26/06/2026
"৬১ হিজরির কারবালা আজও শেষ হয়নি। শুধু চরিত্রগুলো বদলেছে।"
১৪০০ বছরেরও বেশি আগে কারবালার প্রান্তরে একদল মানুষ দাঁড়িয়েছিল সত্যের পক্ষে। সংখ্যায় তারা ছিল অল্প, শক্তিতে দুর্বল, কিন্তু নীতিতে অটল।
অন্যদিকে ছিল বিশাল বাহিনী, ক্ষমতা, রাষ্ট্র, প্রচারমাধ্যম এবং জনসমর্থন।
আজ আমরা যখন কারবালার কথা শুনি, প্রায় সবাই নিজেদের হুসাইন (রা.)-এর দলে কল্পনা করি। কিন্তু একটি কঠিন প্রশ্ন আছে:
যদি আমরা তখন বেঁচে থাকতাম, সত্যিই কি হুসাইন (রা.)-এর পাশে দাঁড়াতাম?
কারণ ইতিহাস বলে, কারবালার বিপক্ষে যারা অস্ত্র ধরেছিল, তাদের অধিকাংশই নিজেদের মুসলিম মনে করত। তারা নামাজ পড়ত, রোজা রাখত, কুরআন তিলাওয়াত করত।
তবুও তারা ভুল পক্ষ বেছে নিয়েছিল।
কেন?
কারণ মানুষ সত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় না বরং সে দাঁড়ায় নিজের স্বার্থ, ভয় এবং দুনিয়ার মোহের পক্ষে।
আজও একই ঘটনা ঘটছে।
যখন আল্লাহর আদেশের চেয়ে ট্রেন্ড গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়, যখন কুরআনের চেয়ে সেলিব্রিটির মতামত বেশি প্রভাব ফেলে, যখন মুসলিম নিজের পরিচয়ের চেয়ে "ফিট ইন" করাকে বেশি গুরুত্ব দেয়,
তখন কারবালার শিক্ষা হারিয়ে যায়।
ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (রা.) শুধু শাহাদাতের শিক্ষা দেননি।
তিনি শিখিয়েছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ সবসময় সত্যের মাপকাঠি নয়।
কারবালায় সত্যের পক্ষে ছিল কয়েক ডজন মানুষ। বাতিলের পক্ষে ছিল হাজারো সৈন্য।
তবুও ইতিহাস মনে রেখেছে কার নাম।
আজকের তরুণ মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো:
আমি কি আমার ঈমানকে বাঁচিয়ে রাখছি, নাকি ধীরে ধীরে চারপাশের সংস্কৃতি আমাকে বদলে দিচ্ছে?
কারণ একটি জাতি একদিনে হারিয়ে যায় না।
প্রথমে সে তার আদর্শ ভুলে যায়। তারপর পরিচয় ভুলে যায়। অবশেষে সে নিজেই ভুলে যায় কেন সে বেঁচে আছে।
আশুরা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়:
সত্যের পথে হাঁটতে ভিড়ের প্রয়োজন হয় না।
প্রয়োজন হয় দৃঢ় ঈমান, স্পষ্ট চেতনা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য।
কারবালার শহীদরা পৃথিবী জয় করতে পারেননি।
কিন্তু তারা এমন একটি আদর্শ রেখে গেছেন, যা ১৪ শতাব্দী পরও কোটি কোটি মানুষকে নাড়া দেয়।
প্রশ্ন হলো, আমরা কি শুধু আশুরার গল্প শুনব, নাকি তার শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করব?
"কারবালার ময়দানে ইয়াজিদের বাহিনী ছিল হাজারো। হুসাইন (রা.)-এর সাথী ছিল অল্প। ইতিহাস প্রমাণ করেছে, সত্যকে নির্ধারণ করে না সংখ্যা। নির্ধারণ করে অবস্থান। আজ আমাদের অবস্থান কোথায়?"
"মানুষের সবচেয়ে বড় বিপদ সত্যকে জানা নয়, বরং সত্য জেনেও সুবিধার জন্য তার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাওয়া"
কারবালার পথে কুফার হাজার হাজার মানুষ ইমাম হুসাইন (রা.)-কে চিঠি লিখে সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু যখন পরীক্ষার সময় এলো, অধিকাংশ মানুষ ভয়, ক্ষমতা ও স্বার্থের কারণে সরে গেল।অর্থাৎ,
❝ সত্যের সমর্থক হওয়া সহজ। সত্যের জন্য মূল্য দেওয়া কঠিন।❞
"কারবালার ট্র্যাজেডি শুধু ইয়াজিদের কারণে ঘটেনি। ঘটেছিল তাদের কারণেও, যারা সত্যকে চিনত কিন্তু নীরব ছিল। ইতিহাসে অনেক সময় অত্যাচারীরা জেতে না, জেতে নীরব দর্শকরা। বাতিলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার বাহিনী নয়; সত্য জানার পরও চুপ থাকা মানুষের সংখ্যা।
#আশুরা