সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ -Satiachara Saha Para Yuva Songha

  • Home
  • Bangladesh
  • Mirzapur
  • সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ -Satiachara Saha Para Yuva Songha

সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ -Satiachara Saha Para Yuva Songha সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ এর একমাত্র পেজ

18/10/2025

আমরা হিন্দুরা প্রতিমা পূজা কেন করি?
আপনাকে কখনো কোন অন্য ধর্মের ছেলে/মেয়ে এই প্রশ্ন করছে, এবং বলেছে নিজেরা প্রতিমা বানাও আবার নিজেরাই জলে ভাষাও। তাই তাদের কাছে আজ সঠিক জবাব টা দেওয়া আমাদের কর্তব্য :-

গল্প দিয়ে নয়,, যুক্তি দিয়ে জবাব দিতে হবে..যেন দ্বিতীয় বার এই ধরনে প্রশ্ন করতে না পারে।

আর এই জন্য আমাদের অনুসরন করতে হবে স্বামী বিবেকানন্দকে।

বহু কাল আগে এক রাজা স্বামী বিবেকানন্দ এর কাছে জিজ্ঞেস করলেন আপনারা কেন মূর্তি পূজা করেন ? আমি বুঝি না পুতুলের মধ্যে আপনারা কি এমন দেখেন যে পূজা করতে হবে?

স্বামী বিবেকানন্দ তখন বুঝতে পারেন যে রাজা তাকে অপমান করার চেষ্টা করছে। তিনি বুঝলেন তর্কে গেলে চলবে না। তাই তিনি যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করলেন ।

স্বামী বিবেকানন্দ তখন রাজার দেওয়াল থেকে তার স্বর্গীয় পিতার ছবি নিয়ে এসে রাজাকে বললেন এই ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে। তখন রাজা রেগে গিয়ে বললেন এটা আমার বাবার ছবি। আমি কিভাবে এই ছবির উপর থুথু নিক্ষেপ করবো?

তখন স্বামীজী বললেন কেন পারবেন না,এটা তো নিছকই একটা কাগজের তৈরি ছবি।

স্বামী বিবেকানন্দ তখন বললেন আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি। কারণ আপনি বিশ্বাস করেন এই ছবির মধ্যে আপনার পিতা অবস্থান করেন। আপনি তাকে ভালোবাসেন আর সম্মান প্রদর্শন করেন তাই তার ছবিতে থুথু নিক্ষেপ করতে পারেন নি।

ঠিক তেমনি আমরা হিন্দুরা বিশ্বাস করি ঈশ্বর প্রতিমা বা ছবির মধ্যে অবস্থান করে এবং আমাদের সকল দুঃখ গ্লানি মুছে দেন। ঈশ্বর নিরাকার,আমরা মূর্তির মাধ্যমে সাকার রূপের উপাসনা করি। এই মূর্তিতে আমরা ঈশ্বরকে উপলব্ধি করতে পারি যেমন ভাবে আপনি আপনার স্বর্গীয় পিতার ছবিতে আপনার পিতাকে উপলব্ধি করেন ।

রাজা তার ভুল বুঝতে পারে এবং হাত জোড় করে স্বামী বিবেকানন্দ এর কাছে তার ভুল শিকার করে।

যঃ যঃ যাম্ যা্ তনুম্ ভক্তাঃ শ্রদ্ধয়া অর্চিতুম্ ইচ্ছতি ।

তস্য অচলম্ শ্রদ্ধাম্ তাম্ এব বিদধামি অহম্।২১ ( শ্রীগীতা)

অর্থ-পরমাত্মারুপে আমি সকলের হৃদয় বিরাজ করি। যখন কেউ দেবতাদের পূজা করতে ইচ্ছা করে আমি তাদের শ্রদ্ধানুসারে সেই সেই দেবতাদের প্রতি ভক্তি বিধান করি ।

সঃ তয়া শ্রদ্ধয়া যুক্ত তস্য আরাধনম্ ঈহতে ।

লভতে চ ততঃ কামান ময়া এব বিহিতান হিতান ।২২( শ্রীগীতা)

অর্থ-সেই ভক্ত শ্রদ্ধাযুক্ত হয়ে সেই দেবতার আরাধনা করেন এবং সেই দেবতার কাছ থেকে আমারই দ্বারা বিহিত কাম্য বস্তুলাভ করে।

মহালয়া চলে গেলো। সবার ঢাকেশ্বরী, রমনার নিষ্প্রাণ আবহে তোলা কিছু ছবিই দেখলাম। কিন্তু কোন ছোট শিশু যদি জানতে চায়, মহালয়া ক...
09/10/2025

মহালয়া চলে গেলো। সবার ঢাকেশ্বরী, রমনার নিষ্প্রাণ আবহে তোলা কিছু ছবিই দেখলাম। কিন্তু কোন ছোট শিশু যদি জানতে চায়, মহালয়া কী? - তাহলে বুঝিয়ে বলতে পারব তো? আসুন একটু চোখ বুলিয়ে নিই। জ্ঞানই তো ব্রহ্ম।

"আমার তর্পণে সেই পরম ব্রহ্ম থেকে পদতলে যে ঘাস সেটিও তৃপ্ত হোক!"

আসলে মহালয়ার তাৎপর্যের দিকে তাকালে বোঝা যায় সনাতন ধর্ম কতটা বৈশ্বিক ও মানবিক। এই মহালয়া তিথিতে আমরা মূলত আমাদের ছয় উর্ধ্বতন পিতৃপুরুষের স্মৃতি, কাজ, করে যাওয়া কর্তব্যের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা জানাই।

এই ছয় পিতৃপুরুষ হচ্ছেন বাবা, ঠাকুর্দা, ঠাকুর্দার বাবা ; মায়ের বাবা, মায়ের বাবার বাবা, মায়ের বাবার ঠাকুর্দা।

তবে এখানের মন্ত্রে "পিতরঃ" শব্দের অর্থে মা, ঠাকুর্মা, দিদাও চলে আসে। কারণ সংস্কৃতে "পুত্রাঃ" দিয়ে কিন্তু শুধু ছেলে না, ছেলে-মেয়ে উভয়কে বোঝায়। পুত্রা মানে বাংলাতে যাই হোক, সংস্কৃতে অর্থ হচ্ছে "সন্তান"। তেমনি এই "পিতরঃ" শব্দটি। অর্থাৎ, পিতৃপক্ষ মানে কোন পুরুষতান্ত্রিকতা না। কারণ মহালয়ার পরের পনেরটি তিথি তো "যা দেবী সর্বভূতেষু "মাতৃ"রূপেন সংস্থিতা...."র জন্যই রাখা 🌸

এই পূর্বজদের কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য প্রতীক হচ্ছে তিল, যব, চাল প্রদান, পণ্ডিত ও দরিদ্র ব্যক্তিদের সহায়তা করা ইত্যাদি। এই সমস্ত ব্যাপারকেই "তর্পণ" বলে।

আর আমাদের যাদের বাবা মা জীবিত আছেন, বুঝতেই পারছেন, আপনাদের তর্পন করার দরকার নেই। করলেও অধিকার নিয়ে পিতা মাতার নাম বাদ দিয়ে কারো জন্য করা যায়। "সাথী" সিনেমায় যেমন জিৎএর ছোট ভাইকে তার বদলে মাতৃশ্রাদ্ধের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, মনে আছে?

এই যে তর্পণটা করা হয়, তা শুধু নিজের পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যেই করেই কেউ ছাড় পাবে না কিন্তু। আমাদের দেবতর্পণ, ঋষিতর্পণও করতে হয়।

দেবতর্পণের মন্ত্রে তো উদ্ভিদকুল, সরীসৃপ, পাখি, পশু সবার অবদানের জন্য আমাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়।

আবার রামতর্পণ ও লক্ষ্মণতর্পণে এসে মানুষকে ত্রিভুবনের সমস্ত প্রয়াতকে জল তর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। সে যে ধর্ম, যে জাতি, যে মতবাদেরই হোক না কেন। এমনকি তাঁদের উদ্দেশেও তর্পণ করা হয়, জন্ম-জন্মান্তরে যাঁদের আত্মীয়-বন্ধু কেউ কোথাও নেই। এখানেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় ফিলিস্তিনের শত নিহত প্রাণ, ইউক্রেনের লোক, আফ্রিকার দুর্ভিক্ষপীড়িত জন।

দেখুন, কী সুন্দর এই মন্ত্রটি!--

ওঁ নমঃ যে বান্ধবা অবান্ধবা বা, যে অন্য জন্মনি বান্ধবাঃ ।
তে তৃপ্তিং অখিলাং যান্ত, যে চ অস্মৎ তোয়-কাঙ্খিণঃ ।।

অনুবাদে -- যাঁরা আমাদের বন্ধু ছিলেন এবং যাঁরা বন্ধু নন, যাঁরা অন্য কোন জন্মে আমাদের বন্ধু ছিলেন (বা ছিলেন না), যাঁহারা আমাদের কাছ থেকে জলের (শ্রদ্ধার) প্রত্যাশা করেন , তাঁরা সম্পূর্ণরূপে তৃপ্তিলাভ করুন।

মানে অনেক লোকের হয়না, নিঃসন্তান মারা যায়? বা পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মারা যায়..পরিবার জানেওনা বেঁচে আছে না মরে গেছে, বা এমন কোন সংস্কৃতিতে তার জন্ম যারা এসব করে না, কিন্তু সেই পরমাত্মার অংশ হিসেবে তারও তো এতে সমান ভাগ, তাই আমরা তাকেও বাদ দিচ্ছি না।

তাই তো মন্ত্রে বলে "আব্রহ্মস্তম্ভ পর্যন্তং জগত্‍ তৃপ্যতু..."। মানে আমার তর্পনে সবকিছু যিনি ধারণ করে আছেন সে ব্রহ্ম তৃপ্ত যেন হন, আবার নিজের স্বরূপ সম্পর্কে জানেনা, জগতের এমন সব সত্তা, এমনকি সামান্য স্তম্ভ.. অর্থাৎ তৃণ- ঘাস (এইযে সংস্কৃত আবার খেলে দিলো 😅 ), যাকে মাড়িয়ে আমি হয়তো একরকম জীবননাশই করি, তার সত্তাও তৃপ্তি পাক 🌸

তো এই সমস্ত কিছুর বিরাট এই সমাবেশটা, আলয়টাই মহালয়া। যার পরেই দেবীপক্ষের সূচনা। মন্দিরে মন্দিরে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এখন ব্যাপারটার সাথে মৃতরা জড়িয়ে তো, মৃত্যু মানেই তো মনে শোক জন্ম নেয়, তাই কথার মারপ্যাঁচে "শুভ মহালয়া" বলা গেলেও, ইংরেজি অনুবাদে "হ্যাপি" "মহালয়া" বলা আসলেই যায় না। বরং একটু স্থির মনে পূর্বজদের কথা ভাবলে বিনয়ী ব্যক্তি বিষাদগ্রস্তই হন নিজের করা কাজ দেখে।

সবশেষে একটু খেদ জানিয়ে বলি, অধুনা যেসব হিন্দু ছেলে মেয়ে ফেসবুক রিলিজিয়াস ভিউ "সনাতন" লিখতে হীনমন্যতা বোধ করেন, "মানবতা" শব্দটি লিখে কী একটা যেন ভাবমূর্তি পরিগ্রহ করতে চান, তারা কি আদৌ সনাতন হিন্দুর দর্শন বুঝতে কখনো চেষ্টা করেছে? একটু ভেবেছে? ভাবলে হয়তো সনাতনই লিখতো। কারণ তা স্রেফ মানবতা না, বৈশ্বিকতারই সমর্থক।
🌸

জগতের সকল প্রাণী সুখী হউক 🙏🙏🙏

© Sayonton Saykat Roy

04/10/2025

মায়ের নিরঞ্জনের মুহুর্তে আমরা সবাই সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ -Satiachara Saha Para Yuva Songha

Address

সাটিয়াচড়া বড়বাড়ী নাট মন্দির
Mirzapur
1944

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সাটিয়াচড়া সাহা পাড়া যুব সংঘ -Satiachara Saha Para Yuva Songha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share