17/06/2021
-ইউনাইটেড ইসলামিক স্কলারস ফোরামের সরকারের কাছে ১৩ দফা দাবি --
===============[==[=[====[============। ১)নিশ্চয়ই আপনারা অবগত আছেন যে,বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসা গুলোর নির্ভরযোগ্য অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড(হাইয়াতুল উলইয়াও বেফাকুল মাদারিস)।এই বোর্ডের অধীনে প্রায় ৫০লক্ষ আলেম- ওলামা ও শিক্ষার্থী বিদ্যমান। বাংলাদেশের আবহমান যুগ ধরে একটি আদর্শিক মডেল হিসেবে খ্যাত এই মাদ্রাসা। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে আনুগত্যের দুর্ভেদ্য প্রাচিরে বেস্টিত এই প্রতিষ্ঠান।, শিষ্টাচার, উত্তম চরিত্রগঠনের উত্তম কেন্দ্র এই কওমী মাদ্রাসা। এককথায় সোনার মানুষ গড়ার এক আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই কওমী মাদ্রাসা। আজ সেই ইতিহাস -ঐতিহ্য ধুলোয় মিটিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কিছু সংখ্যক চিহ্নিত দুস্ট প্রকৃতির ব্যক্তি। তাদের সেই ষড়যন্ত্রে ফসল ২০১৩ সালে হঠাৎ করে হেফাজতে ইসলাম নামকএকটি অরাজনৈতিক খোলসে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি সংগঠননের আবির্ভাব। আর এরপর থেকেই শুরু হয় হাক্কানী আলেম ওলামাদের মধ্যে বিভক্তি আর চরম মতদ্বৈধতা। স্বজাতীয় ভাইয়ে ভাইয়ে শত্রুতা, ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে দূরত্ব ও আনুগত্যের অবনতি । জাতির এই চরম ক্রান্তিলগ্নে কওমী মাদ্রাসার ভিন্ন প্লাটফর্ম হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠনের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই, বরং এই সংগঠনের মাধ্যমে আলেম ওলামাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করছে, দ্বন্দ্ব, হিংসা এবং দূরত্ব সৃষ্টি করছে, আলেম ওলামাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববন্ধন বিনষ্ট করছে আমরা মনেকরি হেফাজত নামক সংগঠন কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নেতৃত্বকে বৃদ্ধাংগুলী দেখানোর মত দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছেন।যেকোনো রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই হেফাজতে ইসলাম নামক সংগঠন গড়ে তুলেছে বলে আমরা মনে করি। ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সকল নির্দেশনা মুলক সিদ্ধান্তকেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নিতে প্রকৃত কওমী আলেম ওলামা, শিক্ষার্থীগন কখনও দ্বিধা করেনাই বা করবেও না। তাই আমরা মনেকরি হেফাজত নামক সংগঠনটি বিলুপ্ত করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার মান সমুন্নত রাখার জোর দাবি করছি।
২)এই হেফাজত নামক সংগঠনের চেয়ার দখলের জন্য যারা শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমাদ শফী( রহঃ) এর সাথে মূমূর্ষু অবস্থায়ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করছে এবং অসদাচরণ করতে দুঃসাহসিকতা দেখিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় এনে কঠোর বিচারের দাবি করছি।
২) হেফাজতের আন্দোলনে আবেগের বশিভূত হয়ে যেসকল নিরাপরাধ নিরীহ বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন সে সকল আলেম ওলামাদের মুক্তির জোর দাবি করছি।
৩)সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার শেষে মামলার নিস্পত্তি করে তাদের পরিচালিত মাদ্রাসাগুলো কলংকমুক্ত করার দাবী জানাচ্ছি।
৪) সারাদেশের কওমী মাদ্রাসা সহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারের কাছে জোর দাবি করছি।
৫)শিক্ষার সঠিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতে সকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জোর দাবি করছি ।
৬)ICT শিক্ষার ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষে ল্যাপটপ ব্যবহার করা যেতে পারে তবে কোন শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এন্ড্রয়েড মোবাইল ও ফেইসবুক ব্যবহার করতে পারবে না এই মর্মে শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নীতিমালা সংশোধন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইনের আওতাভুক্ত করার জোর দাবি করছি।
৭)ফেইসবুকে বা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলকএবং ধর্মীয় সংঘাত সম্প্রীতি বিনষ্টকরার মত স্ট্যাটাসকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থার দাবি করছি।
৮) কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে সকল কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ও ইয়াতিম শিশুদের মধ্যে কর্মমুখী শিক্ষার অংশ হিসেবে অন্যান্য শিক্ষার সাথে কারিগরি শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানাচ্ছি।
৯) কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্যে বিদেশি ভাষা শিক্ষা কোর্সের চালু করার জোর দাবি করছি।
১০)বিবাহ বহির্ভূত অবাধ যৌনাচার বন্ধ করতে মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের কঠোর ভুমিকা রাখতে হবে এবং সমাজের সর্বত্র যেনা ব্যাভিচারে সয়লাব হয়ে গেছে এহেন গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে বিবাহের ক্ষেত্রে আইন সহজ করতে হবে।
১১)চারিত্রিক ও সামাজিকঅবক্ষয় রোধে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সকল ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্য দাবি করছি।
১২) বাংলাদেশের কওমী, আলিয়া মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের কর্নার স্থাপন করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ভাষাদিবস সহ সকল জাতীয় দিবস ও ঐতিহাসিক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা সভা,সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবী জানাচ্ছি।
১৩)শিক্ষক - শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধর্মীয় সংঘাত নির্মূল ও সসন্ত্রাসী অপতৎপরতা প্রতিরোধে সচেতনতা মুলক দ্বি-মাসিক সভার আয়োজন করার বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি করছি।