25/05/2026
✍️
যদি তারা নিয়মিত ফিরিশতার আসা যাওয়া দেখত, যদি কোনো আদেশে পাহাড় স্থানান্তর হত, যদি কোনো আমরে মৃত জীবিত হত, তবুও কিছুদিন পর এগুলোও তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে যেত। পরবর্তী প্রজন্ম এ বিষয়গুলোকেও প্রাকৃতিক নিয়ম বলেই চালিয়ে দিত। এজ ইউজুয়াল জ্ঞান করত। তবুও না রবকে স্বীকার করত। যেমন বৃষ্টি বর্ষণকেও তারা সাধারণ প্রাকৃতিক আয়োজন মনে করে। গাছ, সাগর, নদী, শস্য, বীজ, পাহাড়, বাতাস গ্রহ, নক্ষত্র সবকিছুকেই যেমন তারা প্রাকৃতিক বলে ব্যাখ্যা করে।
প্রতিটি সম্পর্কেই আছে একটা নির্দিষ্ট ব্যারিয়ার। অবাধ্য বান্দা সে ব্যারিয়ার ক্রস করে রবের হিকমতে ভরা গোপন ইলম ও আয়োজনকে নিজ দুর্বল ও অসম্পূর্ণ পরীক্ষাগারে নামিয়ে তাঁর স্রষ্টা হওয়ার নিদর্শন পরীক্ষা করতে চায়, সূত্রে সূত্রে প্রমাণ চায়।
মালিক সম্পদশালী কিনা তা বোঝার জন্য তার জীবনাচার, প্রভাব ও ব্যবস্থাপনা সুক্ষ্মভাবে অবজার্ভ করাই যেখানে যথেষ্ট, সেখানে অধিনস্ত কারো মালিকের সম্পদের স্বীকৃতি দিতে লকার ভেঙে সম্পদ দেখার দাবী করা ধৃষ্টতা, ব্যক্তিত্বহীনতা, নির্বুদ্ধিতা, ছোটলোকী, উপলব্ধির অসুস্থতা এবং মালিকের দাস হওয়ারও অনুপযুক্ত হওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
অনুরূপ নাস্তিকগুলো হলো দুনিয়ার সবচেয়ে বড় মুরখ্য, নির্বোধ, ব্যক্তিত্বহীন, বেয়াদব একইসাথে দুনিয়াতে থাকার অনুপযুক্ত শ্রেণীও বটে। কেমন যেনো ওরা সমুদ্র গিলে তারপর গভীরতা মাপতে চায়, সূর্যের ভেতর প্রবেশ করে দ্যান তাপমাত্রার স্বীকৃতি দিতে চায়, আসলে তো ওরা অসুস্থ কৌতুহলেরও শিকার।
আচ্ছা মানুষ ফিরিশতা দেখতে পেলে কি করত? একদল সম্মান করত, একদল উৎসুক হয়ে দেখত, কেউ উপহাস করত, একদল বন্দী করার চেষ্টা করত, কেউ কেউ ইট পাটকেল ছুড়ত, এখনো তো তা-ই হচ্ছে। বিশ্বাসী আত্মাগুলো সিজদাবনত, আর অবিশ্বাসীগুলো মহাবিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য প্রমাণ দেখেও রব্বুল আলামীনের শানে কতশত রকম জুলুমেই লিপ্ত। এজন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাঁর সৃষ্টি ও নিদর্শনের মাধ্যমে তাঁকে চিনতে আহবান করেছেন, প্রতিনিয়ত অলৌকিক প্রদর্শনী দিয়ে নয়।
সরাসরি মানুষের সম্মুখীন হলে ফিরিশতাদেরকে হয় জুলুমের শিকার হতে হত, নয়তো ক্ষমতা প্রদর্শন করে অবাধ্য গুলোকে পদানত করতে হত। কিন্তু এভাবে করে স্রষ্টার নিজেকে প্রমাণ করতে নতুন নতুন উপলক্ষে আরো নিদর্শনের আয়োজন করে নিজ ক্ষমতা দেখাতে হবে কেন! অলরেডি মহাবিশ্বে যেখানে অসংখ্য শক্তিমত্তার প্রমাণ বিদ্যমান।
একজন ব্যক্তিত্ববান সত্তা জায়গায় জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করতে যায়না। নির্দিষ্ট স্থান, বস্তু, বিষয় থেকে তাঁকে, তাঁর সম্পর্কে জেনে নিতে হয়, যেখানে দেয়া হয়েছে সুস্পষ্ট বর্ণনা, যেখানে আছে উজ্জ্বল নিদর্শন ও প্রমাণ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লাকে খুঁজে পেতে যেটুকু ইলম, আকল, যোগ্যতা ও প্রমাণ প্রয়োজন বান্দাকে তিনি ঠিক ততটুকুই দিয়েছেন, ততটুকু দৃশ্যমানও করেছেন।
তিনি আছেন এটা বুঝতে তো গাছের পাতাটাই যথেষ্ট, কে তৈরি করল, কে ডিজাইন করল, কোন ফ্যাক্টরিতে তৈরি হল, কে নেতৃত্ব দিল, কিভাবে ধীরে ধীরে বড় হল, কিভাবেইবা বিভিন্ন রঙ ধারণ করল, কখনো তেতো হল, কখনো বিষাক্ত হল, কখনো উপকারী হল, টক হল, মিষ্টি হল কিভাবে? এসব কি নিজে নিজেই হল? আমি তো দেখি নাস্তিক্যের মদ পান করে মাতাল না হলে টু মাচ সিম্পল তাঁর এক্সিসট্যান্স উপলব্ধি করা। অনুরূপ পানি, পাহাড়ের রঙ/ ডিজাইন, অথবা মেঘ কে সঞ্চালন করে? তোমার কত বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে বলে যাও, জেনে রাখো তার মূলেই আমার আল্লাহ আছেন।
কম্পিউটারের প্রসেসর বা অপারেটিং সিস্টেমে ত্রুটি থাকলে শতবার সঠিক ইনপুট দিলেও যেমন বিকৃত আউটপুট দেয় তেমনই আকল যখন প্রবৃত্তি, অহংকার, হিংসা, অন্ধ অনুসরণের ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঠিকঠাক কাজ করেনা তখন শত সত্য স্পষ্ট নিদর্শন দেখেও মানুষ নাস্তিক হয়।
إِنَّ شَرَّ الدَّوَابِّ عِندَ اللَّهِ الصُّمُّ الْبُكْمُ الَّذِينَ لَا يَعْقِلُونَ
اللَّهُمَّ احْفَظْ عُقُولَنَا مِنَ الزَّيْغِ وَالضَّلَال
اِنَّ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَاخۡتِلَافِ الَّیۡلِ وَالنَّہَارِ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی الۡاَلۡبَابِ. الَّذِیۡنَ یَذۡکُرُوۡنَ اللّٰہَ قِیٰمًا وَّقُعُوۡدًا وَّعَلٰی جُنُوۡبِہِمۡ وَیَتَفَکَّرُوۡنَ فِیۡ خَلۡقِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ ہٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبۡحٰنَکَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ