17/05/2026
🔰সম্প্রতি ঢাকার মুহাম্মাদপুরস্থ আল-আমীন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এক হালাকায় জর্ডানী শায়খ ড. উসামা আল-উতায়বী (হাফিযাহুল্লাহ)-এর একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে এমন বহু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রয়েছে যারা “সুরূরী“ (السرورية) চিন্তাধারার প্রভাব বহন করলেও নিজেরা তা অনুধাবন করেন না। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে তিনি অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ এবং এর আমীর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিবের নাম উল্লেখ করেন।
বিষয়টি আমাদের নিকট অত্যন্ত দুঃখজনক ও অস্বাভাবিক বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে তাওহীদ, সুন্নাহ ও ছহীহ আক্বীদাভিত্তিক দাওয়াত, শিরক-বিদআত বিরোধী আন্দোলন এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশের বিগত কয়েক দশকের ভূমিকা সর্বমহলে সুপরিচিত। বিশেষত প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব (হাফি.) দীর্ঘ ৬০ বছর যাবৎ বাংলার মাটিতে কুরআন ও ছহীহ হাদীছভিত্তিক বিশুদ্ধ সালাফী মানহাজ প্রচারে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
ইখওয়ানী চিন্তাধারা ও রাজনৈতিক ইসলামকেন্দ্রিক বিভিন্ন আক্বীদাগত বিচ্যুতির বিরুদ্ধে বহু বছর পূর্ব থেকেই তাঁর সুস্পষ্ট অবস্থান সর্বজনবিদিত। এ বিষয়ে ১৯৮৭ সালে তথা পঞ্চাশ বছর পূর্বে তাঁর রচিত “তিনটি মতবাদ” গ্রন্থ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরবর্তীতে “ইক্বামতে দ্বীন : পথ ও পদ্ধতি” এবং “ইসলামী খেলাফত ও নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যবস্থা” গ্রন্থদ্বয়েও তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় একাডেমিক ও দলীলভিত্তিকভাবে উক্ত চিন্তাধারার বিভিন্ন ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছেন। লেখনী ও বক্তৃতার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় ইখওয়ারী মতবাদের বিরুদ্ধে তাঁর মতো প্রতিবাদী কণ্ঠ অদ্বিতীয়। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে তাঁর নাম ধরে প্রকাশ্যে একজন আরবী ভাষী শায়খের মন্তব্য অতীব দুর্ভাগ্যজনক।
আমাদের ধারণা তাঁকে এ বিষয়ে ভুল তথ্য এবং অসত্য ধারণা দেয়া হয়েছে এবং আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ নাম থেকে “আন্দোলন“ শব্দটিকে টার্গেট করে তাঁর কাছে মিথ্যা বার্তা দেয়া হয়েছে। অথচ সকলেই জানেন যে, এখানে “আন্দোলন” শব্দটি সামাজিক ও দ্বীনী গণজাগরণের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এটা কোন রাজনৈতিক পরিভাষা নয়। এই অর্থেই আল্লামা আব্দুল্লাহিল কাফী আল-কুরায়শী “আহলেহাদীছ আন্দোলন“ নামে সরাসরি বই লিখেছেন এবং তাঁর লেখনীতে অসংখ্যবার এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন। সুতরাং যারা মিথ্যাচার করে উক্ত শায়খকে ভুল বুঝিয়েছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ রইল, তাঁরা যেন আল্লাহকে ভয় করেন এবং সঠিক তথ্য শায়খের নিকট পৌঁছে দেন।
সর্বোপরি, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে এমন গুরুতর আদর্শিক মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই এবং ইনসাফপূর্ণ মূল্যায়ন একান্তভাবে কাম্য। বিশেষত এমন বক্তব্য সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি, ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজনের সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা আশা করি, পারস্পরিক মতপার্থক্যের ক্ষেত্রেও ব্যক্তি বিদ্বেষের উর্ধ্বে উঠে আহলুস সুন্নাহর আদব, ন্যায়পরায়ণতা ও ইলমী আমানতদারিতা বজায় থাকবে এবং যে কোনো অভিযোগ দলীল, বাস্তবতা ও নিরপেক্ষ গবেষণার ভিত্তিতেই উপস্থাপিত হবে। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাযত করুন। আমীন!
📍Dr. Ahmad Abdullah Saqib حفظه الله
সর্বোপরি আমি বলতে চাই বাংলাদেশ আমরা বিগত দিনগুলোতে দেখতে পেয়েছি জমিঈয়তে আহালুল হাদিস সংগঠনের সমস্ত দায়িত্বশীলরায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত তারা মুখে দাবী করলেও যে আমরা হালুল হাদীছ অথচ তারা কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে এখন মুসলিমিনদের ওই হিসাবে আমরা বলতে পারি আসলে তারাই সূরুরী । প্রফেসর ডক্টর আসাদুল্লাহ আল গালিব নয়।