10/08/2026
গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফলাফলে বড় ধস, পাসের হার মাত্র ৩১.১৭%
বার্তাওয়ালা ডেস্কঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি দেখা দিয়েছে। এ বছর বিদ্যালয়টির মাত্র ৩১.১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। ৭৭ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৪ জন। ফেল করেছে ৫৩ জন।
সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিদ্যালয়টির ফলাফলে ব্যাপক পতন হয়েছে।
★পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ৮০ শতাংশ পাসের হার থেকে এক বছরের ব্যবধানে তা নেমে এসেছে ৩১.১৭ শতাংশে। অর্থাৎ পাসের হার কমেছে প্রায় ৪৮.৮৩ শতাংশীয় পয়েন্ট।
শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালে গত বছরের তুলনায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ৩৩ জন। কিন্তু শিক্ষার্থী কমার পাশাপাশি পাসের সংখ্যাও ৮৮ থেকে নেমে মাত্র ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
মানবিক বিভাগে সবচেয়ে খারাপ চিত্র
বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ফলাফলে মানবিক বিভাগে ৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৮ জন, আর ফেল করেছে ৪৬ জন।
অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন পাস এবং ৯ জন ফেল করেছে।
অর্থাৎ দুই বিভাগ মিলিয়ে ৭৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৩ জনই অকৃতকার্য হয়েছে।
★জিপিএ-৫ শূন্য
এবারের ফলাফলে বিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
২৪ জন উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে—
জিপিএ ৪.০০ বা তার বেশি: ৬ জন
জিপিএ ৩.০০ থেকে ৩.৯৯: ১০ জন
জিপিএ ২.০০ থেকে ২.৯৯: ৮ জন
জিপিএ ৫.০০: ০ জন
ফলে শুধু পাসের হার নয়, ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রেও বিদ্যালয়টির অবস্থান বেশ দুর্বল হয়েছে।
উপজেলার গড়ের তুলনায়ও অনেক পিছিয়ে
নবীগঞ্জ উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি ফলাফলও পাওয়া গেছে। উপজেলায় ২০টি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২,৭৭১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১,৭৯৪ জন পাস করেছে।
উপজেলার সামগ্রিক পাসের হার ৬৪.৭৪ শতাংশ।
সেই হিসেবে গোপলার বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৩১.১৭ শতাংশ, যা নবীগঞ্জ উপজেলার গড় পাসের হারের চেয়ে প্রায় ৩৩.৫৭ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।
★প্রশ্ন উঠছে শিক্ষার মান নিয়ে
একসময় বিদ্যালয়টির এসএসসি ফলাফলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের কাছাকাছি পাসের হার দেখা গেলেও এবার তা ৩১ শতাংশে নেমে আসা স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষ করে ২০২৫ সালে যেখানে ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল, সেখানে ২০২৬ সালে পাস করেছে মাত্র ৩১.১৭ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এমন বড় পতনের কারণ কী, তা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক বছরে পাসের হার ৮০ শতাংশ থেকে ৩১.১৭ শতাংশে নেমে যাওয়া নিঃসন্দেহে গুরুতর সতর্কবার্তা।
এখন এই ফলাফলের কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।