14/06/2024
প্রকৃত বৈষ্ণব কে?
"বেদবিদ্যানুরক্তা যে বিপ্রভক্তিরতাঃ সদা।"
"নপুংসকা পরস্ত্রীষু জ্ঞেয়াস্তে বৈষ্ণবা জনাঃ॥"
অর্থাৎ - যাহারা বেদবিদ্যানুরক্ত, সর্ব্ব বিপ্রভক্ত
ও পরদারবিমুখ তাহারাই বৈষ্ণবজন।।
–(পদ্মমহাপুরাণ, ক্রিয়াযোগসারঃ ২/৯০)।
নব্য বৈষ্ণব_এনারা 'বিপ্রভক্তিরতা' তো দূরের কথা ব্রাহ্মণদের অপদস্হ করতে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকেন এবং বর্ণাশ্রম মানেন না তাছারা কলির ব্রাহ্মণদের 'রাক্ষস' বানানোর জন্য ভুয়া শ্লোখ তৈরী করতেও এনারা ওস্তাদ।এনাদের লিখিত পুস্তকে পাওয়া যায়।
"কলিযুগে রাক্ষস সকল বিপ্রের ঘরে"
"জন্মিবেক সৃজনেরে হিংসা করিবারে"
ইত্যাদি বলে বরাহ পুরানের একটি খন্ডিতাংশ প্রয়োগ করে। সমাধান-অনুসন্ধানপূর্বক দেখা গিয়াছে বরাহ পুরানে ঐরকম কোন শ্লোখ অস্তিত নেই।যদি কলির ব্রাহ্মণ রাক্ষস হয়, তবে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রীমন্নিত্যানন্দ মহাপ্রভু, শ্রীঅদ্বৈত মহাপ্রভু, গদাধর, শ্রীবাস, শ্রীরুপ গোস্বামী, শ্রীসনাতন গোস্বামী, শ্রীজীব গোস্বামী প্রভৃতি প্রধান প্রধান বৈষ্ণবচার্য্যগণের পরিচয় কি? কারণ তাঁরা প্রত্যেকেই তো ব্রাহ্মণ সন্তান! সেজন্য প্রকৃত বৈষ্ণব সর্বদা বর্ণধর্মের পালন করবে এবং ব্রাহ্মণগণের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে চলবে।
ব্যাসদেব বলেছেনঃ–
"পাষণ্ডসঙ্গরহিতা বিপ্রদ্বেষবিবর্জ্জিতাঃ।"
"সিঞ্চেয়ুস্তুলসীং যে চ জ্ঞাতব্যা বৈষ্ণবা নরাঃ॥"
অর্থাৎ - যাঁহারা পাষণ্ডসঙ্গ করেন না। ব্রাহ্মণে যাহাদের দ্বেষ নাই,এবং যাঁহারা তুলসী তরু সেবা করেন,সেই নরগণকেই বৈষ্ণব বলিয়া জানিবে।
–(পদ্মমহাপুরাণ, ব্রহ্মখণ্ড ১/২৬)।
অথ চ যস্ত্বিহ বা আত্নসম্ভাবনেন স্বয়মধমো জন্মতপোবিদ্যাচারবর্ণাশ্রমবতো বরীযকো ন বহু মন্যেত স মৃতক এব মৃত্বা ক্ষারকর্দমে নিরয়েহবাক্ শিরা নিপাতিতো দুরন্তা যাতনা হ্যশ্নুতে।।
যে ব্যক্তি নিম্ন শ্রেনীতে জন্মগ্রহন করেও মিথ্যা অহংকারে জন্ম, তপস্যা, বিদ্যা, আচার, বর্ণ ও আশ্রম উৎকৃষ্ট পূজনীয় ব্যক্তির সম্মান না করে, সেই ব্যক্তি জিবন্নৃত। দেহান্তে তাহাকে ক্ষারকর্দম নামক নরকে অধোমুখ করিয়া নিক্ষেপ করা হয় এবং সেখানে তাকে দুরন্ত যাতনা ভোগ করিতে হয়।
ব্রাহ্মণের দ্বেষকারী ব্যক্তির ভগবানের আরাধনার কোন ফলই হয় না।
"যো বা কো বাপি বিপ্রেন্দ্র বিপ্রদ্বেষপরায়ণঃ।"
"যদ্যর্চ্চয়তি গোবিন্দং সা পূজা বিফলা ভবেৎ॥"
অর্থাৎ - ব্রাহ্মণ প্রতি দ্বেষ-পরায়ণ যে কোন ব্যক্তি, যদি ভগবান্ গোবিন্দের পুজা করে,তাহলে তা বিফল হয়।
তাই সাধু, সাবধান ❗