Islam for life

Islam for life This is an Islamic Page/Blog.

24/05/2026

শরিয়া আইন নিয়ে আলোচনা করার আগে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে— ইসলাম শুধু শাস্তির বিধান নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এখানে আইন আছে, ন্যায়বিচার আছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে, নৈতিকতা আছে এবং মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার শিক্ষাও আছে।

বর্তমানে অনেকেই আবেগের বশে বলেন, “ধর্ষণের বিচার শরিয়া আইনে হওয়া উচিত।” কিন্তু শরিয়া আইন কেবল শাস্তি কার্যকর করার বিষয় নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বিচারব্যবস্থা, যেখানে অপরাধের ধরন, প্রমাণ, পরিস্থিতি, জবরদস্তি, ভয়ভীতি, ক্ষতি এবং সামাজিক প্রভাব—সবকিছু বিবেচনা করা হয়।

ইসলামে মব জাস্টিস বা গণপিটুনির কোনো স্থান নেই। বিচার হবে প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে, এবং তা রাষ্ট্র ও বিচারকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

ইসলামে গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, আবার ছোট অপরাধের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন বিচারও রয়েছে। একইসাথে মিথ্যা অভিযোগকেও অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। কারণ ইসলাম চায়—কেউ যেন অন্যায়ভাবে নির্যাতিত না হয় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীও যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন।

তবে শুধু আইন করলেই সমাজ পরিবর্তন হয় না। যদি সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, মাদক, অশ্লীলতা, পরিবার ভাঙন, অন্যায় সংস্কৃতি ও দায়িত্বহীনতা বাড়তে থাকে, তাহলে অপরাধও বাড়বে। ইসলাম তাই শুধু শাস্তি নয়, মানুষ গঠন, আত্মশুদ্ধি, পারিবারিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব ও সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেয়।

একটি সুন্দর সমাজ গঠনের জন্য দরকার—
• ন্যায়বিচার
• নৈতিক শিক্ষা
• পারিবারিক বন্ধন
• নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ
• দায়িত্বশীল সংস্কৃতি
• এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ

ইসলামের মূল লক্ষ্য প্রতিশোধ নয়; বরং ন্যায় প্রতিষ্ঠা, অন্যায় প্রতিরোধ এবং মানুষকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

কঠোর অপরাধের কঠোর বিচার হবে, কিন্তু একইসাথে সমাজকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে মানুষ অপরাধের দিকে না যায়। কারণ কেবল শাস্তি দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না; সমস্যার মূল কারণও দূর করতে হয়।

ইসলাম মানুষ, সমাজ, নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার—সবকিছুকে একসাথে বিবেচনা করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা প্রদান করেছে।

সমাজে এতদিন ধরে চলে আসা একটা বড় অপতথ্যের শিকার হয়ে আমাদের চোখের সামনে থাকা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জিনিসটাকে আমরা অবহেলা করেছ...
23/05/2026

সমাজে এতদিন ধরে চলে আসা একটা বড় অপতথ্যের শিকার হয়ে আমাদের চোখের সামনে থাকা সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর জিনিসটাকে আমরা অবহেলা করেছি! প্রতি বছর কুরবানির ঈদ এলে আমরা মাংস কিংবা তরকারি থেকে ঝেড়েপুঁছে চর্বি বা তেল ফেলে দিই, কারণ আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই চর্বি খেলেই বুঝি হার্ট অ্যাটাক হবে! অথচ আমাদের দাদা-পরদাদারা এই চর্বি আর ঘি খেয়েই একেকজন ৯০-১০০ বছর রোগহীনভাবে বেঁচে ছিলেন!

তাই এবার সময় এসেছে কঞ্জিউমার ক্যাপিটালিজমের ন্যারেটিভ থেকে সৃষ্ট ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার। এই কুরবানির ঈদে পশুর সেই স্বাস্থ্যকর সুস্বাদু তেল বা চর্বি ফেলে না দিয়ে তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন।
বাজারের ওই বোতলজাত চকচকে বিষাক্ত কেমিক্যালের চেয়ে আপনার কুরবানির পশুর শরীর থেকে আসা প্রাকৃতিক তেল আপনার রান্নার জন্য হাজার গুণ বেশি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর!

আমরা প্রতিনিয়ত বাজার থেকে যে সয়াবিন, পাম, রাইসব্র‍্যান, ক্যানোলা বা সানফ্লাওয়ার তেল কিনে আনি, সেগুলো আসলে ফ্যাক্টরিতে তৈরি হওয়া এক ধরণের ইন্ডাস্ট্রিয়াল লুব্রিকেন্ট। উচ্চ তাপমাত্রা আর এসিড দিয়ে ব্লিচ করা সেই তেলগুলো যখন আবার আপনার কড়াইতে ফুটতে থাকে, তখন সেগুলো আপনার শরীরের প্রতিটি কোষে বিষ ছড়াতে শুরু করে! যা দেহে ইনফ্লামেশনের আগুন জ্বালিয়ে দেয়!

অথচ গরুর চর্বি বা বিফ ট্যালো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, যা উচ্চ তাপমাত্রাতেও নষ্ট হয় না বা তার গুণগত মান হারায় না। আপনি যখন এই প্রাকৃতিক চর্বি দিয়ে প্রতিদিনের রান্না কিংবা যেকোনো কিছু ভাজাভুজি করবেন, তখন খাবার যেমন মুখে লেগে থাকার মতো সুস্বাদু হবে, তেমনি আপনার শরীর পাবে রিয়েল এনার্জি! এটি আপনার মেটাবলিজমকে সচল রাখবে, ইনসুলিনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে এবং দীর্ঘ সময় আপনাকে তৃপ্ত রাখবে, যার ফলে বারবার খাওয়ার ক্ষতিকর প্রবণতা কমে আসবে।

যারা এতদিন না বুঝে, ডাক্তার বা বিজ্ঞাপনের ছড়ানো মিথ্যা ভয়ে কুরবানির পশুর চর্বি বিলিয়ে দিতেন বা ডাস্টবিনে ফেলে দিতেন, তাদের মধ্যে এবার ব্যাপক সচেতনতা কামনা করছি। এই তেল কোনো বর্জ্য নয়, এটি প্রকৃতির দেওয়া এক দারুণ পথ্য। এই ঈদে চর্বিগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে মৃদু আঁচে জ্বাল দিয়ে ছেঁকে কাঁচের বয়ামে সংরক্ষণ করে রাখুন। সারা বছর আপনার রান্নায় এই খাঁটি তেল ব্যবহার করুন। বাজারের টক্সিক কেমিক্যালের বোতলকে বিদায় জানিয়ে নিজের পরিবারকে প্রকৃতির খাঁটি পুষ্টির দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার এটাই বড় সুযোগ।
আসুন, এই কুরবানিতে আমরা কর্পোরেটের তৈরি মিথ্যে ভয়কে তাড়িয়ে খাঁটি ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসে ফিরে যাই। আল্লাহু আকবার!

11/05/2026

আল্লাহ আপনার জন্য যে গন্তব্য নির্ধারণ করেছেন, সেটাকে ভালোবাসতে শিখুন, সেটার উপর সন্তুষ্ট থাকতে শিখুন।
কারণ মানুষের পরিকল্পনা সীমিত হলেও, আল্লাহর পরিকল্পনা সর্বোত্তম।

জীবনের প্রতিটি পথ, প্রতিটি বিলম্ব, প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই থাকে এক গভীর হিকমাহ। অনেক সময় আমরা এমন কিছু চাই যা আমাদের জন্য কল্যাণকর নয়, আবার এমন অনেক কিছু হারাই যার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের রহমত।

তাই সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো না হলেই হতাশ হওয়ার কিছু নেই।
হয়তো আল্লাহ আপনাকে এমন একটি গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন, যা আপনার কল্পনার চেয়েও উত্তম।

যখন মানুষ আল্লাহর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট হতে শেখে, তখন তার অন্তরে প্রশান্তি আসে। অভিযোগের পরিবর্তে কৃতজ্ঞতা জন্ম নেয়। আর সেই কৃতজ্ঞ হৃদয়কেই আল্লাহ ধীরে ধীরে এমন জায়গায় পৌঁছে দেন, যেখানে পৌঁছানোর স্বপ্ন সে একদিন দেখেছিল।

মনে রাখবেন —
আল্লাহ কখনো তাঁর বান্দাকে বঞ্চিত করেন না।
তিনি শুধু সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে, সর্বোত্তমটুকু দান করেন।

তাই বিশ্বাস রাখুন, ধৈর্য ধরুন, দোয়া করুন এবং আল্লাহর নির্ধারিত পথে সন্তুষ্ট থাকুন।
ইনশাআল্লাহ, একদিন আল্লাহ আপনাকে সেই গন্তব্যেও পৌঁছে দেবেন, যেখানে পৌঁছানোর জন্য আপনার হৃদয় দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছে। 🤍

28/04/2026

ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কত বেশি দুশ্চিন্তা করি!
রিযিক, বিয়ে, বাড়ি-গাড়ি, ব্যবসার লাভ-ক্ষতি, সম্পর্কের টানাপোড়েন, সামাজিক অবস্থান কিংবা অর্থনৈতিক চাপ—এসব নিয়ে হায়-হুতাশ করতে করতে আমরা নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ি।

অথচ আমরা ভুলে যাই, আমাদের ভবিষ্যৎ আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে।

আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সকল মাখলুকের তাকদীর আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে লিখে রেখেছেন।
(সহীহ মুসলিম: ৬৬৪১)

যা আমার জন্য নির্ধারিত, তা ঠিক সময়ে আমার কাছে পৌঁছে যাবে। আর যা আমার জন্য লেখা হয়নি, তা কখনোই আমার হবে না।
নিশ্চিন্ত থাকুন—যতক্ষণ আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলবো, আল্লাহ তা’আলা আমাদের জন্য ঠিক সেটাই নির্বাচন করবেন, যা সর্বদিক থেকে কল্যাণকর। আর যা আমাদের ক্ষতির কারণ, তা তিনি আমাদের জন্য নির্ধারণ করেন না।

আল্লাহ ﷻ বলেছেন, “হতে পারে তোমরা কোন জিনিসকে অপছন্দ করো, অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আবার হতে পারে তোমরা কোন জিনিসকে ভালোবাসো, অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না।”
(সূরা আল-বাকারা: ২১৬)

তাই যে সময়টা আপনি দুশ্চিন্তায় নষ্ট করছেন, সেই সময়েই নামাজে দাঁড়িয়ে যান। তাঁর কাছেই চাইতে থাকুন।

আল্লাহ ﷻ বলেছেন, “আর নিশ্চয়ই তিনিই হাসান এবং তিনিই কাঁদান।”
(সূরা আন-নাজম: ৪৩)

দুশ্চিন্তা করার সময় যদি আপনার থাকে, তাহলে দুআ করার সময় কেন থাকবে না?

22/04/2026

ধারণা করা হয়, মুসলমানরা সামগ্রিকভাবে শিক্ষা, জ্ঞান ও বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে। তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি একরৈখিক নয়; অঞ্চলভেদে বৈচিত্র্য রয়েছে। তবুও অনেক সামাজিক গবেষকের মতে, কিছু ঐতিহাসিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ মিলেই এ ধরনের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

মুসলিম সমাজের কিছু অংশে অনগ্রসরতার পেছনে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়:

১। অনেক মুসলিমপ্রধান দেশে শিক্ষার হার তুলনামূলকভাবে কম এবং শিক্ষার মান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

২। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণায় বিনিয়োগ অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় সীমিত, ফলে উদ্ভাবন ও জ্ঞানচর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।

৩। অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার তুলনায় একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাধান্য দেখা যায়, যেখানে কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

৪। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা ও নীতির ধারাবাহিকতার অভাব শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

৫। বিজ্ঞানমনস্কতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে অন্ধ অনুসরণ বা গোঁড়ামি জ্ঞানচর্চার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।

৬। অতীতের গৌরব নিয়ে অতিরিক্ত আত্মতুষ্টি এবং নতুন উদ্ভাবন ও অগ্রগতির প্রতি পর্যাপ্ত উদ্যোগের অভাব।

৭। মানসম্মত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের সংখ্যা অনেক জায়গায় অপর্যাপ্ত।

৮। উন্নত সুযোগ-সুবিধার অভাবে মেধাবী জনশক্তির বিদেশমুখী হওয়া (brain drain)।

সার্বিকভাবে বলা যায়, আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে না চলা, গবেষণার সংস্কৃতি দুর্বল থাকা এবং মুক্ত ও সমালোচনামূলক চিন্তার অভাব—এই বিষয়গুলোই অনগ্রসরতার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে এটাও মনে রাখা জরুরি—এই চিত্রটি সর্বত্র সমান নয়, এবং সঠিক নীতি, বিনিয়োগ ও সচেতনতার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

05/04/2026

আমি যখন থেকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত শুরু করলাম, শুরুতে আমার মনে একটা নির্দিষ্ট আশা ছিল। মনে হতো—এই আমলটা করলে হয়তো আমার ইচ্ছাগুলো দ্রুত পূরণ হবে। হয়তো জীবনের যে সমস্যাগুলো নিয়ে আমি এতদিন দুশ্চিন্তা করছি, সেগুলো একে একে মিটে যাবে। আমি ভাবতাম—হয়তো খুব দ্রুত কোনো বড় পরিবর্তন ঘটবে।

কিন্তু কিছুদিন পর বুঝলাম, আল্লাহ আমার জীবনে যে পরিবর্তন আনলেন—তা আমার কল্পনার থেকেও ভিন্ন, অথচ অনেক গভীর।

আমি হঠাৎ করে সব ইচ্ছা পূরণ হতে দেখিনি। জীবনের সব সমস্যাও একদিনে শেষ হয়ে যায়নি।
বরং এর চেয়েও মূল্যবান কিছু ঘটতে শুরু করল।
ফজরের পর যখন আমি শান্ত সকালে বসে Surah Ya-Sin তিলাওয়াত করতাম, তখন মনে হতো দিনের শুরুটাই অন্যরকম হয়ে গেছে। যেন পুরো দিনটা আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু হচ্ছে।

ধীরে ধীরে একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম— আগের মতো আর অস্থির লাগছে না। যে বিষয়গুলো নিয়ে আগে খুব দুশ্চিন্তা করতাম, সেগুলো এখন ততটা ভারী মনে হয় না। মনে হয়—আল্লাহ আছেন, তিনি দেখছেন, তিনিই সহজ করে দেবেন। প্রতিটি সকাল এখন একটু বেশি শান্ত লাগে।
ফজরের নরম আলো, চারপাশের নিস্তব্ধতা, আর সেই সময় কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করা—এগুলো যেন আমার হৃদয়ের ভেতর একটা অদৃশ্য প্রশান্তি তৈরি করতে শুরু করল।

একদিন হঠাৎ বুঝলাম—
আমি আর আগের মতো অস্থিরভাবে ইচ্ছা পূরণের অপেক্ষা করছি না। বরং আমি আল্লাহর ওপর ভরসা করতে শিখছি। তখনই আমি বুঝলাম—ইচ্ছা পূরণ সবসময় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে না। অনেক সময় আল্লাহ প্রথমে মানুষের হৃদয়কে বদলে দেন। তিনি মানুষের ভিতরে ধৈর্য দেন, ভরসা দেন, এবং এমন এক প্রশান্তি দেন—যা কোনো দুনিয়ার অর্জন দিয়েও পাওয়া যায় না।

আমাদের প্রিয় নবী
হযরত মুহাম্মদ (সা.) কুরআনের তিলাওয়াতকে মানুষের হৃদয়ের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশান্তির উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আজ আমি বুঝি— বারাকাহ শুধু সম্পদে নয়, শুধু সাফল্যে নয়। অনেক সময় বারাকাহ আসে হৃদয়ের ভেতর—শান্তি হিসেবে, সন্তুষ্টি হিসেবে, আল্লাহর ওপর দৃঢ় নির্ভরতা হিসেবে।

তাই আজও প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর যখন আমি সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করি, তখন আর শুধু ইচ্ছা পূরণের জন্য পড়ি না। আমি পড়ি আমার হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য।আমি পড়ি সেই বিশ্বাসের জন্য, যা আমাকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়— যে পথেই যাই না কেন, আল্লাহ আমার সাথে আছেন।
কারণ ধীরে ধীরে আমি বুঝেছি— মানুষের সব ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেলেও তার মন শান্ত হয় না। আর অনেক সময় মানুষের সব সমস্যার মাঝেও তার হৃদয় শান্ত থাকে—যদি সে আল্লাহর কাছে থাকে।

আমরা দুনিয়ার পেছনে এত দৌড়াই, যেন এখানেই আমাদের চিরকাল থাকতে হবে। কিন্তু কুরআনের প্রতিটি আয়াত যেন নীরবে মনে করিয়ে দেয়— এই জীবন আসলে খুবই ক্ষণস্থায়ী। একদিন সব ব্যস্ততা থেমে যাবে। সব স্বপ্ন, সব দৌড়, সব হিসাব শেষ হয়ে যাবে। সেদিন আমাদের সাথে থাকবে না সম্পদ, না সাফল্য, না মানুষের প্রশংসা।
সেদিন আমাদের সাথে থাকবে শুধু সেই কাজগুলো—যেগুলো আমরা আল্লাহর জন্য করেছি।

তাই যদি তুমি আগামীকাল ফজরের পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করো— শুধু কোনো ইচ্ছা পূরণের আশায় নয়।
পড়ো তোমার হৃদয়ের জন্য। পড়ো সেই প্রশান্তির জন্য, যেটা আমরা সবাই খুঁজে বেড়াই। আর তারপর ধীরে ধীরে দেখো— কীভাবে নিঃশব্দে আল্লাহ তোমার অস্থিরতাকে বদলে দেন এক গভীর শান্তিতে।

লেখা: হাফেজ আবু নাইম

একজনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—“আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু পারছি না। কোথা থেকে শুরু করবো?”তিনি উত্তর দিলেন—১. স্মার্...
05/04/2026

একজনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—
“আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে চাই, কিন্তু পারছি না। কোথা থেকে শুরু করবো?”

তিনি উত্তর দিলেন—

১. স্মার্টফোন থেকে কিছুদিনের জন্য দূরে থাকুন।
২. সালাত জামায়াতে আদায় করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. ছোট-বড় সবার সাথে মানবিক, দয়ালু ও বিনয়ী আচরণ করুন।
৪. সবাইকে সালাম দিতে শিখুন—সে রিকশাচালক হোক বা বাসার ঝাড়ুদার।
৫. অপ্রয়োজনীয় টিভি দেখা পরিহার করুন।
৬. যেসব বন্ধুদের আড্ডা শুধু গার্লফ্রেন্ড, মুভি, নাটক, গান বা দুনিয়াবি বিষয়ে সীমাবদ্ধ—তাদের থেকে দূরে থাকুন। বরং যারা আখিরাতমুখী, দ্বীনভিত্তিক আলোচনা করে—তাদের সঙ্গ গ্রহণ করুন।
৭. রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন।
৮. জীবনের সবকিছুর ওপর দ্বীনকে প্রাধান্য দিন।
৯. বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করুন। বিশেষ করে বাবা-মাকে কোনোভাবেই কষ্ট দেওয়া যাবে না।
১০. কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দোয়ার মাধ্যমে দিনকে সমৃদ্ধ করুন।

ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর সাহায্য অবশ্যই আসবে।

— সংগৃহীত ও পরিমার্জিত

02/04/2026

পবিত্র কুরআনের সূরা জ্বীন মুখস্ত করতে গিয়ে এই আয়াতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেছি, বারবার পড়েও তৃপ্তি মিটতেছে না ।

"
قُلْ اِنِّيْ لَنْ يُّجِيْرَنِيْ مِنَ اللّٰهِ اَحَدٌ ۙ وَّلَنْ اَجِدَ مِنْ دُوْنِهٖ مُلْتَحَدًا ۙ

বলে দাও, আমাকে আল্লাহ হতে কেউ রক্ষা করতে পারবে না এবং আমিও তাঁকে ছেড়ে অন্য কোন আশ্রয়স্থল পাব না।"

ছোটবেলার একটা ঘটনা মনে পড়ছে ।‌ মায়ের অবাধ্য হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পড়ছিলাম , সারাদিন ঘোরাঘুরি খেলাধুলা করে যখন সূর্য অস্ত গেল, তখন মনে হলো এখন কই যাব, মায়ের মাইর তো মিস নাই । একটু পরে মনে হল 'মা' ই তো ! আর মা ছাড়া তো আমার আর কোন উত্তম আশ্রয়স্থল নেই ।


এত বেশি পাপ করেছি মনে হয় আল্লাহ হতে পালিয়ে যদি বাঁচতে পারতাম । আবার পরেক্ষণই মনে হয় কোথায় যাব ? কে আছে আমার আল্লাহ ছাড়া এত দয়ালু, এত উত্তম আশ্রয়স্থল !

আল্লাহ অবাধ্য গুনাগারের এই মনের অবস্থানে তুলে ধরেছেন ।


এ কোরআন মানুষের রচনা হতে পারে না, হতে পারে না, হতে পারে না ।

২৮ টা চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া গাজী রাকায়েত এর একটা পডকাস্ট দেখলাম । কোরআনের ভুল ধরার জন্য বিচারপতি হাবিবুর রহমানের আরবি ছাড়া শুধু বাংলা লেখা কোরআনের শাব্দিক অর্থের একটা কপি হাতে তুলে নিলেন তিনি । আর পড়তে পড়তে নাস্তিক থেকে আস্তিক হয়ে গেলেন ।

আপনি রিভারটেড এরকম অনেক মুসলিম পাবেন , যারা কট্টর আল্লাহ বিদ্বেষী , ইসলামবিদ্বেষী এবং কোরআনের ভুল ধরতে গিয়ে আল্লাহকে খুঁজে পেয়েছেন ।

আচ্ছা আপনি আমি তো জন্ম সূত্রে মুসলিম, অনেক অনেক বই পড়েছি, অনেক ডিগ্রী, অনেক বড় চাকরি করি । আজ অব্দি সময় কি হয়েছে আল্লাহর কালামটা শুধু বাংলা অর্থ হলেও একবার পুরাটা কোরআন পড়ে দেখা !!!

আমার খুব প্রিয় সুরা হাদিদের এই আয়াতটা আপনার জন্য আমার রবের পক্ষ থেকে :

'যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য কি এখনো সময় আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তার কারণে তাদের হৃদয় বিনম্র (বিগলিত) হবে?” (৫৭:১৬)

30/03/2026

ইবলিস যখন হযরত আদম (আ.)-কে সেজদা করতে অস্বীকার করেছিল, তখন তো কোনো শয়তান ছিল না। তবে তাকে কুপ্ররোচনা দিল কে?

আমরা অনেক সময় ইবাদত করি, জিকির করি, তবুও গুনাহে লিপ্ত হই। আমরা শয়তানকে দোষ দিই, কিন্তু পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "শয়তানের কৌশল আসলে অত্যন্ত দুর্বল।" (সূরা নিসা: ৭৬)

তাহলে আসল শক্তিশালী শত্রু কে? সে হলো আমাদের ‘নফস’। এটি মানুষের ভেতরে থাকা এক টাইমবোমার মতো। ইবলিস যখন অহংকারবশত সেজদা করেনি, তখন তার নিজের নফসই তাকে ধোঁকা দিয়েছিল।

কুরআনের বহু আয়াতে নফসের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে:

"মানুষের নফস তাকে যে কুপ্ররোচনা দেয়, সে সম্পর্কে আমি অবগত।" (সূরা ক্বফ: আয়াত ১৬)

"যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখে, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।" (সূরা নাযিয়াত: আয়াত ৪০-৪১)

"নিশ্চয়ই নফস মন্দ কাজের নির্দেশ দিয়ে থাকে।" (সূরা ইউসুফ: আয়াত ৫৩)

প্রাচীন যুগের লাত, উজ্জা বা মানাত নামক মূর্তিরা ধ্বংস হয়ে গেলেও একটি 'নকল উপাস্য' আজও মানুষের ভেতরে রয়ে গেছে। তা হলো মানুষের 'হাওয়া' বা কুপ্রবৃত্তি।

আল্লাহ বলেন, "তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার নফসের প্রবৃত্তিকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে?" (সূরা জাসিয়া: ২৩)

হাবিল-কাবিলের ঘটনায়ও দেখা যায়, কাবিলকে তার নফসই নিজের ভাইকে হত্যা করতে প্ররোচিত করেছিল। শয়তান কেবল মানুষকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস মানুষকে সরাসরি মন্দের দিকে টানে।

আমরা যখন আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হই, তখন হৃদয়ে এক ধরনের আবরণ পড়ে যায়। এটি মানুষকে চরম হতাশা ও বিষণ্নতায় ডুবিয়ে দেয়।

আল্লাহ বলেন, "কখনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে মরিচা (আবরণ) ধরিয়ে দিয়েছে।" (সূরা মুতাফফিফিন: ১৪)

মনে রাখবেন, আপনার সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা শয়তানের সাথে নয়, বরং নিজের 'নফস' বা কুপ্রবৃত্তির সাথে। শয়তান শুধু আপনাকে ভুলিয়ে দেয়, কিন্তু নফস আপনাকে গুনাহ করতে বাধ্য করে। তাই নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন, তবেই আপনি প্রকৃত সফল হতে পারবেন।

© Salman Farsi
আরবি থেকে অনূদিত

29/03/2026

এক ব্যক্তি ঘরের সাধারণ পোশাক পরেই নামাজ আদায় করতে মসজিদে আসলেন।
নামাজ শেষে যখন সবাই বের হচ্ছিলেন, তখন এক মুসল্লি তাকে আন্তরিকভাবে নিজের বাসায় দাওয়াত দিলেন।

লোকটি কিছুটা সংকোচ নিয়ে বললেন,
“ভাই, এই পোশাকে আপনার বাসায় যাওয়া ঠিক হবে না মনে করছি।”

তখন সেই ব্যক্তি শান্তভাবে বললেন,
“যদি আমার বাসায় যাওয়ার জন্য এই পোশাক উপযুক্ত না হয়,
তাহলে আল্লাহর ঘরে আসার জন্য কীভাবে উপযুক্ত হলো?
আমার সম্মান কি আল্লাহর চেয়ে বেশি?”

কথাগুলো শুনে লোকটি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললেন।

📌 এই ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
আমরা অনেক সময় মানুষের সামনে নিজেদের উপস্থাপন নিয়ে যতটা সচেতন,
আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর সময় ততটা সচেতন থাকি না।

আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করো।”
— সূরা আ’রাফ, আয়াত ৩১

👉 তাই নামাজ শুধু ইবাদত নয়,
এটি আল্লাহর সামনে সম্মান ও প্রস্তুতিরও বিষয়।

11/03/2026

ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে ইসলাম অত্যন্ত সতর্ক হতে শিক্ষা দেয়। অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঋণ করে জমি কেনা, বাড়ি নির্মাণ বা ব্যবসা শুরু করা অনেক সময় মানুষের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঋণ নেওয়ার আগে ভালোভাবে চিন্তা করা জরুরি।

ইসলামে বলা হয়েছে, মানুষের মৌলিক প্রয়োজন—যেমন খাদ্য বা জরুরি জীবিকার প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া বৈধ হতে পারে। কিন্তু ঋণকে হালকাভাবে নেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে পরিশোধ না করা বড় অন্যায়।

হাদিসে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ ﷺ কোনো ব্যক্তির জানাজা পড়ানোর আগে জিজ্ঞেস করতেন তার কোনো ঋণ আছে কি না। যদি ঋণ থাকত এবং কেউ সেই ঋণের দায়িত্ব নিত না, তখন তিনি কখনো কখনো জানাজা পড়াতেন না—যাতে মানুষ ঋণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।

এর মাধ্যমে আমাদের জন্য বড় শিক্ষা হলো—
ঋণ নেওয়ার আগে সতর্ক হওয়া এবং ঋণ নিলে তা পরিশোধ করার ব্যাপারে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল থাকা।

কারণ ঋণ মানুষের উপর শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও একটি গুরুতর দায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

Address

Sopno Neer
Kushtia
7000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Islam for life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Place Of Worship

Send a message to Islam for life:

Share