27/02/2024
সুন্নি জনাতার শ্লোগান -" নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার! নারায়ে রেসালাত ইয়া রাসুলাল্লাহ (দঃ)!"
বিপরীতে আহলে হবিসদের শ্লোগান - লিল্লাহি তাকবির!
যেটা তারা প্রায়ই ওয়াজে দিয়ে থাকে। এটা পৃথক একটি বাতিল ফেরকাহ'র চিহ্ন হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। তা হল - ফেরকায়ে আহলে হাদিস।
একইভাবে শুধু " নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার " এটা কওমি ওয়াহাবিদের শ্লোগান। যা দ্বারা খারেজী ফেরকাহ'র পরিচয় হয়। কারণ, তারা আল্লাহু আকবর বললেও- " ইয়া রাসূলাল্লাহ " বলা শিরক মনে করে।
তাই খারেজী সম্প্রদায়ের চিহ্ন হচ্ছে - " শুধু নারায়ে তাকবির "। কেননা তারা যখন সিফ্ফিনের যুদ্ধে মাওলা আলী রাদ্বিআল্লাহু তা'আলা আনহু'র দল ত্যাগ করে আলাদা ফেরকাহ হয়ে যায় তখন তাদের শ্লোগান ছিল- " লা- হুকমা ইল্লা -লিল্লাহ্ " অর্থাৎ - আল্লাহর হুকুম ব্যতীত অন্য কারও আদেশ মানিনা। যা সম্পূর্ণ কোরআন- হাদিসের বিরোধ্যচারণ। সুতরাং ইয়া রাসূলাল্লাহ্ না বলে শুধু আল্লাহু আকবার বলাটা খারেজীয়্যাত বা ওয়াহাবি ভাবধারার আচরণ বহন করে তাই এটা তাদেরই লক্ষ্মণ।
একই ফর্মুলায় - " নারায়ে তাহক্বীক! আবু বকর ওয়া ওমর! নারায়ে হায়দারি ইয়া আলী ইয়া আলী! " সুন্নিজামাতের শ্লোগান হিসেবে বিবেচ্য।
অন্যদিকে শুধু - " নারায়ে হায়দারি ইয়া আলী ইয়া আলী (রাদ্বিআল্লাহু..) " যা শিয়াদের শ্লোগান হিসেবে মনোনীত।
এগুলো কয়েক যুগ ধরে পৃথক পৃথকভাবে চলে আসছে। এই শ্লোগানগুলো মুখরিত হলে সুন্নিদের পরিচয় উঠে আসে এবং বাতেলদের গায়ে জ্বালা শুরু হয়।
ধারাবাহিকতায়, বর্তমানে কিছু শাব্দিক পরিবর্তন নতুন পরিভাষা পরিলক্ষিত হচ্ছে, তা হল- বড় হুজুর! ছোট হুজুর! শায়খ- শায়েখ, পীর, আয়ডল, আইকন পরিচিত, প্রসিদ্ধদের নাম মোবারকের শেষে - অমুক দাঃমাঃ আঃ, হাফিঃ / হাফিজাহুল্লাহ্ এই ধরনের শব্দ যা অতীত থেকে বাতেল ফেরকার'র লোকদের নামের শেষে তারা লিখে আসছে সেগুলো আমাদের কচি কচি প্রিয় ভাইয়েরা আদর করে মা'শুক আয়ডলদের নামেও লিখে যাচ্ছে। এতে করে চিহ্ন নির্ধারণে হক- বাতেল, সুন্নি -অসুন্নি কোন বেদাবেদ থাকছে না। অথচ - আল্লাহ তা'আলা পাক কালামে সদা নিষেধ করেছেন -
" হে! ঈমানদারগণ, তোমরা নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শানে 'রায়েনা' শব্দটি বলিও না বরং এর স্থলে- 'উনযুরনা' শব্দ বল। "- সুরা বাকারাহ-
এরপর থেকে ঈমানদারগণ তথা সাহাবায়ে কেরাম রাসূলে আকরম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমিপে কোন আরজি রাখলে তখন নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মনোযোগ কামনায় 'রায়েনা' না বলে সেই জায়গায় 'উনযুরনা' শব্দ ব্যবহার করতেন। অথচ অর্থের দিক থেকে উভয়টি মিল রাখে।
যদিও 'রায়েনা' শব্দের আরও একটি অর্থ রয়েছে - রাখাল তথা : ছাগলের রাখাল। এখান থেকেই
আল্লাহ তা'আলার নিষেধ করার কারণ! তা হচ্ছে, মোনাফেকগণ যখন রাসূলে করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার সামনে মজলিসে থাকতেন তখন তারা ফকেট করে তথা মজা করে বিয়াদবী সুলভ বার বার 'রায়েনা' রায়েনা বলতে থাকেন! এতে নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তরে ভিষণ কষ্ট অনুভব করেন। সেই প্রেক্ষাপটে আল্লাহ তা'আলা উক্ত আয়াতে মুহকাম নাযিল করেন।
সুতরাং আমরা উপরিউক্ত আলোচনা থেকে সহজে বুঝতে পারছি সুন্নিজামাতের কিছু শাব্দিক মৌলিক শ্লোগান আছে যা সুন্নিয়তের নিদর্শন বা চিহ্ন সাব্যস্ত করে। অন্যদিকে বিভিন্ন বাতেল ফেরকাহ'র কিছু শ্লোগান আছে যেগুলো তাদের পরিচয় প্রকাশ করে।
হুজুর শায়খুল ইসলাম শেরে জামান আল্লামা হাফেজ আশরাফুজ্জামান আলকাদেরী ক্বাদমাহু আলা আইনাইয়া ওয়া রা'সি বর্তমান সুন্নিদের ভিতরে লোকিয়ে থাকা খবিস মোনাফেকদের কর্মকান্ড অবলোকন করেছেন বিধায় সবার জ্ঞাতার্থে সতর্কতা মুলক আবেগ জড়া ভাষায় সুন্নিজাতির সামনে মাহফিলে তুলে ধরলেন। হুজুরের ক্বদমে অজস্র সালাম ভক্তি নিবেদন করছি। আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে মোনাফেকি চক্র মিন-হ-াজ-ী-য়্য-ত থেকে বাঁচিয়ে রাখুক। আমিন।