30/05/2026
মুফতি কে? মৌ-লোভীরা কি মুফতি? ওদের কে দিয়েছে এই খেতাব? কুরআনে এসব মুশরিক মুফতিদের স্বীকৃতি বা অনুমোদন কোথায়??
আসুন, দেখি কুরআনে কাকে মুফতি বলা হয়েছে।
وَيَسْتَفْتُوْنَكَ فِي النِّسَآءِ ؕ قُلِ اللّٰهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ ۙ وَمَا يُتْلٰي عَلَيْكُمْ فِي الْكِتٰبِ فِيْ يَتٰمَي النِّسَآءِ الّٰتِيْ لَاتُؤْ تُوْنَهُنَّ مَا كُتِبَ لَهُنَّ وَتَرْغَبُوْنَ اَنْ تَنْكِحُوْهُنَّ وَالْمُسْتَضْعَفِيْنَ مِنَ الْوِلْدَانِ ۙ وَاَنْ تَقُوْمُوْا لِلْيَتٰمٰي بِالْقِسْطِ ؕ وَمَا تَفْعَلُوْا مِنْ خَيْرٍ فَاِنَّ اللّٰهَ كَانَ بِهٖ عَلِيْمًا
তারা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সমাধান চায়। বল, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন এবং সমাধান দিচ্ছে ঐ আয়াতসমূহ যা কিতাবে তোমাদেরকে পাঠ করে শুনানো হয় ইয়াতীম নারীদের ব্যাপারে। যাদেরকে তোমরা প্রদান কর না যা তাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, অথচ তোমরা তাদেরকে বিবাহ করতে আগ্রহী হও। আর দুর্বল শিশুদের ব্যাপারে ও ইয়াতীমদের প্রতি তোমাদের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে। আর তোমরা যে কোন ভালো কাজ কর, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত।
(আন নিসা ৪:১২৭)
লক্ষ্য করুন, আয়াতের প্রথমে আল্লাহ বলছেন, রাসূলের উদ্দেশ্য 'তারা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সমাধান চায়'।
এই সমাধান বা ব্যবস্থা-ই হলো ফতোয়া। আল্লাহ বলছেন,
قُلِ اللّٰهُ يُفْتِيْكُمْ فِيْهِنَّ
'বল, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন'
'ক্বুলিল্লাহু ইউফতিকুম ফীহিন্না'
অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই ব্যবস্থা দিচ্ছেন বা সমাধান দিচ্ছেন। এটাই ফতোয়া।
রাসূলের কি ফতোয়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে আয়াতে? স্বয়ং আল্লাহ ফতোয়া দিচ্ছেন। যেখানে রাসূলের-ই ফতোয়া দেওয়ার এখতিয়ার বা ক্ষমতা আল্লাহ দেন নাই, সেখানে এই সব মুশরিক মৌ-লোভীরা তো দূর কী বাত!!
কুরআনে আল্লাহ স্বয়ং ফতোয়া দেওয়ার একমাত্র মালিক। না নাবী, না রাসূল বা অন্য কোনো ওলী বা, আওলীয়া।
অথচ, এই মৌ-লোভীরা নিজেদের মুফতি দাবি করছে। কতো বড় ধৃষ্টতা এদের!! চিন্তা করেছেন? এদের-ই আপনি আমি ধর্মের ঝান্ডাধারী ভেবে বসে আছি।
এরা ফতোয়া তো দেয়-ই তাও আবার কুরআন থেকে নয়, আজগুবি শরীফ থেকে। যার কোনো সত্যতার স্বীকৃতি আল্লাহ বা রাসূলের পক্ষ থেকে নেই। এরাই ইসলামের রক্ষক?
এও কি সম্ভব!! এরা তো আল্লাহর বিধান লঙ্ঘনকারী কাফির!!
আরো আয়াত দেখি চলুন -
يَسْتَفْتُوْنَكَ ؕ قُلِ اللّٰهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلٰلَةِ ؕ اِنِ امْرُؤٌا هَلَكَ لَيْسَ لَهٗ وَلَدٌ وَّلَهٗۤ اُخْتٌ فَلَهَا نِصْفُ مَا تَرَكَ ۚ وَهُوَ يَرِثُهَاۤ اِنْ لَّمْ يَكُنْ لَّهَا وَلَدٌ ؕ فَاِنْ كَانَتَا اثْنَتَيْنِ فَلَهُمَا الثُّلُثٰنِ مِمَّا تَرَكَ ؕ وَاِنْ كَانُوْۤا اِخْوَةً رِّجَالًا وَّنِسَآءً فَلِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَيَيْنِ ؕ يُبَيِّنُ اللّٰهُ لَكُمْ اَنْ تَضِلُّوْا ؕ وَاللّٰهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيْمٌ
তারা তোমার কাছে সমাধান চায়। বল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন ‘কালালা’* সম্পর্কে। কোন ব্যক্তি যদি মারা যায় এমন অবস্থায় যে, তার কোন সন্তান নেই এবং তার এক বোন রয়েছে, তবে সে যা রেখে গিয়েছে বোনের জন্য তার অর্ধেক, আর সে (মহিলা)যদি সন্তানহীনা হয় তবে তার ভাই তার উত্তরাধিকারী হবে। কিন্তু যদি তারা (বোনেরা) দু’জন হয়, তবে সে যা রেখে গিয়েছে তাদের জন্য তার দুই তৃতীয়াংশ। আর যদি তারা কয়েক ভাই বোন পুরুষ ও নারী হয়, তবে পুরুষের জন্য দুই নারীর অংশের সমান হবে’। আল্লাহ তোমাদেরকে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, যাতে তোমরা পথভ্রষ্ট না হও এবং আল্লাহ প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সর্বজ্ঞ’।
(আন নিসা ৪:১৭৬)
* যার পিতা মাতা জীবিত নেই এবং যে সন্তানহীন তাকে ‘কালালা’ বলা হয়।
এখানেও লক্ষ্য করুন, আল্লাহ বলেছেন, 'তারা তোমার কাছে সমাধান চায়। বল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন ‘কালালা’ সম্পর্কে'।
قُلِ اللّٰهُ يُفْتِيْكُمْ فِي الْكَلٰلَةِ ؕ
অর্থাৎ আল্লাহ রাসূলের উদ্দেশ্যে বলছেন, তারা তোমার কাছে সমাধান চায় মানে 'ফতোয়া' চায়। আল্লাহ রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, 'বল, আল্লাহ তোমাদেরকে সমাধান দিচ্ছেন' يُفْتِيْكُمْ 'ইয়ুফতিকুম' তার মানে হলো স্বয়ং আল্লাহ কুরআনে ফতোয়া দিচ্ছেন। রাসূল নয়। রাসূলের অনুমতি বা আদেশ ছিলো না ফতোয়া দেওয়ার। এটা একমাত্র আল্লাহর এখতিয়ার।
নাবী, রাসূল, ওলী, আওলীয়া, মুফতি, মাওলানা কারোই ক্ষমতা আল্লাহ দেন নাই ফতোয়ার ব্যপারে।
আর এই মুশরিক মৌ-লোভীরা দাবি করে তারা মুফতি, তারা ফতোয়াদাতা? এরা কি আল্লাহকে মানে? মানলে এই নিরংকুশ আল্লাহর ক্ষমতা নিয়ে টানাটানি করতে পারতো? এরা তো কাফির, মুশরিকদের থেকেও অধম! নিকৃষ্ট!! এরাই হলো শায়াতীন। উলামায়ে শায়াতীন।
প্রিয় দ্বীনি ভাই বোনেরা চোখ খুলুন, জাগুন কুরআন খুলে দেখুন, বুঝুন ও আল্লাহর আয়াত নিয়ে বেশি বেশি চিন্তা ভাবনা করুন।
অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করবেন না। আল্লাহ-ও আমাদের অন্ধ বিশ্বাস চান না। তিনি বলেন, কুরআন পড়, বুঝো, চিন্তা ভাবনা কর। শুধু তাই নয়, বলেছেন, গবেষণা কর আল্লাহর আয়াত নিয়ে। তাদাব্বূর কর। যার অর্থ গবেষণা কর। সুতরাং কারো প্রতিই অন্ধভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা যাবে না।
আমার কথাও মানবিক কারণে ভুল হতে পারে। তাই আমাকে নয়, মানুন আল্লাহর বিধান ও ওহীর কিতাব কুরআন-কে।
ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।
সালামুন আলাইকুম ❤️ ❤️ ❤️
সবার জন্য শান্তি ও শুভ কামনা।
#আল্লাহ #কুরআন #ইসলাম #মুসলিম #নবী #রাসূল