20/05/2026
যেই ছোট ভাইয়েরা সদ্য ইউনিভার্সিটিতে পদার্পণ করেছেন বিশেষ করে ২৬ ব্যাচ, এবং ভার্সিটি জীবনে দ্বীন মেনে চলতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য -
প্রিয় ভাই, যা যা বলতে চাই -
(১) Institutional Pride এই জিনিসটা বাহ্যিক ভাবে আপনার কাছে খারাপ মনে হবে না। একটা জায়গায় কষ্ট করে ত্যাগ স্বীকার করে আপনি একটা স্থান অর্জন করেছেন - আপনার মনে হতেই পারে যে এই জায়গার প্রতি আপনার অধিকার আছে, তাই একটা pride চলে আসাটা দোষের কিছু নাও হতে পারে। আসলে এই ব্যাপারগুলো হয়তো একদিনে ঘটে না। ধীরে ধীরে আপনার অন্তরকে Biased করে ফেলবে। আপনি যদি দ্বীন মানতে চান তাহলে সরাসরি কথা এরকমই যে, যেই প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত সহশিক্ষার দোহাইতে হারামে ভরপুর অন্তত সেই জায়গাটাকে আপনি অনেক বেশি ভালোবেসে না ফেলেন। আর যদি সম্ভব হয় কোনো ধরনের আবেগ না রাখা। এটাই উত্তম পন্থা হতে পারে। আল্লাহু আ'লাম।
(২) নিজের অবস্থানকে পরিষ্কার করা একদম প্রথম দিন থেকেই। বিভিন্ন ধরনের মানুষ ভার্সিটির আঙিনায় আসেন। বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ এর হাতছানি। গায়রে মাহরাম এর সাথে অবাধ মেলামেশা। তাই, আপনি যদি প্রথম দিন থেকেই গায়রে মাহরাম, অহেতুক আড্ডা, গানবাজনার আসর এসব থেকে দূরে দূরে থাকেন - তাহলে আপনার ভিত্তি মজবুত হবে। পরক্ষণে কখনো ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল এর ও সুযোগ থাকেনা তাহলে ইন শা আল্লাহ।
(৩) প্রশ্ন আসতে পারে - অবস্থান পরিষ্কার এর উপায় কী? আমার কাছে সহজ উত্তর - লিবাস এর পরিবর্তন। লিবাস আপনাকে এমন অনেক হারাম থেকে দূরে রাখতে সক্ষম ইন শা আল্লাহ যা আপনি ভাবতেও পারেন না। অন্তত আর কিছু না হোক, নজরের হিফাজত এর ক্ষেত্রে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে ইন শা আল্লাহ। প্রিয় ভাই, টুপি-পাঞ্জাবী পরে দুনিয়ার তথাকথিত স্মার্ট পুরুষ তকমা নাহলে নাই বা পেলেন, জান্নাতে একটা উঁচু মাকাম আপনার হোক, ইন শা আল্লাহ।
(৪) গায়রে মাহরাম এর ক্ষেত্রে ZERO TOLERANCE. আমি এভাবে বলতে চাই যে - একটা কলম ও পাস করতে গিয়ে ফিতনায় পড়ার দরকার নাই। জ্বি, এতোটাই স্ট্রিক্ট হতে পরামর্শ দিতে চাই, প্রিয় ভাই। আমার ব্যক্তিগত ভাবে অভিজ্ঞতা বলে, সকল ফিতনার চাইতে ভার্সিটি জীবনে এই ফিতনাটা সবচেয়ে মারাত্মক। একজন ছেলে যে দ্বীন মানতে চায়, তার এতোটুকু গায়রত থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি, ইন শা আল্লাহ।
(৫) ভার্সিটি ক্যাম্পাসে নজরের হিফাজত - নিদারুণ কষ্টের কাজ। সবচেয়ে বড় সংগ্রামগুলোর একটি। আল্লাহ তাআলা আমাদের হিফাজত করুন। ভার্সিটিতে যদি নজরের খিয়ানতে আটকে পড়েন, এর থেকে বের হওয়া মুশকিল বেশ। প্রচুর দুআ প্রয়োজন। পরামর্শ থাকতে পারে, ভাইয়েরা যারা দ্বীন মেনে চলতে ইচ্ছুক, তারা যদি ঈমানী মুজাকারার সাথে সম্পৃক্ত থাকে - তাহলে ঈমান মজবুত হওয়ার পাশাপাশি এই সবকিছু সহজ হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ।
(৬) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - দ্বীনী কোনো পরিবেশ বা খিদমতের সাথে যুক্ত থাকা। নিজে বেশি খিদমত করতে না পারলেও উত্তম সঙ্গ ও পরিবেশ ছিল/আছে আলহামদুলিল্লাহ। ভার্সিটি জীবনে প্রবেশ করলেই এমন খিদমতের পরিবেশ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, ভাই। উত্তম সঙ্গ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন এবং প্রচুর দুআ করে যান এখনি, ইন শা আল্লাহ আল্লাহ তাআলা কবুল করবেন।
(৭) জামাতে নামায আদায়- কখনোই জামাত ছেড়োনা। যেকোন ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ই জামাতে আদায় করার চেষ্টা করো। পরে বাসায়/রুমে পড়ে নিব এরকম চিন্তা কখনোই করোনা। তুমি যতদিন জামাতের ব্যাপারে সচেতন থাকবে ততদন মসজিদের সাথে তোমার সম্পর্ক টিকে থাকবে। তোমার সবকিছুই জামাতের সময়কে কেন্দ্র করে গোছানো থাকবে। এছাড়া তুমি না চাইতেও মসজিদে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমেও খুজে পাবে উত্তম সঙ্গ।
কখনে কখনো আমাদের কোন কোন ডিসিপ্লিনে লাঞ্চ টাইমে ক্লাস /সিটির সময় দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে আগে CR বা টিচারের সাথে সময় পরিবর্তনের কথা বলে নিতে পারো। অনেকসময় এটা পরিবর্তন সম্ভব হয়না, তখন ক্লাসের পর ২/৩ জন বন্ধু মিলে জামাতে আদায় করার চেষ্টা করো, তাও জামাত ছেড়োনা।
(৮) ডেস্পারেটলি দুআ করা - এটাকে আমি বলি ডেস্পারেটলি দুআ করা কারণ আসলে ভার্সিটি উত্তম কোন জায়গা না, আমার ভাই। আমার চোখে, সবচেয়ে বেশি গুনাহের সুযোগ যেই কতগুলো জায়গায় বিদ্যমান তার মধ্যে একটি - ভার্সিটি ক্যাম্পাস। তাই, নিজেকে হিফাজত করতে হলে প্রচুর দুআ প্রয়োজন। অনেক বেশি৷ অক্লান্ত দুআ প্রয়োজন।
শেষমেশ, খুব জেনারালাইজ করে লিখেছি আলহামদুলিল্লাহ। আমি সাধারণ একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র বলতে পারি ইন শা আল্লাহ, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং এ ল্যাব-গ্রুপ এসব এর আরো বিষয় আছে। সেটা অনেক লম্বা আলোচনা। তাই বেসিক কথা লিখার চেষ্টা করেছি আলহামদুলিল্লাহ। অনেক পয়েন্ট বলার আছে এখনো। এমন না যে, শুধু ফিতনার কথাই বলা উচিত - কিছু মানুষ পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ যারা আপনাকে আল্লাহর কথা মনে করায়, আলহামদুলিল্লাহ। আর যদি সেটা না পেয়ে থাকেন, তাহলে ডেস্পারেটলি দুআ, ইন শা আল্লাহ।
যা আমল করতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ, তার উপর লিখেছি। আল্লাহ তাআলা শেষ পর্যন্ত অটল থাকার তাওফিক দিন। রিয়া থেকে মাফ করুন।
অবশেষে দুআ একটাই বারবার -
يَامُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلَى دِيْنِكَ
হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন ৷
আল্লাহুম্মা আমীন।
মূল লেখা: Rajshahi University Dawah Community
সামান্য পরিমার্জিত।