17/08/2026
সনাতন শাস্ত্র অনুযায়ী, মৃত্যু মানেই সবকিছুর পরিসমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি পোশাক পরিবর্তনের ন্যায়... পুরাতন দেহ পরিত্যাগ করে নতুন যাত্রার সূচনা।গরুড় পুরাণে উল্লেখ আছে যে, মৃত্যুর পর আত্মা যখন দেহ ত্যাগ করে, তখন সে এক গভীর বিভ্রান্তি ও মোহের মধ্য দিয়ে যায়। দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর আত্মা তৎক্ষণাৎ যমলোকে গমন করে না। গরুড় পুরাণ অনুসারে, মৃত্যুর পর আত্মা কিছুকাল দেহের আশেপাশে অবস্থান করে। এইসময় আত্মা অত্যন্ত ব্যাকুলতা অনুভব করে।
গরুড় পুরাণের যা অনুধাবন করা যায়, তা হলো মায়ার বন্ধন। আত্মা মূলত তাকেই প্রথম অন্বেষণ করে যার সাথে তার মায়ার টান বা আবেগিক আসক্তি সর্বাধিক। আত্মা সাধারণত তার প্রিয় কোনো স্থানে উপবিষ্ট হয়ে তার পরিজনদের পর্যবেক্ষণ করে। সে দেখে তার মৃত্যুতে কারা সবচেয়ে বেশি শোকাহত। এই সময় আত্মা অত্যন্ত তৃষ্ণার্ত ও ক্ষুধার্ত থাকে। তাই সে তার তৃপ্তি বা সদগতির জন্য শাস্ত্রীয় নিয়ম (যেমন তর্পণ বা পিন্ডদান) পালন করে। গরুড় পুরাণ মতে, মৃত্যুর পর আত্মা ১৩ দিন পর্যন্ত তার ফেলে আসা গৃহেই অবস্থান করে। এই সময়ে সে তার সন্তানদের কর্ম ও আচরণ লক্ষ্য করে। জীবনসঙ্গীর প্রতি তার দীর্ঘদিনের টান তাকে ঘরের মায়ায় আবদ্ধ রাখে।
তবে শাস্ত্র বলছে, এই ১৩ দিন মূলত পিন্ড বা শ্রাদ্ধের মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে। এই সময় সে উপলব্ধি করতে পারে যে, এই পার্থিব জগতে তার আর কোনো স্থান নেই। ১৩ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর যমদূতেরা আত্মাকে যমলোকের দিকে নিয়ে যেতে শুরু করে। তখন তার মা, সন্তান বা জীবনসঙ্গী, কাউকেই স্পর্শ করার সামর্থ্য থাকে না। শুরু হয় এক দীর্ঘ ৪৭ দিনের যাত্রা, যেখানে আত্মার একমাত্র সঙ্গী হয় তার জীবদ্দশায় কৃত 'কর্ম'।
গরুড় পুরাণের শিক্ষা অনুযায়ী, আত্মা মৃত্যুর পর সাময়িকভাবে প্রিয়জনদের অন্বেষণ করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে একাকী যাত্রা করতে হয়। আত্মা তখন বুঝতে পারে যে, কেউ তাকে আর দেখতে পাচ্ছে না, তখন সে ধীরে ধীরে পরমাত্মার দিকে অগ্রসর হয়।
তাই জীবিত থাকাকালীন সৎ কর্ম করা উচিৎ, কারো প্রতি ঈর্ষা, রাগ, ক্ষোভ পুষে রাখা উচিৎ নয়, কারো ক্ষতি করার চিন্তা, মানুষে মানুষে বিদ্বেষ তৈরি করা, ষড়যন্ত্র রচনা, অন্যর সম্পদ আত্মসাৎ করা উচিৎ নয়। মৃত্যুই সত্য আর বাকি সব মিথ্যা, মায়া। যাওয়ার সময় কেউ এই দুনিয়া থেকে কিছুই নিয়ে যেতে পারবে না, শুধু কর্ম ছাড়া। AR