খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম

  • Home
  • Bangladesh
  • Patiya
  • খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম

খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম Ahle Sunnat Wal Jamat

27/07/2026

রান্নাঘরে মহিলাদের আমল থেকে #সংসারে_বরকত
রান্নার সময় #দোয়া_দরুদ ও #কুরআন_তিলাওয়াত

ইমাম শাফঈ (রহঃ) কে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) দাওয়াত দিলেন, ইমাম আহমদ মেয়েদেরকে ডেকে বললেন আমার উস্তাদ আসবে, উনাকে দাওয়াত দিয়েছি, উনার ২ টি পছন্দের আমল হচ্ছে
(১) তাহাজ্জুদ গুজার (২) খাবার খুবই অল্প খান।

আজকাল আমরা কাউকে দাওয়াত দিলে মেহমানের কি কোয়ালিটি বলি? উনি খাবার একটু বেশী খান।

আর হাদীস কি বলে? পেট ভরে খাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি পেট ভরে খাবার খায় তার ঐ পেট (আল্লাহর কাছে) একটি নিকৃষ্ট পাত্র। (তিরমিযী)

সুন্নাত হল পাকস্থলির তিন ভাগের একভাগ খাবার খাবে, আর তিনভাগের একভাগ পানি পান করবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য খালী রেখে দিবে। [তিরমিযী]

অনেকে আছে খাবার খাওয়ার সময় বাদশা বনে যায়, বলে পেট ভর্তি করে খাও, পেটের তিন অংশ খাবার দিয়ে ভর্তি করে ফেল পানি ডানে বামে এসেই যাবে। এভাবে খাওয়ার বাদশা হবেন না।

বেশী খাবার মানুষকে অসুস্থ বানিয়ে দেয়। বেশী খেতে পারাটা গুন নয়। যদি আল্লাহ মানুষকে খাওয়ার জন্য পয়দা করতেন তাহলে গাভির মত একটা পেটও দিতেন। কিন্তু আল্লাহ আমাদেরকে গাভির মত পেট দেননি। সুতরাং যা আল্লাহ লাগাননি কেহ যদি তার পেটকে খেয়ে খেয়ে গাভির পেটের মত বানাতে চায়, সেটা মানুষের গুণ হতে পারে না বরং এটা মানুষের দোষ।

যাক - ইমাম আহমদের ঘরে ইমাম শাফেয়ী এসে গেলেন, আরবীদের অভ্যাস মেহমান আসলে উনার সামনে ঘরে যত প্রকার খাবার সব পেশ করা। উনার সামনেও সব খাবার পেশ করা হল, আরবের লোকেরা মেহমানদারী করাকে সৌভাগ্য মনে করত।
আর আমাদের অভ্যাস হল মেহমান আসলে আমরা বিরক্ত হই, চেহেরা ফিরিয়ে নিই। ইমাম শাফেয়ী খেতে বসে নিয়ম থেকে বেশী খেয়ে ফেললেন। আর সকালে দেখলেন তাহাজ্জুদের জন্য উঠলে অজু করার জন্য যে পানি রেখেছিল সেটাও তেমনি পড়ে রইল। ব্যবহার করেননি। মেয়েরা বাবাকে প্রশ্ন করল আপনি বলেছেন আপনার উস্তাদ তাহাজ্জুদ গুজার, খাবার কম খান, এখনতো দেখছি পুরাটা উল্টা।

মেয়েদের প্রশ্ন শুনে পিতা পেরেশান, তিনি যখন উস্তাদের কাছে গেলেন উস্তাদ ইমাম শাফেয়ী সাগরিদের চেহেরা দেখে বুঝে নিলেন যে সাগরিদ কোন পেরেশানিতে আছে, সাগরিদকে প্রশ্ন করল তোমার কি পেরেশানি? সাগরিদ বলল আমি ১টি প্রশ্ন করতে চাই, বললেন কি প্রশ্ন? তখন ইমাম আহমদ সব কথা খুলে বললেন,

এবার ইমাম শাফেয়ী বললেন আমাকে বল গতরাতে খাবার যে দিয়েছ তা কে রান্না করেছে?
ইমাম আহমদ বললেন, আমার মেয়ে
সেকি হাফেজে কুরআন? জি, তাঁর রান্নার নিয়ম হল সে যখন রান্না করে অজুর সাথে কুরআন পাঠ শুরু করে রান্না শেষ হতে হতে ৫ পারা পড়ে নেয়।

ইমাম শাফেয়ী বললেন- সে জন্য সে খাবারে এতই বরকত আমি পেয়েছি, আমি প্রথমে এক লোকমা নিলাম এতই মজা লাগল আরো ১ লোকমা নিলাম আরো মজা লাগল, এভাবে করতে করতে আমি আমার অভ্যাস থেকে কিছু বেশী খেয়ে নিলাম।

আমি এশার নামাজ পড়ে শুয়ে গেলাম, আর (ইয়া আবা উমাইর, মা ফাআলান নুগাইর) এই হাদীসটির উপর চিন্তা করতে লাগলাম আর আল্লাহ আমার জেহেনেও এত বরকত দান করলেন যে আমি ৯০ টি মাসায়ালা এই একটি হাদীস থেকেই শুয়ে শুয়ে সমাধান করে ফেললাম। সারা রাত ঘুমাইনি, ফলে অজু ভঙ্গ হয়নি তাই আমি তাহাজ্জুদের জন্য যখন উঠি তখন অজুর প্রয়োজনও হয়নি।

হে প্রিয় বোনেরা-
এখন চিন্তা করুন, আপনিও যদি অজুর সাথে কুরআন পড়তে পড়তে, কুরআনের যতটুকু আপনার মুখস্থ আছে তা পড়তে পড়তে, আল্লাহর জিকির সমুহ করতে করতে কিংবা দরুদ শরীফ পাঠ করতে করতে রান্না করেন। আর যদি নাপাক হয়ে থাকেন, তাহলে দরুদ শরীফ পড়তে পড়তে রান্না করেন। তাহলে আপনার স্বামী ছেলে মেয়েরাও এবাদতে আগ্রহি হবে, তাঁদের জ্ঞানে বরকত হবে, শুধু তারা নয় যারাই আপনার রান্না খাবে তাঁদেরও শারিরিক ও মানসিক প্রশান্তি বজায় থাকবে, ঘরে বরকত থাকবে।

আজকাল যারা রিমোট হাতে নিয়ে কিংবা মিউজিক শুনে শুনে রান্না করেন সে রান্নাতে কিভাবে বরকত আসবে? আরো আফসোসের বিষয় আজকাল তালাক হওয়াটা অতি মামুলি একটা বিষয় হয়ে গেছে, এর একটা কারন এটাও যে বরকতহীন খাবার।

মনে রাখবেন বাজারের খাবার খাওয়া জায়েজ, এতে কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু সালফে সালেহিন বলেন, যে ঘরে খাবার রান্না হয় সে ঘরে ঝগড়া হয়না, আজকাল ঘরে রান্না না হলে স্বামী বলে সমস্যা কি? আমি হোটেল গিয়ে খেয়ে নিব, এই যে অভ্যাস, হোটেলে গিয়ে খেয়ে নিব, এর ফলে স্বামীর কাছে স্ত্রীর গুরুত্ব কমে যায়। সে মনে মনে চিন্তা করে আমার খাবারের তো সমস্যা নাই আমি হোটেল থেকে খেতে পারি। এটা সংসার ভাঙ্গতে ভুমিকা রাখে। তাই স্ত্রীদের যখন তখন বাহিরের খাবার বাজারের খাবার ঘরে ঢুকতে দেয়া উচিত নয়। আগেকার মহিলারা ঘরের লোকদের রান্না করে খাওয়ানোকে এইজন্য সৌভাগ্য মনে করত।
কারন তাদের বিশ্বাস সারাদিন কষ্ট করে যে রান্না করেছে সে রান্না খেয়ে শক্তি সঞ্চয় করে তাঁর ঘরের লোকগুলি যে নামাজ পড়ে ইবাদত করে জিকির করে কুরান পড়ে এসব কিছুর সাওয়াবের একাংশ রান্নাকারীর আমলনামায় যোগ হয়।

রাসুলুল্লাহ (দঃ) যখন গারে হেরায় ধ্যান মগ্ন থাকতেন, যে পাহাড়ে উঠা কত যে কষ্টকর, শুধু উঠতেই লাগে ২ /৩ ঘন্টা, কিন্তু প্রতিদিন হযরত খদিজা (রাঃ) নিজ স্বামীর জন্য রান্না করে নিয়ে যেতেন, একদিন যখন প্রচন্ড গরমে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন হযরত জিবরাইল এসে বলেন (ইয়া রাসুলাল্লাহ ইন্না হাজিহি খাদিজা, বিয়াদিহা ইনাউন ফিহি তাআমুন আউ শারাবুন আউ ইজামুন) খাদিজা আপনার জন্য খাবার নিয়ে আসছেন, পাহাড়ে উঠলে তাঁর মাথা ব্যথাও করবে, মাথা চক্করও দিবে। (ফাইজা আতাতকা) যখন আসবে (ফাকরা আলাইহাস সালাম মিন রাব্বিহা) তাঁকে বলবেন খদিজা তোমার রব তোমাকে সালাম পাঠিয়েছেন। (ওয়া মিন্নি) আমি ফেরেশতাদের সরদার আমার পক্ষ থেকেও খাদিজাকে সালাম বলবেন (ওয়া বাশ্বিরহা বি বাইতিন ফিল জান্নাহ) আর তাকে এই সুসংবাদও বলে দিবেন যে জান্নাতে আল্লাহ তার জন্য ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। যেখানে কখনো ক্লান্তিও আসবে না মাথাও ব্যথা করবে না।

অতএব সম্পূর্ণ আলোচনার সারসংক্ষেপ হল:
কম খাবেন, কম খাওয়া সুন্নত। নারীরা অজুর সাথে বিসমিল্লাহ বলে রান্নার কাজ শুরু করবেন, রান্না করার সময় গান বাজনা থেকে বেঁচে থাকবেন। কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়া দরুদ ও জিকির করবেন। হোটেলের খাবারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে নিবেন। নিজে রান্না করে খাওয়ানোটাকে সৌভাগ্য মনে করবেন। এই রান্না খেয়ে আপনার ঘরের মানুষ গুলি যত ইবাদত করবে তার নেকির একটি ভাগও আপনি পাবেন। এ রান্না খেলে ঘরে ঝগড়া হবে না, ইবাদতে মজা আসবে, সন্তানদের পড়ালেখায় অগ্রগতি হবে, আল্লাহর খাস রহমত নেমে আসবে এবং বরকত হবে।

13/07/2026

"টাকনু-গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলানো সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানঃ আমাদের হুজুরদের বিজ্ঞান ভাবনা"
-------------------------------------------------
✍️সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া আজহারী

ইদানীং আমাদের কিছু হুজুরদের ট্রেন্ড হয়ে গেছে, সাইন্স সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান না থাকার পরও কুরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফ থেকে সাইন্স খুঁজে বের করতে চেষ্টা করা। এটা মূলতঃ খারাপ না। কুরআন হাদিসে সাইন্টিফিক ফ্যাক্টস খুঁজে পেলে ইমান তাজা হয়, মানুষের কাছে বর্ণনা করলে তাদেরও ইমান তাজা হয়। কুরআন হাদিসে এরকম বহু সাইন্টিফিক ফ্যাক্টস আছে, যা ই'জাযুল কুরআন বা পবিত্র কুরআনের মু'জিযা নামে পরিচিত।

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হুজুরদের সাইন্স সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান না থাকার কারণে এমন সব আজগুবি কথা বলেন যে, ইসলাম বিদ্বেষী শিক্ষিত ও এলিট সোসাইটিতে ইসলাম নিয়েই মানুষ উপহাস করে, কারণ সবার তাকওয়া ও সহনশীলতার লেভেল এক সমান না। তেমনি একটি সমস্যা নিয়ে আজ কিছুটা আলোকপাত করব ইন শা আল্লাহ।

আমি শতভাগ নিশ্চিত যে, অল্প কিছু হুজুরকে ওয়াজে বলতে শুনেছি এবং এটা ফেসবুকে লিখিত আকারেও ভাইরাল করা হয়েছে, টাকনুতে সেক্স হরমোন থাকে এবং টাকনু গিড়া খোলা রাখলে তাতে বাতাস লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি, এতে বায়োলজিকাল উপকার আছে। টাকনুতে বাতাস লাগলেই যদি হরমোন বের হয়, তো প্রিয় নবিজির ﷺ সব সময়ের আমল ছিল মোজা দিয়ে টাকনু ঢেকে রাখা। তো তখন বাতাস কিভাবে লাগত?

মোজা পড়া সুন্নাত, তাও চামড়ার তৈরি মোজা। তো বাতাস কেমনে লাগত টাকনুতে তখন?

আসলে টাকনু গিড়াতে সেক্স হরমোন থাকে এটা বায়োলজির বইয়ের দূর দূর থেকে কোথাও নেই। যতটুকু আমি রিসার্চ করেছি। এমন কোন কথা বলা উচিত না যা শুনে ইসলাম বিদ্বেষীরা মুখ টিপে হাসে। আজগুবি কথা থেকে আমরা দয়া করে বিরত থাকি। ইসলাম এমনিতেই সাইন্টিফিক। বানোয়াট আজগুবি কথা বলে ইসলামকে সাইন্টিফিক প্রমাণের প্রয়োজন নেই।

মূলতঃ টাকনুর নিচে, কব্জির নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়াকে হুজুর রাসূলুল্লাহর ﷺ জমানাতে কিংবা জাহেলিয়াতের যুগে অহংকার ও শৌর্য বীর্যের পরিচায়ক মনে করা হত। সেজন্য এই কাজ থেকে হুজুর রাসূলুল্লাহ ﷺ নিষেধ করেছেন।

সকল ফুকাহায়ে কেরামগণ (ইসলামিক আইনবেত্তাগণ) এই বিষয়ে একমত যে, অহংকার (الخيلاء ও বাতরান দুটো শব্দ এসেছে, দুটোর অর্থই অহংকারবশতঃ) বশতঃ টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়া হারাম এবং কবিরা গোনাহ। কিন্তু অহংকার ছাড়া টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়া যাবে কিনা এ নিয়ে ফুকাহায়ে কেরামগনের মাঝে মতপার্থক্য আছে। কেউ বলেছেন হারাম, কেউ বলেছেন মাকরুহ , কেউ বলেছেন জায়েজ। তবে চার মাজহাবের বেশিরভাগ ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, এটা হারাম নয়।

১.ইবনু মুফলিহ "আদাবুশ শরীয়াহ" কিতাবে লিখেছেন, (খন্ড ৩: পৃষ্ঠা ৫২১) ইমাম আজম হজরত আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ কে মাটিতে কাপড় ঝুলিয়ে চলতে দেখে জিজ্ঞেস করা হলো "আমাদেরকে কি এ কাজ থেকে নিষেধ করা হয়নি?" তখন তিনি জবাব দিলেন নিশ্চয় তা অহংকার (الخيلاء) বশত টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে যারা চলে তাদের ব্যপারে, আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত নই। ( আরো দেখুন: ফতোয়া আল হিন্দিয়া , খন্ড ৫: পৃষ্ঠা ৩৩৩)

২.মালেকি মাজহাবের কেউ কেউ একে হারাম বলেছেন। যেমন ইবনুল আরাবী, কারাফি প্রমুখ।
কিন্তু মালেকি মাজহাবের বিখ্যাত আলিম হাফিজ ইবনু আব্দিল বার তাঁর "তামহিদ" কিতাবে( খন্ড:৩/পৃষ্ঠা ২৪৪) বলেছেন, হাদিছ অনুযায়ী অহংকার ছাড়া যারা কাপড় ঝুলিয়ে চলবে তারা এই শাস্তির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এটা ভাল কাজ নয়।

৩.শাফেয়ী মাজহাবের বেশিরভাগের মত হচ্ছে অহংকারবশত: না হলে এটা জায়েজ।
ইমাম নববী তাঁর "আল-মাজমু " কিতাবে (খন্ড:৩/পৃষ্ঠা ১৭৭) লিখেছেন,ইমান শাফেয়ী (রাহ:) বলেছেন, নামাজে এবং নামাজের বাইরে সর্বাবস্থায় অহংকার (الخيلاء) বশত: টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়া হারাম। কিন্তু অহংকার ছাড়া টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়াতে অসুবিধা নাই।

৪.হাম্বলী মাজহাবের মত: বেশিরভাগই বলেছেন হারাম নয়। "আল ইকনা" কিতাবে (খন্ড:১/পৃষ্ঠা ১৩৯) বলা হয়েছে, পুরুষের কাপড় কারণ ছাড়া টাকনুর নিচে পড়াকে মাকরুহ করা হয়েছে।
ইমাম ইবনে কুদামাহ আল হাম্বালী যিনি ইবনে তাইমিয়্যার দাদা শায়খ "আল মুগনী" কিতাবে বলেছেন, জামা, পায়জামা টাকনুর নিচে পড়া মাকরুহ। আর যদি কেহ অহংকার (الخيلاء) বশত: টাকনু গিড়ার নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে তবে তা হারাম।
ইবনু মুফলিহ "আল-আদাবুশ শরীয়াহ" কিতাবে লিখেছেন, (খন্ড ৩: পৃষ্ঠা ৫২১) , হাম্বলী মাজহাবের বিখ্যাত আলিম ইবনে তাইমিয়্যাহ ও একে হারাম নয় বলেছেন। (আরো দেখুনঃ ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত "শরহুল উমদা" পৃষ্ঠা: ৩৬১-৩৬২)

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: হাম্বালী মাজহাবের অনুসারী দাবীদার (আসলে তারা লা মাজহাবী) শায়খ ইবনে উসাইমিন, বিন বাজ সাহেবসহ সমসাময়িক আলিমরা একে হারাম বলেছেন।

এখন দয়া করে আমাকে ভুল বুঝার আগে, যেসব হাদিসের ভিত্তিতে উপরের আলোচনা এবং হুকুমসমুহ ফুকাহায়ে কেরাম দিয়েছেন সেসব হাদিস একটু দেখে নিন নিচের ফটো কমেন্টগুলোতে। সবগুলো হাদিসই বোখারী শরীফের পোশাক পরিচ্ছদ অধ্যায়ের। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অনুবাদ করা।

আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসুল ﷺ ই সর্বাধিক জ্ঞাত।

08/07/2026

তরুণ আলেমদের জন্য। শেয়ার করুন।
হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু কি নিরুপায় হয়ে, বাধ্য হয়ে সুলেহ করেছিলেন? প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি নিরুপায় হয়ে সুলেহ করেন, তবে তার বিধান এবং ফলাফল হবে একরকম। আর যদি তখন সেরকম অবস্থা না থাকেন, তবে তার বিধান এবং ফলাফল হবে অন্যরকম। আর ঐতিহাসিক সেই সুলেহ হয়েছিল, আমরা সবাই জানি— হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর সাথে।

শিয়াদের দৃষ্টিতে— “জান্নাতের সরদার হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু একান্ত বাধ্যবাধকতার মধ্যে নিরুপায় হয়ে এই সুলেহ করেছিলেন। যাকে حالت اکراہ/اجبار বলে। তিনি আন্তরিকভাবে এই সুলেহ চাননি। এটা ওনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হওয়া একটা "উপায়হীন ইনিশিয়েটিভ।”

এই হল শিয়াদের কথার সারাংশ। শিয়াদের এই মতামত যে আউটপুট তৈরি করে তা হলো— যেহেতু ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু এই চুক্তির পক্ষে ছিলেন না; একান্ত নিরুপায় হয়ে সুলেহ করেছিলেন। তাই তার মাধ্যমে আমিরে মুয়াবিয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহুকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। যদি স্বেচ্ছায় সুলেহ করতেন, তবে আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে স্বীকৃতি দেওয়া হতো।

আর আহলে সুন্নাতের ওলামা কেরামের মতে— ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু সেই রকম কোন উপায় অন্তহীন অবস্থায় নয়, বরং আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও মুসলমানদের রক্তপাত এড়ানোর জন্য সুচিন্তিতভাবেই ‘সুলেহ’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। সুতরাং সুলেহ করে যেহেতু দায়িত্বভার হজরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাতে তুলে দিয়েছেন, সুতরাং এটা হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মেনে নেওয়াই বুঝায়।

এ হল দু’পক্ষের দুই দাবি। এটা বোঝার জন্য একটু একাডেমিক আলোচনায় যেতে হবে। ইসলামী শরীয়তের আলোকে মানুষের কয়েকটি অবস্থা হতে পারে।

১ حالت اختیار
হালাতে এখতিয়ার
২. حالت اکراہ
হালাতে একরাহ
৩. حالت اضطرار
হালাতে এদত্বেরার

হালাতে এখতিয়ার এর বিষয়টি পরেই আলোচনা করি। তার আগে হালাতে একরাহ ও হালাতে এদত্বেরার বিষয়ে খানিকটা আলোচনা করি। সহজ ভাবে বুঝার জন্য সরাসরি উদাহরণ দিয়ে বুঝাবার চেষ্টা করছি।

২. حالت اکراہ
হালাতে একরাহ:

মনে করুন, কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে যদি কোন জালিম ‘কুফরি’ করতে বাধ্য করে, তখন নিরুপায় হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য অন্তরের বিশ্বাস ঠিক রেখে মুখে কালিমায়ে কুফর উচ্চারণ করলে তার এই অবস্থাকে حالت اکراہ (হালাতে একরাহ ) বলে। এইরকম অবস্থার কথা সূরা নাহলের ১০৬ নং আয়াতে আছে। এইরকম অবস্থায় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যা করা হয়, যা বলা হয়, তা গণ্য করা হয় না— বরং ক্ষমাযোগ্য হয়। তার অন্তরের কথাটাই ধর্তব্য হয়।

এমনই এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু। মুশরিকরা তাকে চরম নির্যাতন করে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বদনাম করতে এবং তাদের দেবদেবীর প্রশংসা করতে বাধ্য করেছিল। পরবর্তীতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে ঘটনা তুলে ধরলে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তোমার কলবে কী ছিল? হযরত আম্মার বললেন, নির্ভেজাল ও স্থির ঈমান। তখন প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহুর কালবী স্বীকৃতি গ্রহণ করলেন এবং একান্ত বাধ্য হয়ে মুখে যা করেছেন, তা আমলে নেন নি। অর্থাৎ এটা ধর্তব্য মনে করেননি। বরং মৌখিক উচ্চারণের কারণ হিসেবে নির্যাতনের যে ওজর পেশ করেছেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই ওজরকে ওজর হিসেবে গ্রহণ করেই তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।

৩. حالت اضطرار
হালাতে এদত্বেরার:

আরেক প্রকার বাধ্যবাধকতার অবস্থা আছে, যাকে حالت اضطرار (হালাতে এদত্বেরার) বলে। মনে করুন, কোন ব্যক্তি এমন কোন জায়গায় আছে যেখানে হালাল কোন খাবার পাওয়া যাচ্ছে না ।আশেপাশে এমন কেউ নেই যাদের কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা কিংবা ধার করে নেয়া যায়। মোটকথা, হালাল খাবারের কোন ব্যবস্থাই নেই। আছে শুধু হারাম খাবার ।এদিকে ক্ষুধা তৃষ্ণায় তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এমতাবস্থায় সেই ব্যক্তির জন্য জীবন বাঁচাতে যতটুকু প্রয়োজন যতটুকু হারাম খাবার গ্রহণ করা বৈধ। এই অবস্থাকে হালাতে এদত্বেরার বলে। এই অবস্থার কথা আছে সূরা বাকারার ১০৭ নং আয়াতে। এই অবস্থা কারো জবরদস্তিতেও হতে পারে কিংবা জবরদস্তি ছাড়াও এমন সংকট হতে পারে, যাতে জীবননাশের আশঙ্কা থাকে।
। (حالت اضطرار ও حالت اکراہ নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা আছে। লেখার কলেবর বড় হয়ে যাবে বলে এড়িয়ে যাওয়া হল)।

একরাহ ও এদত্বেরার— দুই অবস্থাতেই বাধ্যবাধকতায় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে অবৈধ কাজ করা বৈধ এবং শরীয়ত তাদের এই ওজরকে গ্রহণ করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে। অন্তরের অবস্থাকে রিয়েল অবস্থা বিবেচনা করে। বাহ্যিক কাজটার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথাযথ কারণ উপস্থাপন করাকে শরীয়তের ভাষায় إعتذار বলা হয়। যার কথা পবিত্র কোরআনে ১১তম পারার প্রথম আয়াতে আছে।

এই দুই অবস্থার বাইরে স্বাভাবিকভাবে যে অবস্থা বিরাজ করে তাকে حالت اختیار বলা হয়। যেখানে অবৈধ কাজকে অবৈধ হিসেবেই চিহ্নিত করা হয় এবং কোন ওজর চলে না।

তবে পবিত্র কোরআনে আরও কয়েকটি অবস্থার কথাও আছে। যেমন ক্ষতিসাধন করা হবে মর্মে ধমক (تهديد) দেওয়া, যার কথা আছে সূরা আরাফের ৮৮ ও ৮৯ নং আয়াতে এবং বিপদ-মুসিবত-ফিতনা পরীক্ষার অবস্থা, যার কথা আছে সূরা আনকাবুতের ১০ নং এবং সূরা হজ্জ এর ১১ নং আয়াতে। এই দুই অবস্থার বিধানও حالت اختیار এর অনুরূপ। অর্থাৎ এই পরিস্থিতিতৈ ধৈর্য ধারণ করতে হবে; অন্যায় কাজ করা বা মেনে নেওয়া যাবে না।

সারাংশ:
হালতে একরাহ ও হালতে এদত্বেরার এর ক্ষেত্রে বাহ্যিক অন্যায় কাজকে প্রশংসা নয়— বরং ওযর হিসেবে কবুল করে ক্ষমাপ্রাপ্ত বলে গণ্য করা হবে। حالت اختیار এ অন্যায় কাজকে অন্যায় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তাই সেখানে সূরা আরাফের ৮৮ ও ৮৯ নং আয়াতের বিষয়বস্তুর মত ধমকের কিছু থাকুক কিংবা সূরা হাজ্জের ১১ নং আয়াত ও সূরা আনকাবুতে ১০ নং আয়াতের বিষয়বস্তুর মত কোন বিপদ-মুসিবত-ফেতনা-পরীক্ষার কিছু থাকুক, এই সব অবস্থায় কোনভাবেই অবৈধ কাজ বৈধ বলে বিবেচিত হবে না।

প্রশ্ন হল— জান্নাতের সরদার ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে যে ‘সুলেহ’ করেছিলেন, তা কি হালতে এখতিয়ারে নাকি একরাহে, নাকি এদত্বেরারে। যদি হালতে এখতিয়ারে হয়, তাহলে হযরত আমিরের মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া এবং বায়াত গ্রহণ করার মাধ্যমে হযরত মুয়াবিয়া রাদিআল্লাহু আনহুকে মেনে নেওয়া হয় এবং এই মেনে নেওয়ার মাধ্যমে আমিরে মুয়াবিয়ার ‘মুমিন’ হওয়াই প্রমাণিত হয়। আর ‘মুমিন’ হওয়া প্রমাণিত হলে ‘সাহাবি’ হওয়াও প্রমাণিত হয়। হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু জেনেশুনে তো আর অমুসলিম কারো হাতে ইসলামী সাম্রাজ্যের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন না। সুতরাং হালতে এখতিয়ারে ছেড়ে দেওয়া মানে মুসলিমের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন, তা অপরিহার্যভাবে মেনে নিতে হবে। এটাই সমস্ত আহলে সুন্নাত এবং সুফিয়ায়ে কেরামের অভিমত। সেই আলোকে উলামায়ে আহলে সুন্নাত এবং সুফিয়ায়ে কেরামের দৃষ্টিতে হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ‘সম্মানিত সাহাবী’।

আর শিয়ারা যেহেতু হযরত আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুকে মুমিনই মনে করে না, সাহাবি তো দূরে থাক, সেহেতু তারা বলে, হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু একান্ত বাধ্য হয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ‘সুলেহ’ করেছেন। এবং তাতে বাহ্যিক কাজ ‘সুলেহ’ ধর্তব্য হবে না। ধর্তব্য না হলে আমিরে মুয়াবিয়াকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না, উনার সাহাবীও প্রমাণিত হবে না। যেমন একরাহ এর হালতে কেউ কুফুরি করলে তার বাহ্যিক কুফরি ধর্তব্য হয় না। বরং এখানে যেমন অন্তরের ঈমানটাই ধর্তব্য, ওখানে যেহেতু ইমাম হাসান সুলেহের বিরুদ্ধে ছিলেন সুতরাং সুলেহের বিপরীতটাই ধর্তব্য।

বিতর্কের সমাধান কী?

সমাধান একটা হাদীস শরীফ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এরশাদ করেন:
إِنَّ ابنِي هذا سَيِّدٌ ، يُصْلِحُ اللهُ بهِ بين فِئَتَيْنِ من المسلمينَ
অর্থাৎ আমার এই সন্তান সাইয়্যেদ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার মাধ্যমে মুসলিমদের দুই বড় দলের মধ্যে সুলেহ করবেন।

১. এই হাদিসে যে সুলেহের ভবিষ্যতবাণী আছে, সুন্নি এবং শিয়া সবাই এই মর্মে একমত, সেটার বাস্তবায়ন হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু যে সুলেহ হযরত আমিরে মুয়াবিয়ার সাথে করেছেন, তার মাধ্যমে।

২. যেহেতু এই সুলহের কারণে ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহুর প্রশংসা করা হয়েছে, আর হালতে এদত্বেরার আর হালতে একরাহে কৃত কাজের প্রশংসা করা হয় না— বরং اعتذار তথা ওজর কবুল হয়— অতএব বুঝা গেল, এই সুলেহ হালতে এদত্বেরার কিংবা হালতে একরাহ এ নয়; বরং হালতে এখতিয়ারে হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, হালতে একরাহ এর মধ্যে কেউ কুফুরি করলে বাহ্যিক কুফরের প্রশংসা করার প্রশ্নই আসে না। সুতরাং সুলেহকে যদি হালতে একরাহের কাজ বলা হয়, যেমনটি শিয়ারা বলে, তাহলে তার উপর প্রশংসা করা হবে না। অথচ উল্লিখিত হাদিসটি প্রশংসাসূচক। সুলেহের উপর প্রশংসা আরোপিত হওয়া মানেই সুলেহ হালতে এখতিয়ারের হয়েছে। একরাহ বা এদত্বেরার এর হালতে নয়। এবং এর মাধ্যমে হযরত আমির মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাহাবী হওয়া স্বীকৃতি লাভ করে।

৩. শুধু প্রশংসাই করা হয়নি— বরং এই সুলেহের কারণে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইমাম হাসানকে (রা.) 'সাইয়্যেদ' অভিহিত করেছেন। তারমানে ইমাম হাসান (রা.)-এর নেতৃত্বেই এই ‘সুলেহ’ হয়েছে। বর্তমান ও পূর্বযুগের কোন কোন সালাফি সুলেহর ক্রেডিট হযরত আমিরে মুয়াবিয়াকে দিয়েছে। এই হাদিসে সাইয়েদ শব্দটি এই সুলেহর ক্রেডিট ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর ঝুলিতে ভরেছে, আলহামদুলিল্লাহ!

৪. উপরন্তু, উপর্যুক্ত হাদীসে ইমাম হাসান রাদ্বিয়াল্লহাহু আনহু ও আমীরে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লহাহু আনহু— উভয়ের দলকে মুসলিম বলা হয়েছে।

আশ্চর্য:
সচেতন শিয়ারা যখন দেখেছে, হাদিসে বর্ণিত সুলেহকে হালতে একরাহ বা হালতে এদত্বেরার এ নেওয়া সম্ভব না। বরং হালতে এখতিয়ারে মেনে নিতে হবে এবং হালতে এখতিয়ারে মেনে নিলে হযরত আমিরের মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে যায়। তাই তারা এই হাদিসকে অস্বীকার করে বলেছে, হাদীসটি জাল হাদিস! অথচ এইটা অকাট্যভাবে সহিহ হাদিস।

বর্ধিত অংশ:
হালতে এখতিয়ারির মধ্যে যদি বলা হয় যে, কোন থ্রেট ছিল কিংবা বিপদের আশঙ্কা ছিল অথবা তার দলের বিশ্বাসঘাতকদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য ইত্যাদি কারণে ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু ‘সুলেহ’ করেছিলেন। এই সকল অবস্থাও ‘হালতে এখতিয়ারী’র অন্তর্ভুক্ত এবং এইরূপ বললে প্রকারান্তরে ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর চরিত্রে কাপুরুষতার অপবাদ লেপন করে দেওয়া হয়, যা ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর শানে যায় না। বরং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— এই অপবাদ ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে দিয়েছিল শিয়ারাই।

এখানে আরেকটি বিষয় খুবই লক্ষণীয় ।আর তা হলো, সুলেহ হওয়ার পূর্বে সকল প্রকার ভয়ভীতির উর্ধ্বে উঠে হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু আমিরে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর দরবারে যে কড়া এবং কঠোর ভাষায় বক্তব্য প্রদান করেছিলেন তাও প্রমাণ করে যে, এখানে কোনরকম হালাতে এদত্বেরার কিংবা হালাতে একরাহ ছিল না। বরং অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবেই ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু এই সুলেহ করেছিলেন।

হযরত ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এই সুলহকে শিয়ারা হুদাইবিয়ার সুলহের মত মনে করে এবং সেখানে যেমন মক্কার মুশরিকদের সাথে সুলহ হয়েছে, যা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের প্রতিপক্ষের ঈমানের স্বীকৃতি বহন করে না। এখানেও ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহ আনহুর সুলহ হযরত মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ঈমানের প্রমাণ বহন করে না। মূলত এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। কারণ হুদাইবিয়ার সুলহের সাথে ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর সুলহের মিল নেই ।কেননা, ইমাম হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু শুধু সুলেহ করেই ক্ষান্ত হননি বরং খেলাফতের দায়িত্ব থেকে সরে দাড়িয়ে হযরত আমিরের মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু কাছে বায়াত গ্রহণ করেছেন— যা হুদাইবিয়ার মধ্যে ছিল না। এরপর আরো কিছু বিষয়ে কয়েকটি লেখা আসবে ইনশাল্লাহ।
هذا ما عندي والعلم عند الله والله اعلم بالصواب

06/07/2026

তাহেরুল কাদেরীর বিরুদ্ধে লিখিত ফতোয়ার কিতাব:
===========
(١) عورت كي ديت کا مسئله(غزالي دوران علامه سيد احمد سعيد كاظمي رحمه الله)
(১) অওরাত কি দিয়ত কা মাসআলা(গাযালীয়ে দাওরান আল্লামা সৈয়দ আহমদ সাঈদ কাযেমি রহিমাহুল্লাহু)
(٢) ديت المرأة- مولانا عطا محمد صاحب بنديالوي عليه الرحمه
(২) দিয়াতুল মারআত - মাওলানা আতা মুহাম্মাদ সাহেব বন্দেয়ালভী।
(٣) جواب الجواب- مفتي تقدس علي خاں
(৩) জাওয়াবুল জাওয়াব- মুফতি তাক্বাদ্দুস আলী খান।
(٤) دوسرا مودودى آگيا - مفتي تقدس علي خاں
(৩) দোসরা মওদুদী আগেয়া - মুফতি তাক্বাদ্দুস আলী খান।
(٥) خطرا كى گهنٹى - مفتي ابو داؤد محمد صادق.
(৫) খাতরা কি ঘন্টি- মুফতি আবু দাউদ মুহাম্মদ সাদেক।
(٦) پروفسيركا علمي و تحقيقي جائزه- جسٹس غلام سرور قادري.
(৬) প্রফেসর কা ইলমী ও তাহকিকী জায়েযা- জাস্টিস গোলাম সরওয়ার কাদেরী।
(٧) تهتر فرقه اور طاهرالقادري- جسٹس غلام سرور قادري.
(৭) তিহাত্তার ফিরক্বা অওর তাহেরুল কাদেরী- জাস্টিস গোলাম সরওয়ার কাদেরী।
(٨) فتنه طاهريه كى حقيقت - مفتي محبوب رضاخاں
৮.ফিতনায়ে তাহেরিয়া কি হাকিকত- মুফতি মাহবুব রেযা খান।
(٩) علمي گرفت پروفسير طاهرالقادري - مفتي محبوب رضا خاں
(৯) ইলমি গিরিফত্ প্রফেসর তাহেরুল কাদেরী-মুফতি মাহবুব রেযা খান।
(١٠) ضرب حيدرى -مفتي غلام رسول قاسمى.
(১০) দ্বরবে হায়দারী- মুফতি গোলাম রাসুল কাসেমী।
(١١) الهامات شيطانى- مفتي عبدالله قادرى.
(১১) ইলহামাতে শায়তানী - মুফতি আবদুল্লাহ্ কাদেরী।
(١٢) خوابوں كا شهزاده - مفتي محمد صديق هزاروى.
(১২) খাবোঁ কা শাহজাদা মুফতি মুহাম্মদ সিদ্দিক হাযারভী।
(١٣) نيا فتنه -محمد حنيف اختر.
(১৩) নয়া ফিতনা-মুহাম্মদ হানিফ আখতার।
(١٤)الفتنةالجديدة-مفتي بشيرالقادري.
(১৪) আল ফিতনাতুল জাদিদাহ-মুফতি বশিরুল কাদেরী।
(١٥) إسلام اور وائرس مسيحيت- علامه بشيرالقادري.
(১৫) ইসলাম অওর virus মাসিহিয়্যত।আল্লামা বাশিরুল কাদেরী।
(١٦) متنازعه ترين شخصيت- محمد نواز كهرل.
(১৬) মুতানাযাআ তরিন শাখছিয়্যত- মুহাম্মদ নেওয়াজ খরল।
(١٧) پرانا جال نياشكارى - مفتي راحت خاں قادرى.
(১৭) পুরানা জাল নয়া শিকারী- মুফতি রাহাত খান কাদেরী।
(١٨) حجاب تصوف ميں- مفتي راحت خاں قادرى.
(১৮) হিজাব তাসাউফ মেঁ- মুফতি রাহাত খাঁন কাদেরী।
(١٩)طاهرالقادري- عقائد ونظريات- علامه مفتي محمد اختر حسين قادري.
(১৯) তাহেরুল কাদেরী- আকাইদ ও নাযরিয়াত- আল্লামা আখতার হুসাইন কাদেরী।
(٢٠) ڈاكٹر طاهرالقادري كاشرعى مواخذه- مفتي رضاء الحق أشرفى.
(২০)ড.তাহেরুল কাদেরী কা শরয়ী মুয়াখাজা- মুফতি রেজাউল হক আশরাফী।
(٢١) گمراه پرو فسير طاهرالقادري كى بد مذهبيت- آل انڈياسني تبليغى جماعت.پهول گلى. ممبئ..(www.tahirulpadri.com)
(২১) গুমরাহ প্রফেসর তাহেরুল কাদেরী কি বদ মাযহাবিয়্যত- অল ইন্ডিয়া সুন্নী তাবলিগী জামায়াত পুল গালি। মুম্বাই. (www.tahirulpadri.com)
(٢٢) قهر الديان علي منهاج القرآن- ابو مصطفي عاقب القادري.
(২২) কাহরুদ দাইয়ান আলা মিনহাজিল কোরআন- আবু মুস্তাফা আকেব আল কাদেরী।
(٢٣) سيف نعمان بر درباري منهاج القرآن- علامه مفتي محمد فضل رسول سيالوى.
(২৩) সাইফে নু'মান বার দরবারীয়ে মিনহাজুল কোরআন- আল্লামা মুফতি ফযলে রসুল সিয়ালভী।
(٢٤) طاهرالقادري كے خلاف قرآن كى فرياد- علامه مفتي محمد فضل رسول سيالوى.
(২৪) তাহেরুল কাদেরী কে খেলাফ কোরআন কি ফরিয়াদ।আল্লামা মুফতি ফযলে রসুল সিয়ালভী।
(٢٥) قلم كچه اور لكهتاهے زبان كچه اور كهتى هے. مفتي محمد حنيف قريشى قادرى.
(২৫) কলম কুছ অাওর লিখতা হে যুবান কুছ অওর কেহতি হে- মুফতি মুহাম্মদ হানিফ কুরাইশী
(٢٦) طاهرالقادري كى علمي خيانتيں- حكيم محمد عمران ثاقب.
(২৬) তাহেরুল কাদেরী কি ইলমি খিয়ানাতেঁ - হাকিম মুহাম্মদ ইমরান সাকিব।
(٢٧) طاهرالقادري كى تضادبيانى- محمد عمران عربي.
(২৭) তাহেরুল কাদেরীকি তাযাদ বয়ানী- মুহাম্মদ ইমরান আরবি।
(٢٨) طاهرالقادري سني نهيں- تاج الشريعه علامه مفتي اختر رضا خاں قادرى
২৮.তাহেরুল কাদরী সুন্নী নেহী-তাজুশ শরীয়াহ আল্লামা আখতার রেযা খাঁন কাদেরী আজহুরী রহ
٢٩.حضور تاج الشريعه كي نظرميں طاهرالقادري-محمد ضياءالحق قادري رضوي
২৯.হুজুর তাজুশ শরীয়াহ কি নজর মে তাহেরুল কাদরী-মুহাম্মদ জিয়াউল হক কাদেরী রেজভী।

30/06/2026

আমার পরে নবী হলে উমর নবী হতো

عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْ كَانَ نَبِيٌّ بَعْدِي لَكَانَ عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ»

হযরত উকবা বিন আমের রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি আমার পরে কেউ নবী হতো, তাহলে উমর বিন খাত্তাব রাঃ নবী হতেন। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-৩৬৮৬, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৭৪০৫, আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস নং-৮২২]

25/06/2026

শাহাদাতে #হোসাইন (রা.) ও #আহলে_বায়ত এর মর্যাদা ✍️মুফতি এহসানুল হক জিলানী
#কারবালার_৭২_শহীদ

মহররম হিজরি সনের প্রথম মাস। এ মাসের ১০ তারিখে সৃষ্টির আদিকাল থেকে অনেক আলোচিত ও বিস্ময়কর ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
কিন্তু এটি আমাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি আলোচিত এজন্য যে, এ মাসে প্রিয় নবী (সা.)-এর দৌহিত্র সাইয়েদেনা ইমাম হোসাইন (রা.), নবী পরিবারের বহু সদস্য ও সাথীসহ মোট ৭২ জন শাহাদাতবরণ করেন। ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক এই ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল ৬১ হিজরির ১০ মহররম শুক্রবার। প্রিয় নবীর নাতি হিসেবে এমনিতেই ইমাম হোসাইনের (রা.) প্রতি সব মুমিনের অফুরন্ত ভালোবাসা থাকাটাই স্বাভাবিক, তদুপরি কোরআন-হাদিসে আহলে বায়েতের প্রতি বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ ইমানের পরিচায়ক হিসেবেও নির্ধারিত হয়েছে।
আহলে বায়েতের ফজিলত সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ! আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের পূর্ণরূপে পূতপবিত্র রাখতে। ’ (সূরা আহজাব : ৩৩)।
প্রিয় নবী রসুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হোসাইন আমার থেকে আর আমি হোসাইন থেকে। ’ (ইবন মাজাহ)। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হাসান-হোসাইন (রা.) জান্নাতের যুবকদের সরদার। ’ (তিরমিজি)।
অন্য হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার আহলে বায়েতের মর্যাদা নুহ নবীর কিস্তিতে আরোহীদের মতো। ’ (মুসনাদে আহমাদ)। হোসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট : ইয়াজিদ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ইমাম হোসাইন (রা.) তাকে অযোগ্য হিসেবে মনে করতেন বিধায় তার হাতে বায়াত গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা ইয়াজিদ ছিলেন দুশ্চরিত্র, বেনামাজি ও মদ্যপায়ী। হজরত হাসান (রা.) ও হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর ইন্তেকালের পর খিলাফতের ন্যায়সংগত দাবিদার হোসাইন (রা.)। ইন্দ্রিয়পরায়ণ, নীতিজ্ঞানহীন ইয়াজিদের কাছে তিনি জীবনের বিনিময়েও মস্তক অবনত করতে রাজি ছিলেন না। কারণ ইমাম হোসাইন (রা.) বিশ্বাস করেন যে, তার বায়াত গ্রহণের মাধ্যমে ইসলামের আইন ও কানুন ছত্রভঙ্গ হয়ে যাবে। ফলে ইসলামের গুরুত্ব ভূলুণ্ঠিত হতে পারে। তার দেখাদেখি অন্য অনুসারীরাও বায়াত নিয়ে নেবেন। মোট কথা ইমাম হোসাইন (রা.) বায়াত না নিয়ে বাতিলের সামনে মাথা নত না করার সাহসিকতা দেখিয়েছেন। কুফাবাসী ইমাম হোসাইন (রা.)-কে চিঠির মাধ্যমে সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। ইয়াজিদ শাসনের মোকাবিলায় তার হাতে বায়াতের অঙ্গীকার করে ১৫০ খানা মতান্তরে ১২০০ চিঠি ইমাম হোসাইন (রা.)-এর কাছে পাঠায়। তারা ইমাম হোসাইন (রা.)-কে খিলাফতের অধিক যোগ্য, তার জন্য জানমাল কোরবানির জন্য প্রস্তুত, তারা আহলে বায়েতের অনুরক্ত ও সমর্থনকারী ইত্যাদি পয়গাম পাঠাতে থাকে। তাদের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য তার আপন চাচাতো ভাই মুসলিম বিন আকিলকে কুফায় পাঠান। কুফার গভর্নর নুমান বিন বশিরসহ ৪০ হাজার মানুষ মুসলিমের হাতে হোসাইন (রা.)-এর নামে বায়াত নেন। এই অনুকূল অবস্থার বর্ণনা দিয়ে একজন পত্রবাহককে চিঠি দিয়ে ইমাম হোসাইন (রা.)-কে কুফায় আসার অনুরোধ করেন তিনি। ইমাম হোসাইন (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-সহ অনেকের বাধা সত্ত্বেও ৬০ হিজরির ৮ জিলহজ পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব ও প্রিয়জন সঙ্গে নিয়ে মক্কা থেকে কুফার উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে তার চাচাতো ভাই আবদুল্লাহ ইবনে জাফর সাক্ষাৎ করে মদিনার গভর্নর কর্তৃক প্রদত্ত নিরাপত্তা সনদের ভিত্তিতে মদিনায় ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্বপ্নে নানাজির সাক্ষাৎ পেয়েছি। তিনি আমাকে একটি কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলাফল যা হোক না কেন, আমি অবশ্যই তা করব আর কাজটি কী, সে সম্পর্কে মৃত্যুর আগে আমি কাউকে কিছু বলতে পারি না। ’ পথিমধ্যে ‘জি জাশাম’ নামক স্থানে উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের পক্ষ থেকে হুর ইবনে ইয়াজিদ তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে পৌঁছেন এবং ইমাম কাফেলার সামনে ছাউনি ফেলেন। হুর তাকে বললেন, ‘আমাদের এই মর্মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, যতক্ষণ না আমরা আপনাকে উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের হাতে তুলে দেব ততক্ষণ আমরা নিজেরাও ফিরে যাব না এবং আপনাকেও ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। ’ বাধ্য হয়ে ইমাম হোসাইন (রা.) তাদের সঙ্গে চললেন, ৬১ হিজরির ৯ মহররম বৃহস্পতিবার ইমাম হোসাইন (রা.)-কে তার সঙ্গী-সাথীসহ এমন এক স্থানে থামানো হয় যা কারবালা নামে খ্যাত। কারবালায় অবস্থানরত দ্বিতীয় দিনে আমর ইবনে সাদ চার হাজার সৈন্য নিয়ে ইবনে জিয়াদের পক্ষ থেকে কারবালায় এসে পৌঁছেন। ৯ মহররম ইবনে জিয়াদের পক্ষ থেকে কঠোর ভাষায় লিখিত একটি পত্রসহ আমর ইবনে সাদের সঙ্গে ‘শিমারজিল জাওশান’ যোগ দিলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে।
ইমাম তাদের থেকে এক রাতের সময় চেয়ে নেন এবং সারা রাত ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করে কাটান। ১০ মহররম ইমাম হোসাইন (রা.) পরিবার-পরিজন ও সাথীবর্গ নিয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে জিহাদে অবতীর্ণ হন এবং একে একে হোসাইন (রা.)-সহ ৭২ জনের সবাই শাহাদাতবরণ করেন। পরিবারের নারী-শিশুসহ বাকি ১২৮ জন সদস্য বন্দী হন। প্রকৃতপক্ষে আহলে বায়েতের ভালোবাসা ইমানের দাবি, আহলে বায়েতের আদর্শ আমাদের আঁকড়ে ধরতে হবে। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, আমি আরাফার দিবসে রসুলুল্লাহ (সা.)-কে তার কাসওয়া নামক উটের ওপর বসে খুতবা দিতে শুনেছি। তিনি বলেন, ‘হে মানবসকল! আমি তোমাদের কাছে যা রেখে যাচ্ছি, যদি তোমরা এগুলো আঁকড়ে ধর বা প্রতিপালন কর তাহলে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। তার মধ্যে এক হলো আল্লাহর কিতাব (কোরআন) এবং অন্যটি হলো আমার আহলে বায়েত। ’ ১০ মহররম কারবালার ময়দানে ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করে যে অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের আজও অনুসরণ করতে হবে।

-মুফতি এহসানুল হক জিলানী,
পেশ ইমাম : বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ

#কারবালার_৭২_শহীদ
কারবালার প্রান্তরে প্রিয় নবীর প্রিয় দৌহিত্র, বেহেশতী যুবকদের সর্দার ইমাম হোসাইন (রা.) সহ সর্বমোট ৭২ জন শাহাদত বরণ করেছিলেন। নিম্নে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত ওই সব শহীদদের নাম উল্লেখ করা হলো...

নবী পরিবারের যারা শহীদ হন-
১. সাইয়্যেদানা হজরত হোসাইন বিন আলী (রা.)
২. হজরত আব্বাস বিন আলী (রা.)
৩. হজরত আবদুল্লাহ বিন আলী (রা.)
৪. হজরত ওসমান বিন আলী (রা.)
৫. হজরত মাহাম্মাদ বিন আবু সাঈদ বিন আকীল (রা.)
৬. হজরত আবদুল্লাহ বিন আযরত আবদুল্লাহ বিন আকীল (রা.)
৭. হজরত আবদুর রহমান বিন আকীল (রা.)
৮. হজরত জাফর বিন আকীল (রা.)
৯. হজরত আবদুল্লাহ বিন মুসলিম (রা.)
১০. হজরত মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.)
১১. হজরত আওন বিন আবদুল্লাহ (রা.)
১২. হজরত আলী আকবর বিন হোসাইন (রা.)
১৩. হজরত আলী আজগর বিন হোসাইন (রা.)
১৪. হজরত কাসেম বিন হাসান (রা.)
১৫. হজরত আলী বিন হাসান (রা.)
১৬. হজরত আবু বকর বিন হাসান (রা.) ও
১৭. হজরত ওবায়দুল্লাহ বিন হাসান (রা.)।

অন্যান্য শহীদগণ হলেন-
১৮. হজরত হেলাল বিন নাফে (রা.)
১৯. হজরত মোসলিম বিন আওয়াজাহ (রা.)
২০. হজরত ওয়াক্কাস বিন মালেক (রা.)
২১. হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর (রা.)
২২. হজরত আবদুল্লাহ বিন সাঈদ (রা.)
২৩. হজরত হানজালা বিন সাআদ (রা.)
২৪. হজরত মালেক বিন ছারী (রা.)
২৫. হজরত আমর বিন খালেদ (রা.)
২৬. হজরত খালেদ বিন ওমর (রা.)
২৭. হজরত শোয়াইব বিন হারিস (রা.)
২৮. হজরত সাআদ বিন আবদুল্লাহ (রা.)
২৯. হজরত বোরাহ বিন হামদানি (রা.)
৩০. হজরত ওয়াহহাব বিন আবদুল্লাহ (রা.)
৩১. হজরত হোর বিন ইয়াজিদ তামিমি (রা.)
৩২. হজরত আলী বিন হোর (রা.)
৩৩. হজরত কাআব (রা.)
৩৪. হজরত সাআদ বিন হানজাল (রা.)
৩৫. হজরত যোয়াহের বিন হাসান (রা.)
৩৬. হজরত সালমান (রা.)
৩৭. হজরত আবু তামামা (রা.)
৩৮. হজরত হাশেম বিন উতবাহ (রা.)
৩৯. হজরত আমর বিন জুনদুব (রা.)
৪০. হজরত বশির বিন আমর (রা.)
৪১. হজরত কাশেম বিন হাবিব (রা.)
৪২. হজরত যোহায়ের বিন কায়েস (রা.)
৪৩. হজরত যোহায়ের বিন সালেম (রা.)
৪৪. হজরত আনাস বিন সাআদ (রা.)
৪৫. হজরত আসলাম বিন কাসির (রা.)
৪৬. হজরত হাবিব বিন মোজাহের (রা.)
৪৭. হজরত জাবালা বিন আলী (রা.)
৪৮. হজরত নাঈম বিন আজলানা (রা.)
৪৯. হজরত তাহের
৫০. হজরত কায়েন বিন রাবী
৫১. হজরত ইয়াজিদ বিন জিয়াদ
৫২. হজরত আবদুল্লাহ বিন অারওয়াহ
৫৩. হজরত জুনুব বিন হাজার
৫৪. হজরত আবদুর রহমান বিন আরওয়াহ
৫৫. হজরত হোর রাবাছরীর
৫৭. হজরত হাসান বিন হারিস
৫৮. হজরত সাঈদ বিন আবদুল্লাহ
৫৯. হজরত আম্মার বিন হাসান
৬০. হজরত কাসেদ বিন যোহায়ের
৬১. হজরত মাজমা বিন আবদুল্লাহ
৬২. হজরত কারদাদ বিন যোহায়ের
৬৩. হজরত হাজ্জাজ বিন মারদাদ
৬৪. হজরত কাতাবায বিন আফিফ
৬৫. হজরত যোহায়ের বিন বশীর
৬৬. হজরত জারমা বিন মালেক
৬৭. হজরত ছহিফ বিন মালেক
৬৮. হজরত সালেম
৬৯. হজরত ওমর বিন সিনা।
৭০. হজরত আমেরা বিন মোসলেম
৭১. হজরত ইয়াজিদ বিন শায়েছ ও
৭২. হজরত আবদুল্লাহ বিন শায়েছ।

Address

Patiya
4370

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when খানকা-এ কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া, পটিয়া, চট্টগ্রাম posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share