28/12/2025
ইসলাম মুসলমানদের অমুসলিমদের ধর্মীয় বা বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসব-অনুষ্ঠান অনুকরণ করতে নিষেধ করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে গণ্য হবে।" (সুনান আবু দাউদ, ৪০৩১)
· নববর্ষের রাত উদযাপন মূলত খ্রিস্টান/পাশ্চাত্য সভ্যতা থেকে আগত একটি প্রথা, যা ইসলামি শরিয়তে বিদআত (নব আবিষ্কৃত ও ভিত্তিহীন আমল) হিসেবে বিবেচিত।
২. ইসলামি নববর্ষের সাথে পার্থক্য
· ইসলামি বর্ষপঞ্জিতে নববর্ষ (হিজরি সন) পালনের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি নেই। এটি মূলত একটি ঐতিহাসিক স্মরণ (হিজরত)।
· অন্যদিকে, ৩১ ডিসেম্বরের উদযাপনে প্রায়ই অশ্লীলতা, অপব্যয়, যৌন অবাধ মেলামেশা, নারী-পুরুষের অবাধ মিশ্রণ, মাদক ও নৈতিকতাবিরোধী আচরণ জড়িত থাকে—যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।
৩. সময়ের মূল্য ও ইবাদত
· ইসলাম সময়ের সদ্ব্যবহার ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের শিক্ষা দেয়। বিশেষ রাতগুলোকে (যেমন: শবে কদর, শবে মিরাজ) ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর নির্দেশ আছে।
· কোনো বিশেষ রাতে গুনাহ বা অপচয়ের মাধ্যমে সময় কাটানো ইসলামে নিন্দনীয়।
৪. ফিকহি অবস্থান
· অধিকাংশ ইসলামিক স্কলার ৩১ ডিসেম্বর রাতের উদযাপনকে নাজায়েয (অনুমতি নেই) বলেন। কারণ:
· এটি অমুসলিমদের ধর্মীয়/সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সাথে যুক্ত।
· এতে সাধারণত ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ থাকে।
· ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই; বরং এটি বিদআত।
৫. প্রেক্ষাপটভেদে সামাজিক দিক
· যদি কেউ শুধু পরিবার-বন্ধুর সাথে সাধারণভাবে সময় কাটায়, গুনাহ ও অনুকরণ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকে, তবে অনেক আলেম একে অনুমতি দিলেও সতর্ক থাকতে বলেন।
· কিন্তু প্রকাশ্য ও ব্যাপক আয়োজন, বিশেষ পোশাক, পার্টি, আতশবাজি ইত্যাদি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত।
সংক্ষেপে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি:
· ইসলামে নববর্ষের বিশেষ রাত উদযাপনের কোনো বিধান নেই।
· অমুসলিমদের উৎসব-অনুষ্ঠান অনুকরণ নিষেধ।
· যেসব কর্মকাণ্ড গুনাহ, অপব্যয় বা নৈতিক অবক্ষয়ে ভরা, তা পরিহার করা ফরজ।
· মুসলমানের উচিত আল্লাহর দেয়া সময় ও জীবনের হিসাব নেয়া, অনর্থক ও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা।
সুতরাং, ইসলামী বিধান অনুযায়ী থার্টি ফার্স্ট নাইটের বিশেষ অনুষ্ঠান ও উদযাপনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। বরং ইসলামি শিক্ষা হলো—আল্লাহর দেয়া প্রতিটি দিন ও রাতকে তার নির্দেশিত পথে ব্যয় করা।