01/08/2023
আল্লাহর রাগ কমে যেসব কাজে:
🍀গোপন সদকা: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় গোপন সদকা রবের ক্রোধকে প্রশমিত করে’ (তাবারানি: ১০১৮; তারগিব: ৮৮৮)
🍀মা-বাবাকে সন্তুষ্ট করা: আল্লাহ রাসুল (ﷺ) ইরশাদ করেন, মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি আর মা-বাবার অসন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। (তিরমিজি: ১৮৯৯)
🍀বেশি বেশি দোয়া করা: আল্লাহর অসন্তুষ্টি দূর করে দোয়া। কেননা আল্লাহর কাছে না চাওয়ার অর্থ নিজেকে স্বনির্ভর দাবি করা। এটি অনেকটা শিরকের নামান্তর। যারা দোয়া করে না এমন মানুষের প্রতি আল্লাহ খুবই অসন্তুষ্ট হন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘যে আল্লাহকে ডাকে না আল্লাহ তার প্রতি ক্রোধান্বিত হন।’ (তিরমিজি: ৩৩৭৩) সুতরাং বান্দা কায়মনোবাক্যে দোয়া করলে আল্লাহর রাগ কমে যায়। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মহান আল্লাহর কাছে দোয়ার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো কিছু নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৩৮২৯)
🍀মানুষকে দয়া করা: রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা দয়ালুদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা জমিনে যারা বসবাস করছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (সুনানে আবি দাউদ: ৪৯৪১)
🍀মানুষের ওপর রাগ না করা: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে পরহেজগারদের জন্য। যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে, বস্তুত আল্লাহ সৎকর্মশীলদেরকেই ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৩৪)
নবীজি (ﷺ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ক্রোধ চরিতার্থ করার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা সংবরণ করে, আল্লাহ তাকে কেয়ামতের দিন সমগ্র সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং জান্নাতের যেকোনো হুর নিজের ইচ্ছামতো বেছে নেওয়ার অধিকার দান করবেন।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৬)।
প্রিয়নবী (ﷺ) আরও বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার ক্রোধ সংবরণে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কিছুতে নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)
🍂আমরা অনেক সময় মনে মনে এটা বলি যে আল্লাহ বোধহয় আমার উপর রেগে আছেন। এমনটা অনুভব করব না। কারণ আল্লাহর উপর সুধারণা করা কথা রাসূল (ﷺ) এর নির্দেশ। আর আপনি এটা নিশ্চিত থাকুন, সত্যিকারে আল্লাহর ক্রোধে পড়া ব্যাক্তির অন্তর কখনো আল্লাহর স্মরণ কিংবা আল্লাহর প্রতি ভয় কাজ করে না। আপনি এটা নিয়ে পেরেশান যে আল্লাহ আপনাকে নিয়ে ফায়সালা করছেন এটাই প্রমাণ করে যে আপনি কিছুটা হলেও হিদায়াতের পথে আছেন। তাই বেশি বেশি এই আমল গুলো করতে থাকুন...সাথে ইস্তেগফার।