল কর্ম। যেই ভিক্ষুর বিদ্যা উৎপত্তি হয়েছে সেই ভিক্ষু কুশল-সংস্কারও উৎপন্ন করে না, অকুশল-সংস্কারও উৎপন্ন করে না এবং আনেঞ্জা-সংস্কারও উৎপন্ন করে না; তাতেই তিনি পরম সুখে থাকেন। অবিদ্যাকে বিদ্যা উৎপত্তি দ্বারা সম্পূর্ণরূপে নিরোধ করতে পারলে সংস্কাররাশি উৎপন্ন হয় না। সংস্কাররাশি উৎপন্ন না হলে দুঃখরাশিও উৎপন্ন হয় না। এভাবে দুঃখরাশি নিরোধ হলে নির্বাণ সুখ লাভ হয়।

অবিদ্যা হতে যাবতীয় দুঃখরাশির উৎপত্তি, অবিদ্যা না থাকলে দুঃখরাশিও নেই। তাই বলা যায়, দুঃখ কোথা হতে আসতেছে? অবিদ্যা থেকে। দুঃখ কেন ধ্বংস হচ্ছে না? অবিদ্যার কারণে বা হেতুতে। এসব থেকে প্রমাণ মিলে যে, অবিদ্যা হতেই দুঃখ উদয় হয়, দুঃখ স্থিতভাবে থাকে মনচিত্তে। আর অবিদ্যার হেতুতে নানা দুঃখে পতিত হতে হচ্ছে সত্ত্বগণকে। বিদ্যা বা জ্ঞান উদয় হলে দুঃখ উৎপত্তি হতে পারে না। বর্তমান সময়ে খুব সমাদৃত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রাপ্ত বি.এ., এম.এ., ডক্টর ডিগ্রীসমূহ দ্বারা দুঃখরাশি ধ্বংস হবে না। তাই সেসব ডিগ্রীসমূহ প্রকৃত বিদ্যা বা জ্ঞান নয়, সেগুলোও অবিদ্যা বলে জানবে। আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় বলেছিলেন, স্কুল কলেজ হতে অর্জিত ডিগ্রীসমূহ উপাধি মাত্র, প্রকৃত জ্ঞান বলা যায় না। বৌদ্ধধর্ম মতে যে জ্ঞানের দ্বারা দুঃখরাশিকে নিরোধ করা যায় তাই হল বিদ্যা। এবং যে জ্ঞানের দ্বারা দুঃখ হতে চিরতরে মুক্ত হওয়া যায় সে বিদ্যা শিক্ষা করাই হল বৌদ্ধধর্মের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে অনেকে স্কলারশীপ নিয়ে লন্ডন, আমেরিকায় বড় বড় ডিগ্রী অর্জন করতে চলে যায়। কিন্তু সেসব ডিগ্রীতে দুঃখ মোচন হয় না। চারি আর্যসত্য জ্ঞানই একমাত্র জ্ঞান, যা দ্বারা দুঃখরাশিকে সম্পূর্ণরূপে নিরোধ করা যায়। তাই তোমরা চারি আর্যসত্য জ্ঞান শিক্ষা কর। সেই চারি আর্যসত্য জ্ঞান কি? দুঃখে জ্ঞান, দুঃখ-সমুদয়ে জ্ঞান, দুঃখ-নিরোধে জ্ঞান, দুঃখ-নিরোধগামিনী প্রতিপদায় জ্ঞান। দুঃখ জ্ঞানে দুঃখকে বুঝে, দুঃখের মধ্যে অবস্থান করতে বিরাগ উৎপন্ন করে। দুঃখ সমুদয় জ্ঞানে দুঃখের উৎপত্তি জ্ঞাত হয়ে তা পরিত্যাগ করে। দুঃখ-নিরোধ জ্ঞানে দুঃখ নিঃশেষে কি সুখ তা প্রত্যক্ষ করে এবং দুঃখ-নিরোধগামিনী প্রতিপদা জ্ঞানে কিভাবে দুঃখ-নিরোধ হয় সেপথ নির্দেশ করে দেয়। প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান লাভের দ্বারা নানা যোনি অবলম্বনে ভবচক্রে ঘুরে বেড়ানো বন্ধ হয়।

‘আমি মানুষ’ এই ধারণা মিথ্যা, ‘সে পুরুষ’ এই ধারণা মিথ্যা, ‘সে স্ত্রী’ এই ধারণা মিথ্যা। কাজেই মানুষ, পুরুষ, স্ত্রী এই সকল মিথ্যা ধারণা নিয়ে সুখভোগ করা ইচ্ছা পোষণ করো না। কারণ যা সত্য নয় মিথ্যা তা নিয়ে মশগুল না হওয়া এবং তাতে সুখভোগের আকাঙ্ক্ষা না করায় উত্তম। অজ্ঞ, মিথ্যা বা ভ্রান্তদৃষ্টি-সম্পন্নরা সুখভোগে রত থাকতে চায়। তারা আমি পুরুষ, সে স্ত্রী বলে একে অপরকে লাভ করতে ইচ্ছুক হয়। অর্থাৎ সেই স্ত্রী এবং আমি পুরুষ এই ধারণা করে করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি পুরুষ, সে স্ত্রী উভয় ধারণা মিথ্যা। এ জগতে ‘আমি আছি’ এ ধারণা মিথ্যা, ‘আমার আছে’ এ ধারণাও মিথ্যা। বস্তুতঃপক্ষে সমস্ত জগতই মিথ্যা, ভ্রান্ত, স্বপ্ন সদৃশ। একমাত্র চারি আর্যসত্য জ্ঞান, প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞানই সত্য এবং আসল।

শ্রদ্ধেয় বনভন্তে বলেন, কেহ যদি বলে আমি বৌদ্ধধর্ম বুঝতে চাই, তাহলে তাকে চারি আর্যসত্য, প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি সম্বন্ধে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে। বি.এ., এম.এ. পাশ তথা বড় বড় ডিগ্রী অর্জনের দ্বারা বৌদ্ধধর্ম বুঝা যায় না। চারি আর্যসত্য জ্ঞান লাভ, প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান লাভ হয়ে বুদ্ধ জ্ঞান অর্জন করেই বৌদ্ধধর্ম বুঝতে হবে, অন্যথায় নয়। চারি আর্যসত্য জ্ঞান, প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান হল বুদ্ধজ্ঞান। চারি আর্যসত্য জ্ঞান অর্জন হলে পুনর্জন্মধারণ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এই জ্ঞানের দ্বারা সংসারে জন্মগ্রহণ করে যে বিবিধ দুঃখভোগ করতে হয় সে দুঃখসমূহ জ্ঞাত হয়ে আর পুনর্জন্মগ্রহণের বাসনা, তৃষ্ণা থাকে না। প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান লাভের দ্বারা এক ভব হতে অন্য ভবে ঘুরে বেড়ানো বন্ধ হয়ে যায়। প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি বা কার্যকারণ সম্বন্ধে অজ্ঞ ব্যক্তিরা ভবচক্রে ঘুরে ঘুরে মুক্তির পথ খোঁজে পাচ্ছে না। ভগবান বুদ্ধ বোধিমূলে প্রতীত্যসমুৎপাদ-নীতি জ্ঞান লাভ করত সংসারচক্রে পুনর্জন্ম বন্ধ হলে প্রফুল্ল চিত্তে আবেগপূর্ণ এই উদান গাথা উচ্চারণ করেছিলেন :

না পেয়ে যথার্থ চারিসত্যের দর্শন,

দীর্ঘকাল বহুযোনি করেছি ভ্রমণ।

এবার পেয়েছি সেই সত্যের দর্শন,

ভবনেত্রী, তৃষ্ণা এবে হয়েছে নিধন।

উৎপাটিত দুঃখ মূল তৃষ্ণার কারণ,

পুনর্ভব পুনর্জন্ম নাহিরে এখন।

সংসার বা ভবচক্রে পুনঃপুন জন্মগ্রহণ করা যে দুঃখ, মিথ্যাদৃষ্টি পরিবর্ধক ও পরিপোষক তা প্রকাশ করতে বুদ্ধ বক ব্রহ্মকে বলেছিলেন :

ভবে আমি দেখি ভব খুঁজিনু বিভব,

বিভব খুঁজিতে গিয়ে দেখিলাম ভব।

ভব অন্বেষণ তাই করি নাই আর,

ভব তৃষ্ণা ভবাসক্তি করি পরিহার।

স্রোতাপত্তি, সকৃদাগামী মার্গলাভীর মিথ্যাদৃষ্টি আসব সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়। তবে কামাসব, ভবাসব, অবিদ্যাসব সম্পূর্ণ ধ্বংস হয় না। অনাগামী মার্গলাভীর কামাসব, মিথ্যাদৃষ্টি আসব ধ্বংস হয়ে যায়; তবে তারাও ভবাসব, অবিদ্যাসব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত নন। অর্হত্ত্বমার্গলাভীরা কামাসব, ভবাসব, দৃষ্টি আসব, অবিদ্যাসব হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। তারা চতুর্বিধ আসবকে সমূলে ক্ষয়, ধ্বংস সাধন করে থাকেন।

মার্গফল লাভেচ্ছুক প্রব্রজিতগণ হীনদৃষ্টি, পাপদৃষ্টি সর্বতোভাবে পরিত্যাগ করবে। পাপদৃষ্টি উৎপন্ন হলে প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে একজন সুন্দরী রমণীকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করত সংসারী বা সাধারণ গৃহী অবস্থায় জীবন-যাপন করাকে সুখ বলে মনে হবে। আর হীনদৃষ্টি উৎপন্ন হলে প্রব্রজ্যা ত্যাগ করে চাকুরি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা যেকোনো পেশা অবলম্বে ধর্ম-পুণ্য কর্ম করত একদিকে লৌকিক সুখ অন্যদিকে ধীরে ধীরে লোকোত্তর সুখে উন্নীত হবো এরূপ ইচ্ছা জন্মাবে। পাপদৃষ্টি, হীনদৃষ্টি ত্যাগ না করলে কেহ প্রব্রজিত অবস্থায় সুখে থাকতে পারে না। তোমরা পাপদৃষ্টি, হীনদৃষ্টি হতে সজাগ থাক এবং এরূপ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হও যে, ‘আমরা পাপদৃষ্টি, হীনদৃষ্টি উৎপন্ন হতে দেবো না। পাপদৃষ্টি, হীনদৃষ্টি-সম্পন্ন চিত্তে কিছুতেই অবস্থান করবো না।’

অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান ত্যাগ কর। প্রব্রজিত হয়ে যদি অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদানের সহিত অবস্থান কর তাহলে বাংলাদেশে তৈরি রেডিও লেবেলে মেড ইন জাপান লেখা সদৃশ হবে। তোমরা যে কাষায় বস্ত্র পরিধান করেছ তা বাইরের লেবেলে মেইড ইন জাপান লেখেছ। অর্থাৎ অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদানের সহিত অবস্থান করব না এই মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছ। এখন যদি মনচিত্ত হতে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান মূলোচ্ছেদ কর তাহলে প্রকৃত জাপানের তৈরি রেডিও হবে। মেড ইন জাপান রেডিও অর্থ প্রকৃত ভিক্ষু। বাংলাদেশে তৈরি কিন্তু লেবেলে মেড ইন জাপান লেখা অর্থ মিথ্যা ভিক্ষু, ছদ্মবেশী ভিক্ষু। বর্তমানে অধিকাংশ ভিক্ষুই অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান ত্যাগ করতে পারছে না। তারা বাংলাদেশের তৈরি রেডিও কিন্তু লেবেলে মেইড ইন জাপান লেখে অবস্থান করতেছে। অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান ত্যাগ করতে না পারলে দুঃখ পেতে হবে, দুঃখ থেকে মুক্ত হতে পারবে না, এমন কি নিরয়গামীও হতে পারে। অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান প্রহীন হলে দুঃখ হতে মুক্তি লাভ হয়। অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান প্রহীন করতে তোমাদেরকে শীত, উষ্ণ, ক্ষুধা, পিপাসা, ডংশ, মশক সহ নানাবিধ দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে গভীর অরণ্যে ধ্যান সাধনা করতে হবে। ভগবান বুদ্ধ রাজার পুত্র হয়েও যদি ছয় বৎসর শীত, উষ্ণ, ক্ষুধা, পিপাসা, ডংশক, মশকের উপদ্রব সহ নানাবিধ দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে পারেন তাহলে তোমরা কেন পারবে না? আমি যখন জঙ্গলে ছিলাম তখন বেশি দুঃখ অনুভব হলে বুদ্ধ, শারীপুত্র, মৌদ্গল্যায়ন, আনন্দ, মহাকাশ্যপ প্রমুখ মহাত্যাগীদের কথা স্মরণ করতাম। তাঁরা রাজার ছেলে, বড় বড় ধনী ছেলে হয়ে যদি কষ্ট সহ্য করতে পারেন আমি সাধারণ পরিবারের ছেলে হয়ে কেন পারব না? এরূপ ভেবে পুনঃ মনের মধ্যে বীর্য উৎপন্ন করতাম। আরো স্মরণ করতাম মহাজ্ঞানী শারীপুত্রের উপদেশসমূহ। শারীপুত্র বলেছিলেন :

চংক্রমণে, দাঁড়ানোতে হয়ে উপবিষ্টা,

বনে শোভা পায় ভিক্ষু, বন হয় প্রসংশিতা।

আপনার চিত্ত তুমি একাকী দমিবে,

বনান্তে সেইরূপ আনন্দ পাইবে।

সে-সকল উপদেশসমূহ বারবার স্মরণ করে আমি জঙ্গলের মধ্যে খুশী মনে অবস্থান করতে সক্ষম হতাম, উৎসাহিত হতাম। জঙ্গলের মধ্যে একাকী অবস্থানের জন্য দৃঢ়বীর্য উৎপাদন করতাম। তোমরাও মনচিত্ত থেকে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান ত্যাগ করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও। চিত্ত দমনের অনুকূল পরিবেশ জঙ্গলে প্রবেশ করে নিজের চিত্ত নিজে দমন করো। তাতে অবিদ্যা, তৃষ্ণা, উপাদান নিরোধ হওত বিমুক্ত সুখের অধিকারী হবে। তবে তোমরা যদি লাভ তৃষ্ণায় বশীভূত হয়ে থাক তাহলে বন জঙ্গলে অবস্থান করতে সমর্থ হবে না। বুদ্ধ বলেছেন, লাভ, তৃষ্ণায় বশীভূত হলে বন জঙ্গলে বাস করতে কষ্টকর মনে হয়। লাভ-তৃষ্ণা বশীভূত মনে বন-জঙ্গলে অবস্থান করলে মন দুঃখে পতিত হয়, কষ্ট পায়। তখন দুঃখ-কষ্টে দুর্বিষহ জীবন-যাপন করা ছাড়া আর কিছুই হয় না। তোমরা যখন প্রব্রজিত হয়েছ দুঃখ কে ভয় কর, অকুশলে লজ্জা জ্ঞান উদয় কর। বুদ্ধের শাসনে প্রব্রজিত দুঃখকে ভয় করে সংসার দুঃখ হতে মুক্তি লাভ করতে হয়। এ সংসার দুঃখে ভরা, এখানে সুখ বিন্দুমাত্র নেই এই ভেবে দুঃখজ্ঞান উদয় করতে হবে। প্রব্রজিত হয়ে যদি সংসার সুখ বলে দৃষ্ট হয় তাহলে প্রব্রজিত জীবনে কখনো শান্তি, সুখ লাভ হবে না। এবং তাদের নির্বাণ লাভের আশা হবে গুড়েবালি সদৃশ। বুদ্ধ বলেছেন, জগতে যত প্রকার দুঃখ পেতে হয় তৎ সমস্ত এ দেহধারণের দরুন। এই দুঃখদায়ক দেহধারণ না করলে দুঃখ কোথা হতে উৎপন্ন হবে। তাই জন্ম হলে দুঃখ পেতে হয়, দেহধারণে দুঃখ পেতেই হয়। তোমরা পুনর্জন্ম রোধ কর, দেহধারণ করা বন্ধ কর তাহলে নির্বাণ সুখ লাভ হবে।

সাধু সাধু সাধু

#পূজ্যবনভান্তে

মানুষ কখনো কখনো এমন ভুল করে, যার ফলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। পুত্র বিনা যেমন ঘর শূন্য হয়, ত...
11/01/2026

মানুষ কখনো কখনো এমন ভুল করে, যার ফলে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। পুত্র বিনা যেমন ঘর শূন্য হয়, তেমনি নীতিহীন জীবনও মহৎ হয় না। সাপ একবার মাত্র মানুষকে দংশন করে, কিন্তু পাপীব্যক্তি বারাংবার ধ্বংস করে।

— বনভন্তে

অজ্ঞানীরা বিড়ালের মত। বিড়াল কি করে জান? বিড়ালের স্বভাব যেখানে খাদ্য রাখা আছে সেখানে মুখ দেয়া। নিষেধ করলেও শোনে না। অজ্ঞা...
10/01/2026

অজ্ঞানীরা বিড়ালের মত। বিড়াল কি করে জান? বিড়ালের স্বভাব যেখানে খাদ্য রাখা আছে সেখানে মুখ দেয়া। নিষেধ করলেও শোনে না। অজ্ঞানীকে যে বিষয়ে নিষেধ করা হয় সে-ই বিষয়ে অনুশীলন করতে অভ্যস্থ থাকে। তোমরা জ্ঞানী হও। সমস্ত দুঃখ নিজে মুক্ত হয়ে অপরকে মুক্ত কর। কাম সুখ আত্ম পীড়ন হতে বিরত থাক। পঞ্চকাম সুখ ত্যাগ কর। আমি, আত্মা বললে পাপ হয়; দুঃখ হয় ও অনার্য হিসেবে গণ্য হয়। অনেকে পুণ্য কর্মে লজ্জ্বাবোধ করে। পুণ্য করতে কোনো দ্বিধা সংকোচ রাখবে না।

— বনভন্তে

Happy 107th Birthday toMost Venerable Sadhanananda Mahathera (Banabhante)
08/01/2026

Happy 107th Birthday to

Most Venerable Sadhanananda Mahathera (Banabhante)

Address

Rangamati

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Most Ven. Sadhanananda Mahathera posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share