Hikmah Islamic Institute & Foundation

Hikmah Islamic Institute & Foundation Hikmah Islamic Institute & Foundation (HIIF) একটি অলাভজনক, অরাজনৈতিক, ইসলামিক সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান।

আলহামদুলিল্লাহ, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমাদ্বান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। আগামীকাল বাংলাদেশের প্রথম তারাব...
17/02/2026

আলহামদুলিল্লাহ, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমাদ্বান মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে। আগামীকাল বাংলাদেশের প্রথম তারাবি অর্থাৎ বৃহস্পতিবার হতে রমাদ্বান মাস শুরু।

🎯 অভিভাবকদের জন্য বিশেষ বার্তাআপনি কি চান?✔ আপনার সন্তান কুরআনের আলোয় বড় হোক।✔ চরিত্রবান ও শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষ হিসে...
29/12/2025

🎯 অভিভাবকদের জন্য বিশেষ বার্তা

আপনি কি চান?
✔ আপনার সন্তান কুরআনের আলোয় বড় হোক।
✔ চরিত্রবান ও শিষ্টাচারসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।
✔ ইসলামের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায় পিছিয়ে না থাকুক।

👉 তাহলে আজই যোগাযোগ করুন!

🌟 আপনার সন্তানের ইসলামী ও আধুনিক শিক্ষার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা 🌟

🕌 কাজিম উদ্দিন নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা

দ্বীনি , নৈতিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাই আমাদের অঙ্গীকার।

📢 ভর্তি চলছে 📢 ভর্তি চলছে !

একটি আদর্শ ইসলামী পরিবেশে
📖 কুরআন • আদব • নৈতিকতা • বাংলা-ইংরেজি শিক্ষার সমন্বয়ে
আপনার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে আজই ভর্তি নিশ্চিত করুন।

🎓 যেসব শ্রেণিতে ভর্তি চলছে

👶 শিশু
🏫 নার্সারি
📘 ১ম, ২য় ও ৩য় শ্রেণি

🗓 ভর্তি সময়কাল:
📌 ১লা ডিসেম্বর – ১০ই জানুয়ারি

কেন আমাদের মাদ্রাসাই আপনার সন্তানের জন্য সেরা?

✅​নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড বাংলাদেশ-এর সিলেবাস অনুযায়ী শিক্ষা প্রদান।
✅​মুরুব্বি ওলামায়ে কেরামগণের পরামর্শে পরিচালিত।
✅​দুর্বল ছাত্রদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ।
✅​প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক মণ্ডলী দ্বারা পাঠদান।
✅​কোলাহল মুক্ত সুন্দর পরিবেশে পাঠদান।
✅​সুন্দর হাতের লেখার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ।
✅​মাসিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মেধা ও পড়ার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
✅​সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

📍 ঠিকানা:
নাউতারী প্রধান পাড়া, বগদুলঝুলা, বড়শশী, বোদা, পঞ্চগড়

📞 ভর্তি ও তথ্যের জন্য যোগাযোগ:
📱 ০১৩৯০-৪২০৫০৯

🔥 সীমিত আসন – আগে আসলে আগে ভর্তি!

পরিচালক
সার্জেন্ট মোঃ নাহিদ হাসান
📱 ০১৭৮০-৪২০৬২৩
📱 ০১৯৩৭-৬৩৩৬২০

সুন্নি নামধারী আলেম ওলামাগণের নিকট এর ব্যাখ্যা চাচ্ছি। প্লিজ সঠিক ব্যাখ্যা দিবেন। ঘটনাটি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বারো আ...
19/12/2025

সুন্নি নামধারী আলেম ওলামাগণের নিকট এর ব্যাখ্যা চাচ্ছি। প্লিজ সঠিক ব্যাখ্যা দিবেন। ঘটনাটি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বারো আউলিয়ার মাজার এর দৃশ্য!

বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা😅

যিল হজ্জের ১ম দশকের আমল সমূহ
29/05/2025

যিল হজ্জের ১ম দশকের আমল সমূহ

রমজানের পর আসে শাওয়াল মাস। এই মাসের গুরত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে ছয় রোজা। রমজানের ফরয রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখ...
02/04/2025

রমজানের পর আসে শাওয়াল মাস। এই মাসের গুরত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে ছয় রোজা। রমজানের ফরয রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব। এই রোজার অনেক ফজিলত রয়েছে যা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল (সাঃ) নিজেও এ রোজা রাখতেন। সাহাবায়ে কেরামদেরকেও রাখার নির্দেশ দিতেন।

ঈদুল ফিতরের দিন বাদে শাওয়াল মাসে ৬টি নফল রোজা রাখলে এক বছর নফল রোজার ছওয়া পাওয়া যায়। এ সম্পর্কে আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২৬২৯)

ধর্মপ্রাণ মুসলমান রমজানের ফরয রোজা পালনের পর আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং পরকালে যাতে সফলকাম হতে পারেন এ জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর উম্মতদেরকে শাওয়ালের ছয় রোজা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’ (নাসায়ি, হাদিস নং: ২/১৬২)

মহান আল্লাহতাআলা কোরআনে কারিমে বলেন, ‘যে একটি সৎকাজ করবে, সে তার ১০ গুণ সওয়াব পাবে।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৬০)

উপরোক্ত আয়াতের আলোকে ওলামা কেরামগণ শাওয়ালের ছয় রোজাকে এভাবে মূল্যায়ন করেছেন যে, রমজানের ৩০ রোজা আর শাওয়ালের ছয়টিসহ মোট ৩৬টি রোজা হয়। পুণ্যময় কাজের সওয়াব ১০ গুণ বৃদ্ধির কথা কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে। অতএব ৩৬কে ১০ গুণ বৃদ্ধি করলে ৩৬০ হয়। সুতরাং বছরে ৩৬টি রোজা রাখলে যেন পূর্ণ বছর অর্থাৎ ৩৬০ দিনই রোজা রাখা হয়।

মুমিনদের জেনে রাখা ভাল, কোন রমজান মাস যদি ২৯ দিন হয়, তাহলেও আল্লাহর তায়ালা রোজাদারকে ৩০ দিনেরই সওয়াব দান করেন।

শাওয়ালের ছয় রোজা একাধারে অথবা বিরতি দিয়ে অর্থাৎ ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়। কারও যদি রমজানের কাজা রোজা থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে রমজানের কাজা আদায় করতে হবে, এরপর শাওয়ালের রোজা রাখবেন।

ওলামায়ে কেরামগণ বলেন, নফলসমূহ ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণ করে। অর্থাৎ জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে রোজাদার কর্তৃক যে ভুলত্রুটি হয়ে থাকে তা নফল রোজা দূর করতে সহায়তা করে।

অনুরূপভাবে শাওয়ালের ছয় রোজা রমজানের ফরজ রোজার অসম্পূর্ণতাকে সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোনো ত্রুটি থাকলে তাও দূর করে।

তাই প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর উচিত শাওয়াল মাসের ফজিলতপূর্ণ ছয়টি রোজা রেখে পূর্ণ এক বছরের সওয়াব হাসিল করা। কেউ যদি ভাই-বোনসহ অন্যদেরকেও এই রোজা রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন, সে ক্ষেত্রে উভয়ই পূর্ণ সওয়াবের ভাগিদার হবেন।

উল্লেখ্য, কেউ নফল রোজা রেখে যদি ভেঙে ফেলেন, তবে তার কাজা আদায় করা ওয়াজিব।

সূত্র : ইসলামী বইপত্র

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ♥️❑  #লাইলাতুল_ক্বদর:লাইলাতুল ক্বদর কোন দিনে, এটা আল্লাহ আমাদেরকে নিশ্চিত...
21/03/2025

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ♥️

❑ #লাইলাতুল_ক্বদর:

লাইলাতুল ক্বদর কোন দিনে, এটা আল্লাহ আমাদেরকে নিশ্চিতভাবে জানান নেই। তবে বিভিন্ন হাদীস সমূহ একত্রিত করে এতোটুকু বলা যায়ঃ লাইলাতুল ক্বদর রমযান মাসের শেষ দশ দিনের যেকোন এক বেজোড় রাত্রিতে রয়েছে। অর্থাৎ, রমযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখ রাতে। এর মাঝে কোন কোন আলেম মনে করেন, এটা ২৭ তারিখের রাতে রয়েছে। কিন্তু এটার উপরে নির্ভর করা উচিত নয়। ২৭ তারিখে লাইলাতুল ক্বদর আশা করে সেইদিন ইবাদতের ব্যপারে বেশি জোর দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু, রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপদেশ অনুযায়ী রমযানের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ তারিখে - এই সবগুলো রাতেই লাইলাতুল ক্বদর তালাশ করতে হবে।

❑ লাইলাতুল ক্বদরের রাতটি চেনার কিছু আলামত হাদীসে পাওয়া যায়। তা নিন্মরুপঃ

(১) রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না।
(২) নাতিশীতোষ্ণ হবে। অর্থাৎ গরম বা শীতের তীব্রতা থাকবে না।
(৩) মৃদুমন্দ বাতাস প্রবাহিত হতে থাকবে।
(৪) সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত অধিক তৃপ্তিবোধ করবে।
(৫) কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়েও দিতে পারেন।
(৬) ঐ রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হতে পারে।
(৭) সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে। যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত।

[সহীহ ইবনু খুযাইমাহঃ ২১৯০, সহীহ বুখারীঃ ২০২১, সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২]

❑ লাইলাতুল ক্বদরে যেই আমলগুলো করা যেতে পারেঃ

(১) নামাযঃ দুই রাকাত, দুই রাকাত করে তারাবীহ বা তাহাজ্জুদের নামায পড়বেন। এই নামাযে সুরা ক্বদর বা সুরা ইখলাস এতোবার পড়তে হবে, এমন কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। অন্য যেকোনো নফল নামাযের মতোই দুই রাকাত নফল নামায পড়বেন। চেষ্টা করবেন দীর্ঘ কিরাতে নামায লম্বা করার জন্য। বড় সুরা না পারলে এক রাকাতে ছোট সুরা ২-৩টা পড়ে বড় করা যাবে।

নিচের আমলগুলো ঋতুবতী নারীসহ সকলেই করতে পারবেনঃ

(২) কুরআন তেলাওয়াত। আরবী কুরআন স্পর্শ না করে ঋতুবতী নারীরা মুখস্থ অথবা বাংলা অর্থ দেওয়া আছে এমন কুরআন থেকে, মোবাইল থেকে বা হাতে রুমাল বা কাপড় দিয়ে স্পর্শ করে কুরআন পড়তে পড়তে পারবে, আলেমদের এই মতটাই সঠিক। তবে সন্দেহের কারণে কেউ কুরআন তেলাওয়াত করতে না করতে চাইলে, অথবা যেই সমস্ত আলেম ঋতুবতী নারীদের কুরআন তেলাওয়াত হারাম মনে করেন, এটার সাথে একমত হলে, কুরআনের তাফসীর, হাদীস, দ্বীনি অন্যান্য বই-পুস্তক পড়তে পারেন।

(৩) তওবাহঃ সারা জীবনের সমস্ত গুনাহর জন্য কান্নাকাটি করে তওবাহ করা ও মাফ চাওয়া। বাংলা বা আরবী যেকোনো ভাষায়, অতীতের ভুলের জন্য লজ্জিত হয়ে আন্তরিকভাবে ভবিষ্যতে আর না করার সংকল্প নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আরবীতে করতে চাইলে - আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি – হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তন করছি, এতোটুকু পড়ে বা কুরআন-হাদীসের অন্য দুয়া দিয়ে তওবাহ করা যাবে।

(৪) দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কল্যানের জন্য দুয়া করা। নিজের জন্য, মাতা পিতা বা ভাই বোন, স্ত্রী-সন্তান, মযলুম, জীবিত ও মৃত সমস্ত মুসলমানদের জন্য দুয়া করতে হবে।

(৫) জান্নাতুল ফিরদাউস পাওয়ার জন্য দুয়া করতে হবে।

(৬) যিকির-আযকারঃ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০বার, ৩৩ বার সুবাহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৪ বার আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহাদাহু লা শারীকালাহু...... ১০ বার বা ১০০ বার করে সহ, লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ। আরো দুয়া পড়ার জন্য হিসনুল মুসলিম দেখুন। মুখস্থ না পারলে বই খুলে পড়তে পারবেন। আরবী দুয়াগুলো না পারলে বাংলাতেই পড়ুন।

(৭) দুরুদঃ দুরুদের ইব্রাহীম বা নামাযে যেই দুরুদ পড়া হয় সেটা পড়াই সবচাইতে বেশি সওয়াব। আর দুরুদের হাজারী, লাখী, জামিল, মাহী, দুরুদে আকবর এইরকম যত্তগুলো দুরুদ দেওয়া আছে ওযীফার বেদাতী কিতাবে – এইসবগুলো দুরুদ হচ্ছে বানোয়াট বেদাতী দুরুদ, এর ফযীলত যা দেওয়া আছে সমস্তটাই হচ্ছে ধোঁকা। এইগুলো পড়া বেদাত।

(৮) সাধ্যমতো কিছু দান-সাদাকাহ করতে পারেন। দান ছোট হোক, কোনটাই কম নয়, এমনকি হাদীস শুকনো একটা খেজুর দান করে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্যে চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।

(৯) জাহান্নামের আগুনের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্যে ফকীর মিসকীনকে খাদ্য দেওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটা ইবাদত, সুতরাং শবে কদরের রাতে সম্ভব হলে গরীবকে খাবার দিতে পারেন।

(১০) রাতের বেলা সুরা ইখলার তেলাওয়াত করা সুন্নত। সুতরাং শবে কদরের রাত্রিগুলোতে সুরা ইখলাস পড়তে পারেন। সুরা ইখলাস তিন বার পড়লে একবার কুরান খতম দেওয়ার সমান সওয়াব পাওয়া যায়। সুরা ইখলাস দশ বার পড়লে আল্লাহ তার জন্যে জান্নাতে একটা প্রাসাদ নির্মান করবেন (মুসনাদে আহমাদ)

(১১) প্রতিদিন রাতের বেলা সুরা মুলক ও সুরা সিজদাহ পড়া সুন্নত। সুতরাং আপনারা কুরান তেলাওয়াতের সময় এই দুইটি সুরা পড়ে নেবেন।

(১২) এছাড়া ওয়াক্ত মতো নামাযগুলো সুন্দরভাবে আদায় করবেন, সুন্নত নামায সহকারে। ফরয নামাযের পরে যিকিরগুলো করবেন, নামায দীর্ঘ ও সুন্দর করতে চাইলে রুকু সিজদাহর তাসবীহ বেশি করে পড়বেন, নামাযে বিভিন্ন সময়ে যেই দুয়া আছে সেইগুলো পড়বেন। নামাযে বেশি বেশি দুয়া করবেন।

(১৩) ঘুমানোর পূর্বের যিকির-আযকারগুলো করবেন। আযানের জবাব ও দুয়া পড়বেন।

(১৪) তাহিয়াতুল ওযুর নামায পড়তে পারেন। তওবাহর নামায পড়তে পারেন।

(১৫) আরো যত সুন্নতী যিকির আযকার আছে করতে পারেন।

,
◼️শবেকদর অন্বেষণ…❤
শবে কদরের ইবাদত,,,
৮৩ বছর ৪ মাস অপেক্ষা উত্তম!

রমাযান মাসের শেষ দশকের বেজোড় সংখ্যার রাত্রিগুলোতে শবেকদর অনুসন্ধান করা মুস্তাহাব।

মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) এর অনুসন্ধানে উক্ত রাত্রিগুলিতে বড় মেহনত করতেন। আর এ কথা পূর্বে বলা হয়েছে যে, রমাযানের শেষ দশক এসে উপস্থিত হলে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) (ইবাদতের জন্য) নিজের কোমর (লুঙ্গি) বেঁধে নিতেন, সারারাত্রি জাগরণ করতেন এবং আপন পরিজনকেও জাগাতেন।
তাছাড়া শবেকদরের সন্ধানে ও আশায় তিনি ঐ শেষ দশকের দিবারাত্রে ই’তিকাফ করতেন।

আসুন!
আমরা দেখি শবেকদর কি?
তার কদর কতটুক?
এবং তার আহকাম কি?



শবেকদরের নাম শবেকদর কেন?

আরবীতে ‘লাইলাতুল ক্বাদর’-এর ফারসী, উর্দু, হিন্দী ও বাংলাতে অর্থ হল শবেকদর। আরবীতে ‘লাইলাহ’ এবং ফারসীতে ‘শব’ শব্দের মানে হল রাত। কিন্তু ‘ক্বাদর’ শব্দের মানে বিভিন্ন হতে পারে।
আর সে জন্যই এর নামকরণের কারণও বিভিন্ন। যেমনঃ-

১। ক্বাদর মানে তকদীর। সুতরাং লাইলাতুল ক্বাদর বা শবেকদরের মানে তকদীরের রাত বা ভাগ্য-রজনী। যেহেতু এই রাতে মহান আল্লাহ আগামী এক বছরের জন্য সৃষ্টির রুযী, মৃত্যু ও ঘটনাঘটনের কথা লিপিবদ্ধ করে থাকেন।

যেমন তিনি এ কথা কুরআনে বলেন,

{فِيْهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيْم}

অর্থাৎ, এই রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়।

(কুরআনুল কারীম ৪৪/৪)

আর এই তকদীর; যা বাৎসরিক বিস্তারিত আকারে লিখা হয়। এ ছাড়া মাতৃগর্ভে ভ্রূণ থাকা অবস্থায় লিখা হয় সারা জীবনের তকদীর। আর আদি তকদীর; যা মহান আল্লাহ আসমান-যমীন সৃষ্টি করার ৫০ হাজার বছর পূর্বে ‘লাওহে মাহফূয’-এ লিখে রেখেছেন।

২। ক্বাদরের আর একটি অর্থ হল, কদর, শান, মর্যাদা, মাহাত্ম্য ইত্যাদি। যেমন বলা হয়ে থাকে, সমাজে অমুকের বড় কদর আছে। অর্থাৎ, তার মর্যাদা ও সম্মান আছে। অতএব এ অর্থে শবেকদরের মানে হবে মহিয়সী রজনী।

৩। উক্ত কদর যে রাত জেগে ইবাদত করে তারই। এর পূর্বে যে কদর তার ছিল না, রাত জেগে শবেকদর পাওয়ার পর আল্লাহর কাছে সে কদর লাভ হয় এবং তাঁর কাছে তাঁর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। আর তার জন্যই একে শবেকদর বলে।

৪। ঐ কদরের রাতে আমলেরও বড় কদর ও মাহাত্ম্য রয়েছে।
সে জন্যও তাকে শবেকদর বলা হয়।

৫। ক্বাদরের আর এক মানে হল সংকীর্ণতা। এ রাতে আসমান থেকে যমীনে এত বেশী সংখ্যক ফিরিশ্তা অবতরণ করেন যে, পৃথিবীতে তাঁদের জায়গা হয় না। বরং তাঁদের সমাবেশের জন্য পৃথিবী সংকীর্ণ হয়। তাই এ রাতকে শবেকদর বা সংকীর্ণতার রাত বলা হয়।

শবেকদরের মাহাত্ম্যঃ-

১। শবেকদরের রয়েছে বিশাল মর্যাদা ও মাহাত্ম্য। মহান আল্লাহ এই রাতে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন এবং সে রাতের মাহাত্ম্য ও ফযীলত বর্ণনা করার জন্য কুরআন মাজীদের পূর্ণ একটি সূরা অবতীর্ণ করেছেন এবং সেই সূরার নামকরণও হয়েছে তারই নামে।

মহান আল্লাহ বলেন,

{إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِيْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ، لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ}

অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি ঐ কুরআনকে শবেকদরে অবতীর্ণ করেছি। তুমি কি জান, শবেকদর কি? শবেকদর হল হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।

(কুরআনুল কারীম ৯৭/১-৩)

এক হাজার মাস সমান ৩০ হাজার রাত্রি। অর্থাৎ এই রাতের মর্যাদা ৩০,০০০ গুণ অপেক্ষাও বেশী! সুতরাং বলা যায় যে, এই রাতের ১টি তসবীহ অন্যান্য রাতের ৩০,০০০ তসবীহ অপেক্ষা উত্তম। অনুরূপ এই রাতের ১ রাকআত নামায অন্যান্য রাতের ৩০,০০০ রাকআত অপেক্ষা উত্তম।

বলা বাহুল্য, এই রাতের আমল শবেকদর বিহীন অন্যান্য ৩০ হাজার রাতের আমল অপেক্ষা অধিক শ্রেষ্ঠ। সুতরাং যে ব্যক্তি এই রাতে ইবাদত করল, আসলে সে যেন ৮৩ বছর ৪ মাস অপেক্ষাও বেশী সময় ধরে ইবাদত করল।

২। শবেকদরের রাত হল মুবারক রাত, অতি বর্কতময়, কল্যাণময় ও মঙ্গলময় রাত। মহান আল্লাহ বলেন,

{إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِيْ لَيْلَةٍ مُّبَارَكَةٍ}

অর্থাৎ, আমি এ কুরআনকে বর্কতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি।

(কুরআনুল কারীম ৪৪/৩)

উক্ত বর্কতময় রাত্রি হল ‘লাইলাতুল ক্বাদর’ বা শবেকদর। আর শবেকদর নিঃসন্দেহে রমাযানে। বলা বাহুল্য, ঐ রাত্রি শবেবরাতের রাত্রি নয়; যেমন অনেকে মনে করে থাকে এবং ঐ রাত্রে বৃথা মনগড়া ইবাদত করে থাকে। কারণ, কুরআন (লাওহে মাহফূয থেকে) অবতীর্ণ হয়েছে (অথবা তার অবতারণ শুরু হয়েছে) রমাযান মাসে। কুরআন বলে,

{شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْآنُ}

অর্থাৎ, রমাযান মাস; যে মাসে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।

(কুরআনুল কারীম ২/১৮৫)

আর তিনি বলেন,

{إِنا أَنْزَلْنَاهُ فِيْ لَيْلَةِ الْقَدْرِ}

অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি ঐ কুরআনকে শবেকদরে অবতীর্ণ করেছি।

(কুরআনুল কারীম ৯৭/১-৩)

আর এ কথা বিদিত যে, শবেকদর হল রমাযানে; শা’বানে নয়।

{فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ}

৩। এই রাত সেই ভাগ্য-রাত; যাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। (কুরআনুল কারীম ৪৪/৪)

৪। এটা হল সেই রাত; যে রাতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফিরিশ্তাকুল তাঁদের প্রতিপালকের আদেশে অবতীর্ণ হন। অর্থাৎ, যে কাজের ফায়সালা ঐ রাতে করা হয় তা কার্যকরী করার জন্য তাঁরা অবতরণ করেন। মহান আল্লাহ বলেন,

{تَنَزَّلُ الْمَلاَئِكَةُ وَالرُّوْحُ فِيْهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ}

৫। এ রাত হল সালাম ও শান্তির রাত।
মহান আল্লাহ বলেন,

{سَلاَمٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ}

অর্থাৎ, সে রজনী ফজর উদয় পর্যন্ত শান্তিময়।

পূর্ণ রাতটাই শান্তিতে পরিপূর্ণ; তার মধ্যে কোন প্রকার অশান্তি নেই। রাত্রি জাগরণকারী মুমিন নারী-পুরুষের জন্য এ হল শান্তির রাত্রি। শয়তান তাদের মাঝে কোন প্রকার অশান্তি আনয়ন করতে পারে না। অথবা সে রাত্রি হল নিরাপদ। শয়তান সে রাত্রে কোন প্রকার অশান্তি ঘটাতে পারে না। অথবা সে রাত হল সালামের রাত। এ রাতে অবতীর্ণ ফিরিশ্তাকুল ইবাদতকারী মুমিনদেরকে সালাম জানায়।[1]

৬। এ রাত্রি হল কিয়াম ও গোনাহ-খাতা মাফ করাবার রাত্রি।

মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,
‘‘যে ব্যক্তি ঈমান রেখে ও নেকী লাভের আশা করে শবেকদরের রাত্রি কিয়াম করে (নামায পড়ে), সে ব্যক্তির পূর্বেকার গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।’’[2]

বলা বাহুল্য, এ রাত্রি হল ইবাদতের রাত্রি। এ রাত্রি ধুমধাম করে পান-ভোজনের, আমোদ-খুশীর রাত্রি নয়। আসলে যে ব্যক্তি এ রাত্রের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হয়, সেই সকল প্রকার কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।

শবেকদর কোন্ রাতটি?

রমাযান মাসের শেষ দশকের যে কোন একটি রাত্রি শবেকদরের রাত্রি। একদা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) শবেকদরের অনবষণে রমাযানের প্রথম দশকে ই’তিকাফ করলেন।
অতঃপর মাঝের দশকে ই’তিকাফ করে ২০শের ফজরে বললেন, ‘‘আমাকে শবেকদর দেখানো হয়েছিল; কিন্তু পরে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাত্রে তা অনুসন্ধান কর। আর আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদাতে সিজদা করছি।’’[3]

অতঃপর ২১শের রাত্রিতে বৃষ্টি হয়েছিল। অতএব সে বছরে ঐ ২১শের রাতেই শবেকদর হয়েছিল।

পূর্বোক্ত হাদীসের ইঙ্গিত অনুসারে শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিগুলোতে শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। সুতরাং ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ এই ৫ রাত হল শবেকদর হওয়ার অধিক আশাব্যঞ্জক রাত। অবশ্য এর মানে এই নয় যে, বিজোড় রাত্রি ছাড়া জোড় রাত্রিতে শবেকদর হবে না। বরং শবেকদর জোড়-বিজোড় যে কোন রাত্রিতেই হতে পারে। তবে বিজোড় রাতে শবেকদর সংঘটিত হওয়াটাই অধিক সম্ভাবনাময় ও আশাব্যঞ্জক।[4]

শেষ দশকের মধ্যে শেষ সাত রাত্রিগুলো অধিক আশাব্যঞ্জক। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,
‘‘আমি দেখছি যে, তোমাদের সবারই স্বপ্ন শেষ সাত রাতের ব্যাপারে একমত হয়েছে।
সুতরাং যে ব্যক্তি শবেকদর অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন শেষ সাত রাতগুলিতে করে।’’[5]

অবশ্য এর অর্থ যদি ‘কেবল ঐ বছরের রমাযানের শেষ সাত রাতের কোন এক রাতে শবেকদর হবে’ হয় এবং তার অর্থ ‘আগামী প্রত্যেক রমাযানে হবে’ না হয় তাহলে। কারণ, এরূপ অর্থ হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করা যায় না। তাছাড়া যেহেতু মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁর শেষ জীবন অবধি রমাযানের শেষ দশকের পুরোটাই ই’তিকাফ করে গেছেন এবং এক বছর শবেকদর ২১শের রাত্রিতেও হয়েছে - যেমন এ কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।[6]

শেষ দশকের বিজোড় রাত্রিগুলির মধ্যে ২৭শের রাত্রি শবেকদরের জন্য অধিক আশাব্যঞ্জক।
কেননা, উবাই বিন কা’ব (রাঃ) ‘ইন শাআল্লাহ’ না বলেই কসম খেয়ে বলতেন, ‘শবেকদর রাত্রি হল ২৭শের রাত্রি; ঐ রাত্রিতে কিয়াম করতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে আদেশ করেছেন।’[7]

অনুরূপভাবে মুআবিয়া (রাঃ) মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে বর্ণনা করে বলেন, ‘২৭শের রাত্রি হল শবেকদরের রাত্রি।’[8]

কিন্তু ঐ রাতে হওয়াই জরুরী নয়। কারণ, এ ছাড়া অন্যান্য হাদীস রয়েছে, যার দ্বারা বুঝা যায় যে, শবেকদর অন্য তারীখের রাতেও হয়ে থাকে।

বলা বাহুল্য, শবেকদরের রাত প্রত্যেক বছরের জন্য একটি মাত্রই রাত নয়। বরং তা বিভিন্ন রাত্রে সংঘটিত হতে পারে। সুতরাং কোন বছরে ২৯শে, কোন বছরে ২৫শে, আবার কোন বছরে ২৪শের রাতেও শবেকদর হতে পারে। আর এই অর্থে শবেকদর প্রসঙ্গে বর্ণিত সমস্ত হাদীসের মাঝে পরস্পর-বিরোধিতা দূর হয়ে যাবে।

শবেকদর একটি নির্দিষ্ট রাত না হয়ে এক এক বছরে শেষ দশকের এক এক রাতে হওয়ার পশ্চাতে হিকমত এই যে, যাতে অলস বান্দা কেবল একটি রাত জাগরণ ও কিয়াম করেই ক্ষান্ত না হয়ে যায় এবং সেই রাতের মর্যাদা ও ফযীলতের উপর নির্ভর করে অন্যান্য রাতে ইবাদত ত্যাগ না করে বসে। পক্ষান্তরে অনির্দিষ্ট হলে এবং প্রত্যেক রাতের মধ্যে যে কোন একটি রাতের শবেকদর হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বান্দা শেষ দশকের পুরোটাই কিয়াম ও ইবাদত করতে আগ্রহী হবে। আর এতে রয়েছে তারই লাভ।[9]

ঠিক হুবহু একই যুক্তি হল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর হৃদয় থেকে শবেকদর (তারীখ) ভুলিয়ে দেওয়ার পিছনে।[10]
আর এতে রয়েছে সেই মঙ্গল; যার প্রতি ইঙ্গিত করে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘আমি শবেকদর সম্বন্ধে তোমাদেরকে খবর দেওয়ার জন্য বের হয়ে এলাম। কিন্তু অমুক ও অমুকের কলহ করার ফলে শবেকদরের সে খবর তুলে নেওয়া হল।
এতে সম্ভবতঃ তোমাদের জন্য মঙ্গল আছে। সুতরাং তোমরা নবম, সপ্তম এবং পঞ্চম রাত্রে তা অনুসন্ধান কর।’’[11]

শবেকদরের সওয়াব অর্জনের জন্য শবেকদর কোন্ রাতে হচ্ছে তা জানা বা দেখা শর্ত নয়। তবে ইবাদতের রাতে শবেকদর সংঘটিত হওয়া এবং তার অনুসন্ধানে সওয়াবের আশা রাখা শর্ত। শবেকদর কোন্ রাতে ঘটছে তা জানা যেতে পারে। আল্লাহ যাকে তওফীক দেন, সে বিভিন্ন লক্ষণ দেখে শবেকদর বুঝতে পারে। সাহাবাগণ (রাযি.) একাধিক নিদর্শন দেখে জানতে পারতেন শবেকদর ঘটার কথা। তবে তা জানা বা দেখা না গেলে যে তার সওয়াব পাওয়া যাবে না -তা নয়। বরং যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশা রেখে সে রাত্রিতে ইবাদত করবে, সেই তার সওয়াবের অধিকারী হবে; চাহে সে শবেকদর দেখতে পাক বা না-ই পাক।

বলা বাহুল্য, মুসলিমের উচিত, সওয়াব ও নেকী অর্জনের উদ্দেশ্যে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আদেশ ও নির্দেশমত রমাযানের শেষ দশকে শবেকদর অনবষণ করতে যত্নবান ও আগ্রহী হওয়া। অতঃপর দশটি রাতে ঈমান ও নেকীর আশা রাখার সাথে ইবাদত করতে করতে যে কোন রাতে যখন শবেকদর লাভ করবে, তখন সে সেই রাতের অগাধ সওয়াবের অধিকারী হয়ে যাবে; যদিও সে বুঝতে না পারে যে, ঐ দশ রাতের মধ্যে কোন্ রাতটি শবেকদররূপে অতিবাহিত হয়ে গেল।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,
‘‘যে ব্যক্তি ঈমান রেখে ও নেকী লাভের আশা করে শবেকদরের রাত্রি কিয়াম করে (নামায পড়ে), সে ব্যক্তির পূর্বেকার গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।’’[12]
অন্য এক বর্ণনায় আছে,
‘‘যে তার খোঁজে কিয়াম করল এবং সে তা পেতে তওফীক লাভ করল তার পূর্বেকার গোনাহসমূহ মাফ হয়ে গেল।’’[13]
আর একটি বর্ণনায় আছে,
‘‘যে ব্যক্তি শবেকদরে কিয়াম করবে এবং সে তা ঈমান ও নেকীর আশা রাখার সাথে পেয়ে যাবে, তার গোনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে।’’[14]

আর এ সব সেই ব্যক্তির ধারণাকে খন্ডন করে, যে মনে করে যে, যে ব্যক্তি শবেকদর মনে করে কোন রাতে কিয়াম করবে, তার শবেকদরের সওয়াব লাভ হবে; যদিও সে রাতে শবেকদর না হয়।[15]

শবেকদরের আলামতসমূহঃ-

শবেকদরের কিছু আলামত আছে যা রাত মধ্যেই দেখা যায় এবং আর কিছু আলামত আছে যা রাতের পরে সকালে দেখা যায়। যে সব আলামত রাতে পরিলক্ষিত হয় তা নিম্নরূপঃ-

শবেকদরের রাতের আকাশ অস্বাভাবিক উজ্জ্বল থাকে। অবশ্য এ আলামত শহর বা গ্রামের ভিতর বিদ্যুতের আলোর মাঝে থেকে লক্ষ্য করা সম্ভব নয়। কিন্তু যারা আলো থেকে দূরে মাঠে-ময়দানে থাকে, তারা সে ঔজ্জ্বল্য লক্ষ্য করতে পারে।অন্যান্য রাতের তুলনায় শবেকদরের রাতে মুমিন তার হৃদয়ে এক ধরনের প্রশস্ততা, সবস্তি ও শান্তি বোধ করে।অন্যান্য রাতের তুলনায় মুমিন শবেকদরের রাতে কিয়াম বা নামাযে অধিক মিষ্টতা অনুভব করে।এই রাতে বাতাস নিস্তব্ধ থাকে। অর্থাৎ, সে রাতে ঝোড়ো বা জোরে হাওয়া চলে না। আবহাওয়া অনুকূল থাকে। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,
‘‘শবেকদরের রাত উজ্জ্বল।’’[16]

অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘‘নাতিশীতোষ্ণ; না ঠান্ডা, না গরম।’’[17]

শবেকদরের রাতে উল্কা ছুটে না।[18]

এ রাতে বৃষ্টি হতে পারে।
মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন,
‘‘আমাকে শবেকদর দেখানো হয়েছিল; কিন্তু পরে ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। অতএব তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রাত্রে তা অনুসন্ধান কর। আর আমি দেখেছি যে, আমি পানি ও কাদাতে সিজদা করছি।’’[19]

অতঃপর ২১শের রাত্রিতে সত্যই বৃষ্টি হয়েছিল।শবেকদর কোন নেক বান্দা স্বপ্নের মাধ্যমেও দেখতে পারেন। যেমন কিছু সাহাবা তা দেখেছিলেন।

পক্ষান্তরে যে সব আলামত রাতের পরে সকালে দেখা যায় তা হল এই যে, সে রাতের সকালে উদয়কালে সূর্য হবে সাদা; তার কোন কিরণ থাকবে না।[20]

অথবা ক্ষীণ রক্তিম অবস্থায় উদিত হবে;[21]

ঠিক পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মত। অর্থাৎ, তার রশনি চারিদিকে বিকীর্ণ হবে না।

আর লোক মুখে যে সব আলামতের কথা প্রচলিত;
যেমনঃ সে রাতে কুকুর ভেকায় না বা কম ভেকায়, গাছ-পালা মাটিতে নুয়ে পড়ে আল্লাহকে সিজদা করে, সমুদ্রের লবণাক্ত পানি মিঠা হয়ে যায়, নূরের ঝলকে অন্ধকার জায়গা আলোকিত হয়ে যায়, নেক লোকেরা ফিরিশ্তার সালাম শুনতে পান ইত্যাদি আলামতসমূহ কাল্পনিক। এগুলি শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। তাছাড়া এ সব কথা নিশ্চিতরূপে অভিজ্ঞতা ও বাস্তববিরোধী।[22]

শবেকদরের দুআঃ

মা আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত,
তিনি বলেন,
আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি শবেকদর লাভ করলে তাতে কি দুআ পাঠ করব?উত্তরে তিনি বললেন,

‘‘তুমি বলো,

اَللّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ.

উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নী।[23]

اَللّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيْمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّيْ.

উচ্চারণঃ- আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া, ফা’ফু আন্নী।[24]

অর্থঃ- হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি ক্ষমাশীল (মহানুভব), ক্ষমাকে পছন্দ কর। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।

#বিঃদ্রঃ শবে কদরের দুইটা দো'আ ই সঠিক,
যেকোন একটি দো'আ পড়লেই হবে।

[1] (তাফসীর ফাতহুল ক্বাদীর ৫/৬৮০-৬৮১, শারহুস সাদর বিযিক্রি লাইলাতিল ক্বাদর, ইমাম শাওকানী ২৪-২৫পৃঃ)
[2] (বুখারী : ৩৫, মুসলিম : ৭৬০ নং, সুনানে আরবাআহ; আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)।
[3] (বুখারী ২০১৬, মুসলিম ১১৬৭নং)
[4] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪৯৬)
[5] (আহমাদ, মুসনাদ ২/৬, বুখারী ২০১৫, মালেক, মুওয়াত্তা, মুসলিম ১১৬৫নং)
[6] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪৯৩)
[7] (মুসলিম ৭৬২নং)
[8] (সহীহ আবূ দাঊদ ১২৩৬নং)
[9] (আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪৯৪)
[10] (শারহুস সাদর বিযিক্রি লাইলাতিল ক্বাদর ৪৯পৃঃ)
[11] (বুখারী ২০২৩নং)
[12] (বুখারী ৩৫, মুসলিম ৭৬০ নং, সুনানে আরবাআহ; আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ)
[13] (আহমাদ, মুসনাদ ৫/৩১৮, ২২৬১২নং)
[14] (মুসলিম ৭৬০নং)
[15] (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ ২০/১৮৬-১৮৭)
[16] (আহমাদ, মুসনাদ, ত্বাবারানী, মু’জাম, ইবনে খুযাইমাহ, সহীহ ২১৯২, প্রমুখ, সহীহুল জামেইস সাগীর, আলবানী ৫৪৭২, ৫৪৭৫নং)
[17] (ঐ) [18] (ঐ)
[19] (বুখারী ২০১৬, মুসলিম ১১৬৭নং)
[20] (মুসলিম ৭৬২নং)
[21] (সহীহুল জামেইস সাগীর, আলবানী ৫৪৭৫নং)
[22] (দুরুসু রামাযান অকাফাত লিস্-সায়েমীন ৯২পৃঃ, আশ্শারহুল মুমতে’ ৬/৪৯৮-৪৯৯)
[23] (আহমাদ, মুসনাদ ৬/১৭১, ১৮২, ১৮৩, ২৫৮, নাসাঈ আমালুল ইয়াওমি অল-লাইলাহ ৮৭২নং, ইবনে মাজাহ ৩৮৫০, হাকেম, মুস্তাদ্রাক ১/৫৩০)
[24] (তিরমিযী ৩৫১৩নং)

◼️মা-বোনেরা হাযেজ হয়ে গেলে লাইলাতুল
কদরে(১০রাত্রি) কি কি ইবাদত করবেন ???

لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ.

শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ (কল্যাণকর)।
(সূরাঃআল-কদরঃ৩)

বোন কষ্ট পাবেন না।
এটাও আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা।
হয়তো,,,
এই কষ্টের জন্যে আল্লাহ তা'আলা আপনাকে অন্য বোনদের মত সমান নেকি দিয়ে দিবেন। হয়তো,,, তাদের চেয়েও বেশি নেকি দিবেন। আল্লাহ তা'আলা আপনাকে নেকি থেকে বঞ্চিত করবেন না।
ইং শা আল্লাহ! যে বোন নির্ধারিত সময় পেয়ে যাবেন তিনি শুধু নামায, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত বাকী সমস্ত ইবাদত করতে পারেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি রমজানের শেষ দশকে রাত জাগতেন।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত:
শেষ দশক প্রবেশ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোমর বেঁধে নামতেন।
তিনি নিজে রাত জাগতেন এবং তাঁর পরিবারবর্গকে জাগিয়ে দিতেন।

[সহীহ বুখারী (২০২৪) ও
সহীহ মুসলিম (১১৭৪)]

লাইল বা রাত জাগা শুধু নামাযের জন্য বিশিষ্ট নয়, বরং তা সকল ইবাদতের মাধ্যমে হতে পারে। আলেমগণ
কথাটিকে এই অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন।

ইবনে হাজার বলেছেন:
অর্থ- তিনি ইবাদত ও আনুগত্যের মধ্যে রাত জাগতেন।
নববী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:
অর্থাৎ তিনি সালাত ও অন্য ইবাদতের মাধ্যমে গোটা রাত কাটিয়ে দিতেন।

আউনুল মাবূদ গ্রন্থে বলা হয়েছে: অর্থাৎ নামায, যিকির-আযকার ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে
(রাত কাটিয়ে দেয়া)।

লাইলাতুল কদরে বান্দা যে যে ইবাদত করতে পারেন তার মধ্যে কিয়ামুল লাইল (রাতের নামায) সর্বোত্তম।
এজন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে বা ভাগ্য রজনীতে নামায আদায় করবে তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হবে।
[সহীহ বুখারী (১৯০১)ও
সহীহ মুসলিম (৭৬০)]

যেহেতু নারীর ঐ সময় শুরু হয়েছে তার জন্য নামায আদায় করা নিষিদ্ধ তাই তিনি নামায ব্যতীত অন্য সব ইবাদত করার জন্য রাত জাগতে পারেন।

>>>>>>>>>>>>> #যেমনঃ

05/03/2025

রোজার রুকন, মুস্তাহাব, মাকরুহ ও রোজাভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
রোজার রুকন, মুস্তাহাব, মাকরুহ ও রোজাভঙ্গকারী বিষয়সমূহ


১। রোজার রুকনসমূহ
প্রথম রুকন: সুবেহ সাদেক উদয় হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজাভঙ্গকারী বিষয় থেকে বিরত থাকা।
ইরশাদ হয়েছে:

(وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلۡخَيۡطُ ٱلۡأَبۡيَضُ مِنَ ٱلۡخَيۡطِ ٱلۡأَسۡوَدِ مِنَ ٱلۡفَجۡرِۖ ثُمَّ أَتِمُّواْ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيۡلِۚ)

{এবং তোমরা আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।} [সূরা আল বাকারা:১৮৭]

সাদা ও কালো রেখার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দিনের শুভ্রতা ও রাতের কৃষ্ণতা।

দ্বিতীয় রুকন : নিয়ত
অর্থাৎ রোজাদার ব্যক্তি রোজাভঙ্গকারী-বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ইবাদত করার নিয়ত করবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘নিশ্চয় আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেকের জন্য তাই নির্ধারিত যা সে নিয়ত করেছে।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

যে ব্যক্তি ভুল করে রোজা ভঙ্গ করল
সূর্যাস্ত সম্পন্ন হয়েছে অথবা সুবেহ সাদেক উদয় হয়নি বলে ধারণা করে যে ব্যক্তি খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করল, কিন্তু পরবর্তীতে প্রকাশ পেল যে তার ধারণা ভুল ছিল, এমতাবস্থায় ওই রোজা কাজা করা আবশ্যক হবে না। এর প্রমাণ আল্লাহ তাআলার বাণী:

(وَلَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٞ فِيمَآ أَخۡطَأۡتُم بِهِۦ وَلَٰكِن مَّا تَعَمَّدَتۡ قُلُوبُكُمۡۚ وَكَانَ ٱللَّهُ غَفُورٗا رَّحِيمًا ٥ )

{আর এ বিষয়ে তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোনো পাপ নেই; কিন্তু তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে (পাপ হবে)। আর আল্লাহ অধিক ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} [সূরা আল আহযাব:৫]

হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের ওপর ভুল ও ভুলে যাওয়া ও বাধ্য হয়ে-কৃত বিষয়গুলো ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ (বর্ণনায় ইবনে মাজাহ)

২। রোজায় যা বৈধ
১ - গোসল করা, ঠান্ডা পানিতে বসা

২ – মুখের থুতু ও কাশ গিলে ফেলা

৩ - জিহা দিয়ে কোনো খাদ্যের কেবল াদ পরীক্ষা করে দেখা। তবে শর্ত হলো কোনোকিছুই যেন কন্ঠের নিচে প্রবেশ না করে।

৪- আতর-সুগন্ধি ইত্যাদির ঘ্রাণ নেয়া

রোজাদারের মেসওয়াক ব্যবহার
যেকোনো সময় মেসওয়াক ব্যবহার করা বৈধ, হোক তা সূর্যে ঢলে যাওয়ার পূর্বে অথবা পরে। হোক তা তাজা অথবা শুষ্ক। তবে মেসওয়াক তাজা হওয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন কন্ঠের নিচে চলে না যায়; কেননা এরূপ হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

৩। রোজার সুন্নত-মুস্তাহাবসমূহ
১ - সেহরি খাওয়া এবং তা দেরি করে ফজরের আযানের কিছু সময় পূর্বে খাওয়া।
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘তোমরা সেহরি খাও; কেননা সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

অল্প ও বেশি উভয় পরিমাণ খাবার দিয়েই সেহরি সম্পন্ন হয়। এমনকি এক ঢোক পানি দিয়েও সেহরি সপন্ন হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সেহরি হলো বরকতময়। তাই তোমরা সেহরি খাওয়া ছেড়ো না। এমনকি যদি এক ঢোক পানি দিয়ে হয় তবু; কারণ আল্লাহ তাআলা সেহরি গ্রহণকারীদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন ও ফেরেশতারা তাদের জন্য দুআ করেন।’(বর্ণনায় আহমদ)

সেহরি দেরি করে করা মুস্তাহাব; যায়েদ ইবনে ছাবেত রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,‘আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সেহরি করলাম অতঃপর ফজরের নামাজের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালাম। আনাস ইবনে মালেক রাযি. বলেন: আমি বললাম: সেহরি ও ফজরের নামাজের মধ্যে কতটুকু সময় ছিল? তিনি বললেন: পঞ্চাশ আয়াত পড়ার পরিমাণ সময়।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

আযানের মুহূর্তে পান করা
যদি আযান শুরু হয়ে যায় আর কোনো ব্যক্তি পানি পানরত থাকে, তবে সে অবশিষ্ট পানি পান করে শেষ করতে পারে। আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ আযান শুনে আর পাত্র তার হাতে থাকে, তবে সে যেন তার প্রয়োজন শেষ হওয়ার আগে তা রেখে না দেয়।’

২ - দ্রুত ইফতার করা
রোজাদারের জন্য মুস্তাহাব হলো দ্রুত ইফতার করা। অর্থাৎ সূর্যাস্ত যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হলে সাথে সাথে ইফতার করা। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন,‘মানুষ ভালো থাকবে যতক্ষণ তারা দ্রুত ইফতার করে যাবে।’ (বর্ণনায় আবু দাউদ)

তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব। তাজা খেজুর না পাওয়া গেলে শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করা। খেজুর বেজোড় সংখ্যায় হওয়া। যদি খেজুর না পাওয়া যায় তবে কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করা। আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে,‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের পূর্বে বেজোড় সংখ্যক তাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাজা খেজুর না পেলে শুকনো খেজুর দিয়ে। আর খেজুর না পেলে তিনি কয়েক ঢোক পানি পান করে ইফতার করতেন।’(বর্ণনায় তিরমিযী)

৩- ইফতারের সময় দুআ
হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইফতার করতেন, বলতেন,

«ذَهَبَ الظَّمَأُ، وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ، وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ الله»

‘তৃষ্ণা চলে গেছে, শিরাগুলো আদ্র হয়েছে আর ছাওয়াব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনত্র্য বলেছেন, ‘নিশ্চয় ইফতারের সময় রোজাদারের দুআ ফিরিয়ে দেয়া হয় না।’ (বর্ণনায় ইবনে মাজাহ)

৪- অহেতুক ও অশ্লীল কথা পরিত্যাগ করা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখবে তখন সে যেন অশ্লীল কথা বর্জন করে, ঝগড়া ও হট্টগোল বর্জন করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তখন সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম)

৫- বেশি বেশি ইবাদত করা
যেমন কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহর যিকর করা, তারাবির নামাজ পড়া, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়া, লাইলাতুল কদর যাপন করা, ফরজ নামাজের আগে-পড়ের সুন্নতগুলো আদায় করা, দান-সদকা করা, ভালো কাজ সম্পাদনে অর্থ ও শ্রম ব্যয় করা, রোজাদারদেরকে ইফতার করানো ও মাহে রমজানে উমরা আদায় করা; কেননা মাহে রমজানে নেক আমলের ছাওয়াব বাড়িয়ে দেয়া হয়। ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব থেকে বেশি দানশীল ছিলেন, আর তিনি মাহে রমজানে সমধিক দানশীল হতেন, যখন জিব্রীল তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। আর জিব্রীল রমজানের প্রতি রাতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন এবং তাঁকে কুরআন চর্চা করাতেন। যখন জিব্রীল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি দান-খয়রাতে উন্মুক্ত বাতাস থেকেও অধিক বেগবান হতেন।’(বর্ণনায় বুখারী)

৪। রোজা রাখা অবস্থায় যা মাকরুহ
১ - কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ায় অতিরঞ্জন করা
কেননা এরূপ করলে পেটে পানি চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এতদসংক্রান্ত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আর নাকে পানি দেয়ায় তুমি অতিরঞ্জন করো, তবে যদি রোজাদার হও।’
(বর্ণনায় আবু দাউদ)

২ - যৌনোত্তেজনাসহ চুম্বন করা
রোজাদার ব্যক্তি যদি বীর্যপাত অথবা উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করে তবে তার পক্ষে চুম্বন করা মাকরুহ হবে। আর রোজাদার ব্যক্তির উচিত হবে এমনসব বিষয় বর্জন করা যার দ্বারা যৌনাত্তেজনা আন্দোলিত হয়। হাঁ, যদি রোজা ভঙ্গ হবে না বলে আত্মবিশ্বাস থাকে, তবে তার কথা ভিন্ন। আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,,‘নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোজা রাখা অবস্থায় চুম্বন করতেন, আলিঙ্গন করতেন। আর তিনি ছিলেন তোমাদের মধ্যে সবথেকে বেশি তার প্রয়োজনকে নিয়ন্ত্রণকারী।’(বর্ণনায় বুখারী ও মুসলিম) এ কারণেই যুবকদের ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের সাথে জড়িয়ে থাকা মাকরুহ। অবশ্য বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে মাকরুহ নয়। আবু হুরায়রা রাযি. হতে বর্ণিত, ‘এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বামী-স্ত্রীর একে অন্যের সাথে জড়িয়ে থাকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। অন্যএক ব্যক্তি এসে অভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করল, তবে তিনি তাকে নিষেধ করলেন। দেখা গেল, তিনি যাকে অনুমতি দিলেন সে ছিল বৃদ্ধ। আর যাকে অনুমতি দিলেন না সে ছিল যুবক।’ [বর্ণনায় আবু দাউদ]

রোজাভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
১ - রোজা রাখাবস্থায় ইচ্ছা করে খাবার ও পানীয় গ্রহণ
আল্লাহ তাআলা বলেন :

(وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكُمُ ٱلۡخَيۡطُ ٱلۡأَبۡيَضُ مِنَ ٱلۡخَيۡطِ ٱلۡأَسۡوَدِ مِنَ ٱلۡفَجۡرِۖ ثُمَّ أَتِمُّواْ ٱلصِّيَامَ إِلَى ٱلَّيۡلِۚ)

{এবং তোমরা আহার কর ও পান কর যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কাল রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ কর।} [সূরা আল বাকারা:১৮৭]

কাজের কারণে রোজা ভঙ্গ করা
যে ব্যক্তি চুল্লিতে অথবা অন্যকোনো কঠিন কাজে নিয়োজিত তার জন্য রোজা ভাঙ্গা বৈধ হবে না; কেননা সে অন্যদের মতোই রোজা রাখার নির্দেশের আওতাভুক্ত।

বিঃদ্রঃ
যে ব্যক্তি রোজা রাখার কথা ভুলে গিয়ে খেল বা পান করল তার রোজা শুদ্ধ হবে। তবে মনে হওয়ার সাথে সাথে খাবার ও পানীয় বর্জন করতে হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রোজার কথা ভুলে গেল, অতঃপর খেল ও পান করল, সে যেন তার রোজা পূর্ণ করে; কেননা আল্লাহ তাআলাই তাকে খাইয়েছেন ও পান করিয়েছেন।’(বর্ণনায় মুসলিম)

যা কিছু খাবার ও পানীয় বলে গণ্য তা যদি মুখ অথবা নাকের পথ হয়ে পেটে প্রবেশ করে তবে রোজা ভেঙ্গে যাবে, যেমন খাদ্যজাতীয় ইনজেক্শন। তবে যে ইনজেকশন খাদ্যজাতীয় নয়, যেমন ইনসোলিন ইত্যাদি রোজাভঙ্গকারী বলে বিবেচিত নয়; কেননা তা খাদ্য ও পানীয়ের মধ্যে পড়ে না।

প্রয়োজনের তাগিদে মুখ দিয়ে মেডিকেল স্প্যাকুলাম প্রবেশ করালে অথবা ইনহেইলার ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তদ্রূপভাবে সুরমা অথবা চোখ ও কানে ওষুধের ড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না; কেননা এর দ্বারা রোজা ভঙ্গ হওয়ার কোনো দলিল পাওয়া যায় না। উপরন্তু চোখ, খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের স্বাভাবিক পথ নয়। কান ও নাকের ড্রপের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। তবে নাকের ড্রপের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উত্তম; কেননা রোজাদারের ক্ষেত্রে নাকে পানি দেয়ায়

অতিরঞ্জন থেকে বারণ করা হয়েছে। উপরন্তু নাক পাকস্থলির প্রবেশপথ বলেও গণ্য।

আর যদি রোজাদার ব্যক্তি এমন কোনো জিনিস গ্রহণ করে যা খাদ্য নয়, অথবা যা ক্ষতিকর, যেমন বিড়ি-সিগারেট, তবে তা রোজাভঙ্গকারী বলে বিবেচিত হবে। কেননা সে তা খাদ্যগ্রহণের স্বাভাবিক পথ দিয়ে গ্রহণ করেছে। আর তা হলো মুখ। উপরন্তু এটা খাদ্য ও পানীয়ের মতোই।

যা থেকে বেঁচে থাকা অসম্ভব, যেমন রাস্তার ধুলোবালি, দাঁতের ফাঁকে লেগে-থাকা খাদ্য ইত্যাদির দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

২ - রতিক্রিয়া
আল্লাহ তাআলা বলেন:

(أُحِلَّ لَكُمۡ لَيۡلَةَ ٱلصِّيَامِ ٱلرَّفَثُ إِلَىٰ نِسَآئِكُمۡۚ )

{সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে।}
[আল বাকারা: ১৮৭]

অতএব রমজান মাসে দিনের বেলায় রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে এবং কাযা ও কঠিন কাফফারা উভয়টাই আবশ্যক হবে। আর এ ক্ষেত্রে কাফফারা হলো গোলাম আযাদ করা। গোলাম আযাদ করতে অপারগ হলে দু মাস লাগাতার রোজা রাখা। রোজা রাখতে অপারগ হলে ষাটজন মিসকীনকে খাবার খাওয়ানো। আবু হুরায়রা রাযি. বর্ণনা করেন, ‘এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, ‘আমি ধ্বংস হয়ে গেছি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘কেন, কি হয়েছে?’ লোকটি বলল, ‘রোজা অবস্থায় স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি।’ তিনি বললেন, ‘তুমি কি একটি গোলাম আযাদের সামার্থ্য রাখো?’ লোকটি বলল, ‘না’, তিনি বললেন, ‘তুমি কি দু’মাস লাগাতার রোজা রাখতে পারবে? লোকটি বলল, ‘না’, তিনি বললেন, ‘তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাওয়াতে পারবে?’ লোকটি বলল, ‘না’, তিনি বললেন, ‘বসো’। লোকটি বসল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় একটি মাপ-পাত্র নিয়ে এলেন যাতে খেজুর ছিল। তিনি বললেন, ‘নাও, এগুলো সদকা করে দাও।’ লোকটি বলল, ‘আমাদের চেয়েও দরিদ্রকে দান করব?!’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসলেন, এমনকি তাঁর দান্দান মুবারক উন্মোচিত হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, ‘এগুলো তোমার পরিবারকে খাওয়াও।’(বর্ণনায় তিরমিযী)

রোজার কাফফারা হবে উপরে বর্ণিত অনুক্রম অনুযায়ী। অর্থাৎ যদি রোজা রাখতে অপারগ হয় তবেই কেবল মিসকীনকে খাদ্যদানের সুযোগ গ্রহণ করা যাবে। আর যদি গোলাম আযাদের সক্ষমতা থাকে তবে রোজা রাখার সুযোগ নেয়া বৈধ হবে না।

আর নারী যদি রতিক্রিয়ায় পুরুষের সাথে সায় দেয় তাহলে নারীকেও কাফফারা দিতে হবে। কিন্তু যদি নারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও পুরুষ তাকে বাধ্য করে, তবে নারীর রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং তা কাযা করতে হবে তবে কাফ্ফারা দিতে হবে না|

Address

Panchagarh
5020

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hikmah Islamic Institute & Foundation posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Hikmah Islamic Institute & Foundation:

Share