# হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়্যদ আমিরুজ্জমান শাহ্ (ক.)'র
সংক্ষিপ্ত জীবনী #
পটিয়া মহান আল্লাহপাক তাঁর আউলিয়ায়ে কেরামকে যুগে যুগে স্থান, কাল, পাত্র নির্বিশেষে কল্যাণ ও রহমতের আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রেরণ করেন। অনন্ত এ কল্যাণধারার এক জ্যোতি হলেন মহান সাধক হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.)। হযরত আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) ছিলেন হযরত গাউসুল আজম শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির ওপর আত্মবিসর্জনকারী একনিষ্ঠ শিষ্য ও অনুসারী। হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার অন্তর্গত গোবিন্দরখীল গ্রামে বর্তমান আমির নগরে ১৮৪৫ সাল মোতাবেক ১২৫২ বাংলার ১ চৈত্র এবং ১২৬৬ হিজরী ১২ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার সুবহে সাদিকের সময় পিতা হযরত সূফী মওলা চাঁদ শাহ (রহ.) এবং মাতা মুহতরমা শামসুন্নাহার বেগমের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সৈয়দ হামিদ উদ্দিন গৌড়ীর পূর্বপুরুষগণ তৎকালীন ভারতবর্ষে দিল্লীর মুসলমান সম্রাটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এই উপমহাদেশে আগমন করেন এবং দিল্লীর শাহী জামে মসজিদে ইমামতি ও সম্রাটের অধীনে কাজী পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হযরত আমিরুল আউলিয়ার প্রাথমিক শিক্ষা তাঁর গ্রাম্য মক্তবে শুরু হয়। মক্তবে অধ্যয়ণরত অবস্থায় তিনি সহপাঠীদের সাথে সুন্দর ব্যবহার ও আচরণ করতেন এবং ওস্তাদের সাথে ভদ্র ও বিনয়ের সাথে কথাবার্তা বলতেন। শিক্ষা জীবন শেষ করে হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) স্থানীয় হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে ইমামতি এবং খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে তিনি শিক্ষকের মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় কাটিয়েছেন জাহিরী শিক্ষাদানে। পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী হাদু চৌধুরী জামে মসজিদে একদিন যে কোনো এক রাতে এশারের ওয়াক্তে আমিরুল আউলিয়া দেখলেন যে, এশার নামায আদায় করার জন্য সাদা পোষাকধারী কিছু লোক সুন্দর সারিবদ্ধভাবে কাতারে দাড়িয়েছেন এবং একজন অতি নুরানী চেহারার অধিকারী বুজুর্গ লোক ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। আমিরুল আউলিয়াও নামায আদায় করার জন্য কাতার বদ্ধ হলেন। নামায শেষে সবাই ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাত করে একে একে চলে যেতে লাগলেন। অবশেষে ইমাম সাহেব আমিরুল আউলিয়াকে বললেন, আপনি যার সন্ধান পাওয়ার জন্য ব্যাকুল, তাঁর সাক্ষাত ফটিকছড়ির ইছাপুরে (মাইজভাণ্ডার) গেলে পাবেন। ১ মাঘ বুধবার হযরত আমিরুল আউলিয়া (ক.) কে খেলাফত দান করলে, তিনি নিজ মকামে আসার পর অর্জিত বেলায়তী ক্ষমতা বিকশিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তরঙ্গে অভিঘাতের মত স্পর্শ করতে থাকে মানুষের হৃদয়কে। সেই সুবাদে অধ্যাত্ম শরাফত ও রুহানিয়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের অন্যতম আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্রস্থল চট্টগ্রামের পটিয়ার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফ, যা মানবসেবা মানবতার কল্যাণে অনন্য এক নিদর্শন। ১ মাঘ হযরত গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর পবিত্র খোশরোজ শরীফ তাঁরই নির্দেশক্রমে তাঁর জাহেরী জীবদ্দশায় থেকে প্রতিবছর আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে পালিত হয়ে আসছে। এ দিনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফ লক্ষ লক্ষ মানুষের মিলন স্থানে পরিণত হয়।
হযরত আমিরুল আউলিয়ার সংসার জীবনে ৬ পুত্র ও ৬ কন্যা সন্তান ছিল। তিনি ২০ বৈশাখ, ১২ জিলক্বদ, ৩ মে ১৯২৭ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্বীয় হুজরা শরীফে বেছাল বরণ করে মহান রাব্বুল আলামীনের দিদার লাভ করেন।
প্রতি বছর ২০ বৈশাখ আমিরুল আউলিয়া শাহসূফী মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জমান শাহ (ক.) এর পবিত্র ওরশ শরীফ আমির ভাণ্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ আশ্বিন ২ অক্টোবর হযরত আমিরুল আউলিয়ার ছয়পুত্র-আউলাদ কেরামের সম্মিলিত বার্ষিক ওরশ শরীফ অনুষ্ঠিত হয়।