18/05/2023
১ম পর্ব
............................
সহীহ্ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নবী ﷺ নামাজে রফে ইয়াদাইন করা ছেড়ে দিয়েছেন তাই আমরাও রফে ইয়াদাইন করিনা ।
এ ব্যাপারে আমাদের দিলল ও বিরুদ্ধ বাদিদের অভিযোগের দলিল ভিত্তিক জবাব উপস্থাপন করা হলো :-
📖📖
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ،
عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ أَلاَ أُصَلِّي بِكُمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى فَلَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ .
‘আলকামা (রহঃ) থেকে বর্ণিত: তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ ( রাদ্বি আল্লাহু আনহু ) বললেন, আমি কি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামায আদায় পড়ে দেখাব না? তারপর তিনি নামায পড়লেন, কিন্তু প্রথম বার (তাকবীরে তাহরীমার সময়) ব্যাতীত আর কোথাও হাত উঠালেন না ।
#জামে তিরমিজি হাদিস নং ২৫৭;
#সুনানে আবু দাউদ হাদিস নং ৭৪৮ ;
#সুনানে নাসাঈ হাদিস নং ১০৫৮ ;
এই হাদিসটা সহীহ্ ।
উক্ত হাদিস সম্পর্কে লা-মাযহাবীদের কয়েকটি অভিযোগ আছে । নিম্নে তাদের অভিযোগ গুলোর ধারাবাহিকভাবে দলিল ভিত্তিক খন্ডন করা হলো ।
কিছু আপত্তি ও তার নিষ্পত্তি
-----------------------------------------
১নং অভিযোগ :-
**************
অনেকের ধারণা যে উক্ত হাদিসটি জয়ীফ, কারণ ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদিসটিকে সহীহ্ নয় বলেছেন ।
#উক্ত অভিযোগের জবাব : -
***********************
ইমাম আবু দাঊদ (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীছ বর্ণনা করে বলেন,
📋
هَذَا حَدِيْثٌ مُخْتَصَرٌ مِّنْ حَدِيْثٍ طَوِيْلٍ وَلَيْسَ هُوَ بِصَحِيْحٍ عَلَى هَذَا اللَّفْظِ ‘এই হাদিসটি লম্বা হাদীছের সংক্ষিপ্ত রূপ। আর এই শব্দে হাদীছটি ছহীহ নয়’
অর্থাৎ ইবনে মাসউদ (রাদি আল্লাহ আনহু) এর হাদিসের সম্পূর্ণ নামাজের ব্যাখ্যা না দিয়ে শুধু প্রথমবার রফে ইয়াদাইন করার কথা উল্লেখ করেছেন এজন্যই ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটিকে সংক্ষিপ্ত বলেছেন । এর কারণ হচ্ছে ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) এর দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হাদিসটি নিম্নরূপ -
📖
حدثنا الحسن ابن ربيع حدثنا ابن إدريس عن عاصم بن كليب، عن عبد الرحمن بن الأسود حدثنا علقمة أن عبد الله (رضي الله عنه) قال "علمنا رسول الله (صلى الله عليه وسلم) الصلاة فقام فكبر ورفع يديه، ثم ركع، فطبق يديه جعلهما بين ركبتيه فبلغ ذلك سعدا فقال صدق أخي قد كنا" نفعل ذلك في أول الإسلام ثم أمرنا بهذا
--হযরত আলকামা (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) হাদিস বর্ণনা করেন যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) বলেছেন; আমাদেরকে আল্লাহর রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি নামাজে দাঁড়াতেন এবং তাকবীর দিতেন ও দুই হাত উঁচু করতেন । অত:পর রুকু করতেন এবং তার দুই হাতকে দু হাঁটুর মধ্যে রুদ্ধ রাখতেন।
অতঃপর হযরত সাদ (রাদি আল্লাহু আনহু) এর নিকট যখন এই কথা পৌছালে তিনি বলেছেন : আমার ভাই সত্য বলেছে হযরত সাদ বললেন। হযরত সাদ (রাদি আল্লাহু আনহু) বলেন আমরা এরূপ ইসলামের প্রথম লগ্নে করতাম এরপর আমাদেরকে এরূপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
#যুযে রফে ইয়াদাইন: হাদিস নং, ৭২;
#আওনুল মা'বুদ শরহে আবু দাউদ : ২ য় খন্ড ১৩২ পৃষ্ঠা ;
#বজলুল মাজহুল : ৪র্থ খন্ড ২৭৬ পৃষ্ঠা ;
#তুহফালতু আহওয়াজী : ১ম খন্ড ৫৫২ পৃষ্ঠা ;
উক্ত হাদিস প্রসঙ্গে ইমাম বোখারী বলেন-
📋
قال البخاري: و هذا المحفوظ عند أهل النظر من حديث عبدالله بن مسعود
-- ইমাম বোখারি (রাহিমাহুল্লাল) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) এর হাদিস চিন্তাশীলদের নিকট محفوظ বা সংরক্ষিত ।
#যুযে রফে ইয়াদাইন :হাদিস নং ৭২;
#তুহফাতুল আহওয়াজি : ১ম খন্ড ৫৫২ পৃষ্ঠা ;
সম্মানিত পাঠ্যবৃন্দ লক্ষ্য করুন ইমাম বুখারী ও ইমাম (রহিমাহুমাল্লাহ) তাদের নিকট হযরত ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) এর হাদিস সংরক্ষিত রয়েছে সে হাদিসেও মাত্র একবার রফে ইদাইন করার কথাই উল্লেখ আছে । এজন্যই ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) হাদিসের সনদকে জয়ীফ বলেননি বরং বলেছেন এই শব্দে হাদীসটি সহীহ নয়। মূলত হাদিসটা জয়ীফ কিংবা ভুল নয় ।
এই হাদিসের সমর্থনে ইমাম আবু দাউদ( রাহিমাহুল্লাহ) নিজেই এরূপ আরেকটি হাদিস তার গ্রন্থে উল্লেখ করেন :-
📖
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ، وَخَالِدُ بْنُ عَمْرٍو، وَأَبُو حُذَيْفَةَ قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، بِإِسْنَادِهِ بِهَذَا قَالَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ مَرَّةٍ وَقَالَ بَعْضُهُمْ مَرَّةً وَاحِدَةً .
মুয়াবিয়া, খালেদ ইবনে আমর ও হুজায়ফা (রহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন: এই হাদিস সুফিয়ান (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন:
তিনি বলেন, অত:পর তার দুই হাত প্রথমবারই উঠাতেন। কেউ কেউ বলেছেন শুধু একবার হাত হাত উঠাতেন।
( সুনানে আবু দাউদ : হাদিস নং,৭৪৯)
এই হাদিস উল্লেখ করে ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) কোন অভিযোগ করেন নাই।
সুতরাং, এ হাদিস দ্বারা হযরত ইবনে মাসউদ (রাদি আল্লাহু আনহু) এর বর্ণিত হাদিসটি আরো শক্তিশালী হয়ে যাবে ।
উক্ত হাদিস সহীহ হওয়ার পক্ষে কিছু দলিল উল্লেখ করা হলো :-
☘️এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম নিমাভী (রাহিমাহুল্লাহ)বলেন :-
📋
وهو حديث صحيح
--এই হাদিস সহীহ
(আছারুছ সুনান : ১৩২ পৃষ্ঠা)
☘️এই হাদিস সম্পর্কে ইমাম বদরুদ্দিন আইনী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন :-
📋
وإسناد حديث عاصم بن كليب صحيح على شرط مسلم
--ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এর শর্ত অনুযায়ী আসিম ইবনে কুলাইব এর হাদিস সহীহ্ ।
(উমদাতুল ক্বারী শরহে বোখারী : ৪খন্ড ৩৮১পৃষ্টা)
☘️এ হাদিস সম্পর্কে ইমাম তিরমিজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন :-
📋
حديث ابن مسعود حديث حسن
--ইবনে মাসউদ (রাদি আল্লাহু আনহু) এর হাদিস হাসান
(তিরমিজি শরিফ: হাদিস নং ২৫৭)
☘️এই হাদিস সম্পর্কে বায়হাকী শরীফের হাশিয়ায় উল্লেখ আছে :-
📋
هذا الحديث وصححه ابن حزم وكذا ابن التركماني
-- ইবনে হাজম ও ইমাম তুরকিমানী (রাহিমাহুল্লাহ) হাদীসটিকে সহীহ্ বলেছেন ।
(বায়হাক্বী, সুনানে কুবরা :২য় খন্ড ১৮৩ পৃষ্ঠা)
সম্মানিত লা-মাযহাবী ভাইদের কাছে প্রশ্ন হাদিসটি যদি জয়ীফ হয় ইমামগণ সহীহ্ বললেন কেন??
২ নং অভিযোগ :-
****************
উক্ত হাদিস সহীহ নয় কারণ এই হাদিসের সনদে عاصم بن كليب (আসিম ইবনে কুলাইব) নামক একজন রাবী রয়েছে ।
#উক্ত অভিযোগের জবাব :-
***********************
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ তাদের এই অভিযোগটিও সঠিক নয় ।
উক্ত রাবি সম্পর্কে ইমামদের মতামত লক্ষ্য করুন :-
☘️ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) উক্ত রাবী আসিম ইবনে কুলাইব সম্পর্কে বলেন :-
📋
وكان فاضيلا عابدا.و ثقه ابن معين، وغيره ، وقال أبو حاتم صالح
--সে মর্যাদা সম্পন্ন আবেদ বান্দাহ ছিলেন। ইমাম ইবনে মাঈন (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্যরা তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন । ইমাম আবু হতেম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন সে একজন নেককার বান্দা ।
#মিযানুল এ'তেদাল : রাবী নং ৪০৬৪;
#তারিখুল ইসলাম : রাবী নং ১২৬;
☘️ উক্ত রাবী সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে :-
📋
قال أبو بكر الأثرم، عن أحمد بن حنبل: لا بأس بديثه
--আবু বকর আছরাম ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণনা করেন তার হাদিসের ব্যাপারে অসুবিধা নেই ।
#তাহাজিবুল কামাল: রাবী নং ৩০২৪ ;
#তাহজিবুত তাহজিব: রাবী নং ৮৯;
☘️উক্ত রাবী সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে :-
📋
وقال أحمد بن سعد بن أبي مريم، عن يحيى بن معين:ثقة وكذلك قال النسائي
--আহমদ ইবনে সাঈদ আবী মারইয়ম হযরত ইয়াহহিয়া ইবনে মাঈন হতে বর্ণনা করেন, সে বিশ্বস্ত। ইমাম নাসাযঈ (রাহিমাহুল্লাহ) অনুরূপ বলেছেন ।
#তাহাজিবুল কামাল: রাবী নং ৩০২৪ ;
#তাহজিবুত তাহজিব :রাবী নং ৮৯;
☘️ উক্ত রাবী সম্পর্কে ইমাম হিব্বান (রহিমাহুল্লাহ) বলেন :-
📋
و ذكره ابن حبان في كتاب الثقات
--ইমাম ইবনে হিব্বান( রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাকে বিশ্বস্তদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
#তাহাজিবুল কামাল: রাবী নং ৩০২৪ ;
#তাহজিবুত তাহজিব :রাবী নং ৮৯;
#কিতাবুল ছিক্বাত: রাবী নং ৯৯৫১;
☘️উক্ত রাবী সম্পর্কে ইমাম ইবনে সা'দ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন :-
📋
و كان ثقة يحتج به وليس بكثير الحديث.
--সে বিশ্বস্ত এবং তার উপর নির্ভর করা যায়, কিন্তু তার বর্ণিত খুব বেশি হাদিস নেই।
#ইমাম ইবনে সা'দ: তাবকাতুল কোবরা : রাবী নং ২৫২৬ ;
#তাহজিবুত তাহজিব: রাবী নং ৮৯;
☘️উক্ত রাবী সম্পর্কে আরো উল্লেখ আছে :-
📖
عاصم بن كليب وهو ثقة من رواة "مسلم " قال و صحيحه ابن القطان المغربى و صحيحه ابن حزم الاندلسى قال الحافظ في " الداية" و صحيحه الدارقطنى
-- আসিম ইবনে কুলাইব একজন বিশ্বস্ত রাবী, যার থেকে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস বর্ণনা করেছেন । ইবনে কাত্তান মাগরিবী (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। ইবনে হাজম আন্দালুছী (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন।হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার “দেরায়া”- তে বলেন : ইমাম দারে কুতনি (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত রাবী বলেছেন ।
(আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী : মাআরিফাতুস সুনান : ২য় খন্ড ৪৭৭ পৃষ্ঠা)
☘️ ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) আসিম ইবনে কুলাইব থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন,
আপনারা বুঝার জন্য সহীহ মুসলিম শরীফের দুইটি সনদ উল্লেখ করা হলো যে গুলোর মধ্যে আসিম ইবনে কুলাইব আছেন -
📖
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ، وَاللَّفْظُ لِأَبِي كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ......
(মুসলিম শরীফ : ২০৭৮ নং হাদিসের সনদ)
📖
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ.....
(মুসলিম শরীফ : ২০৯৫ নং হাদিসের সনদ)
এছাড়াও ২৭২৫ ও ২৯৯২ নং হাদিসের সনদে আসিম ইবনে কুলাইব আছেন ।
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনাদের বিবেকের কাছে আমাদের
প্রশ্ন :
যে হাদিসের সনদে আসিম ইবনে কুলাইব নামক রাবী আছেন ঐ হাদিস যদি গ্রহনযোগ্য না হয় বা ঐ হাদিস যদি জয়ীফ হয়, তাহলে মুসলিম শরীফের যে সমস্ত হাদিসের সনদে আসিম ইবনে কুলাইব নামক রাবী রয়েছে সে সব হাদিস কি জয়ীফ??
প্রশ্ন :
সর্বসম্মতিক্রমে বোখারী ও মুসলিম শরীফে কোন জয়ীফ হাদিস নাই । এটা তারাও মানে। তাহলে নির্ভর যোগ্য রাবীকে নিয়ে কটুক্তি করা এবং আম পাবলিকের কাছে নির্ভর যোগ্য রাবী সম্পর্কে অপপ্রচার করা মিথ্যাবাদিদের লক্ষণ নয় কি??
৩ নং অভিযোগ :-
****************
অনেকে বলে থাকেন, হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রঃ) বলেছেন :-
📖
وَلَمْ يَثْبُتْ حَدِيْثُ ابْنِ مَسْعُوْدٍ أَنَّ النَّبِىَّ
(صلى الله عليه وسلم ) لَمْ يَرْفَعْ يَدَيْهِ إِلاَّ فِىْ أَوَّلِ مَرَّةٍ.
--ইবনে মুবারক বলেছেন : ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) এর ‘প্রথবার ব্যতীত হাত উঠাতেন না ’ এই হাদিসটা প্রমাণিত নয় ।
উক্ত অভিযোগের জবাব :-
***********************
এই অভিযোগ সঠিক নয়, কারণ ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ) এর নিকট ইবনে মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এই হাদিস প্রমাণিত না হলেও ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ) এর নিকট ইবনে মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এই হাদিস প্রমাণিত । যেমন : ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ) তার সুনানে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) থেকেই এই হাদিস বর্ণনা করেছেন এভাবে,
📖
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ،قَالَ:أَنْبَأَنَا{عَبْدُاللَّهِ
بْنُ الْمُبَارَكِ} عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ
كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِصَلَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَقَامَ فَرَفَعَ يَدَيْهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ ثُمَّ لَمْ يُعِدْ
-- সুয়াইস ইবনে নসর,
(((আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক)) হতে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান ছাওরী হতে, তিনি আসিম ইবনে কুলাইব হতে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আসওয়াদ থেকে তিনি, আলকামা থেকে, তিনি
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন,
তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্বন্ধে কি সংবাদ দেবনা? এরপর তিনি সালাতে দাঁড়িয়ে প্রথমবার তাঁর উভয় হাত উঠালেন। তারপর আর উঠালেন না।
#সুনানে নাসাঈ: হাদিস নং ১০২৬;
#ইমাম নাসাঈ,সুনানে কুবরা : ১ম খন্ড ৩৫১ পৃষ্ঠা ;
# ইবনে হুমাম, ফাতহুল কাদীর : ১ম খন্ড ৩১৭পৃষ্ঠা ;
তাহলে বলুন ! ইমাম নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ) এর কাছে সহীহ্ সনদে আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিস বর্ণনা করে ইহা ( রফে ইয়াদাইন না করার কথা) ثبت ছাবিত করেছেন কেন???
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন তাদের সনদ বিহীন কথা গ্রহণ যোগ্য হবে নাকি আমাদের উল্লেখিত সনদ সহ কথা গ্রহণ করা হবে??
৪নং অভিযোগ :-
***************
হজরত আব্দুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) হজরত আলকামা (রহিমাহুল্লাহ) থেকে কোন হাদিস গুনেননি ।
উক্ত অভিযোগের জবাব :-
***********************
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ, তাদের এই অভিযোগটিও সত্য নয় ।
কারণ :-
📖
وصرح الخطيب في كتاب المتفق والمفترق في ترجمة عبد الرحمن هذا أنه سمع أباه و علقمة
--খতিব তার ‘ মুত্তাফিক্ব ওয়াল মুফতারিক্ব’- গ্রন্থে আবদুর রহমান এর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন যে, নিশ্চয় আবদুর রহমান তার পিতা ও আলকামা থেকে হাদিস শুনেছেন ।
#ইবনে হুমাম, ফাতহুল কাদীর, ১ম খন্ড, ৩১৮ পৃষ্ঠা ;
#ইমাম বদরুদ্দীন আইনী : আল বেনায়া, ২য় খন্ড, ২৯৭ পৃষ্ঠা ;
#ইমাম মুগুলতাঈ: শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ, ৩য় খন্ড, ৪২২ পৃষ্ঠা;
#বজহুল মাজহুল : ৪র্থ খন্ড, ২৭৮ পৃষ্ঠা ;
স্বয়ং ইমাম বোখারী (রহিমাহুল্লাহ) তদীয় কিতাবে বলেছেন :-
📖
سمع أباه، وعبد الرحمن بن الأسود،سمع منه الثوري و شعبة.
-- তিনি তার পিতা ও আব্দুর রহমান ইবনে আসওয়াদ হতে হাদিস শুনেছেন। তার থেকে সুফিয়ান ছাওরী ও শুবা (রহিমাহুমাল্লাহ) হাদিস শুনেছেন ।
#ইমাম বোখারী : তারিখুল কবির, রাবী নং ৩০৬৩
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন, এভাবে রাবীদের ব্যাপারে মিথ্যা অভিযোগ করে তাদের লাভ কী??
উত্তর কী কিয়ামতের আগেও পাবো??
৫ নং অভিযোগ :-
****************
কেউ কেউ বলেন , ইমাম আদী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন : সুফিয়ান ছাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এই হাদিস প্রমাণিত নয় ।
উক্ত অভিযোগের জবাব :-
***********************
সম্মিলিত পাঠক বৃন্দ, তাদের এই অভিযোগটিও সত্য নয়। কারণ ইমাম ত্বাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘শরহে মাআনিল আছার নামক গ্রন্থে’ সহীহ্ রেওয়াতে এবং ইমাম তিরমিজি (রহিমাহুল্লাহ) তার ‘জামে গ্রন্থে ’ উল্লেখ করেছেন এভাবে :-
📖
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي دَاوُدَ، قَالَ: ثنا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، قَالَ: ثنا وَكِيعٌ، {{عَنْ سُفْيَانَ}}، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «أَنَّهُ كَانَ يَرْفَعُ يَدَيْهِ فِي أَوَّلِ تَكْبِيرَةٍ , ثُمَّ لَا يَعُودُ
-- ইবনে আবী দাউদ। নুয়াইম ইবনে হাম্মাদ থেকে, তিনি ওয়াকী থেকে, তিনি {{{সুফিয়ান ছাওরী }}}থেকে, তিনি আসিম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আসওয়াদ থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বি আল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয় তিনি ( নবী ﷺ ) প্রথম তাকবীরের সময় দুইহাত উঁচু করতেন । তারপর আর অনুরুপ করতেন না ।
#শরহে মা'আনিল আছার : হাদিস নং ১৩৪৯;
#শরহে সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩য় খন্ড,৪২৩ পৃষ্ঠা ;
যে জায়গায় সুফিয়ান ছাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে সু স্পষ্ট ভাবে হাদিস বর্ণিত ও প্রমাণিত আছে। সে জায়গায় বলা হচ্ছে যে, সুফিয়ান ছাওরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে উক্ত হাদিস প্রমাণিত নয় । এমন কথা রাবীর নামে মিথ্যাচারিতা নয় কি??
সম্মানিত পাঠক বৃন্দ আপনাদের বিবেকের কাছে এই প্রশ্নটা রইলো !
৬নং অভিযোগ :-
***************
‘আসিম ইবনে কুলাইব’থেকে সহীহাইন( বোখারী ও মুসলিম)-এ কোন হাদিস বর্ণিত হয়নি।
উক্ত অভিযোগের জবাব :-
***********************
সম্মিলিত পাঠক বৃন্দ অতীব আফসোসের সহিত জানানো যাচ্ছে যে। এই অভিযোগটিও সঠিক নয় ।
কারণ,
☘️উক্ত রাবী সম্পর্কে উল্লেখ আছে :-
📖
عاصم بن كليب وهو ثقة من رواة "مسلم " قال و صحيحه ابن القطان المغربى و صحيحه ابن حزم الاندلسى قال الحافظ في " الداية" و صحيحه الدارقطنى
-- আসিম ইবনে কুলাইব একজন বিশ্বস্ত রাবী, যার থেকে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) হাদিস বর্ণনা করেছেন । ইবনে কাত্তান মাগরিবী (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন। ইবনে হাজম আন্দালুছী (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন।হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তার “দেরায়া”- তে বলেন : ইমাম দারে কুতনি (রহিমাহুল্লাহ) তাকে বিশ্বস্ত রাবী বলেছেন ।
(আনওশার শাহ কাশ্মীরী : মাআরিফাতুস সুনান : ২য় খন্ড ৪৭৭ পৃষ্ঠে)
আসিম ইবনে কুলাইব থেকে ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) তার সহীহ্ মুসলিম শরীফে কয়েকটি হাদিস লিপিবদ্ধ করেছেন। তার প্রমাণ উপরে ২ নং অভিযোগ ও তার জাবাবের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে ।
আপনাদের বোঝার সুবিধার্থে আবার দুইটি সনদ উল্লেখ করা হলো যে গুলোর মধ্যে আসিম ইবনে কুলাইব আছেন
📖
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ نُمَيْرٍ، وَأَبُو كُرَيْبٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ إِدْرِيسَ، وَاللَّفْظُ لِأَبِي كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ، قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ عَلِيٍّ......
(মুসলিম শরীফ: ২০৭৮ নং হাদিসের সনদ )
📖
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ.....
(মুসলিম শরীফ : ২০৯৫ নং হাদিসের সনদ)
এছাড়াও ২৭২৫ ও ২৯৯২ নং হাদিসের সনদে আসিম ইবনে কুলাইব আছেন ।
প্রশ্ন :-
আসিব ইবনে কুলাইব যে হাদিসে আছেন সে হাদিস যদি জয়ীফ বা জাল বা মুনকার হিসেবে সাব্যস্ত হয় তাহলে মুসলিম শরীফের যে সকল হাদিসের সনদে আসিম ইবনে কুলাইব আছেন সে হাদিস গুলো কী সহীহ্ নয়??
কিয়ামতের আগেও কি এই প্রশ্নের উত্তর পাবো??
সুতরাং প্রমাণিত হলো এই হাদিসটা সহীহ্ ।
#সম্মিলিত পাঠক বৃন্দ এতটুকু মনে রাখবেন যে : হানাফি মাযহাবের কোন আমল কোরআন ও নবী করিম ﷺ এর সুনাতের পরিপন্থী নয় ।