01/09/2026
ইসলাম কি শান্তির ধর্ম? (পর্ব ১)
কুরআন পড়ে বিভিন্ন সময়ে ইসলাম বলতে আমি যেটা পেয়েছি সেটা হচ্ছে সব কিছুর স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালার কাছে আত্মসমর্পণ এবং তাঁর বান্দা (দাস) হিসেবে তাঁর প্রতি অসীম আনুগত্য।
আল্লাহ তায়ালা পূর্বেও যাদেরকে কিতাব দিয়েছেন (খ্রিস্টান, ইহুদি বা অন্যান্য) তাদের প্রতিও একই নির্দেশ ছিল যে তোমরা তোমাদের স্রষ্টা আল্লাহর জীবন-বিধানকে মেনে নাও এবং তাঁর মাহাত্ম্য সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দাও। আর আল্লাহই হচ্ছেন আহকামুল হাকিমিন বা সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক যার হাতে রয়েছে ইনসাফের সর্বোৎকৃষ্ট মানদন্ড। দুনিয়ায় যে কোন অন্যায়-অত্যাচার, খুন-রাহাজানির শাস্তির ব্যবস্হা থাকলেও সেটা সবসময় ক্ষতি হওয়া ব্যক্তি বা বস্তুকে পূর্বের অবস্হায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম না। দুনিয়ার বিচারকদের বিচার সবসময় ক্ষতির পরিমাণ পুষিয়ে নিতে যথেষ্ঠ হয়না; কিংবা সব অন্যায়ের বিচার করতেও তারা সক্ষম না কারণ তাদের দৃষ্টিকে ফাঁকি দেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু আহকামুল হাকিমিনের কাছে দুনিয়ায় সর্বোৎকৃষ্ট ন্যায়ের মানদন্ড ইসলাম থাকলেও, অমিমাংসিত বিচারের একটা অংশ তিনি পরকালের জন্য রেখে দিয়েছেন। যেখানে কারোও পক্ষে কোন প্রকার ফাঁকি দেওয়ার কোন সুযোগই নেই।
একটা মানুষের মনে যখন দুনিয়ার শাস্তি ও আখিরাতের আযাবের ভয় থাকবে তখন অপরাধী ব্যক্তি বা যারা অপরাধের পথে অগ্রগামী তারা ধীরে-ধীরে তাঁদের স্রষ্টাকে ভয় করে অবশ্যই শান্তির পথে ফিরে আসবে। অবশ্যই তাঁরা ফিতনা থেকে ফিরে আসবে যদি তাঁরা ভয় করে আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত, মাশরেক থেকে মাগরেব পর্যন্ত সারা জাহানের একচ্ছত্র অধিপতি, রাজাধিরাজ মহান আল্লাহকে ভয় করে।
তাই দুনিয়ার যে প্রান্তই পতনের লাঞ্চনামুক্ত হাকান মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ছায়ায় আশ্রয় নিবে তারাই শান্তিতে থাকবে দুনিয়া ও আখিরাতে। সেজন্যই ইসলামকে অনেক সময় শান্তির ধর্ম বলা হয়।