02/05/2024
https://whatsapp.com/channel/0029VaZwDbEF6sn2i9hCby36/164
প্রশ্নঃ প্রসাদ কাকে বলে??প্রসাদ শব্দের অর্থ কি?? প্রসাদের মর্যাদা না দিলে কি অপরাধ হয়?
উত্তরঃ ভগবানের ভোগ শেষে যা গ্রহন করা হয় তাকে প্রসাদ বলে।প্রসাদ শব্দের অর্থ হলো ভগবানের কৃপা।
বালক ধ্রুব মহারাজ যখন ভগবদভক্তি সম্পাদনের জন্য শ্রীনারদ মুনির পরামর্শ মতো মধুবনে গিয়েছিলেন , তখন সেখানে কোনো সুস্বাদু আহারের অন্বেষণ তিনি করেননি।
ভগবদগীতায় উপদেশ দেওয়া হয়েছে যে, শরীর সুস্হ রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, কেবল ততটুকুই আহার করা উচিত, ভোগবিলাসিতার জন্য নয়। ভগবানকে যথাসাধ্য সুস্বাদু খাদ্যদ্রব্য নিবেদন করাই ভক্তের কর্তব্য। কিন্তু ভক্ত সবসময় চেষ্টা করবে তার জিহ্বার তৃপ্তি সাধনের উৎসাহী না হতে। যতদূর সম্ভব সাদাসিদে আহার করতে হবে।
ধ্রুব মহারাজ যা আহার করেছিলেন, তা হয়ত আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু আমাদের কৃষ্ণপ্রসাদ সেবনের জন্য যে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন সে কাজ অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে।
কৃষ্ণপ্রসাদ ভোজন করার সুবিধা আছে - কত সুস্বাদ, শ্রীকৃষ্ণকে নিবেদন করে তারপর তার উচ্ছিষ্ট সেবন! তাকেই বলে প্রসাদ। প্রসাদের ভালো -মন্দ বিচার করা আমাদের অনুচিত । অনেকে ভাবে- "ভালো প্রসাদ চাই"। কিন্তু 'খারাপ প্রসাদ ' বলে কিছু আছে নাকি ? সব প্রসাদই ভালো। কেউ এমন ভাবে- 'ওই প্রসাদটা আমার পছন্দ, ওটা বেশি চাই, ওটা ভালো, এটা তো খুব পোড়া, আর এটা চাটনি।' এরকম করা ঠিক নয়। প্রসাদমাত্রই সম্মান দিয়ে আমাদের নিরবে গ্রহন করা উচিত। যদি প্রসাদের মধ্যে লবণ কম হয় , বেশি হয় , যদি পুড়েও যায় তবু আমাদের সামান্য কিছুও বলা উচিৎ নয়। পরে যে রান্না করে তাকে বলা যেতে পারে - এটা একটু পড়ে গেছে। তারা যাতে এমন ভুল না করে। তবে এমন নয়- খেতে বসে 'অ্যা পোড়া !' ইত্যাদি উদ্ধত ভাব প্রকাশ করা মোটেও উচিত নয়। তাহলে প্রসাদের মর্যাদা রাখা হলো না।
গুরুদেবের ক্ষেত্রে আবার শিষ্যরা এমন পরিমানে প্রসাদ পরিবেশন করে যে সবটুকু খাওয়া সম্ভবই না। মানে,বেশি উচ্ছিষ্ট থেকে যায় গুরুদেবের। তাতে লজ্জা হয়। এসব ষড়যন্ত্র করে শিষ্যরা। এজন্য পরিবেশনের সময় সাবধান হতে হয়।
প্রসাদ শ্রীকৃষ্ণের করুণা। তাই প্রসাদকে সেভাবেই সম্মান করা উচিত।
হরে কৃষ্ণ