আমির ভান্ডার দরবার শরীফ

আমির ভান্ডার দরবার শরীফ হাবিবে রহমান মেরে বাবাজান, ছাহেবে সুলতান আমিরুজ্জমান

# হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.)'র
সংক্ষিপ্ত জীবনী #

পটিয়া মহান আল্লাহপাক তাঁর আউলিয়ায়ে কেরামকে যুগে যুগে স্থান, কাল, পাত্র নির্বিশেষে কল্যাণ ও রহমতের আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রেরণ করেন। অনন্ত এ কল্যাণধারার এক জ্যোতি হলেন মহান সাধক হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.)। হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন হযরত গাউ

সুল আজম শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির ওপর আত্মবিসর্জনকারী একনিষ্ঠ শিষ্য ও অনুসারী। হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অন্তর্গত গোবিন্দরখীল গ্রামে বর্তমান আমির নগরে ১৮৪৫ সাল মোতাবেক ১২৫২ বাংলার ১ চৈত্র এবং ১২৬৬ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার সুবহে সাদিকের সময় পিতা হযরত সূফী মওলা চাঁদ শাহ (রহ.) এবং মাতা মুহতরমা শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৈয়দ হামিদ উদ্দিন গৌড়ীর পূর্বপুরুষগণ তৎকালীন ভারতবর্ষে দিল্লীর মুসলমান সম্রাটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই উপমহাদেশে আগমন করেন এবং দিল্লীর শাহী জামে মসজিদে ইমামতি ও সম্রাটের অধীনে কাজী পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হযরত আমিরুল আউলিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর গ্রাম্য মক্তবে শুরু হয়। মক্তবে অধ্যয়ণরত অবস্থায় তিনি সহপাঠীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও আচরণ করতেন এবং ওস্তাদের সাথে ভদ্র ও বিনয়ের সাথে কথাবার্তা বলতেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) স্থানীয় হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে ইমামতি এবং খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকের মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন জাহিরী শিক্ষাদানে। পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে একদিন যে কোনো এক রাতে এশারের ওয়াক্তে আমিরুল আউলিয়া দেখলেন যে, এশার নামায আদায় করার জন্য সাদা পোষাকধারী কিছু লোক সুন্দর সারিবদ্ধভাবে কাতারে দাড়িয়েছেন এবং একজন অতি নুরানী চেহারার অধিকারী বুজুর্গ লোক ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমিরুল আউলিয়াও নামায আদায় করার জন্য কাতার বদ্ধ হলেন। নামায শেষে সবাই ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে একে একে চলে যেতে লাগলেন। অবশেষে ইমাম সাহেব আমিরুল আউলিয়াকে বললেন, আপনি যার সন্ধান পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, তাঁর সাক্ষাত ফটিকছড়ির ইছাপুরে (মাইজভাণ্ডার) গেলে পাবেন। ১ মাঘ বুধবার হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) কে খেলাফত দান করলে, তিনি নিজ মকামে আসার পর অর্জিত বেলায়তী ক্ষমতা বিকশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তরঙ্গে অভিঘাতের মত স্পর্শ করতে থাকে মানুষের হৃদয়কে। সেই সুবাদে অধ্যাত্ম শরাফত ও রুহানিয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্রস্থল চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফ, যা মানবসেবা মানবতার কল্যাণে অনন্য এক নিদর্শন। ১ মাঘ হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ তাঁরই নির্দেশক্রমে তাঁর জাহেরী জীবদ্দশায় থেকে প্রতিবছর আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে পালিত হয়ে আসছে। এ দিনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফ লক্ষ লক্ষ মানুষের মিলন স্থানে পরিণত হয়।

হযরত আমিরুল আউলিয়ার সংসার জীবনে ৬ পুত্র ও ৬ কন্যা সন্তান ছিল। তিনি ২০ বৈশাখ, ১২ জিলক্বদ, ৩ মে ১৯২৭ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্বীয় হুজরা শরীফে বেছাল বরণ করে মহান রাব্বুল আলামীনের দিদার লাভ করেন।
প্রতি বছর ২০ বৈশাখ আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) এর পবিত্র ওরশ শরীফ আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ আশ্বিন ২ অক্টোবর হযরত আমিরুল আউলিয়ার ছয়পুত্র-আউলাদ কেরামের সম্মিলিত বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।

27/05/2026
27/05/2026

তাকবীরে তাশরীক

اللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، اللّٰهُ أَكْبَرُ، وَلِلّٰهِ الْحَمْدُ

বাংলা উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

অর্থ: আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান।
আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য।



#পটিয়া_চট্টগ্ৰাম_বাংলাদেশ

#আমিরুলআউলিয়া





22/05/2026

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
হযরত মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জামান শাহ (ক) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানায় ১৮৪৫ সালে ১৫ মার্চ, বাংলা ১২৫২ সনের ১ চৈত্র, হিজরি ১২৬১ সনে সৈয়দ মওলা চাঁন্দ ও হালিমা খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষ হযরত সৈয়দ হামিদ উদ্দিন গৌড়ি ১৫৭৫ সনে গৌড় হতে পটিয়ায় আগমন করেন ইসলাম প্রচারের জন্য। তিনি পিতা-মাতা উভয় দিক হতেই হযরত ফাতেমা (রা.) এর বংশধর ছিলেন। হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী এবং তাঁর বংশধারা হযরত সৈয়দ হামিদ উদ্দিন গৌড়িতে গিয়ে মিলিত হয়।
নিজ পরিবারে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ছয় বছর বয়সে মাওলানা সৈয়দ শরফুদ্দিনের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় মক্তবে পড়া-লেখা শুরু করেন। সেখানে চার-পাঁচ বছর পড়াশোনা করার পর তিনি প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য আগ্রহী হন। কিন্তু হঠাৎ তাঁর পিতার মৃত্যুতে তিনি বিচলিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাঁর মাতার চেষ্টায় তিনি উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য মাওলানা সৈয়দ শাহ্ আবদুর রশিদের কাছে গমন করেন। তাঁর নিকট দ্বীনি ইলমের পাশাপাশি ইলমে তাসাওউফও চর্চা করেন। পরবর্তীতে তিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর গ্রাম নিবাসী মাওলানা আবদুল আজিজ কদলপুরির নিকট গমন করেন। সেখানেও তিনি দ্বীনি শিক্ষা ও ইলমে তাসাওউফ শিক্ষা অর্জন করেন। মাওলানা কদলপুরির পরামর্শে তিনি ইলমে তাসাওউফ চর্চার জন্য আনোয়ারা উপজেলার দেয়াং পাহাড়স্থ কিপাইনগরে বিশিষ্ট সুফি সাধক মাওলানা আজগর শাহের নিকট গমন করেন। মাওলানা আজগর শাহ এবং পরবর্তীতে হযরত আকবর শাহ্ তাঁকে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর নিকট গিয়ে শিষ্যত্ব গ্রহণ করার পরামর্শ দেন।
এরপর তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন এবং স্থানীয়দের অনুরোধে হাদু চৌধুরীর মসজিদের ইমামতি ও মক্তবে শিক্ষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই মসজিদটি ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। ১৮৭৭ সালের এক রাতে তিনি মসজিদের পাশ দিয়ে আসার সময় মসজিদ থেকে আযানের ধ্বনি শুনতে পান। তিনি তাড়াতাড়ি অযু করে মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন সাদা-কাপড় পরিহিত মুসল্লিতে মসজিদ পরিপূর্ণ। কয়েকজনের জায়গা খালি আছে। তিনি সেখানে তাঁদের সাথে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। নামায শেষে সব মুসল্লি চলে গেলেন। তখন ইমাম সাহেব তাঁকে ডেকে বললেন, যাঁর সন্ধানে আপনার এত উন্মাদনা তাঁকে পেতে হলে যেতে হবে ঈসাপুর (বর্তমান মাইজভাণ্ডার গ্রাম)। এর পরদিনই তিনি ৪৫ মাইল হেঁটে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর কাছে উপস্থিত হলে তিনি দেখতে পান সেই ইমাম সাহেবই গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী। তাঁকে দেখে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী কালাম করেন, “আও ব্যাটা। মেরে পাছ সবকুছ মিল জায়েগী।” (আস বৎস! আমার কাছে সবকিছুই পাবে) সাথে সাথে তিনি তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তাঁকে দেখার সাথে এরপর একাধারে ছয় মাস তিনি নিজ পীর-মুর্শিদের খেদমতে কাটিয়ে নিজ বাড়ীতে ফিরে আসেন।
তিনি তাঁর মাতার ইচ্ছা পূরণের জন্য নিজ মামাত বোন মোছাম্মৎ ওয়ায়েজ খাতুনকে বিবাহ করেন। এছাড়া তিনি তাঁর পূর্বের ইমামতি ও মক্তবের শিক্ষকের দায়িত্ব পুনরায় গ্রহণ করেন। তখন মাঝে মাঝে মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ যাতায়াত করতেন। কিন্তু তিনি ছিলেন নিজ পীর-মুর্শিদের প্রেমে পাগল। তাই সংসারের প্রতি তাঁর বিশেষ কোন আগ্রহ ছিল না। তাঁর এই অবস্থা দেখে তাঁর স্ত্রী তাঁকে তাঁর মুর্শিদের দরবারে গিয়ে খেদমত করার পরামর্শ দেন। তিনিও তাই করেন, নিজ পরিবারকে মহান আল্লাহ্র জিম্মায় রেখে নিজ মুর্শিদের দরবারে চলে যান। সাংসারিক জীবনে পরবর্তীতে তিনি ফাতেমা খাতুন ও লালাজান বিবিকেও বিবাহ করেন। তিনি সাত পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন। তাঁর পুত্র সৈয়দ লোকমান হাকিম ১৭ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন।
তিনি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফে গিয়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী ও তাঁর পরিবারের খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন। এভাবে প্রায় এক যুগ স্বীয় মুর্শিদের খেদমত করে ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী হতে প্রকাশ্য খেলাফত লাভ করে ধন্য হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। তাঁর খ্যাতি সমগ্র চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকা হতে লোকজন এসে তাঁর কাছে বায়াত গ্রহণ করতে থাকে। তাঁর বিশেষত্বসমূহের মধ্যে অন্যতম হলোÑ তিনি সবসময় মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফকে সম্মুখে রেখে পিছনে হেঁটে বাড়ি আসতেন। যা পূর্ববর্তী বহু সুফি সাধকের আচারিত আদব। তিনি একজন মরমী কবি ও গীতিকার ছিলেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত কালাম, “হাবিবে রহমান মেরে বাবাজান/সাহেবে সুলতান আমিরুজ্জামান।” তাঁর রচিত আরেকটি কালাম এরকম, “তুমি যেই আমি সেই, তুমি আমি এক/ যেই মজিবে এ সাগরে সেই বুঝিবেক।” তিনি আরো লিখেছেন, “ হীন আমিরুজ্জামা তুমি অলি হইলা কে নে/ এত কঠিন তোন পরীক্ষা কারণে।” তাঁর শানে ভক্ত-আশেকগণ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কালাম রচনা করেছেন। তাঁর স্বরচিত একটি উর্দূ পাণ্ডুলিপি এবং একটি বাংলা পাণ্ডুলিপি এখনো তাঁর বংশধরগণের কাছে সংরক্ষিত আছে। ইমামে আহলে সুন্নাত মাওলানা সৈয়দ আজিজুল হক শেরে বাংলা তাঁর রচিত বিখ্যাত “দিওয়ানে আজিজ” গ্রন্থে তাঁর উচ্চমার্গীয় প্রশংসা করেন।
এই পর্যন্ত তাঁর জীবনী নিয়ে অনেক প্রবন্ধ, গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এগুলো হতে তাঁর মানবতার সেবায় অসংখ্য কারামতের কথা নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়। এইসব কারামতের জন্য তিনি সমসাময়িককালে জীবন্ত কিংবদন্তীতে পরিণত হন। মাইজভাণ্ডারীয়া তরিকার প্রচার-প্রসারে তিনি অনন্য ভূমিকা রাখেন। তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দের ৪ মে, বাংলা ২০ বৈশাখ, আরবি ১২ জিলক্বদ তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় পরিবারের সবাইকে ঢেকে নসিহত করে তিন বার কলেমা পড়ে ইন্তিকাল করেন। তাঁর নামাজে জানাযার ইমামতি করেন চন্দনাইশের বিখ্যাত আলেম গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর খলিফা মাওলানা আবদুর রশিদ। হযরত সৈয়দ আমিরুজ্জামান শাহ্ ছিলেন আমির ভাণ্ডার দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা। প্রতি বছর এখানে ১ মাঘ, ১ আশ্বিন এবং ২০ বৈশাখ উরস পালন করা হয়।

কৃত: তাসাওউফ বিষয়ে বহুমুখী গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক জার্নাল 'আলোকধারা, জুলাই সংখ্যা-২০২৪, বাগে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী, লেখক-অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল

16/05/2026

দয়াল ও ভান্ডারী

12/05/2026

ঐতিহাসিক আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফের শাহী ময়দানে আয়োজিত ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) ও হযরত সৈয়দ আবু ইউছুফ শাহ আমিরভাণ্ডারী (ক.)-এর ওরশ মোবারক উপলক্ষে আল্লামা হাসান রেজা আল কাদেরী তাঁর বয়ানে আমিরুল আউলিয়া শাহ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.)-এর শানে অত্যন্ত চমৎকার ও ঈমানদীপ্ত কিছু অলৌকিক ঘটনা (কেরামত) তুলে ধরেছেন।

📅 তারিখ: ২৭ বৈশাখ, ১০ মে ২০২৬, রবিবার।
📍 স্থান: আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফ, পটিয়া, চট্টগ্রাম।

03/05/2026

আজ আমির ভান্ডার দরবার শরীফে হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.)’র ৯৯ তম পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে আমিরুল আউলিয়া (ক.)’র সংক্ষিপ্ত জীবন কথা-
----------------------------------------------------------------------------
মহান স্রষ্টা আল্লাহ জাল্লা শা-নুহু তাঁর একত্ববাদ প্রচারের লক্ষে ধারাবাহিকভাবে একলক্ষ চব্বিশ হাজার তিন লক্ষ ছত্রিশ হাজার নবী রাসূল প্রেরণ করে খাতেমুল আম্বিয়া হিসেবে রাসূলে পাক (দ.) কে দ্বায়িত্ব অর্পনের মধ্য দিয়ে নবুয়তের দরজা রুদ্ধ করে দিয়ে রচিত হলো মহান রাব্বুল আলামীনের মনোনীত ধর্ম ইসলাম । নবুয়তের এই ধারা বেলায়তের মাধ্যমে অব্যহত রাখার জন্য মহান আল্লাহ পাক তাঁর আউলিয়ায়ে কেরামকে কালে কালে, যগে যুগে স্থান পাত্র নির্বিশেষে কল্যাণ ও রহমতের “আলোকবর্তিকা” হিসেবে আবির্ভূত করেন ।এই মহান কল্যানময় ধরার সদা মঙ্গলময়ী জ্যোতি হলেন- হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন হযরত গাউছুল আযম আহমদউল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) এর একনিষ্ট অনুসারী ও ফানাফিশ শায়খ ছিলেন বলেই আল্লাহ জাল্লা-শানুহু ও রাসূল পাক (দ.)এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) আশেকভক্তদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার ১২টি সেতারা আছে” তথা ১২টি তারকা, এখানে ১২টি সেতারা দ্বারা তিনি তাঁর ১২ জন একনিষ্ট খলিফাকে বুঝিয়েছেন । যাদের মধ্যে হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন অন্যতম । যিনি আমিরুল আউলিয়া লকবে ভূষিত ও শাহ ছাহেব মকাম প্রাপ্ত অলিয়ে কামেল । হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর অনুপম চরিত্র, নীতি আদর্শ ও বেলায়তের ভাবধারী মনেপ্রাণে অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে তিনি ফানাফিশ শায়খ হয়েছিলেন । যার শা’ন বর্ণনা করতে গিয়ে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহঃ)তাঁর লিখিত গ্রন্থ দিওয়ানে আজিজ’র মধ্যে বয়ান করেছেন-
মারহাবা ছদ্ মারহাবা ছদ্ মারহাবা ছদ্ মারহাবা
বাহরে আমিরুজ্জমান শাহে পটিয়া মারাহাবা,
ছাহেবে কাশফো কারামত বুদে মশহুরে জমাঁ
নে’আমতে ওজমা বরায়ে আহলে পটিয়া বেগুমা ।
অর্থ্যাৎঃ- শত সহস্র মারহাবা পটিয়া নিবাসী অলিয়ে কামেল শাহ্ মাওলানা আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.) এ জন্য তিনি যুগের প্রসিদ্ধ কাশফ ও কারামত সম্পন্ন অলি এবং নিঃসন্দেহে পটিয়াবাসীর জন্যে সর্ববৃহৎ নেয়ামত ।
আমিরুল আউলিয়ার শিশুকালীন স্বভাব ও অবস্থা হতে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, তিনি খোদাবাঞ্ছিত স্বভাবসিদ্ধ মাদারজাত অলি ছিলেন । শৈশবকালে তিনি একদিন গৃহকর্মের কাজে মাঠে কর্মরত ছিলেন, এমন সময় আল্লাহর একজন মজ্জুব অলি হযরত আকবর শাহ্ (রহঃ)পাশ দিয়ে গমন করার সময় আমিরুল আউলিয়া দেখে থমকে দাঁড়ান !তিনি হযরত আমিরুল আউলিয়ার কাছ থেকে গৃহ সরঞ্জমাদি কেড়ে নিয়ে তাঁকে একটি উক্তির মাধ্যমে বেলায়তের পূর্বভাষ প্রদান করেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অন্তর্গত গোবিন্দারখীল গ্রামে বর্তমানে আমির নগরে ১৮৪৫ সাল মোতাবেক ১২৫২ বাংলা ১লা চৈত্র এবং ১২৬৬ হিজরী ১২ই রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার সুবহে সাদিকের সময় তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত সূফী সৈয়দ মওলা চাঁদ শাহ্ (রহ.) এবং মাতা মুহতরমা শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে এই ধরায় তশরীফ আনেন । তাঁর উর্ধ্বতন বংশধর হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) ।
হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) ছিলেন আরবের মক্কার কুরাইশ বংশোদ্ভুত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র বংশধর । ইসলামকে সারা বিশ্বে প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষে সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ির পূর্ব পুরুষগণ তৎকালনি ভারতবর্ষে দিল্লীর মুসলমান সম্রাটের আহবানে সাড়া দিয়ে ভারতে আগমন করেন এবং দিল্লীর শাহী মসজিদে ইমামতি ও সম্রাটের অধীনে কাজী পদের দায়িত্ব গ্রহন করেন । তাদের কিছু বংশধর তদানীন্তন বাংলার সুলতানের আমন্ত্রনে রাজধানী গৌড় নগরে এসে ইমামতি, কাজী প্রভৃতি মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হন এবং গৌড়ী লকব ধারণ করেন । তাদেরই পরিবারের অন্যতম সদস্য কাজী সৈয়দ হামিউদ্দীন গৌড়ি (রহঃ) ১৫৭৫ খৃষ্টাব্দে গৌড় নগর থেকে হিজরত করে- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ তৎকালীন পটিয়া থানার অন্তর্গত কাঞ্চননগর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন । পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে স্থানীয় গ্রামের নামকরণ করা হয় হামিদগাঁও, যাকে চট্টগ্রামের স্থানীয়রা হাঁইদগাঁও নামে চিনে । হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) এর এক পুত্র হযরত সৈয়দ মা’দন শাহ্ (র.) গোবিন্দারখীল গ্রামে বর্তমান আমির নগরে বসতি স্থাপন করেন । তারই বংশধর ছিলেন হযরত সৈয়দ মওলা চাঁদ শাহ্ (রহঃ)তারই ঔরসে জন্ম নেন আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.)
হযরত আমিরুল আউলিয়ার বাল্যকালীন শিক্ষা তাঁর গ্রাম্য মক্তবে সূচনা হয় । মক্তবে অধ্যয়ণরত অবস্থায় তিনি সহপাঠীদের সাখে সুন্দর ব্যবহার ও সদালাপী আচরণ করতেন এবং উস্তাদের সাথে ভদ্র ও বিনয়ের সাথে কথাবাতা বলতেন ।এ জন্য তিনি শৈশবকাল থেকেই উস্তাদ ও সহপাঠীদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন ।
হযরত আমিরুল স্ব-বংশীয় উস্তাদ হযরত শরফুদ্দীন (রহ.) কাছ থেকে কুরআন, আরবী সাহিত্য, উর্দূ ও ফার্সী ভাষায় জ্ঞান অর্জন করেন ।ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন উস্তাদের কাছ থেকে ,কোরআর হাদীস, ফিকহ এবং তফসীর বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া একজন আধ্যাত্বিক মরমি কবি ছিলেন ।তিনি আরবী, বাংলা, উর্দূ, ও ফার্সী ভাষায় ইলমে তাসাওউফ বা সূফীদর্শন বিষয়ে স্বীয় মুর্শিদের শানে অনেক ভক্তিমূলক গজল, গান ও মানকাবাত কবিতা রচনা করেন । গদ্য পদ্যে তাঁর সমান লিখনি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় ।
তাঁর নিজ হস্থে লিখিত পান্ডুলিপী আমির ভান্ডার দরবার শরীফে এখনোও সংরক্ষিত আছে ।তিনি লিখেছেন-
আপনাকে সেই জনে চিনিল আপনে ।যথাথ চিনিল সেই প্রভু নিরাঞ্জনে
আপনার ভেদ যদি আপনে পাইল ।প্রভুভেদ সেই জনে নিশ্চয় পাইল ।।
শিক্ষা জীবন শেষ করে হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) স্থানীয় হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে ইমামতি এবং খতিবের দায়িত্ব পালন করেন । শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকের মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন । তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন জাহিরী শিক্ষাদানে ।আধ্যাত্মিক শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাঁকে জাহিরী শিক্ষক বানিয়েছেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) জাহের-বাতেন ও আধ্যত্মিক দীক্ষা নেয়ার জন্য তিনি এমন এক কামেল মুরশিদের সন্ধানে আছেন । যিনি তাকে তাসাওফের সর্ব্বোচ্চ মকাম তথা চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে নিয়ে যাবেন । অপ্রত্যাশিত ভাবে তিনি তিনজন মহান বূজুর্গ-সাদকের সান্নিধ্যে লাভ করেন । তারা হলেন পটিয়া থানার বড়লিয়ার হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ শাহ (রহঃ), আনোয়ারা থানার কিপাইনগরের হযরত আজগর শাহ্ (রহঃ) এবং রাউজান থানার কদলপুরের হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ কদলপুরীর (রহঃ)এই মহান কামেল অলিদের নিকট হতে তিনি ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ হাসিল করেন । আর আল্লাহর প্রেমিকগনের পথে অবিরাম যাত্রী আমিরুল আউলিয়া (ক.)এমন এক মুরশিদের সন্ধানে আছেন, যার নিকট থেকে তিনি বেলায়তের সর্ব্বোত্তম শক্তি ও মর্যাদা লাভ করবে ।অবশেষে তিনি সেই মহান মুরশিদের সন্ধান পেলেন ।
হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে কোনো সাধারণ মুসল্লি যোহর, আছর ও মাগরিবের নামায আদায় করতে পারলেও বিশেষ কিছু অলৌকিক ঘটনাবলির কারণে ফজর ও এশার নামায আদায় করা সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষে সম্ভব হত না, কিন্তু আমিরুল আউলিয়া সেই মসজিদে সারারাত জেগে ইবাদত ও রেয়াজতের মাধ্যমে অতিবাহীত করতেন । একদিন যে কোনো এক রাতে এশারের ওয়াক্তে আমিরুল আউলিয়া দেখলেন যে এশার নামায আদায় করার জন্য সাদাপোষাকধারী কিছু লোক সুন্দর সারিবদ্ধভাবে কাতারে দাড়িয়েছেন এবং একজন অতি নুরানী চেহারার অধিকারী বুজুর্গ লোক ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন ।আমিরুল আউলিয়াও নামায আদায় করার জন্য কাতারবদ্ধ হলেন । নামায শেষে সবাই ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে একে একে চলে যেতে লাগলেন । অবশেষে ইমাম সাহেব আমিরুল আউলিয়াকে বললেন, আপনি যার সন্ধানে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, তাঁর সাক্ষাত ফটিকছড়ির ইছাপুরে (মাইজভান্ডার) গেলে পাবেন । এরপর তিনি মাইজভান্ডার শরীফ গমন করে হযরত গাউছুল আযম মাইজভান্ডারীকে দেখা মাত্রই চিনতে পারেন এবং মনে মনে বললেন, এই সেই ব্যক্তি যিনি আমাকে মাইজভান্ডার শরীফ আসার জন্য তাগিত দিয়েছিলেন, অতঃপর আমিরুল আউলিয়া তাঁর হাতে দস্তে বায়াত গ্রহন করেন ।
হযরত আমিরুল আ্উলিয়া (ক.) প্রায় বার বছর গাউছুল আযম মাইজভান্ডারীর খেদমত ও গোলামীতে নিজেকে উৎসর্গ করেন । তরিক্বত জীবনের এই সুদীর্ঘ যাত্রা পথে তিনি অনেক কঠিন পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন । কঠোর রিয়াজত ও সাধনায় মধ্য দিয়ে সূফী অলিদের ইতিহাসে অনুপম আদব ও ভক্তির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । এখানে আমিরুল আউলিযার দু-একটি ঘটনা প্রকাশ করা জরুরি মনে করি । আমিরুল আউলিয়ার মূল কাজ ছিল স্বীয় মুরশিদের সেবা এবং হুকুম পালন করা, একদিন গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী নিজ হুজরা থেকে বের হয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্য করে বললেন- তোমরা আমাকে কতটুকু ভালোবাসো ? উত্তরে সবাই বললেন, প্রাণের ছেয়েও বেশি ভালোবাসি । হযরত কেবলা তাদের পরিক্ষা করার উদ্দেশ্য বললেন, কে কে এই খেজুর গাছের বিষাক্ত কাটার স্তুপের উপর লাফ দিতে পারবে ? এ কথা শুনে সবাই ভয়ে একে একে সরে যেতে লাগলেন, কিন্তু আমিরুল আউলিয়া (ক.) হযরত কেবলার ইশারা পেয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, বিষাক্ত খেজুর কাটার স্তুপের উপর লাফ দিলেন, আল্লাহর কি অসীম লীলাখেলা, একটা কাটাও আমিরুল আউলিয়ার শরীরে বিদ হয়নি এবং প্রমান করলেন যে, তিনি হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী কে কতটুকু ভালোবাসেন !
একদিন হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী নিজ হুজরার উপস্থিত সকল মুরিদানের উদ্দেশ্য বললেন, “আমার ডান হাত বেহেস্ত, আর বাম হাত দোযখ, তোমরা যেটি নেবার নিয়ে নাও” তখন সবাই পবিত্র ডান হাতটি ধরে আনন্দে হৈচৈ শুরু করে দিলো । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী দেখলেন, আমিরুল আউলিয়া এক কোণে করজোড়ে মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন । গাউছুল মাইজভান্ডারী আমিরুল আউলিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, সবাই বেহেস্ত নিচ্ছে আর তুমি এখনোও দাঁড়িয়ে আছো ! এই বাণী শোনার পর আমিরুল আউলিয়া (ক.) গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর বাম হাত ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী বললেন, “সবাই বেহেস্ত নিলো আর তুমি দোযখ নিলে কেন ? আমিরুল আউলিয়া বিনীতভাবে জবাব দিলেন, আমি বেহেস্ত বুঝিনা, দোযখও বুঝিনা- আমি মুরশিদকেই চিনি । তাঁর বাম যেখানে যাবে আমি সেখানেই যাবো । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী তাৎক্ষনিক সমস্ত খলিফাগনের উদ্দেশ্য বললেন, তোমরা বেহেস্ত চেয়েছ, বেহেস্ত অবশ্যই পাবে, কিন্ত আমাকে আমার আমিরুজ্জমার সাথে থাকতে হবে । আমিরুল আউলিয়া মুরশিদের প্রতি অনুপম আদব-ভক্তির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । যিনি গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীকে সামনে রেখে সূদুর ৪৫ মাইল প্রতিবার পিছনে হেঁটে নিজ মকামে এসেছিলেন ।
শরিয়ত-তরিক্বতের আমল, আপন মুরশিদের খেদমত যথাথ পালনের মাধ্যমে তিনি কঠোর রেযাজত ও জাগতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে অবিরাম অবিশ্রান্ত প্রেমপূণ কঠোর সাধনা বলে আত্মশুদ্ধির পরম উন্নত স্তরে উপনীত হয়ে বেলায়ত ও কামালিয়াতের আলিশান মকামাত হাসিল করার মধ্য দিয়ে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর (ক.) তদীয় বেলাদত শরীফের দিন ১লা মাঘ বুধবার হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) কে খেলাফত দান করলে, তিনি নিজ মকামে এসে অর্জিত বেলায়তি ক্ষমতা বিকশীত হওয়ার মধ্য দিয়ে তরঙ্গে অভিঘাতের মত স্পর্শ করতে থাকে মানুষের হৃদয়কে ।সেই সুবাদে আধ্যত্ম শরাফত ও রুহানিয়াতের উপর প্রতিষ্টিত হয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম আধ্যাতিক সাধনার কেন্দ্রস্থল চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত আমির ভান্ডার দরবার শরীফ, যা মানবসেবা মানবকল্যাণে এক অনন্য নিদর্শন । ১লা মাঘ, হযরত গাউছুল মাইজভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর নির্দেশক্রমে তাঁহার জাহেরি জীবদ্দশায় থেকে প্রতি বছর আমির ভান্ডার দরবার শরীফে পালিত হয়ে আসছে ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) এর কাছ থেকে অসংখ্য কারামত প্রকাশ পেয়েছে । তন্মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে জীবন দান, অবাধ্য সন্তানকে মায়ের নিকট নিয়ে আসা, কবর থেকে মৃত ব্যক্তিকে ডেকে তাদের ভাল মন্দ খোজ-খবর নেওয়া, বিপরীত দ্রব্য প্রয়োগে শেফা লাভ ও হায়াত বৃদ্ধি, পদাঘাতে পুকুর সৃষ্টি সাপে কাটা রোগীকে শেফা দান, মুরিদের বিপদে সাহায্য করা, ইত্যাদি কারামত সমূহ উল্লেখযোগ্য ।
হযরত আমিরুল আউলিয়ার ফয়েজপ্রাপ্ত অসংখ্যা খলিফা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেখান থেকে তারা অবিরাম আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত দিয়ে থাকেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়ার সংসার জীবনে ছয় পুত্র ও ছয় কন্যা ছিল । হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) নিজ জবানে ঘোষনা করলেন , আমার ছয় পুত্র আল্লাহর অলি
এই মহান অলি ২০শে বৈশাখ, ১২ই জিলক্বদ, ৩ মে ১৯২৭ মোতাবেক বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় স্বীয় হুজরা শরীফে বেছাল বরণ করে মহান রাব্বুল আলামিনের দীদার লাভ করেন ।

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে মহান বেছাল বার্ষিকী ওরশ শরীফ  #২০শে_বৈশাখ_০৩রা_মে_রোজ_রবিবার_২০২৬_স...
02/05/2026

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে মহান বেছাল বার্ষিকী ওরশ শরীফ #২০শে_বৈশাখ_০৩রা_মে_রোজ_রবিবার_২০২৬_সাল সফল হোক।
আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফের অধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির ভাণ্ডারী ত্বরিকার মহান প্রবর্তক আমিরুল আউলিয়া হযরত মাওলানা শাহ্ছুফি #সৈয়দ_আমিরুজ্জমান_শাহ্ (কঃ)'র মহান পবিত্র বেছাল বার্ষিকী ওরশ মোবারক সম্মিলিত আওলাদে কেরামগণের ছদারতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত ওরশ শরীফে সকল আশেকান মুহিব্বান অলী প্রেমিকগনের মিলন মেলা, ফাযিলাতে রাব্বানী, নেয়ামতে মুস্তফা (ﷺ), ফয়ুজাতে আউলিয়া, এবং তাজকিয়ায়ে নফস হাছিল করার উদ্দেশ্যে মহব্বত, ভক্তি ও আদব নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য দাওয়াত রইল।

#সৈয়দ_আমিরুজ্জমান #মহানবুধবারশরীফ।
#বুধবার_শরীফ
#সাপ্তাহিক_মিলাদ_মাহফিল
#আমিরভাণ্ডার #আমিরভান্ডার
#খাদিমেসূফিয়া
#আমিরভাণ্ডার #সৈয়দ_আমিরুজ্জমান
#আমিরুল_আউলিয়া #আমিরভান্ডার #খাদিমেসূফিয়া ゚ #পটিয়া_চট্টগ্ৰাম_বাংলাদেশ
#আমিরুলআউলিয়া
#পটিয়া_চট্টগ্ৰাম_বাংলাদেশ ゚

💠 ﺑِﺴْـــﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْـــﻢ 💠 #ওরছে_পাকে_শাহ_আমিরুজ্জমান_শাহ_কা_আশেকুঁকো_শওকছে_তশরীফ_লানা_চাহিয়ে..حبیب ا...
15/04/2026

💠 ﺑِﺴْـــﻢِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺍﻟﺮَّﺣِﻴْـــﻢ 💠
#ওরছে_পাকে_শাহ_আমিরুজ্জমান_শাহ_কা_আশেকুঁকো_শওকছে_তশরীফ_লানা_চাহিয়ে..
حبیب الرحمن میرے باباجان
صاحب سلطان امیر الزمان
(کلام امیر)
প্রিয় আশেকানে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আশেকানে মুহিব্বানে আমিরভাণ্ডারী
اَلسَلامُ عَلَيْكُم وَرَحْمَةُ اَللهِ وَبَرَكاتُهُ
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পটিয়া আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে মহান বেছাল বার্ষিকী ওরশ শরীফ #২০শে_বৈশাখ_০৩রা_মে_রোজ_রবিবার_২০২৬_সাল সফল হোক।
আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফের অধ্যাত্ম শরাফতের প্রতিষ্ঠাতা ও আমির ভাণ্ডারী ত্বরিকার মহান প্রবর্তক আমিরুল আউলিয়া হযরত মাওলানা শাহ্ছুফি #সৈয়দ_আমিরুজ্জমান_শাহ্ (কঃ)'র মহান পবিত্র বেছাল বার্ষিকী ওরশ মোবারক সম্মিলিত আওলাদে কেরামগণের ছদারতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হইবে। উক্ত ওরশ শরীফে সকল আশেকান মুহিব্বান অলী প্রেমিকগনের মিলন মেলা, ফাযিলাতে রাব্বানী, নেয়ামতে মুস্তফা (ﷺ), ফয়ুজাতে আউলিয়া, এবং তাজকিয়ায়ে নফস হাছিল করার উদ্দেশ্যে মহব্বত, ভক্তি ও আদব নিয়ে হাজির হওয়ার জন্য ঈমানী দাওয়াত রইল।

#আমিরভাণ্ডার #সৈয়দ_আমিরুজ্জমান
#আমিরুল_আউলিয়া #আমিরভান্ডার #খাদিমেসূফিয়া ゚ #পটিয়া_চট্টগ্ৰাম_বাংলাদেশ
#আমিরুলআউলিয়া
#পটিয়া_চট্টগ্ৰাম_বাংলাদেশ ゚

05/04/2026

মহান ২২শে চৈত্র — পবিত্র ওরশ শরীফ

গাউছুল আজম, আওলাদে রাসূল (ﷺ), হযরত শাহসূফী সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী (ক.) — বাবা ভাণ্ডারী 🤍



১৩৪৩ বাংলা ২২শে চৈত্র ভোরের বেলা

ফাঁকি দিলা নিদয় হইয়া

রমেশ বলে মনে ভাবি

তোমার মোহন ছবি

হৃদি পটে রেখেছি আঁকিয়া

পরাণ কাঁন্দে তোমারি লাগিয়া…



হে গাউছুল আজম বাবা ভাণ্ডারী (ক.)—আপনার ফয়েজ, রহমত ও বরকতে আমাদের হৃদয় আলোকিত হোক,

আমাদের অন্তর ভরে উঠুক ইশকে ও মহব্বতে… 🤲

রব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে এই পবিত্র উরস শরীফের ফয়েজ লাভের তৌফিক দান করুন—আমিন।

---

Kalam : Poran Kade Tomari Lagiya

Writer : Kobiyal Ramesh Shil

Recitation : Sajjad Hossain Arman

Address

আমির ভান্ডার দরবার শরীফ পটিয়া চট্টগ্রাম
Patiya
4370

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমির ভান্ডার দরবার শরীফ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to আমির ভান্ডার দরবার শরীফ:

Share