18/07/2025
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন:
وَلَقَدْ خَلَقْنَا ٱلْإِنسَـٰنَ مِن سُلَـٰلَةٍۢ مِّن طِينٍۢ ١٢ ثُمَّ جَعَلْنَـٰهُ نُطْفَةًۭ فِى قَرَارٍۢ مَّكِينٍۢ ١٣ ثُمَّ خَلَقْنَا ٱلنُّطْفَةَ عَلَقَةًۭ فَخَلَقْنَا ٱلْعَلَقَةَ مُضْغَةًۭ فَخَلَقْنَا ٱلْمُضْغَةَ عِظَـٰمًۭا فَكَسَوْنَا ٱلْعِظَـٰمَ لَحْمًۭا ثُمَّ أَنشَأْنَـٰهُ خَلْقًا ءَاخَرَ ۚ فَتَبَارَكَ ٱللَّهُ أَحْسَنُ ٱلْخَـٰلِقِينَ
অনুবাদ:
"আমি তো মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি।
এরপর তাকে এক নিরাপদ স্থানে (জরায়ুতে) একটি বিন্দু রূপে স্থাপন করেছি।
তারপর সেই বিন্দুকে করেছি জমাট রক্তপিণ্ড, অতঃপর সেই জমাট রক্তপিণ্ডকে করেছি মাংসপিণ্ড, এরপর সেই মাংসপিণ্ডকে করেছি অস্থি; তারপর অস্থিকে ঢেকেছি মাংস দ্বারা। অতঃপর তাকে রূপ দিয়েছি অন্য এক সৃষ্টিরূপে। অতএব মহাপবিত্র মহান আল্লাহ, সর্বোত্তম স্রষ্টা।" (সূরা আল-মু’মিনুন: ১২-১৪)
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ إِن كُنتُمْ فِى رَيْبٍۢ مِّنَ ٱلْبَعْثِ فَإِنَّا خَلَقْنَـٰكُم مِّن تُرَابٍۢ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍۢ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍۢ ثُمَّ مِن مُّضْغَةٍۢ مُّخَلَّقَةٍۢ وَغَيْرِ مُخَلَّقَةٍۢ لِّنُبَيِّنَ لَكُمْ...
অনুবাদ:
"হে মানুষ! যদি তোমরা পুনরুত্থান নিয়ে সন্দেহে থাকো, তবে জেনে রাখো, আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি মাটি থেকে, তারপর একটি বিন্দু (নূতফা), অতঃপর জমাট রক্ত (আলাকা), অতঃপর একখণ্ড মাংস (মুদগাহ) — গঠিত ও অগঠিত অবস্থায় — যেন আমি তোমাদের জন্য বিষয়টি পরিষ্কার করে দেই।" (সূরা হাজ্জ: ৫)
এবার আমরা আধুনিক এম্ব্রিওলজি (ভ্রূণ বিকাশবিদ্যা)–এর দৃষ্টিকোণ থেকে কুরআনের কথাগুলোকে ব্যাখ্যা করবো, যেন এটা বোঝা যায়— কুরআনের বর্ণনাটি শুধুমাত্র ভাষাগত অলংকার নয়, বরং এটি আধুনিক বিজ্ঞানের যথার্থ প্রতিফলন।
🧬 কুরআন বনাম আধুনিক বিজ্ঞান: স্তর ধরে বিশ্লেষণ
🔹 ১. نُطْفَة (Nutfah) – বীর্যবিন্দু / শুক্রাণু
কুরআন:
“...তাকে করেছি একটি বীর্যবিন্দু..." (সূরা আল-মুমিনূন: ১৩)
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
Fertilization-এ বাবা-মায়ের যৌন কোষ (s***m ও o**m) মিলিত হয়।
প্রতিটি নির্গত বীর্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন শুক্রাণু থাকে, কিন্তু কেবল একটিই ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে ভ্রূণ গঠন করে।
📌 কুরআনে "نُطْفَة" শব্দটি একবচন ব্যবহৃত — "একটি" বীর্যবিন্দু, ঠিক যেমন বিজ্ঞানে বলা হয় একটি শুক্রাণুই ভ্রূণের জন্য কার্যকর।
✅ সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধাপ: Fertilization and Zygote Formation
🔹 ২. عَلَقَة (Alaqah) – জমাট রক্তের মতো ঝুলে থাকা বস্তু
কুরআন:
“তারপর তাকে করেছি আলাকা।” (সূরা আল-মুমিনূন: ১৪)
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
Implantation-এর সময় ভ্রূণ জরায়ুতে ঝুলে থাকে এবং রক্তনালী যুক্ত হয়ে যায়, যা দেখতে জমাট রক্তের মতো।
এই ধাপে ভ্রূণ রক্ত টানে ও ব্যবহার করে, আর প্রথম রক্ত সঞ্চালন শুরু হয়।
🔍 "Alaqah" এর তিনটি মানে:
ঝুলে থাকা বস্তু,
জোঁকের মতো কিছু (রক্ত শোষণকারী),
জমাট রক্ত।
✅ সবগুলো মানেই আধুনিক Embryology-র Stage 2-3 এর সাথে চমৎকারভাবে মিলে যায়।
🔹 ৩. مُضْغَة (Mudghah) – চিবানো মাংসপিণ্ড
কুরআন
:
“তারপর আলাকাকে করেছি মুদগাহ (চিবানো মাংসের মতো কিছু)।” (সূরা আল-মুমিনূন: ১৪
)
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
এই পর্যায়ে ভ্রূণের আকৃতি হয় চিবানো মাংসের মতো।
Somite নামক গঠনগুলো থাকে, যা দাঁতের দাগের মতো দেখতে — ঠিক যেন কেউ মাংস চিবিয়ে রেখেছে।
🔬 ড. কিথ এল. মুর মাইক্রোস্কোপের নিচে দেখিয়ে বলেছেন, এ সময়কার ভ্রূণ দেখতে “মুদগাহ”–এর মতোই।
✅ সংশ্লিষ্ট ধাপ: Weeks 3–4 of embryonic development
🔹 ৪. عِظَامًا – হাড় গঠন (Skeletal Development)
কুর
আন:
“তারপর মুদগাহ থেকে অস্থি (হাড়) সৃষ্টি করেছ
ি।”
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
Mesodermal cells cartilage তৈরির মাধ্যমে হাড়ের রূপ নেয়।
ভ্রূণের প্রথম হাড় (ossification) তৈরি হয় ৬ষ্ঠ সপ্তাহের দিকে।
✅ বিজ্ঞান ও কুরআন, উভয়েই বলে – হাড়ের গঠন হয় মাংসের আগে।
🔹 ৫. فَكَسَوْنَا ٱلْعِظَـٰمَ لَحْمًۭا – হাড়কে মাংস দিয়ে আবৃত করা
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
হাড় তৈরির পর তা muscle fibers দ্বারা আবৃত হয়।
এটি “Myogenesis” নামে পরিচিত — হাড়ের গঠনের পরেই ঘটে।
✅ কুরআনের বাক্যক্রম — প্রথমে হাড়, তারপর মাংস — হুবহু বিজ্ঞান সম্মত।
🔹 ৬. ثُمَّ أَنشَأْنَـٰهُ خَلْقًۭا ءَاخَرَ – অতঃপর তাকে দিয়েছি নতুন সৃষ্টি
📚 বিজ্ঞান কী বলে:
এর অর্থ জীবন্ত মানব রূপে আত্মা দেয়া বা রূহ প্রবেশ, মানবিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া (চোখ, কান, মন, অনুভূতি)।
Neurological development ও “conscious behavior” শুরু হয় ~১০ সপ্তাহের পর থেকে।
✅ বিজ্ঞানীরা এটা "ensoulment stage" না বললেও, নবজাতকের অন্তরাত্মা ও পরিচয় ধারণার সূচনা এ সময়েই হয়।
📌 উপসংহার:
কুরআনের ধাপআধুনিক বৈজ্ঞানিক মিলবিজ্ঞান আবিষ্কার করেنُطْفَة – বীর্যFertilization, 1 s***m১৮৫৫ সালেعَلَقَة – ঝুলন্ত রক্তImplantation stage১৯২৫–৫০ সালের মধ্যেمُضْغَة – চিবানো মাংসSomite-stage, body folds১৯৭০ দশকে বিস্তারিতহাড় ও মাংসOsteogenesis → Myogenesis১৯৮০’র পর স্পষ্ট ব্যাখ্যানতুন সৃষ্টিNeurological & soul identityএখনও বিতর্কিত
✅ কুরআনে এসব বলা হয়েছিল ৭ম শতাব্দীতে, যখন মাইক্রোস্কোপ তো দূরের কথা, মানুষের ভ্রূণের অস্তিত্বই অনেকের কাছে অজানা ছিল।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞাণ যা গতকাল আবিষ্কার করলো তা আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ১৪০০ বছর আগে কীভাবে বর্ণনা করলো????
উত্তর: খুবই সহজ কারণ আল্লাহ এই সমস্ত কিছুর মালিক, সৃষ্টিকর্তা। যেহেতু আল্লাহই সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা তাই তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি সৃষ্টিজগতের রহস্য সম্পর্কে নির্ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যদি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন সৃষ্টিকর্তা আসলেই থাকতো তবে সেই খোদা তার ধর্মীয় গ্রন্থে সৃষ্টিজগতের এই রহস্য সম্পর্কে বলত। অন্য খোদাদের সৃষ্টিজগতের রহস্য সম্পর্কে বলতে না পারার অক্ষমতা এটাই প্রমাণ করে যে আল্লাহ ব্যতীত তারা যাদের পূজা করে তারা সবাই মিথ্যা খোদা।