08/08/2025
❤️❤️শ্রী বলরাম পুর্নিমা❤️❤️
আগামীকাল উপবাস, স্বইচ্ছা ভেদে অর্ধ দিবস অথবা পূর্ণ দিবস। স্ব স্ব পরম্পরা অনুযায়ী যে যেরকম পালন করতে ইচ্ছুক।
🚩আগামী ৯ই আগস্ট' রোজ: শনিবার
শ্রী বলরাম পুর্নিমা।
পরমেশ্বর ভগবান বলরামের শুভ আবির্ভাব তিথি। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অষ্টম অবতার বলরামের আবির্ভাব তিথি বা শুভ বলরাম জয়ন্তী।
কৃপা করে সবাই অর্ধবেলা উপবাস পালনের মাধ্যমে আদি গুরু বলরামের কৃপায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভের আশির্বাদ লাভ করে মনুষ্য জীবন সার্থক করুন।
🚩ভগবান কৃষ্ণের স্বয়ং প্রকাশ বিগ্রহ হলেন বলরাম।
তিনি সখা, ভাই, বস্ত্র, গৃহ, ব্যজন, শয্যা, আসন, ছত্র ও ভুষন হয়ে কৃষ্ণকে সেবা করেন।
চৈতন্যচন্দ্রের প্রিয় বিগ্রহ বলাই।
তান স্থানে অপরাধে মরে সর্ব ঠাই।।
শ্রীবলরাম প্রণাম মন্ত্রঃ
নমস্তে তু হলগ্রাম! নমস্তে মুষলায়ুধ!
নমস্তে রেবতীকান্ত! নমস্তে ভক্ত-বৎসল!
নমস্তে বলিনাং শ্রেষ্ঠ! নমস্তে ধরণীধর!
প্রলম্বারে! নমস্তে তু ত্রাহি মাং কৃষ্ণ-পূর্বজ॥
🚩ভগবান বলরামের পরিচয়:
ভগবান বলরাম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আবির্ভাবের শুধুমাত্র আটদিন পূর্বে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চান্দ্রমাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এবং ঐ মাসের আটদিন পূর্বে চন্দ্রগ্রহণের সময় বলরাম আবির্ভূত হয়েছিলেন। বলরামের আবির্ভাব অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ, কেননা বলরাম আবির্ভূত হন কৃষ্ণ অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে। বলরামের কাজই হচ্ছে কৃষ্ণকে প্রসন্নতা প্রদান করা। যা কিছু কৃষ্ণের সেবার জন্য ব্যবহার করা হয়, তা প্রকৃতপক্ষে বলরামের প্রকাশ। যখন কৃষ্ণের গর্ভোদক সমুদ্রে শয়ন করার প্রয়োজনীয়তা হয়, তখন বলরাম সর্পরূপে তাঁর শয্যায় পরিণত হন,অনন্তশায়ী। এইভাবে বলরাম কৃষ্ণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন।কৃষ্ণ আবির্ভাবের পূর্বে বলরাম দেবকীর গর্ভে আবির্ভূত হন এবং সেখানে তিনি সাতমাস অবস্থান করেন। বলরাম কৃষ্ণ অবতরণের জন্য সবকিছুর ব্যবস্থা করেন, তারপর তাকে রোহিণীর গর্ভে স্থানান্তর করা হয়। এজন্য বলরাম সঙ্কর্ষণ নামেও পরিচিত। যোগমায়ার ব্যবস্থাপনায় রোহিণীর গর্ভে আকর্ষিত হন। বলরাম কৃষ্ণের প্রথম বিস্তার। বৃন্দাবনে কৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর প্রথম বিস্তার হচ্ছেন বলরাম। তারপর তিনি দ্বারকায় বাসুদেব,সঙ্কর্ষণ,প্রদ্যুম্ন এবং অনিরুদ্ধ রূপে বিস্তারিত করেছেন। এভাবে আমরা দেখতে পাই কৃষ্ণ লীলাতে বলরামের ভূমিকা ছিল। বৃন্দাবনে তিনি কৃষ্ণের বড় ভাই,তিনি কৃষ্ণের দেখাশোনা করতেন। বলরামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা হচ্ছে,তিনি জীবদের কৃষ্ণের দিকে আকর্ষিত করেন। এই জন্য বলরাম হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ প্রচারক। বলরাম হচ্ছেন আদি গুরু,তিনি সবাইকে কৃষ্ণের দিকে আকর্ষণ করান। যেমন একজন কৃষক জমি চাষ করার পর তাঁর জমির সকল ফসল সংগ্রহ করেন, ঠিক তেমন বলরাম সমস্ত জীবের ফসল সংগ্রহ করার পর তা কৃষ্ণের কাছে পৌঁছে দেন। এজন্য বলরাম হচ্ছেন আদি গুরু এবং সকল গুরুরা তাঁর বিস্তার বলে বিবেচিত হন। সে জন্য বলরাম জয়ন্তী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একমাত্র বলরামের কৃপার ফলে আমরা কৃষ্ণের কাছে ফিরে যেতে পারব। এই জন্য চৈতন্য মহাপ্রভুর লীলাতে নিত্যানন্দ প্রভুর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বলা হয় যে নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা ছাড়া কেউ কৃষ্ণকে লাভ করতে পারবে না, কেউ চৈতন্য মহাপ্রভুর কৃপা লাভ করতে পারবে না,
"হেন নিতাই বিনে ভাই
"রাধা-কৃষ্ণ পাইতে নাই। "
নিতাই, নিত্যানন্দ প্রভুই প্রকৃতপক্ষে হচ্ছেন স্বয়ং বলরাম।
সঙ্কর্ষণ কারণতোয়শায়ী গর্ভোদশায়ী চ পয়োব্ধিশায়ী (চৈ: চ আদি ১,৭)।
🌹🌹বলরাম জয়ন্তী🌹🌹
বলরাম ছিলেন বিষ্ণুর শেষনাগের অবতার। তার প্রধান অস্ত্র ছিল হল্ বা লাঙল। তাই তাকে হলধরও বলা হয়।
বলরাম পূর্বজন্মে ছিলেন রামচন্দ্রের ভাই লক্ষণ। তিনি দাদার কাছে আবদার করেছিলেন পরবর্তী কোনো জন্মে যেন তিনি তার বড়ো ভাই রূপে জন্মগ্রহণ করতে পারেন। সে অনুরোধ রক্ষা করার জন্যই শ্রী রামচন্দ্র কৃষ্ণ রূপে এবং লক্ষণ বলরাম রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
অত্যাচারী কংসের কারাগারে বন্দী বসুদেব ও দেবকীর সপ্তম গর্ভে বলরাম আসেন, কিন্তু কংসের হাত থেকে সেই শিশুকে বাঁচানোর জন্য শ্রীহরির আদেশে দেবী যোগমায়া দেবকীর সপ্তম গর্ভের ভ্রূণ সেখান থেকে নন্দগৃহে রোহিণীর গর্ভে স্থাপিত করেন । ফলে দেবকীর সপ্তম গর্ভ মৃত সন্তান জন্ম দেয় এবং রোহিণীর গর্ভে বলরামের জন্ম হয় । বল মানে শক্তি । শক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মিলন হয়েছে বলে তার নাম বলরাম রাখা হয় ।
বলরাম হলেন হিন্দু দেবতা কৃষ্ণের জ্যেষ্ঠভ্রাতা। তিনি বলদেব, বলভদ্র ও হলায়ুধ নামেও পরিচিত। বৈষ্ণবরা বলরামকে বিষ্ণুর অবতার জ্ঞানে পূজা করেন। ভাগবত পুরাণের তালিকাতেও তার নাম আছে। বৈষ্ণব ও অন্যান্য হিন্দুরা সবাই তাকে বিষ্ণুর শয্যারূপী শেষনাগের একটি রূপ বলে মনে করেন। দ্বাপর যুগের শেষে বলরামের জন্ম হয় রোহিণীর গর্ভে।
সে জন্য নিত্যানন্দ প্রভু বলরামের অবতার এবং চৈতন্য লীলায় তিনি সমস্ত জীবদের কৃষ্ণের দিকে আকৃষ্ট করেছেন। এইভাবে নিত্যানন্দ প্রভুর কৃপা ছাড়া আমরা চৈতন্য মহাপ্রভুর সান্নিধ্য লাভ করতে পারব না,বলরামের কৃপা ছাড়া আমরা কৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করতে পারব না। এজন্য বলরাম কৃষ্ণের আগে আবির্ভূত হয়েছিলেন এবং আমরা যদি কৃষ্ণের সান্নিধ্য লাভ করতে চাই, তাহলে আমাদের বলরামের কাছে যেতে হবে। আমাদের তাঁর কৃপার জন্য ভিক্ষা চাইতে হবে, আমাদের বলরামের প্রতিনিধির কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে, যে গুরু সারা পৃথিবী জুড়ে কৃষ্ণভাবনামৃত বিতরণ করছেন। এটার জন্যই বলরাম জয়ন্তী আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা গর্দভের মতোই, বুদ্ধিমত্তা থেকে অনেক দূরে,গাধার মতো মূর্খ। বলরাম ধেনুকাসুর নাম গাধার সংহার কর্তা। তিনি আমাদের গাধা তুল্য ব্যক্তিত্বকে নাশ করেন।তিনি আমাদের কৃষ্ণের সেবাতে যুক্ত নয় এমন অবাঞ্ছিত বস্তু সংগ্রহ করার মানসিকতার নাশ করেন।আমরা হলাম জড় প্রকৃতির বোঝা বহন করা পশু। ধেনুকাসুর তাল ফল সংগ্রহ করত,সে কাউকে এটা নিতে দিত না। সে এমনকি কৃষ্ণ ও তাঁর বন্ধুদের তাল ফল দেয় নি। তারপর বলরাম আসলেন এবং ঐ অসুরকে বধ করলেন। একইভাবে আমদের জীবনেও বলরাম আসুন এবং এই ধেনুকাসুরের বধ করুন, যে কৃষ্ণ সেবায় যুক্ত নয় এমন অবাঞ্ছিত বস্তু সংগ্রহের চেষ্টা করছে। বলরাম আসুন এবং ঐ ধেনুকাসুরকে বধ করুন এবং আমাদের কৃষ্ণের প্রেমময়ী সেবায় যুক্ত করুন। বলরাম জয়ন্তীর এই দিনে ভগবান বলরামের কাছে এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা।সংগৃহীত।
বৈষ্ণব চরনে মোর এই মনস্কাম।
ভজি যেন জন্মে জন্মে প্রভু বলরাম।।
---- চৈতন্য ভাগবত