26/08/2025
//আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা গঠনের পিছনে অধ্যাপক আসাদুল্লাহ আল গালিবের মধ্য একটি পূর্ব অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ কারন হিসেবে কাজ করছিল। সেটি হল - ১৯৭৭ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগে মাস্টার্স-এর ছাত্র তখন ১০ই ডিসেম্বর-৭৭ দৈনিক ইত্তেফোক -এর রবিবাসরীয় সংখ্যায় 'বিশ্ব নারীবর্ষ' উপলক্ষ্যে 'বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সমিতি'র সভানেত্রী ডক্টর নীলিমা ইব্রাহীমের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। প্রবন্ধটি ইতিপূর্বে ঢাকায় উক্ত মহিলা সমিতি আয়ােজিত সেমিনারে পঠিত হয়। যেখানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি কে, এম, সোবহান, অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁ, বেগম সুফিয়া কামাল প্রমুখ বুদ্ধিজীবীগণ। তিনদিন ব্যাপি উক্ত সেমিনারে প্রায় অর্ধ ডজন ইসলামবিরোধী প্রস্তাব সরকারের নিকটে পেশ করার জন্য গৃহীত হয়। উক্ত প্রবন্ধে হিন্দু মুসলিম আন্ত-সাম্প্রদায়িক বিবাহ, পিতৃ সম্পত্তিতে ছেলে ও মেয়ের একই অংশ নির্ধারণ, এক পুরুষ এক নারী, একাধিক স্ত্রী মােটেই নয়, এ সবের পক্ষে জোরালাে যুক্তি দেখিয়ে সরকারকে এগুলো মেনে
নেওয়ার আহবান জানানে হয় ।
//উক্ত প্রবন্ধ পাঠ করে জনাব আসাদুল্লাহ আল গালিব ভীষণভাবে মর্মপীড়া অনুভব করেন। ভাবতে থাকেন বাংলাদেশে ৬৬টির মত মহিলসংস্থা আছে। এর মধ্যে একটি যদি অহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা থাকে তারাই এর প্রতিবাদ করলে অধিক কার্যকরী হ'ত। যাই হােক তিনি এর কড়া প্রতিবাদ লিখে তার ভাগিনেয়ী তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ১ম বর্ষ সম্মনের ছাত্রী রােজেদা আখতারের নামে 'স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী'
শিরােনামে ইত্তেফাকে পাঠিয়ে দেন। যা ১৫ই জানুয়ারী -৭৮ এর রবিবাসরীয় ইত্তেফাকে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক আরাফাতে তার স্বনামে ১৬-০১-১৯৭৮ তারিখে ২০/১৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
//বলাবাহুল্য অন্যানা মাহিলা সংস্থার পাশাপাশি অহলেহাদীছ মহিলাদের সতন্ত্র অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং কুরআন ও ছইীহ হাদীছ অনুযায়ী
নিজেদের ও অন্যান্য মহিলাদের গৃহ ও পরিবার গড়ে তােলর মহান উদ্দেশ্য নিয়েই অধ্যাপক মাওলানা আসাদুল্লাহ আল-গালিব ১৯৮১ সালের ৭ই জুন তারিখে বাংলাদেশ আহলেহাদীছ মহিলা-সংস্থার গােড়াপত্তন করেন যা এখন কর্মচঞ্চল সংগঠন হিসেবে কাজ করেছে। ফালিল্লাহিল হামদ।
// উল্লেখ্য ১৯৮১ সালের ৭ই জুন তারিখে সর্ব প্রথম সাতক্ষীরা শহরে বাংলাদেশ 'আহলেহাদীছ মহিলা সংস্থা বা জমঈয়তে খাওয়াতীনে আহলেহাদীছ ' প্রভিষ্ঠা
লাভ করে। উক্ত সংগঠনের প্রথম সম্পাদিকা ছিলেন হালিমা খাতুন এবং সভানেত্রী ছিলেন স্নিগ্ধা হক এম, এ। এই সময় অধ্যাপক গালিবকে সহযােগিতা করেছিল সাতক্ষীরার অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ গযনফর ও মৌলবী
আবছুস ছামাদ ছাহেবান। বলা বাহুল্য আহলেহাদীছ যুবসংঘের কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী এর সকল সংগঠনিক ও তাবলীগী কর্মসূচী পরিচালিত হয় যার রিপােট ঐসময় জমঈয়ত মুখপত্র সাপ্তহিক আরাফাতে প্রকাশিত হয়।
সম্পাদনায়ঃ-
শেখ মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম
এস, এম মাসউদ বিন ইসহাক
স্মরণিকা-৯১।