27/07/2026
মানসিক চাপ ও কষ্ট কমানোর কৌশল
আমার একটা ছোট অভিজ্ঞতা শেয়ার করি। সাধারণত আমি বাসা থেকে মেইন রোডে এসে রিকশা নিই। হাঁটার ব্যাপারে আমি বরাবরই অলস, ছোট দূরত্বও রিকশায় যেতে চাই। অথচ বাসা থেকে মেইন রোড পর্যন্ত দূরত্বটা একেবারেও কম নয়। মজার ব্যাপার হলো, এই পথটুকু হাঁটতে আমার কখনো কষ্ট লাগে না। কীভাবে হেঁটে চলে আসি টেরই পাই না।কারণটা ধরতে পারলাম। হাঁটার পুরোটা সময় আমার চোখ থাকে মেইন রোডের দিকে। গন্তব্য দেখতে দেখতে হাঁটি বলে কতটুকু পথ পার হলাম সেই হিসাবটা মাথায় থাকে না। চোখ গন্তব্যে থাকলে পথটা আর দূরের লাগে না।
ঠিক এই নিয়মটাই আমাদের জীবনেও কাজ করে। যার সামনে একটা পরিষ্কার গন্তব্য থাকে, একটা পারপাস থাকে, তার কাছে পথের কষ্টগুলো ছোট হয়ে আসে। আর যার গন্তব্য নেই, তার কাছে সামান্য হাঁটাটাও পাহাড় মনে হয়। স্ট্রাগল দুজনেরই সমান, পার্থক্য শুধু চোখটা কোথায় আছে সেখানে।
কুরআনে আছে - ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য চাও, আর নিশ্চয়ই এটা কঠিন, তবে বিনয়ীদের জন্য নয় - الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ অর্থাৎ, যারা বিশ্বাস করে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে। - সূরা বাকারা, আয়াত ৪৫-৪৬
একই নামাজ কারো কাছে ভারী, কারো কাছে সহজ। পার্থক্যটা গন্তব্যে। যে জানে এই পথের শেষে আল্লাহর সাথে দেখা, তার কাছে পথটা আর কঠিন থাকে না।
ভিক্টর ফ্রাংকল নাৎসি বন্দিশিবির থেকে বেঁচে ফিরে লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত বই ম্যানস সার্চ ফর মিনিং। সেখানে তিনি দেখান, শিবিরের ভয়াবহ কষ্টের মধ্যে যারা বেঁচে থাকার একটা কারণ ধরে রেখেছিল, তারাই টিকে গিয়েছিল। বইটির সারকথা একটাই, যার কাছে বাঁচার একটা 'কেন' আছে, সে প্রায় যেকোনো 'কীভাবে' সহ্য করতে পারে।
তাই কষ্ট কমানোর চেষ্টা না করে গন্তব্যটা পরিষ্কার করুন। যে কাজটা ভারী লাগছে, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, এটার শেষে আমি কী পাব, কেন করছি। উত্তরটা লিখে চোখের সামনে রাখুন। পথ একই থাকবে, কষ্টও থাকবে, কিন্তু চোখটা গন্তব্যে থাকলে সেই পথ আর আগের মতো লম্বা লাগবে না।
মাআ'স সালাম
জাহিদ হাসান মিলু, প্রফেটিক প্রোডাক্টিভিটি কোচ