22/01/2020
তারেক মনোয়ার, মিজানুর রহমান আজহারী, মোস্তাফিজুর রহমানী কি জামাতে ইসলামি দলের আলেম? আর জামাতে ইসলামি দলের লোক হতে গেলে কি, জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে থাকতে হবে?
বর্তমানে কিছু কিছু ইউটিউব সাংবাদিকরা জামাতে ইসলামি দলে কোন কোন আলেম আছেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। মুলত, তাদের জামাতে ইসলামের রাজনীতি সম্পর্কে তেমন ধারনা নেই। ধারনা থাকলেও কেবল বাহ্যিক ধারনা আছে, যা সকল ইসলামি দলের মধ্যে দৃশ্যমান।
শতকরা হিসাব করলে পৃথিবীর ৫% সাংবাদিক জামাতে ইসলামির রাজনীতি সম্পর্কে সঠিক ধারনা দিতে পারবেন। আর এই ৫% সাংবাদিক সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিক। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের কোন সাংবাদিক এই ৫% এর মধ্যে নেই।
কেন নেই? এর উত্তর হলো সাংবাদিকেরা সাধারনত হয় নাস্তিকতায় বিশ্বাসী। আর তারা যদি নাস্তিকতায় বিশ্বাসী নাও হয়, তারা ইসলামের সঠিক আকিদা সম্পর্কে গাফেল। আর আকিদায় গাফেল সাংবাদিক দিয়ে জামাতে ইসলামির রাজনীতির সঠিক অবস্থান তুলে ধরা সম্ভব নয়। তারা সাধারন মুসলমানদের মতই আকিদা বিশ্বাস লালন করেন।
এবার মূল আলোচনায় আসি। এখানে কেবল কারা কারা জামাতে ইসলামি দলের আলেম কিন্তু তারা প্রকাশ্যে জামাতে ইসলামি দলের লোক বলে পরিচয় দেন না, তাদের নিয়ে কেবল আলোচনা করা হবে।
জামাতে ইসলামি দলকে তিন ভাবে মূল্যায়ন করা যায়।
১. ইসলামি দল হিসেবে।
২. আকিদা বিশ্বাস হিসেবে।
৩. গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে।
এখানে জামাতে ইসলামি দল ও জামাতের আলেম নিয়ে চারজন সাংবাদিক বা বিশ্লেষকের মন্তব্য নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।
১. গোলাম মাওলানা রনি।
২. ইলিয়াস হোসেন।
৩. সাহেদ আলম।
৪. আমিরুল মোমিনুন মানিক।
এই চার জনের কেউ জামাতে ইসলামি দল করেন না। গোলাম মাওলানা রনি ও ইলিয়াস হোসেন জামাতে ইসলামি দলটিকে ও জামাতে ইসলামির কার্ক্রমকে সমর্থন করেন। জামাতে ইসলামি দল বা জামাতের আলেম নিয়ে তাদের মন্তব্য কোন ক্ষেত্রে? ইসলামি দল হিসেবে জামাতে ইসলামি দলকে মূল্যায়ন করেছেন, নাকি রাজনৈতিক দল হিসেবে? আসলে তারা মূলত রাজনৈতিক দল হিসেবে জামাতে ইসলামি দলকে মূল্যায়ন করেন। আর ইসলামি দল হিসেবে তাদের মূল্যায়ন যদি থেকেও থাকে তা, অধিকাংশই ভুল। কারন ইসলামি দল নিয়ে মন্তব্য করার মত যোগ্যতা তাদের নেই। ইসলামি দল নিয়ে মন্তব্য করতে হলে ইসলামি আকিদা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে। এই জ্ঞান কেবল সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সাংবাদিকদের আছে। উপমহাদেশের কোন সাংবাদিকের নেই, যা শুরুতেই বলেছি।
এই চারজনের মধ্যে গোলাম মাওলানা রনি সাহেব বলছেন, "জামাতে ইসলামি দল একটা বিষয় নিয়ে কাজ করে না। ইসলামি ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল এগুলো জামাতে ইসলামি অনেকগুলো বিষয়ের দুই একটি বিষয়। এগুলো ছিনিয়ে নেয়া মানে জামাতে ইসলামি দলকে পঙ্গু করা নয়"। আর তিনি জামাতের আলেম সাইদি সাহেব, মিজানুর রহমান আজহারী সহ অনেক আলেমের ভক্ত। জামাতে ইসলামি দল নিয়ে তার বর্তমান অবস্থান নিয়ে বলা যায়, তিনি বর্তমানে তিনি জামাতের গবেষনা বিভাগে আছেন। যদিও তিনি আগে আঃ লীগ দলের এমপি ছিলেন।
ইলিয়াস হোসেন, জামাতে ইসলামি দলের ভক্ত ও সমর্থক। তিনি জামাতে ইসলামি দলকে একটি ভাল ইসলামি দল মনে করেন। এই বিষয়ে তিনি বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। মানে মোদ্দাকথা হলো, তিনি জামাতে ইসলামি দলকে পজিটিভলি দেখেন, খারাপ হিসেবে দেখেন না। তার আরেকটি বিষয় হচ্ছে, তিনি তারেক মনোয়ার ও মিজানুর রহমান আজহারীকে জামাতে ইসলামি দলের আলেম মনে করেন না বা বিশ্বাস করেন না। তারেক মনোয়ার সম্পর্কে তার প্রশ্ন হলো, তাকে কেউ প্রমান দেক যে, তারেক মনোয়ার জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে আছেন? তাহলে আমি বিম্বাস করবো যে, তারেক মনোয়ার জামাতে ইসলামি দলের লোক। আর মিজানুর রহমান আজহারী তো জামাতে ইসলামি দলের লোকই না। কারন সে তো কখনো বলেননি যে, "আমি জামাতে ইসলামি দল করি"। তার কথা হচ্ছে জামাতে ইসলামি দলের আলেম হতে হলে জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে থাকতে হবে। মওদুদি মতবাদে বিশ্বাসী হলে হবে না।
আর বাকি দুই জনও জামাতে ইসলামির রাজনৈতিক দল হিসেবে মন্তব্য করেন, ইসলামি আকিদা নিয়ে নয়। তারা কেউ জামাতে ইসলামি দল সমর্থন করেন না কিন্তু তারা দু'জনই দেলোয়ার হোসেন সাইদি সাহেবের ভক্ত এবং তারা এটা স্বীকার করছেন যে, সাইদি সাহেব জামাতে ইসলামির রাজনীতির সাথে জড়িত বলে আজ জেলে। তিনি একজন নিরাপরাধ লোক। আর তারা দুজনই বলছেন, মিজানুর রহমান আজহারী জামাতে ইসলামি দলের কোন আলেম নয়। তিনি কেবল একজন জনপ্রিয় আলেম।
সাংবাদিকদের কথায় এখন দুইটি প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে । ১. এই সাংবাদিকরা কি ইসলামি দলের সমালোচনা করতে পারে?
২. মিজানুর রহমান আজহারী ও আরও অন্যান্য আলেম যারা জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে নেই কিন্তু মাহফিল ও সভায় জামাতে ইসলামির ভ্রান্ত আকিদা ও জামাতে ইসলামির মতবাদ প্রচার করেন, তাফসিরুল কুরআনের ব্যানারে। তারা কি জামাতে ইসলামি দলের আলেম নয়?
জবাবঃ ১. ইসলামি দলগুলোর যারা রাজনীতি করে, তাদের সম্পর্কে মন্তব্য করতে হলে আকিদা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা লাগবে। রাজনীতির দৃস্টিকোন থেকে জামাতে ইসলামি, চরমোনাই হচ্ছে ফিরকা বা "মুসলিম জামায়াত" থেকে বের হওয়া দল। মুসলিম জামায়াত থেকে বের হয়ে দল তৈরি করেছে বলে, তারা কাফের নয়, তারা মুসলমান। এটা হচ্ছে আকিদাগত বিশ্লেষণ। আর ইসলামি সাধারন দল হিসেবে বললে জামাতে ইসলামি একটি ইসলামি দল বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে ও মধ্যপ্রাচ্যে তারা মুসলিম ব্রাদারহুড বা ইখোয়ানুল মুসলিমিন নামে পরিচিত। রাজনৈতিক ভাবে বললে আঃ লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতই একটি রাজনৈতিক দল।
এই সকল সাংবাদিকেরা এসকল আকিদাগত বিষয় জানে না। তাই ইসলামি দল কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক, তা নিয়ে এই সাংবাদিকদের মন্তব্য গ্রহনীয় নয়। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে যে কোন ইসলামি দল নিয়ে তাদের মন্তব্য গ্রহনীয়। এটা যে কারো জন্যই প্রযোয্য, কেবল এই সাংবাদিকদের জন্য নয়।
২. মিজানুর রহমান আজহারী ও তারেক মনোয়ার সহ যে সকল আলেমরা মওদুদি মতবাদ প্রচার করছেন তারা জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে না থাকলেও তারা জামাতে ইসলামি দলেরই লোক। তাদের এটা স্বীকার করা বা বলার কোন প্রয়োজন নেই যে, সে জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে আছেন। মিজানুর রহমান আজহারী, তারেক মনোয়ার, মোস্তাফিজুর রহমানী, সৈয়দ কামাল উদ্দিন জাফরি, মোল্লা নাজিম, আল আমিন, কামরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আমির হামজা সহ আরও অনেক আলেম আছে, যারা মওদুদি মতবাদ প্রচার করে যাচ্ছেন কিন্তু তাদের মুখে কখনোই শুনবেন না যে, তারা জামাতে ইসলামি দলের আলেম।
এর কারন হলো, তারা বর্তমানে কৌশলে তাদের দাওয়াতি কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু আঃ লীগ সরকারের আমলে তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের ফাঁসি ও জেল হয়েছে। তাই তারা প্রকাশ্যে নিজেদের জামাতে ইসলামি দলের আলেম বলে দাওয়াত দেন না। যদি তাদের এখন ক্ষমতা থাকতো, তাহলে ঠিকই বলতো যে, "আমি জামাতে ইসলামি দল করি"। আর জামাতের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক সভাতেও তারা উপস্থিত থাকতো। আর সাম্প্রতিক সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে, তারেক মনোয়ার ও মিজানুর রহমান আজহারী বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, " তারা সাইদী সাহেবের কথা মাহফিলে বলেন"। তাই বলছি, জামাতের আলেমরা এখন কৌশলে তাদের দলীয় দাওয়াত দিচ্ছে।
কিভাবে আপনি বুঝবেন যে এরা জামাতের আলেম?
১. জামাতে ইসলামি দলের সকল আলেমের কথার ধরণ প্রায় একই রকম। তারা মওদুদি রহঃ ও সাইয়্যেদ কুতুবের এর তাফসির থেকে বেশিরভাগ সময় কুরআনের তাফসির করেন।
২. তারা বেশিরভাগ সময় কেবল কুরআনের আয়াত থেকে দলীল দেয়।
৩. তারা জিহাদের আলোচনার নামে জঙ্গিবাদের দিকে যুবকদের ধাবিত করে। খারেজীপনার কথা মানুষদের বলে কিন্তু মানুষদের বুঝায় যে, আমরা তো কুরআনের আয়াত দিয়েই ডাকছি। কারন খারেজীরা বেশিরভাগ সময় কুরআন থেকে দলীল দেয় আর জিহাদের আয়াতগুলো বেশি বলে।
৪. তাফসির মাহফিল ছাড়া অন্য কোন ব্যানারে তারা সাধারনত মাহফিল করে না। আজকে যে দাওরায়ে হাদীস পাশ করে বের হযেছে, সেও নামের আগে মুফাস্সির শব্দটা লাগায়।
৫. তারা মুসলিম শাসকে তাগুত বা কাফের বলে। ওই শাসককে হত্যা করা, তারা বৈধ মনে করেন। কাফের সরকারের চেয়ে মুসলিম সরকারের বিরোধিতা তারা বেশি করে।
৬. সাইদী সাহেবের নাম তারা সরাসরি না বলে, মুফাস্সের, কুরআনের পাখি বিভিন্ন নামে অবিহিত করে। আর বলে, আমাদের এক মুফাস্সের জালেমের কারাগারে বন্ধি আছে কিন্তু তাতে কি? হাজার হাজার মুফাস্সের ময়দানে আছে। তারা দ্বীন কায়েমের কাজ করে যাচ্ছে। ঘরে ঘরে সাইদী তৈরি হয়ে যাচ্ছে।
৭. তাদের বেশিভাগই ওয়াজে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলে "বিশ্ব নবী"।
৮. তাদের সকলের টুপি ৬ ইঞ্চি থেকে এক ফিট লম্বা।
৯. তারা সকলেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মুফাস্সেরে করআন। নামের আগে "মুফাস্সের" শব্দ, এটা তাদের জন্মগত ট্যাগ।
১০. তারা পৃথিবীর জুলুম-অত্যাচার নিয়ে বেশি বলেন। জিহাদের কথা বেশি বলে, যদিও তারা কখনোই জিহাদ করতে কোন দেশে আজও যায়নি।
১১. তাদের দলের যে কেউ যেভাবেই মরুক না কেন, যে উদ্দেশ্যেই মরুক না কেন, তারা সবাই শহীদ বলে বিবেচিত। জীবিতরা জিন্দা শহীদ আর মৃতরা তো মৃত শহীদ বানিয়ে দেয়।
১২. জামাতের মাহফিল গুলোতে তারা তাদের অন্যান্য আলেমদের প্রমোট করেন। আর জামাতের একজন আলেমের বিরুদ্ধে যদি কেউ কিছু বলে, তাহলে জামাতের সকল আলেম মিলে, তাকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন বক্তব্যে তার প্রমান পাওয়া যায়।
১৩. কিছু দিন আগে আজহারী হুজুরের বিরুদ্ধে বলায়, মোস্তাফিজুর রহমানী, আবুল কালাম আজাদ, মোল্লা নাজিম, আমির হামজা, আল আমিন সহ অনেক আলেম তার প্রতিবাদ জানায়। এরা সবাই জামাতেরই আলেম।
১৪. জামাতের মাহফিলগুলো তাদের সমর্থক বা দলীয় লোকেরাই আয়োজন করেন। অর্থাৎ কমিটিও জামাতের লোক থাকে আর আলোচকরাও জামাতের লোক থাকে, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই সকল বিষয়গুলো যাদের মাঝে থাকবে, তারা জামাতে ইসলামি দলের আলেম, যদিও সে জামাতে ইসলামির কোন পদে নাই থাকুক। তাদেরকে বলতে হবে না যে "আমি জামাতে ইসলামি দলের লোক"। এটা বুঝে নিতে হবে। আর এটা বুঝা সহজ হতো ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত, যখন জামাতে ইসলামি দল ক্ষমতায় ছিল। এখন যদি জামাতে ইসলামি দল ক্ষমতায় থাকতো, তাহলে দেখতেন তারা সবাই জামাতের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমাবেশেও থাকছে, যেমনটা গোলাম আজম, সাইদী সাহেব আলেম হয়েও রাজনৈতিক সমাবেশে ছিলো। এখন তারা ক্ষমতায় থাকলে মাহফিলে শুধু কিসই করতো না, আরও অনেক কিছু করতো (নোয়াখালীতে তারেক মনোয়ার ও আজহারী হুজুরের কিস)।
জামাতে ইসলামি একটি গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। যদিও তারা ইসলাম শব্দটি তাদের দলের সাথে লাগিয়েছে, কৌশল হিসেবে। তারা মুলত রাজনৈতিক দলের মতই, তাদের দলের কাজ করে থাকেন। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলে এক শ্রেনী থাকে কেন্দ্রীয় নেতা, আরেক শ্রেনী থাকে মাঠ পর্যায়ের নেতা, আরেক শ্রেনী থাকে সদস্য, যারা ছোট থেকে বড় বিভিন্ন পদে থাকেন। আরেক শ্রেনী থাকে ক্যাডার বাহিনী, যাদের কাজ হলো মানুষের মাঝে ভিতি প্রদর্শন করা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করা। এরা সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং, হরতাল-অবরোধের কাজ করে। পাশাপাশি তারা লোক জোগারের কাজ করে। আরেক শ্রেনী থাকে আইনজীবী, তারা দলে লোকদের মামলা ও জামিনের কাজ করে। আরেক শ্রেনী থাকে সুশীল সমাজ। তারা টকশো ও সভায় নীতি কথা বলেন। আরেক শ্রেনী থাকে আলেম সমাজ। জামাতে ইসলামির আলেম হলো দুই ধরনের। এক শ্রেনী আলেম হচ্ছেন দলের নিবন্ধিত আলেম, তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে দেখা যায়। যেমন দেলোয়ার হোসেন সাইদী হাফিঃ আর আরেক শ্রেনী হচ্ছে কেবল জামাতে ইসলামি দলের সমর্থিত আলেম। তারা নিবন্ধিত আলেম নয় কিন্তু তারা জামাতে ইসলামি দলের হয়েই কাজ করে থাকে। তারা নিজেদের এই বলে পরিচয় দেয় যে, "আমি কোন দল করি না"। আসলে এটা তাদের মিথ্যা কথা। উদাহরণ হিসেবে চরমোনাই পীরের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্য তুলে ধরছি। মিজানুর রহমান আজহারীর পর্দার ফতুয়া ও নরসিংদীতে স্টেজে উঠিয়ে অমুসলিম নারীকে কালেমা পড়ানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে বলেন, "আমি এতদিন ভাবছিলাম আঃ লীগের গুতা খাইয়া জামাতে ইসলামি দল কিছুটা সংশোধিত হইছে। আর তারা মাজলুম, কিছু বললে ভাববে যে, দূর্বল দেখে আমাদের উপর চড়াও হইছি, তাই এতদিন চুপ ছিলাম। কিন্তু আমরা যতই চুপ থাকি না কেন? জামাতে ইসলামি দলের দালালরা কিন্তু ঠিকই তাদের দলের লালালি করে যাচ্ছে। তারা পর্দাকে জবাই করেছে, স্টেজে নারী উঠিয়েছে। এটা কি ফাইজলামি?"
চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য মিজানুর রহমান আজহারীকে উদ্দেশ্য করে বলা। যদি আজহারী হুজুর জামাতে ইসলামি দলের লোক নাই হয়, তাহলে চরমোনাই পীর কেন আজহারী হুজুরকে জামাতে ইসলামি দলের দালাল বললো? এতেই বুঝা যাচ্ছে, মিজানুর রহমান আজহারী জামাতে ইসলামি দলেরই লোক কিন্তু নিবন্ধিত আলেম নয়। সে জামাতে ইসলামি দলেরই প্রচার প্রসার করছে চুপে চুপে, দলের নাম লুকিয়ে। আশা করছি এই একটি উদাহরণই যথেষ্ট।
সারমর্ম এই যে, জামাতে ইসলামি একটি গনতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। ইসলামি দল হিসেবে তাদের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও তারা আঃ লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির মতই একটি রাজনৈতিক দল। আর জামাতে ইসলামি দলের মতবাদে যারা বিশ্বাসী ও মওদুদি মতবাদ যারা প্রচার করেন, তারা জামাতে ইসলামি দলেরই লোক। তাদের জামাতে ইসলামি দলের কোন পদে থাকার প্রয়োজন নেই। তারেক মনোয়ার যেমন জামাতে ইসলামি দলের লোক, তেমনি মিজানুর রহমান আজহারীও জামাতে ইসলামি দলের লোক। যদিও তারা জামাতে ইসলামি দলের কোন পদের লোক নয়।