29/07/2026
আজ ইসকনের অন্যতম আচার্য শ্রীমৎ ভক্তি চারু স্বামী গুরুমহারাজের ৬ষ্ঠ তিরোভাব তিথি
শ্রীশ্রীমৎ ভক্তিচারু স্বামী মহারাজের সংক্ষিপ্ত জীবনী
শ্রীল ভক্তিচারু স্বামী মহারাজ
(১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪৫ – ৪ জুলাই ২০২০) ছিলেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ISKCON) একজন অন্যতম বরিষ্ঠ আধ্যাত্মিক নেতা, জিবিসি (GBC) সদস্য এবং ইসকনের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের একজন অত্যন্ত প্রিয় দীক্ষিত ও সন্ন্যাস শিষ্য।
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
জন্মস্থান: তিনি ১৯৪৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির (বর্তমান বাংলাদেশ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কুঠি নামক এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব: তাঁর শৈশব ও কৈশোরের বেশিরভাগ সময় কেটেছিল কলকাতা শহরে।
উচ্চশিক্ষা: ১৯৭০ সালে তিনি রসায়ন শাস্ত্র (Chemistry) নিয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করার জন্য জার্মানি যান।
আধ্যাত্মিক অন্বেষণ ও শ্রীল প্রভুপাদের সাক্ষাৎ
অনুসন্ধান: পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহী হয়ে তিনি আধ্যাত্মিক গুরুর খোঁজে ১৯৭৫ সালে ভারতে ফিরে আসেন।
প্রভুপাদের গ্রন্থ: হিমালয়ে দীর্ঘ এক বছর খোঁজার পর, তিনি শ্রীল প্রভুপাদের লেখা ‘ভক্তিরসামৃত সিন্ধু’ (The Nectar of Devotion) গ্রন্থটি পাঠ করেন এবং তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন।
প্রথম সাক্ষাৎ: ১৯৭৭ সালে মায়াপুরে তিনি শ্রীল প্রভুপাদের সাথে প্রথম দেখা করেন এবং অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ও অনুবাদক হিসেবে সেবা শুরু করেন।
অবদান ও প্রচার কাজ
অনুবাদ কর্ম: শ্রীল প্রভুপাদের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি তাঁর সমস্ত আধ্যাত্মিক গ্রন্থাবলি ইংরেজী থেকে বাংলা ভাষায় সফলভাবে অনুবাদ করেন।
‘অভয় চরণ’ সিরিজ: শ্রীল প্রভুপাদের গৌরবময় জীবনকাহিনী নিয়ে তিনি ‘অভয় চরণ’ নামক একটি ১০০ পর্বের টেলিভিশন ধারাবাহিক তৈরি করেন, যা ভারতের জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল।
মন্দির ও ফাউন্ডেশন স্থাপন:
তাঁর নেতৃত্বে ভারতের উজ্জয়নে মাত্র ১০ মাসে এক বিশাল মার্বেল পাথরের মন্দির, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১২০ একর জায়গাজুড়ে ‘বেদ ফাউন্ডেশন’ ও কাউ স্যাঙ্কচুয়ারি গড়ে ওঠে।
সামাজিক সেবা:
তিনি ভারতে প্রতিদিন প্রায় ১২ লক্ষ স্কুল শিশুকে দুপুরের খাবার দেওয়া প্রকল্প ‘আন্নামৃতা ফাউন্ডেশন’ (Annamrita Foundation)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিরোভাব
মহাপ্রয়াণ: ২০২০ সালের ৪ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ডেল্যান্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এই ধাম ত্যাগ করে নিত্যলীলায় প্রবিষ্ট হন।