09/09/2022
ধর্ম কী?
👉 ধর্ম হলো সেই সব বিষয়াবলী ও কর্ম যা জীবজগতের সকলের জন্য কল্যানকর, যা ত্রিকাল বাধিত তথা অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এই তিন কালেই একইভাবে সকলের জন্য কল্যানকর ও অত্যাবশ্যকীয়।
অর্থাৎ ধর্ম হলো সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, মনুষ্যত্ববোধ তথা মানবকল্যানকর সকল কর্ম যা জীবজগতের কারো কোন ক্ষতির কারন নয় বরই সকলের মঙ্গল বয়ে আনে, যা মানুষ হৃদয়ে ধারন করে ও পালনে সচেষ্ট থাকে।
এভাবে শুধু মানুষই নয়, জগতের প্রত্যেক জীবের প্রত্যেক বস্তুর বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকে যা একান্তই তার নিজস্ব "ধর্ম"। তেমনি মানুষের ধর্ম হলো মনুষ্যত্ব তথা মানবতা।
"যতো অভ্যুদয় নিঃশ্রেয়স্ সিদ্ধিঃ স ধর্ম"।
(বৈশেষিক দর্শণ ১/১/২)
- যা দ্বারা জীবের তথা জগতের যথার্থ উন্নতি এবং পরম কল্যান লাভ হয়, তা-ই ধর্ম।
"ধৃতি, ক্ষমা, দম, অস্তেয়(অন্যের ক্ষতি না করা), শৌচ, ইন্দ্রিয় নিগ্রহ, ধী/বুদ্ধি, বিদ্যা/জ্ঞান, সত্য, অক্রোধ এই দশটি হলো ধর্মের লক্ষণ।" (মনুসংহিতা ৬/৯২)
তাহলে যে আজকাল আমরা ধর্ম বলতে বুঝি ও দেখি, কোন ব্যক্তিত্বধারী(সাকার) স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বিগ্রহ/প্রতিমার পূজা-পার্বন, আচারানুষ্ঠান কর্ম, ব্রত উপবাস, নাম কির্তন, এগুলোকি আদৌও ধর্ম নয়?
উপরে দেওয়া ধর্মের সংজ্ঞা হতেই আমরা নিশ্চিত হতে পারি এগুলো আদৌও কোন ধর্ম কি না।
👉 ধর্মার্থ নির্ণয়ে শ্রুতি বাক্যই সর্বাগ্রে মান্য। তবে যেসব বিষয়ে শ্রুতি সিদ্ধান্ত নেই বা শ্রুতি বাক্য অস্পষ্ট বা বোধগম্য নয় অথবা আপাত স্পষ্ট হলেও সঠিক ভাব/অর্থ কী হবে, সংষ্কৃত ভাষার যথাযথ জ্ঞান না থাকার কারনে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না, এরকম পরিস্থিতি দেখা দিলে তখন আমাদের করনীয় কী? কীভাবে আমরা তখন ধর্ম আর অধর্ম নির্ণয় করব?
তখন ধর্মাধর্ম নির্ণয়ে আমাদের মনুষ্যত্বের "বিবেকবাণী" ই দিশা দেবে। সঠিক দিক নির্দেশনা দেবে।
অধর্ম(অসত্য, অন্যায়, অনৈতিকতা, অমানবিকতা) পরিহার করে সর্বদাই ধর্মকে(সত্য, ন্যায়, নৈতিক, মনুষ্যত্ব তথা মানবকল্যানকর কর্মকে) গ্রহণ করতে ও কার্যে প্রয়োগ ঘটাতে সবসময় আমাদের প্রেরনা দেয় আমাদেরই সদাচার ও বিবেকবাণী।
বিবেকবান মানুষেরা কখনোই ধর্ম থেকে বিচ্যুত হন না। তাদের বিবেক ধর্মের নিশান হিসেবে কাজ করে। তাই তাদের ধর্ম বিষয়ে কখনোই সংশয় দেখা দেয় না, ধর্ম ত্যাগ বা নাস্তিক হওয়ার তো কোন প্রশ্নই আসে না। তারা ধর্ম গ্রন্থ থেকে সেই অগ্রহনযোগ্য/বিতর্কিত বিষয়গুলো এড়িয়ে চলে(কারন মনুষ্য রচিত স্মৃতি শাস্ত্রগুলো ভুলের উর্ধ্বে নয়), সেখান থেকে পজিটিভ দিকগুলো গ্রহন, প্রচার ও নিজে পালন করে।
জীবনে ধর্মকে অর্থাৎ সত্য, ন্যায়, কল্যান, নৈতিকতা ও মনুষ্যত্বকে প্রতিষ্ঠা করতে বেদ(শ্রুতি), বেদানুকূল শাস্ত্র(স্মৃতি), সদাচার ও বিবেকবানী এই ৪টি অপরিহার্য্য।
নিবেদনে,
আর্য সমাজ
আর্য সমাজ নারায়ণগঞ্জ
আর্য প্রতিনিধি সভা বাংলাদেশ।