02/09/2022
সাধুসঙ্গে হরিনামের গুরুত্ব।
জড় সুখ ভোগের বাসনাই সমস্ত প্রকার দুঃখ-দুর্দশার কারণ। বুদ্ধিমান ব্যক্তির জড় ইন্দ্রিয় সুখ ভোগের বাসনা জাগরিত করার পরিবর্তে সর্বদা পরমেশ্বর ভগবান এবং তাঁর প্রেমী ভক্তদের প্রেমময় সেবার বাসনা জাগরিত করা উচিত। তার ফলে তিনি কৃপা লাভ করবেন এবং ভক্তি জাগরিত হবে।
যদি কোনো ভাগ্যবান ব্যক্তি ভগবানের স্বরূপ- শক্তির প্রকাশ সাধু-ভক্তগণের বা শুদ্ধ ভক্তদের, প্রেমী ভক্তদের অহৈতুকী কৃপা লাভ করেন, তাহলে তাঁর জীবন ধারা সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়। নতুবা জীবন ধারা পরিবর্তন হবে না।
যার জড় সংসারে প্রতি অত্যধিক আসক্তি বর্ধিত হয়েছে, তার জড় বিষয় ভোগের প্রতিও আসক্তি প্রবল রয়েছে। তাই তার শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করা উচিত, "হে প্রভু! কৃপা করে আমার জড় বিষয় ভোগের আসক্তি আপনার শ্রীপাদপদ্মে আসক্তিতে রূপান্তরিত করে দিন।" এ হলো পরিবর্তন বা রূপান্তরের কথা। কিন্তু তা কেবল শুদ্ধ ভক্ত বা প্রেমী ভক্তের সঙ্গের ফলে এবং তাঁদের অহৈতুকী কৃপাবলে সম্ভবপর হয়।
জড় বৈজ্ঞানিকেরা বহু আশ্চর্যজনক জিনিস সব উদ্ভাবন ও আবিষ্কার করেছেন। তাঁরা যে সমস্ত জিনিস উদ্ভাবন ও আবিষ্কার করেছেন, তাতে প্রকৃত মঙ্গল বলে কিছু আছে কি? প্রকৃত শুভ কিছু আছে কি? কিছুই নেই। কেবল দুঃখই আছে। জড় বৈজ্ঞানিকের কেবলই আহার, নিদ্রা, ভয় ও মৈথুনের সুন্দর ব্যবস্থা করতে সর্বদা চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তাতে জনগণকে সুখী করাতে পারছেন না।
তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বলেছেন –
"যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখযোনয় এব তে।
আদাস্তবস্তঃ কৌস্তের ন তেষু রমতে বুধঃ।। (গীতা ৫/২২)
“বিবেকমান পুরুষ দুঃখের কারণ যে ইন্দ্রিয়জাত বিষয়ভোগ তাতে আসক্ত হন না। হে কৌন্তেয়! এই ধরণের সুখভোগ আদি ও অস্তবিশিষ্ট। তাই জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাতে প্রীতি লাভ করেন না।”
শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে যে জড় ইন্দ্রিয় সুখভোগ হয় তা কেবল চপল সুখ, এবং তার পরিণামই কেবল অনন্ত দুঃখ। জড় বৈজ্ঞানিকেরা অনেক অতি আশ্চর্যজনক জিনিস উদ্ভাবন ও আবিষ্কার করতে পারেন, কিন্তু তবুও তারা এই দুঃখ দূর করতে পারেন না। তাঁদের পরিকল্পনার দ্বারা যে মানুষ সুখ, শান্তি ও আনন্দ লাভ করতে পারে এ আশা নেই। একজন সাধুর কাছে উপনীত হয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি সর্বদা তাঁর সঙ্গ করবেন—এটাই একমাত্র উপায়। তিনি উদ্বিগ্নভাবে সর্বদা চিন্তা করবেন, “ওঃ, কোথায় সেই সাধুসঙ্গ? আমি কিভাবে সেই সঙ