03/05/2026
আজ আমির ভান্ডার দরবার শরীফে হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.)’র ৯৯ তম পবিত্র ওরশ শরীফ উপলক্ষে আমিরুল আউলিয়া (ক.)’র সংক্ষিপ্ত জীবন কথা-
----------------------------------------------------------------------------
মহান স্রষ্টা আল্লাহ জাল্লা শা-নুহু তাঁর একত্ববাদ প্রচারের লক্ষে ধারাবাহিকভাবে একলক্ষ চব্বিশ হাজার তিন লক্ষ ছত্রিশ হাজার নবী রাসূল প্রেরণ করে খাতেমুল আম্বিয়া হিসেবে রাসূলে পাক (দ.) কে দ্বায়িত্ব অর্পনের মধ্য দিয়ে নবুয়তের দরজা রুদ্ধ করে দিয়ে রচিত হলো মহান রাব্বুল আলামীনের মনোনীত ধর্ম ইসলাম । নবুয়তের এই ধারা বেলায়তের মাধ্যমে অব্যহত রাখার জন্য মহান আল্লাহ পাক তাঁর আউলিয়ায়ে কেরামকে কালে কালে, যগে যুগে স্থান পাত্র নির্বিশেষে কল্যাণ ও রহমতের “আলোকবর্তিকা” হিসেবে আবির্ভূত করেন ।এই মহান কল্যানময় ধরার সদা মঙ্গলময়ী জ্যোতি হলেন- হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন হযরত গাউছুল আযম আহমদউল্লাহ মাইজভান্ডারী (ক.) এর একনিষ্ট অনুসারী ও ফানাফিশ শায়খ ছিলেন বলেই আল্লাহ জাল্লা-শানুহু ও রাসূল পাক (দ.)এর সন্তুষ্টি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন ।হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী (ক.) আশেকভক্তদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমার ১২টি সেতারা আছে” তথা ১২টি তারকা, এখানে ১২টি সেতারা দ্বারা তিনি তাঁর ১২ জন একনিষ্ট খলিফাকে বুঝিয়েছেন । যাদের মধ্যে হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন অন্যতম । যিনি আমিরুল আউলিয়া লকবে ভূষিত ও শাহ ছাহেব মকাম প্রাপ্ত অলিয়ে কামেল । হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর অনুপম চরিত্র, নীতি আদর্শ ও বেলায়তের ভাবধারী মনেপ্রাণে অনুসরণ ও অনুকরণ করার মাধ্যমে তিনি ফানাফিশ শায়খ হয়েছিলেন । যার শা’ন বর্ণনা করতে গিয়ে ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহঃ)তাঁর লিখিত গ্রন্থ দিওয়ানে আজিজ’র মধ্যে বয়ান করেছেন-
মারহাবা ছদ্ মারহাবা ছদ্ মারহাবা ছদ্ মারহাবা
বাহরে আমিরুজ্জমান শাহে পটিয়া মারাহাবা,
ছাহেবে কাশফো কারামত বুদে মশহুরে জমাঁ
নে’আমতে ওজমা বরায়ে আহলে পটিয়া বেগুমা ।
অর্থ্যাৎঃ- শত সহস্র মারহাবা পটিয়া নিবাসী অলিয়ে কামেল শাহ্ মাওলানা আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.) এ জন্য তিনি যুগের প্রসিদ্ধ কাশফ ও কারামত সম্পন্ন অলি এবং নিঃসন্দেহে পটিয়াবাসীর জন্যে সর্ববৃহৎ নেয়ামত ।
আমিরুল আউলিয়ার শিশুকালীন স্বভাব ও অবস্থা হতে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, তিনি খোদাবাঞ্ছিত স্বভাবসিদ্ধ মাদারজাত অলি ছিলেন । শৈশবকালে তিনি একদিন গৃহকর্মের কাজে মাঠে কর্মরত ছিলেন, এমন সময় আল্লাহর একজন মজ্জুব অলি হযরত আকবর শাহ্ (রহঃ)পাশ দিয়ে গমন করার সময় আমিরুল আউলিয়া দেখে থমকে দাঁড়ান !তিনি হযরত আমিরুল আউলিয়ার কাছ থেকে গৃহ সরঞ্জমাদি কেড়ে নিয়ে তাঁকে একটি উক্তির মাধ্যমে বেলায়তের পূর্বভাষ প্রদান করেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অন্তর্গত গোবিন্দারখীল গ্রামে বর্তমানে আমির নগরে ১৮৪৫ সাল মোতাবেক ১২৫২ বাংলা ১লা চৈত্র এবং ১২৬৬ হিজরী ১২ই রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার সুবহে সাদিকের সময় তাঁর শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত সূফী সৈয়দ মওলা চাঁদ শাহ্ (রহ.) এবং মাতা মুহতরমা শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে এই ধরায় তশরীফ আনেন । তাঁর উর্ধ্বতন বংশধর হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) ।
হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) ছিলেন আরবের মক্কার কুরাইশ বংশোদ্ভুত বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)’র বংশধর । ইসলামকে সারা বিশ্বে প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষে সৈয়দ হামিদ উদ্দীন গৌড়ির পূর্ব পুরুষগণ তৎকালনি ভারতবর্ষে দিল্লীর মুসলমান সম্রাটের আহবানে সাড়া দিয়ে ভারতে আগমন করেন এবং দিল্লীর শাহী মসজিদে ইমামতি ও সম্রাটের অধীনে কাজী পদের দায়িত্ব গ্রহন করেন । তাদের কিছু বংশধর তদানীন্তন বাংলার সুলতানের আমন্ত্রনে রাজধানী গৌড় নগরে এসে ইমামতি, কাজী প্রভৃতি মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হন এবং গৌড়ী লকব ধারণ করেন । তাদেরই পরিবারের অন্যতম সদস্য কাজী সৈয়দ হামিউদ্দীন গৌড়ি (রহঃ) ১৫৭৫ খৃষ্টাব্দে গৌড় নগর থেকে হিজরত করে- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাণী খ্যাত চট্টগ্রাম জেলার ইতিহাস প্রসিদ্ধ তৎকালীন পটিয়া থানার অন্তর্গত কাঞ্চননগর গ্রামে বসতি স্থাপন করেন । পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে স্থানীয় গ্রামের নামকরণ করা হয় হামিদগাঁও, যাকে চট্টগ্রামের স্থানীয়রা হাঁইদগাঁও নামে চিনে । হযরত কাজী হামিদ উদ্দীন গৌড়ী (রহ.) এর এক পুত্র হযরত সৈয়দ মা’দন শাহ্ (র.) গোবিন্দারখীল গ্রামে বর্তমান আমির নগরে বসতি স্থাপন করেন । তারই বংশধর ছিলেন হযরত সৈয়দ মওলা চাঁদ শাহ্ (রহঃ)তারই ঔরসে জন্ম নেন আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.)
হযরত আমিরুল আউলিয়ার বাল্যকালীন শিক্ষা তাঁর গ্রাম্য মক্তবে সূচনা হয় । মক্তবে অধ্যয়ণরত অবস্থায় তিনি সহপাঠীদের সাখে সুন্দর ব্যবহার ও সদালাপী আচরণ করতেন এবং উস্তাদের সাথে ভদ্র ও বিনয়ের সাথে কথাবাতা বলতেন ।এ জন্য তিনি শৈশবকাল থেকেই উস্তাদ ও সহপাঠীদের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠেন ।
হযরত আমিরুল স্ব-বংশীয় উস্তাদ হযরত শরফুদ্দীন (রহ.) কাছ থেকে কুরআন, আরবী সাহিত্য, উর্দূ ও ফার্সী ভাষায় জ্ঞান অর্জন করেন ।ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন উস্তাদের কাছ থেকে ,কোরআর হাদীস, ফিকহ এবং তফসীর বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া একজন আধ্যাত্বিক মরমি কবি ছিলেন ।তিনি আরবী, বাংলা, উর্দূ, ও ফার্সী ভাষায় ইলমে তাসাওউফ বা সূফীদর্শন বিষয়ে স্বীয় মুর্শিদের শানে অনেক ভক্তিমূলক গজল, গান ও মানকাবাত কবিতা রচনা করেন । গদ্য পদ্যে তাঁর সমান লিখনি শক্তির পরিচয় পাওয়া যায় ।
তাঁর নিজ হস্থে লিখিত পান্ডুলিপী আমির ভান্ডার দরবার শরীফে এখনোও সংরক্ষিত আছে ।তিনি লিখেছেন-
আপনাকে সেই জনে চিনিল আপনে ।যথাথ চিনিল সেই প্রভু নিরাঞ্জনে
আপনার ভেদ যদি আপনে পাইল ।প্রভুভেদ সেই জনে নিশ্চয় পাইল ।।
শিক্ষা জীবন শেষ করে হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) স্থানীয় হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে ইমামতি এবং খতিবের দায়িত্ব পালন করেন । শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকের মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন । তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন জাহিরী শিক্ষাদানে ।আধ্যাত্মিক শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত তাঁকে জাহিরী শিক্ষক বানিয়েছেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) জাহের-বাতেন ও আধ্যত্মিক দীক্ষা নেয়ার জন্য তিনি এমন এক কামেল মুরশিদের সন্ধানে আছেন । যিনি তাকে তাসাওফের সর্ব্বোচ্চ মকাম তথা চূড়ান্ত গন্তব্যস্থলে নিয়ে যাবেন । অপ্রত্যাশিত ভাবে তিনি তিনজন মহান বূজুর্গ-সাদকের সান্নিধ্যে লাভ করেন । তারা হলেন পটিয়া থানার বড়লিয়ার হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ শাহ (রহঃ), আনোয়ারা থানার কিপাইনগরের হযরত আজগর শাহ্ (রহঃ) এবং রাউজান থানার কদলপুরের হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ কদলপুরীর (রহঃ)এই মহান কামেল অলিদের নিকট হতে তিনি ফয়েজ ও তাওয়াজ্জুহ হাসিল করেন । আর আল্লাহর প্রেমিকগনের পথে অবিরাম যাত্রী আমিরুল আউলিয়া (ক.)এমন এক মুরশিদের সন্ধানে আছেন, যার নিকট থেকে তিনি বেলায়তের সর্ব্বোত্তম শক্তি ও মর্যাদা লাভ করবে ।অবশেষে তিনি সেই মহান মুরশিদের সন্ধান পেলেন ।
হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে কোনো সাধারণ মুসল্লি যোহর, আছর ও মাগরিবের নামায আদায় করতে পারলেও বিশেষ কিছু অলৌকিক ঘটনাবলির কারণে ফজর ও এশার নামায আদায় করা সাধারণ মুসল্লিদের পক্ষে সম্ভব হত না, কিন্তু আমিরুল আউলিয়া সেই মসজিদে সারারাত জেগে ইবাদত ও রেয়াজতের মাধ্যমে অতিবাহীত করতেন । একদিন যে কোনো এক রাতে এশারের ওয়াক্তে আমিরুল আউলিয়া দেখলেন যে এশার নামায আদায় করার জন্য সাদাপোষাকধারী কিছু লোক সুন্দর সারিবদ্ধভাবে কাতারে দাড়িয়েছেন এবং একজন অতি নুরানী চেহারার অধিকারী বুজুর্গ লোক ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন ।আমিরুল আউলিয়াও নামায আদায় করার জন্য কাতারবদ্ধ হলেন । নামায শেষে সবাই ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে একে একে চলে যেতে লাগলেন । অবশেষে ইমাম সাহেব আমিরুল আউলিয়াকে বললেন, আপনি যার সন্ধানে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, তাঁর সাক্ষাত ফটিকছড়ির ইছাপুরে (মাইজভান্ডার) গেলে পাবেন । এরপর তিনি মাইজভান্ডার শরীফ গমন করে হযরত গাউছুল আযম মাইজভান্ডারীকে দেখা মাত্রই চিনতে পারেন এবং মনে মনে বললেন, এই সেই ব্যক্তি যিনি আমাকে মাইজভান্ডার শরীফ আসার জন্য তাগিত দিয়েছিলেন, অতঃপর আমিরুল আউলিয়া তাঁর হাতে দস্তে বায়াত গ্রহন করেন ।
হযরত আমিরুল আ্উলিয়া (ক.) প্রায় বার বছর গাউছুল আযম মাইজভান্ডারীর খেদমত ও গোলামীতে নিজেকে উৎসর্গ করেন । তরিক্বত জীবনের এই সুদীর্ঘ যাত্রা পথে তিনি অনেক কঠিন পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হন । কঠোর রিয়াজত ও সাধনায় মধ্য দিয়ে সূফী অলিদের ইতিহাসে অনুপম আদব ও ভক্তির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । এখানে আমিরুল আউলিযার দু-একটি ঘটনা প্রকাশ করা জরুরি মনে করি । আমিরুল আউলিয়ার মূল কাজ ছিল স্বীয় মুরশিদের সেবা এবং হুকুম পালন করা, একদিন গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী নিজ হুজরা থেকে বের হয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্য করে বললেন- তোমরা আমাকে কতটুকু ভালোবাসো ? উত্তরে সবাই বললেন, প্রাণের ছেয়েও বেশি ভালোবাসি । হযরত কেবলা তাদের পরিক্ষা করার উদ্দেশ্য বললেন, কে কে এই খেজুর গাছের বিষাক্ত কাটার স্তুপের উপর লাফ দিতে পারবে ? এ কথা শুনে সবাই ভয়ে একে একে সরে যেতে লাগলেন, কিন্তু আমিরুল আউলিয়া (ক.) হযরত কেবলার ইশারা পেয়ে প্রাণের মায়া ত্যাগ করে, বিষাক্ত খেজুর কাটার স্তুপের উপর লাফ দিলেন, আল্লাহর কি অসীম লীলাখেলা, একটা কাটাও আমিরুল আউলিয়ার শরীরে বিদ হয়নি এবং প্রমান করলেন যে, তিনি হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী কে কতটুকু ভালোবাসেন !
একদিন হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী নিজ হুজরার উপস্থিত সকল মুরিদানের উদ্দেশ্য বললেন, “আমার ডান হাত বেহেস্ত, আর বাম হাত দোযখ, তোমরা যেটি নেবার নিয়ে নাও” তখন সবাই পবিত্র ডান হাতটি ধরে আনন্দে হৈচৈ শুরু করে দিলো । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী দেখলেন, আমিরুল আউলিয়া এক কোণে করজোড়ে মাথানিচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন । গাউছুল মাইজভান্ডারী আমিরুল আউলিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, সবাই বেহেস্ত নিচ্ছে আর তুমি এখনোও দাঁড়িয়ে আছো ! এই বাণী শোনার পর আমিরুল আউলিয়া (ক.) গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর বাম হাত ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী বললেন, “সবাই বেহেস্ত নিলো আর তুমি দোযখ নিলে কেন ? আমিরুল আউলিয়া বিনীতভাবে জবাব দিলেন, আমি বেহেস্ত বুঝিনা, দোযখও বুঝিনা- আমি মুরশিদকেই চিনি । তাঁর বাম যেখানে যাবে আমি সেখানেই যাবো । গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী তাৎক্ষনিক সমস্ত খলিফাগনের উদ্দেশ্য বললেন, তোমরা বেহেস্ত চেয়েছ, বেহেস্ত অবশ্যই পাবে, কিন্ত আমাকে আমার আমিরুজ্জমার সাথে থাকতে হবে । আমিরুল আউলিয়া মুরশিদের প্রতি অনুপম আদব-ভক্তির বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । যিনি গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীকে সামনে রেখে সূদুর ৪৫ মাইল প্রতিবার পিছনে হেঁটে নিজ মকামে এসেছিলেন ।
শরিয়ত-তরিক্বতের আমল, আপন মুরশিদের খেদমত যথাথ পালনের মাধ্যমে তিনি কঠোর রেযাজত ও জাগতিক স্বার্থকে জলাঞ্জলী দিয়ে অবিরাম অবিশ্রান্ত প্রেমপূণ কঠোর সাধনা বলে আত্মশুদ্ধির পরম উন্নত স্তরে উপনীত হয়ে বেলায়ত ও কামালিয়াতের আলিশান মকামাত হাসিল করার মধ্য দিয়ে হযরত গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর (ক.) তদীয় বেলাদত শরীফের দিন ১লা মাঘ বুধবার হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) কে খেলাফত দান করলে, তিনি নিজ মকামে এসে অর্জিত বেলায়তি ক্ষমতা বিকশীত হওয়ার মধ্য দিয়ে তরঙ্গে অভিঘাতের মত স্পর্শ করতে থাকে মানুষের হৃদয়কে ।সেই সুবাদে আধ্যত্ম শরাফত ও রুহানিয়াতের উপর প্রতিষ্টিত হয় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠতম আধ্যাতিক সাধনার কেন্দ্রস্থল চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত আমির ভান্ডার দরবার শরীফ, যা মানবসেবা মানবকল্যাণে এক অনন্য নিদর্শন । ১লা মাঘ, হযরত গাউছুল মাইজভান্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ গাউছুল আজম মাইজভান্ডারীর নির্দেশক্রমে তাঁহার জাহেরি জীবদ্দশায় থেকে প্রতি বছর আমির ভান্ডার দরবার শরীফে পালিত হয়ে আসছে ।
হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) এর কাছ থেকে অসংখ্য কারামত প্রকাশ পেয়েছে । তন্মধ্যে মৃত ব্যক্তিকে জীবন দান, অবাধ্য সন্তানকে মায়ের নিকট নিয়ে আসা, কবর থেকে মৃত ব্যক্তিকে ডেকে তাদের ভাল মন্দ খোজ-খবর নেওয়া, বিপরীত দ্রব্য প্রয়োগে শেফা লাভ ও হায়াত বৃদ্ধি, পদাঘাতে পুকুর সৃষ্টি সাপে কাটা রোগীকে শেফা দান, মুরিদের বিপদে সাহায্য করা, ইত্যাদি কারামত সমূহ উল্লেখযোগ্য ।
হযরত আমিরুল আউলিয়ার ফয়েজপ্রাপ্ত অসংখ্যা খলিফা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেখান থেকে তারা অবিরাম আল্লাহর রহমত ও নেয়ামত দিয়ে থাকেন ।
হযরত আমিরুল আউলিয়ার সংসার জীবনে ছয় পুত্র ও ছয় কন্যা ছিল । হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) নিজ জবানে ঘোষনা করলেন , আমার ছয় পুত্র আল্লাহর অলি
এই মহান অলি ২০শে বৈশাখ, ১২ই জিলক্বদ, ৩ মে ১৯২৭ মোতাবেক বৃহস্পতিবার সকাল ১০ ঘটিকায় স্বীয় হুজরা শরীফে বেছাল বরণ করে মহান রাব্বুল আলামিনের দীদার লাভ করেন ।