22/05/2026
কোটালীপাড়ায় কি আইনের শাসন নাকি উগ্রবাদের রাজত্ব?
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার পিঞ্জুরী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর মিঠু মন্ডলকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তা আমাদের বিবেককে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। তথাকথিত ‘ধর্ম অবমাননা’র মতো গুরুতর অভিযোগের আড়ালে একজন সাধারণ কর্মচারীকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে, তা পরিষ্কারভাবে একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।
সবচেয়ে বিস্ময়কর এবং ভীতিকর বিষয় হলো, জনরোষের অজুহাত দেখিয়ে মিঠু মন্ডলকে বাধ্য করা হয়েছে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে। যেখানে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করার কথা ছিল, সেখানে তারা কি কেবল উগ্রবাদী জনতাকে তুষ্ট করার জন্য একজন নিরপরাধ মানুষকে কোণঠাসা হতে দিল? এই ঘটনা কি প্রমাণ করে না যে, সংখ্যালঘু বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের বাঁচার অধিকার এখন সম্পূর্ণভাবে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল?
স্কুলের মতো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অসহিষ্ণুতা এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নগ্ন অপপ্রয়োগ আমাদের সমাজব্যবস্থার ভয়াবহ অবক্ষয়কেই তুলে ধরছে। এই পদত্যাগ কোনো স্বেচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়, এটি চূড়ান্ত পর্যায়ের নিপীড়ন এবং সামাজিক বিচারের নামে এক ধরণের আইনি আত্মহত্যার সামিল।
আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই—মিঠু মন্ডলের ওপর এই জুলুমের যথাযথ তদন্ত হোক। জনরোষের দোহাই দিয়ে কাউকে ক্যারিয়ার ধ্বংস করার অধিকার কি সমাজ বা রাষ্ট্র কাউকে দিয়েছে? এই নীরবতা কি তবে আরও বড় কোনো অশুভ শক্তির আস্ফালনকে প্রশ্রয় দিচ্ছে?