16/09/2016
!!*হরে কৃষ্ণ*!!
"!!বিশ্বাসে মিলায় 'কৃষ্ণ'!!"
আজ একটা কাহিনী বলবো। আশাকরি একটু কষ্ট
করে সবাই পড়বে।
এক গ্রামে বাস করতো এক বিধবা মা আর তার
একমাত্র শিশুপুত্র। পুত্রের নাম গোপাল।
গোপালের পঞ্চবর্ষ হলে, মা তাকে পন্ডিতের
পাঠশালায় ভর্তি করলো। পাঠশালা কুটির থেকে বেশ
দুরে এবং মাঝে জঙ্গলময় পথ। মা গোপালকে দৈনিক
পাঠশালায় আনানেয়া করে। এরফলে তার সংসারের
কাজে খুবই বিঘ্ন হতে লাগলো। মা ভাবলো, কি করা
যায়। ভেবে গোপালকে বললো, "দেখ বাবা,
আমার তোর সাথে পাঠশালায় যেতে আসতে সমস্যা
হচ্ছে। তোর খাবার ঠিকমতো তৈরী করতেও
পারছিনা। এখন থেকে তুই একা একা যাওয়া আসা করবি।
যদি ভয় লাগে, তাহলে তোর এক দাদা আছে
জঙ্গলে। ওর নাম মধুসূদন। ওকে ডাকবি। দেখবি
তোকে সাহায্য করবে।"
গোপাল সরলমনে মায়ের কথা বিশ্বাস করলো।
পরদিন একা একা পাঠশালায় গেলো। জঙ্গলের
মাঝপথে এসে ভয় করতে লাগলো। সে তার
মধুসূদন দাদাকে ডাকতে লাগলো। কিন্ত দাদার দেখা
নেই। গোপালের ভয় আরো বাড়তে লাগলো।
তার বিশ্বাস মা তাকে মিথ্যা কথা বলতেই পারেনা।
এদিকে ভয়ে গলা শুকিয়ে আসতে লাগলো। কান্না
এসে গেলো। কাঁদতে কাঁদতে এবার যতটা
জোরে সম্ভব মধুসূদন দাদাকে ডাকতে লাগলো।
অবুঝ গোপাল তো জানেনা, মা কোন মধুসুদনের
কথা বলেছে। ওর করুণ ডাকে ভক্তাধীন ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ আর স্থির থাকতে পারলেন না।
গোপালে দাদা হয়ে গোপালের সামনে হাজির
হলেন। গোপালকে সান্ত্বনা দিয়ে, ওকে পাঠশালায়
পৌছে দিলেন। আবার ফিরিয়েও আনলেন। এভাবেই
চলতে থাকলো দিন। শ্রীগোবিন্দ গোপালকে
এমন কিছু শিক্ষা দিলেন, যাতে পন্ডিত মশায়ও চমৎকৃত
হতে লাগলো। গোপালও বাড়ি এসে মাকে দাদার
গল্প করতো। মা ভাবতো, হয়তো কেউ ওকে
সত্যিই সাহায্য করছে।
পাঠশালায় সকল শিশুদের যখন দাদার গল্প করতো,
বলতো যে ওর দাদা সব জানে, পারে। কেউ
বিশ্বাস করতোনা।এভাবেই দিন যেতে লাগলো।
একদিন পাঠশালার এক পর্বানুষ্ঠানে, পন্ডিত মশায়
সবাইকে কিছু না কিছু খাবার আনার দ্বায়িত্ব দিলো বাড়ি
থেকে। গোপালের দ্বায়িত্বে পড়লো দই।
বাড়ি এসে মাকে সব বললো গোপাল। মা খুবই
চিন্তায় পড়লো। কোথায় পাবে সে এতো দই?
শেষে অনেক ভেবে বললো, "তোর মধুসুদন
দাদাকে বললেই তো পারিস।"
গোপাল তার দাদাকে সব বললো। দাদা ওকে
ছোট্ট একটা দইয়ের ভান্ড দিলো। গোপাল সেই
ভান্ড নিয়ে পাঠশালায় এলো।দইয়ের পরিমাণ দেখে
সবাই হাসি ঠাট্টা করলো। গোপালের দাদার কথামতো
সে নিজেই সবাইকে দই পরিবেশন করলো। সবাই
পরমতৃপ্তি সহকারে, পেট ভরে দই খেলো। এমন
স্বাদ জীবনেও কেউ পায়নি। সবার খাওয়া শেষেও
ভান্ডের দই শেষ হলোনা। পন্ডিত মশায় অবাক
তো হলোই। ভাবলো, নিশ্চয়ই গোপাল
কোনো চুরি বা ছলচাতুরী করেছে। সে
গোপালের মায়ের নিকট নালিশ দিলো গোপালকে
বাড়িতে এনে।
মা একদিকে খুশি হলো। আবার গোপালের উপর
ক্ষিপ্তও হলো। সে গোপালকে তিরস্কার করতে
লাগলো। গোপাল যতোই বলে দই তার মধুসুদন
দাদা দিয়েছে। কেউ তা বিশ্বাস করেনা। শেষে মা
বললো, "ঠিক আছে, ডাক তোর দাদাকে। তাকে
আমি দেখতে চাই।"
গোপাল তার দাদাকে ডেকে আনলো। মা আর
পন্ডিত মশায়কে বললো, "এই যে আমার দাদা,
তোমরা শুনে দেখো।" কিন্ত মা বা পন্ডিত মশায়
কেউই দেখতে পেলোনা। এবার তিরস্কারের
মাত্রা বেড়ে গেলো। গোপালের দাদা ওকে
বললেন, "তুই তোর মা আর পন্ডিত মশায়কে ছুঁয়ে
থাক। ওরা আমায় দেখতে পাবে।"
গোপাল তাই করলো। সাথে সাথে মা আর পন্ডিত
মশায় দেখলো, ত্রিভঙ্গবাকা, বংশীধারী,
পাণগোবিন্দ শ্রীমধুসুদন সম্মুখে দাঁড়িয়ে
আছেন। দিব্যরুপ দর্শনে ওরা মুর্ছা গেলো।
আমার কাহিনী আপাততঃ শেষ। এই আনন্দে এসো
কীর্ত্তন করি।
!!হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম
রাম রাম হরে হরে!!
!!জয় শ্রীমধুসুদন!! জয় রাধে!!