28/05/2026
যে জাতিকে একসময় মানুষ বলেও গণ্য করা হতো না,
যে জাতির মন্দিরে যাওয়ার অধিকার ছিল না,
যে জাতির ছোঁয়াকে অপবিত্র বলা হতো,
সেই অবহেলিত, লাঞ্ছিত, পদদলিত জাতিকে জাত দিলেন, মান দিলেন, শিক্ষার আলো দিলেন, বুক দিয়ে আগলে রেখেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর।
তাঁরাই শিখিয়েছিলেন — “তোমরা ও মানুষ, তোমাদেরও অধিকার আছে, তোমাদেরও ভগবান আছে।”
আজ সেই হরিগুরুচাঁদ ঠাকুরের জন্যই হাজারো নমঃশূদ্র মাথা উঁচু করে বাঁচতে শিখেছে। শিক্ষা পেয়েছে, ধর্ম পেয়েছে, মন্দির পেয়েছে, সমাজে দাঁড়াতে শিখেছে, নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছে। অথচ বড় কষ্টের বিষয়, আজ তাঁদেরই মন্দিরের জন্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে হয়!
দেবদেবীর জন্য কোটি টাকার অট্টালিকা উঠে, আর হরিচাঁদ ঠাকুরের নামে থাকে টিনের ছাপড়া ঘর!
হায় রে নমঃশূদ্র জাতি…
যার কারণে আজ তোমাদের অস্তিত্ব, তাকেই আজ তোমরা ভুলতে বসেছো।
“যার জন্য রামের মা, তারেই চিনে না” — এই কথাটার জীবন্ত উদাহরণ যেন আজ আমরা নিজেরাই।
মনে রেখো, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ ঠাকুর শুধু কোনো ধর্মীয় নাম নয়, তাঁরা এই জাতির আত্মা, আত্মমর্যাদা আর মুক্তির ইতিহাস। তাঁদের অবদান অস্বীকার করা মানে নিজের শিকড় অস্বীকার করা, নিজের অস্তিত্ব অস্বীকার করা।
যে জাতি নিজের মুক্তিদাতাকে সম্মান দিতে জানে না, ইতিহাস একদিন সেই জাতিকে কঠিন শিক্ষা দেয়।