20/09/2026
৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
আপনাদের সকলের উপরে আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক
কিতাব : আল কুরআন *(আল্লাহ তাআলার বাণী)*
সূরা : আল মায়িদাহ
আয়াত- ৮৭ : হে মুমিনগণ, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা হালাল করেছেন তা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
আয়াত- ৮৮ : আর আহার করো আল্লাহ যা তোমাদের রিজিক দিয়েছেন তা থেকে হালাল, পবিত্র বস্তু। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর উপর তোমরা বিশ্বাসী।
তাফসীর
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি রসূল (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমি যখনই গোশত ভক্ষণ করি, তখনই আমার মধ্যে কামোত্তেজনা অনুভব করি। তাই নিজের জন্য গোশতকে হারাম করে নিয়েছি। যার ফলে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। (সহীহ তিরমিযী, আলবানী ৩/৪৬) অনুরূপভাবে অবতীর্ণের এই কারণ ব্যতীত বিভিন্ন বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কিছু সংখ্যক সাহাবা সংসার ত্যাগ এবং ইবাদতের উদ্দেশ্যে কিছু বৈধ জিনিস হতে যেমন, বিবাহ করা হতে, ঘুমিয়ে রাত্রিযাপন করা হতে, দিনে পানাহার করা হতে নিজেদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করেন। যখন নবী করীম (সাঃ) এ ব্যাপারে অবগত হলেন, তখন তাঁদেরকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান করলেন। এমন কি উসমান বিন মাযঊন (রাঃ) তিনিও নিজের স্ত্রী থেকে দূরে থাকতেন। অতঃপর তাঁর স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকেও তিনি তা করতে নিষেধ করলেন। (হাদীসগ্রন্থসমূহ দ্রষ্টব্য) সুতরাং এই আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ কর্তৃক হালাল যে কোন বস্তুকে নিজের উপর হারাম করে নেওয়া অথবা তা এমনিই বর্জন করা বৈধ নয়। চাহে তা খাদ্যদ্রব্য হোক অথবা পানীয় দ্রব্য, পোষাক-পরিচ্ছদ হোক অথবা আনন্দদায়ক কোন বস্তু, বৈধ কামনা-বাসনা হোক বা অন্য কিছু। আয়াতে মুমিনদের সতর্ক করা হয় যে, আল্লাহ যা হালাল বা পবিত্র করেছেন, তা নিজের ওপর হারাম করে নেওয়া বা অতিরিক্ত কঠোরতা অবলম্বন করে সীমালংঘন করা ইসলামের সঠিক পথ নয়।
*[কুরআনের প্রতিটি আয়াতের মধ্যে উপদেশ রয়েছে (কেয়ামত পর্যন্ত) এমন কমের জন্য যারা চিন্তা করে]*