20/07/2026
🔔অবিদ্যমান ইলম সংক্রান্ত চমৎকার একটি ঘটনা:
মদিনার তৎকালীন সবচেয়ে বড় ইমাম ছিলেন ইমাম মালেক রহ.। মদিনায় ইন্তেকালের আলাদা একটি সম্মান বা মর্যাদা থাকায় বুজুর্গব্যক্তি বা আসলাফগণেরা জীবনের শেষ সময় সেখানে অবস্থান করতে চাইতেন। ইমাম মালেক রহ. সেই আশায় মদিনা থেকে বের হচ্ছিলেন না।এক হজ্জের মৌসুমে তিনি চিন্তা করছিলেন, আমি কি মক্কায় যাবো! যদি যাই আর ফেরত আসতে না পারি। তিনি প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন সাথে আমল করছিলেন যেনো হায়াত কতদিন আছে তা সম্পর্কে একটা ধারনা পেতে পারেন। একদিন আমল করে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন আর স্বপ্নে নবীজি স. কে দেখলেন। তিনি স. পাঁচটি আঙ্গুল দেখাচ্ছেন। জাগ্রত হয়ে ইমাম চিন্তিত হয়ে পড়লেন। পাঁচ আঙ্গুলের নির্দেশনা কি হতে পারে? পাঁচ দিন,পাঁচ মাস নাকি পাঁচ বছর বাঁচবো!!!
ঐ জামানায় মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহ. ছিলেন বিখ্যাত স্বপ্নবিশারদ। ইমাম মালেক রহ. এক অপরিচিত খাদেমকে তার কাছে পাঠালেন এবং বলে দিলেন কে দেখেছে সেটা জানাবে না শুধু স্বপ্নের তাবির বা ব্যাখ্যা জেনে আসবে। কিন্তু ইবনে সীরীন রহ. কার স্বপ্ন তা না জানালে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেন। খাদেম ফিরে এসে ইমামকে জানালেন। ইমাম বললেন, আচ্ছা জানিয়ে দাও আমি দেখেছি।
ইবনে সীরীত রহ. ইমাম সাহেবের স্বপ্ন শুনে বললেন, আমি জানতাম! জামানার ইমাম, ইমাম মালেক রহ. ছাড়া এই স্বপ্ন দেখার যোগ্যতা কেউ রাখেন না। এই স্বপ্নের মাধ্যমে আল্লাহর রসূল স. সূরা লোকমানের ৩৪ নং আয়াতের কথা স্মরণ করিয়েছেন। যে আয়াতে পাঁচটি বিষয়ে সম্পর্কে বলা হয়েছে - ১। কিয়ামতের জ্ঞান, ২। কখন কোথায় বৃষ্টি হবে, ৩। মাতৃগর্ভে কি রয়েছে, ৪। রিজিকের জ্ঞান এবং ৫। কোথায় কার মৃত্যু হবে বা হায়াতের জ্ঞান।
নবী করিম স. পাঁচটি আঙ্গুল দিয়ে এই পাঁচটি বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন। যে বিষয়গুলোর পূর্ণ ইলম বা কৃতিত্ব একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা কাছে। যার এখতিয়ার আর কারো কাছে নেই। আর এটিই হচ্ছে অবিদ্যমান ইলম।
রুটস অফ ঈমান : আকীদার ০৮ নং দারস থেকে...