20/08/2026
দুআ কবুল হয়, কবুল হওয়ার মতো চাইতে হয়…!
দুপুরে এক অভাবী মানুষ এসে বললেন, “হুজুর, হাজার দুইয়েক টাকা হবে? খুব বিপদে আছি। বেতন পেলেই দিয়ে দেব।”
আমি বললাম, “ভাই, হাতে এখন টাকা নেই। আসরের সময় আসেন, আল্লাহ হয়তো কোনো ব্যবস্থা করবেন।”
লোকটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে চলে গেলেন।
বিকেলে হঠাৎ ঢাকা থেকে মসজিদের এক দাতার ফোন। বললেন, “আমি দুই হাজার টাকা পাঠালে আজকের মধ্যে কোনো অভাবী মানুষকে দিতে পারবেন?”
আমি নীরব হয়ে গেলাম। মনে হলো—দুপুরের সেই মানুষটির সঙ্গে তার রবের কী গভীর সম্পর্ক! তিনি দুই হাজার চেয়েছিলেন, আর আল্লাহ তার জন্য তিন হাজার টাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।
মাগরিবের পর তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম, “টাকাটা কী কাজে লাগবে?”
চোখ ছলছল করে তিনি বললেন, “হুজুর, গ্যাস শেষ হয়ে গেছে। আমার আপন বোন হাসপাতালে ভর্তি। টাকার অভাবে তাকে দেখতেও যেতে পারছি না। আপনার কাছে টাকা না পেয়ে মনটা ভেঙে গিয়েছিল। তাই মালিককে ডেকে বললাম—চার সন্তান নিয়ে কীভাবে চলব? আমার কিছু হলে পরিবারটার কী হবে?”
আমি মুচকি হেসে বললাম, “আপনার মালিক আপনার ডাক শুনেছেন। আপনার প্রয়োজন ছিল দুই হাজার, আর তিনি দিয়েছেন তিন হাজার। এমন একজনকে দিয়ে দিয়েছেন, যিনি আপনাকে চেনেন না, আপনিও যাকে চেনেন না। তিনিই এই যোগসূত্র তৈরি করেছেন।”
লোকটি হাঁটুতে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলতে লাগলেন—“মালিক! মালিক!”
তারপর মসজিদে গিয়ে সিজদায় পড়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন।
এশার পর সেই দাতাকে ফোন করে বললাম, “আচ্ছা, আল্লাহ আপনাকেই কেন বেছে নিলেন তাঁর এক প্রিয় বান্দার প্রয়োজন পূরণের জন্য?”
তিনি নীরব হয়ে গেলেন। বুঝলাম, তিনিও আবেগাপ্লুত।
আসলে দুই হাজার টাকা হয়তো আমাদের কাছে খুব সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য টাকার মধ্যেই প্রকাশ পায় আমার রবের অসীম কুদরত।
দুআ কবুল হয়—শুধু কবুল হওয়ার মতো করে চাইতে হয়।