মাদরাসা আশারায়ে মুবাশশারাহ রাযিঃ

  • Home
  • Bangladesh
  • Khilgaon
  • মাদরাসা আশারায়ে মুবাশশারাহ রাযিঃ

মাদরাসা আশারায়ে মুবাশশারাহ রাযিঃ (অসচ্ছল ছাত্রদের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা)
উত্তর গোড়ান আদর্শবাগ,খিলগাঁও ঢাকা
নূরানী, নাজেরা, হিফজ বিভাগ

ইসলাম যেসব খেলাধুলাকে উৎসাহ দিয়েছেইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতি...
20/06/2026

ইসলাম যেসব খেলাধুলাকে উৎসাহ দিয়েছে

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রয়েছে এর সুন্দর ও সুষম দিকনির্দেশনা। আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতা, সক্ষমতা ও কর্মচাঞ্চল্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনাদর্শে এমন কিছু খেলাধুলা ও শারীরিক প্রশিক্ষণের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যা শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখতে সহায়তা করে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছয়টি হলো—

# # # 🎯 ১. তীরন্দাজি

তীরন্দাজি ছিল ইসলামের প্রারম্ভিক যুগের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রশিক্ষণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ তীর নিক্ষেপ শেখার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং এটিকে মর্যাদাপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

**হাদিসে এসেছে:**
“তোমরা তীর নিক্ষেপ করো এবং অশ্বারোহণ করো; তবে তোমাদের তীর নিক্ষেপ করাই আমার কাছে অধিক প্রিয়।”
📖 সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৮

# # # 🐎 ২. ঘোড়দৌড়

ঘোড়া ছিল সে সময়ের প্রধান বাহন এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির অন্যতম মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।

**হাদিসে এসেছে:**
হজরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) বলেন, “রাসুলুল্লাহ ﷺ ঘোড়াগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন।”
📖 সহীহ বুখারি, হাদিস: ২৮৭০

# # # 🏊 ৩. সাঁতার শিক্ষা

সাঁতার একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা। ইসলাম উপকারী জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ অর্জনে উৎসাহ প্রদান করে।

**হাদিসে এসেছে:**
“আল্লাহর স্মরণবিহীন সব কিছুই অনর্থক, তবে কিছু বিষয় ব্যতীত; তার মধ্যে রয়েছে সাঁতার শিক্ষা।

📖 সুনানে নাসাঈ, হাদিস: ৮৯৪০

# # # 🏃 ৪. দৌড় প্রতিযোগিতা

ইসলাম বৈধ বিনোদন ও পারিবারিক সৌহার্দ্যকে উৎসাহিত করে। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেও এ বিষয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

**হজরত আয়েশা (রা.) বলেন:**
“রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছিলেন। তখন আমি তাঁকে হারিয়ে দিয়েছিলাম।”
📖 সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮

# # # 🤼 ৫. মল্লযুদ্ধ (কুস্তি)

কুস্তি শক্তি, সহনশীলতা ও আত্মরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সীরাতের বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ ﷺ মক্কার প্রসিদ্ধ মল্লযোদ্ধা রুকানাকে কুস্তিতে পরাজিত করেছিলেন।

**রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:**
“শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।”
📖 সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৬৪

# # # 🎯 ৬. লক্ষ্যভেদ

যে খেলাধুলা মানুষের দক্ষতা, মনোযোগ ও আত্মরক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ইসলাম সেগুলোকে উৎসাহিত করেছে। লক্ষ্যভেদ ও যুদ্ধ প্রস্তুতির বিভিন্ন অনুশীলন এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।

**হাদিসে এসেছে:**
“নিশ্চয়ই আল্লাহ একটি তীরের মাধ্যমে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন— তীর প্রস্তুতকারী, তীর নিক্ষেপকারী এবং যে তাকে সহযোগিতা করে।”
📖 জামে আত-তিরমিজি, হাদিস: ১৬৩৭

**ইসলাম শুধু ইবাদতের ধর্ম নয়; এটি সুস্থ, শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন গঠনেরও শিক্ষা দেয়। তাই একজন মুমিনের উচিত আত্মিক উন্নতির পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম রাখার প্রতিও যত্নবান হওয়া।**

✍️ সূত্র: ইনসাফ২৪।

এক রাতে এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে খাবারের আবেদন করলেন।নবীজি ﷺ তাঁর ঘরে খবর পাঠালেন, কিছু খাবার আছে ...
15/06/2026

এক রাতে এক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে এসে খাবারের আবেদন করলেন।

নবীজি ﷺ তাঁর ঘরে খবর পাঠালেন, কিছু খাবার আছে কি না।

উত্তর এলো—

**“পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।”**

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবীদের দিকে তাকিয়ে বললেন,

**“কে আছো, যে আজ এই মেহমানকে নিজের ঘরে নিয়ে আপ্যায়ন করবে?”**

একজন আনসারী সাহাবী সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। তিনি ছিলেন **আবু তালহা আনসারী (রা.)**।

তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন এবং স্ত্রীকে বললেন,

“আজ আমাদের ঘরে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর একজন মেহমান এসেছেন।”

স্ত্রী কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন,

“ঘরে তো শুধু বাচ্চাদের জন্য রাখা সামান্য খাবারটুকুই আছে।”

সাহাবী বললেন,

“খাবার প্রস্তুত করো। আর বাচ্চারা চাইলে তাদের স্নেহ করে ঘুম পাড়িয়ে দাও।”

খাবার সামনে আনা হলো।

এরপর স্ত্রী বাতি ঠিক করার অজুহাতে সেটি নিভিয়ে দিলেন।

ঘর অন্ধকার হয়ে গেল।

মেহমান যেন বুঝতে না পারেন, তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই খাওয়ার ভান করতে লাগলেন। মুখে এমন শব্দ করছিলেন, যেন তারাও খাবার খাচ্ছেন।

কিন্তু বাস্তবে—

তারা নিজেরা এক লোকমাও খেলেন না।

পুরো খাবারটুকুই মেহমানের জন্য ছেড়ে দিলেন।

সেই রাত তারা ক্ষুধার্ত অবস্থায় কাটালেন, কিন্তু তাদের কাছে নিজের ক্ষুধার চেয়ে একজন মেহমানের সম্মান অনেক বেশি মূল্যবান ছিল।

পরদিন সকালে সেই সাহাবী রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর কাছে গেলে নবীজি ﷺ তাঁকে সুসংবাদ দিলেন।

তিনি বললেন,

**“গত রাতে তোমরা যা করেছ, আল্লাহ তা দেখে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।”**

আর এই ঘটনা উপলক্ষে নাজিল হয় পবিত্র কুরআনের সেই বিখ্যাত আয়াত—

> **“তারা নিজেদের অভাব থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়। আর যাদেরকে অন্তরের কৃপণতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফল।”**
>
> — সূরা হাশর, আয়াত ৯

কী আশ্চর্য!

কোনো জনসমাবেশ ছিল না,
কোনো প্রশংসাকারী ছিল না,
কোনো ক্যামেরা ছিল না।

ছিল শুধু একটি অন্ধকার ঘর,
একজন ক্ষুধার্ত মেহমান,
আর দুটি হৃদয়—যারা আল্লাহর সন্তুষ্টিকে নিজেদের প্রয়োজনের চেয়েও বড় মনে করেছিল।

আমরা অনেক সময় ভাবি, বড় কোনো কাজ করলেই হয়তো আল্লাহর কাছে প্রিয় হওয়া যায়।

কিন্তু এই ঘটনা শেখায়—

লোকচক্ষুর আড়ালে করা একটি ছোট ত্যাগ, একটি নিঃস্বার্থ দান, একটি আন্তরিক ইখলাস—এতটাই মূল্যবান হতে পারে যে তার প্রশংসায় কুরআনের আয়াত নাজিল হয়।

**প্রকৃত ঈমানের সৌন্দর্য এখানেই—নিজের প্রয়োজন থাকলেও অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া, আর সবকিছু শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা।**

📖 তথ্যসূত্র: **সহীহ বুখারী**, হাদিস নং ৩৭৯৮।

#ইসলামি_শিক্ষা #ইসলামের_ইতিহাস #মাদরাসা #মুসলিমবীর #বাংলার_ইসলামি_ইতিহাস

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রভাবশালী খলিফা হারুনুর রশিদ (রহ.) একবার হজের সফরে বের হলেন। রাস্তার পাশে একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর ...
14/06/2026

আব্বাসীয় খিলাফতের প্রভাবশালী খলিফা হারুনুর রশিদ (রহ.) একবার হজের সফরে বের হলেন। রাস্তার পাশে একটি আবর্জনার স্তূপের ওপর বসা এক ব্যক্তিকে দেখে তিনি তাঁর কাফেলা থামালেন। লোকটি ছিলেন প্রখ্যাত আরেফ বিল্লাহ বহলুল (রহ.), যাঁর গভীর আধ্যাত্মিকতা দেখে সাধারণ মানুষ তাঁকে ‘পাগল’ মনে করত।

খলিফার দেহরক্ষীরা যখন রাস্তা পরিষ্কার করার জন্য চিৎকার করছিল, তখন বহলুল (রহ.) খলিফাকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন, “হে আমিরুল মুমিনীন! হে আমিরুল মুমিনীন!”

খলিফা পর্দার আড়াল থেকে মুখ বের করে বিনীতভাবে বললেন, “বলুন বহলুল, আমি উপস্থিত।”

বহলুল (রহ.) তখন খলিফাকে উদ্দেশ্য করে বললেন—

“আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর ব্যাপারে জেনেছি যে, তিনি অত্যন্ত সাধারণ একটি উটে করে চলতেন, যে উটের ওপর কোনো দামি জিন বা সাজসজ্জা ছিল না।

তিনি চলার পথে কাউকে ধমক দিতেন না বা সরানোর জন্য জবরদস্তি করতেন না। আর আজ আপনার এই রাজকীয় জাঁকজমক কি আল্লাহর সামনে আপনার মর্যাদাকে বাড়িয়ে দেবে? মনে রাখবেন, বিনয়ী হওয়াই খলিফার জন্য বড় গুণ।”

এই কথা শুনে খলিফা হারুনুর রশিদ ঘোড়া থেকে নেমে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি বললেন, “হে বহলুল! আমাকে আরও কিছু উপদেশ দিন।”

বহলুল (রহ.) তখন খলিফার চোখের দিকে তাকিয়ে অসামান্য এক কবিতা আবৃত্তি করলেন—

“ধরে নিন পুরো পৃথিবীটাই আপনার হাতের মুঠোয় এসে গেল এবং সব মানুষ আপনার অনুগত হলো, কিন্তু তাতে কী লাভ?

কাল তো আপনার ঠিকানা হবে ওই অন্ধকার কবরের গর্ত!

আজ যে দেহের এত যত্ন করছেন, কাল সেখানে কেবল মাটি আর মাটি হবে।”

খলিফা আবার ডুকরে কেঁদে উঠলেন। তিনি বহলুলকে জিজ্ঞেস করলেন, “হে বহলুল! আপনার কি কোনো কিছুর প্রয়োজন আছে? আমি কি আপনার ঋণের বোঝা মিটিয়ে দিতে পারি?”

বহলুল (রহ.) মুচকি হেসে অসামান্য এক কথা বললেন—

“হে খলিফা! আপনি কি মানুষের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের টাকা দিয়ে আমার ঋণ শোধ করতে চান? ঋণ দিয়ে কি কখনো ঋণ শোধ করা যায়? আপনি বরং মানুষের হক মানুষের কাছে ফিরিয়ে দিন, আর নিজের গুনাহের হিসাব নিজে দিন।”

খলিফা তখন বললেন, “আমি কি আপনার জন্য কোনো স্থায়ী ভাতার ব্যবস্থা করে দেব?”

বহলুল (রহ.) আকাশের দিকে ইশারা করে বললেন—

“যিনি আপনাকে রিযিক দেন, তিনি কি আমাকে ভুলে গেছেন যে, আমার জন্য আপনার ভাতার প্রয়োজন হবে?”

প্রকৃত ক্ষমতা বা জাঁকজমক চিরস্থায়ী নয়। মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদ আর আবর্জনার স্তূপের মালিক—উভয়ের ঠিকানাই হবে সাড়ে তিন হাত মাটি। তাই ক্ষমতার দাপটে অন্ধ না হয়ে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূত্র: روض الرياحين

আল্লাহর নিশ্চিত সাহায্য পাওয়ার একটি আমল।আল্লাহকে সাহায্য করা। তিনি বলেন, إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمযদি তোমরা আল...
13/06/2026

আল্লাহর নিশ্চিত সাহায্য পাওয়ার একটি আমল।
আল্লাহকে সাহায্য করা। তিনি বলেন,

إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُم
যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, তবে তিনি তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। (মুহাম্মদ:৭)

আল্লাহর তো সাহায্যের দরকার নেই। তাহলে আল্লাহকে কীভাবে সাহায্য করবেন?

আল্লাহকে সাহায্য করার অর্থ হলো, আল্লাহর দ্বীনের সাহায্য করা। যত জায়গায় দ্বীনের কাজ হয়, সেগুলোতে সাহায্য করলেই আল্লাহর সাহায্য হয়।

মসজিদ, মাদরাসা, ইসলামি সংস্থা, সংগঠন সহ যেকোনো দ্বীনী কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখুন ইখলাসের সাথে, দেখবেন আপনার সকল কাজে আল্লাহ সাহায্য করছেন।

আর এগুলো থেকে যত বেশি নিজেকে দূরে রাখবেন, তত আল্লাহর সাহায্যের পরিবর্তে গযবের সম্ভাবনা আছে।

আল্লাহ তায়ালা বুঝার তাওফিক দিন। আমিন।

~মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মনসুর হাফি.

#ইসলামের_ইতিহাস #ইসলামি_শিক্ষা #মাদরাসা

আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উদ্যম মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আবেগ দিয়ে মানুষ অনেক কিছু অর্জন করতে পারে, আবার অপাত্রে আবেগ ঢেলে মান...
11/06/2026

আবেগ, উচ্ছ্বাস ও উদ্যম মানুষের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আবেগ দিয়ে মানুষ অনেক কিছু অর্জন করতে পারে, আবার অপাত্রে আবেগ ঢেলে মানুষ নিজের ধ্বং*সও ডেকে আনতে পারে।

‘খেলা’ মানসিক রিফ্রেশমেন্ট ও শরীর চর্চার একটি উপকরণ মাত্র। শরীয়ার সীমানায় থেকে তা থেকে উপকৃত হবেন একজন ঈমানদার। কিন্তু আখিরাত বিশ্বাসী মানুষ, যার প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং যার প্রতিটি কর্মকাণ্ড লিপিবদ্ধ হচ্ছে হিসাবের খাতায়, 'খেলা'র মতো তুচ্ছ বিষয়ে মেতে থাকা তাকে মানায় না।

খেলার নামে চলা এসব আসর যে বৃহৎ বাণিজ্যের বিশাল আয়োজন সে কথা কে না জানে? অথচ নিজের মূল্যবান আবেগকে আমরা সে বাণিজ্যের কাঁচামালে পরিণত করি। কতো সস্তা আমাদের আবেগ!

সফল মুমিন তো তিনি, যিনি এ জাতীয় অনর্থক বিষয় থেকে নিজেকে বিরত রাখবেন। তিরমিজীর প্রসিদ্ধ হাদীসের ভাষ্য—একজন ভালো মুসলিমের অন্যতম গুণ হলো, তিনি এমন কাজ পরিহার করে চলবেন, যে কাজ তার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ সাধন করে না।

রসুল সা. ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন, কে*য়াম*তের আগে চোখ ধাঁধানো ফিতনার প্লাবনে অনেক নামধারী মুসলমানের ঈমান ভেসে যাবে। মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েও যারা ঈমান বা ঈমানী চেতনাহীন হয়ে যাবে, তারা কতই না দুর্ভাগা!

মহান আল্লাহ আমাদের ঈমান ও আমলের উপর অটল রাখুন, ফিতনা থেকে হেফাজত করুন।

লেখা : শায়খ আহমাদুল্লাহ (হাফি.)

যাদের মা-বাবা আছেন তাদের খেদমত করুন!!
08/06/2026

যাদের মা-বাবা আছেন তাদের খেদমত করুন!!

কয়েকদিন পর আমরা তাদের জন্য পাগল হয়ে যাবো....!  আল্লাহুমাগফিরলী 🥀
06/06/2026

কয়েকদিন পর আমরা তাদের জন্য পাগল হয়ে যাবো....! আল্লাহুমাগফিরলী 🥀

সাহাবায়ে কেরাম যখন তাদের গাছে প্রথম ফল দেখতেন, তখন সেগুলো নিয়ে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের কাছে আস...
02/06/2026

সাহাবায়ে কেরাম যখন তাদের গাছে প্রথম ফল দেখতেন, তখন সেগুলো নিয়ে তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের কাছে আসতেন। নবীজি দোয়া করতেন। তারপর তিনি সবচেয়ে ছোট যে শিশুটিকে দেখতেন, তাকে ডেকে এনে উক্ত ফল দিয়ে দিতেন।

- শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস নং ২০২
সাহাবীদের গাছে যখন প্রথম ফলটি পাকতো বা তোহফা দেওয়ার উপযোগী হত, তখন তাঁরা তা বরকত লাভের জন্য নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হাদিয়া দিতেন। তা ছাড়া ফল পাকা শুরু হয়েছে এটা অবগত করানোও তাঁদের উদ্দেশ্য থাকত।

মোল্লা আলী কারী (র.) ও বাজুরী লিখেছেন, এতে বুঝা গেল, গাছের প্রথম ফলটি এলাকার বুযুর্গ আলেমের খেদমতে পেশ করা উত্তম।

(المواهب اللدنية : ص ١٤٥ ، جمع الوسائل : ص ۲۹۸)

শিশুদের ফল দিয়ে দেওয়া থেকে বুঝা যায়, ঐ নতুন ফল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খেতেন না। এর রহস্য হল, নতুন ফল খাওয়ার জন্য সাধারণত শিশুরা বেশি আগ্রহী থাকে। ঐ দিকে তাদের মন লেগে থাকে। তা ছাড়া পবিত্রাত্মার মহৎ লোকেরা কোন কিছুর জন্যই লালায়িত থাকেন না। এতে শিশুদের প্রতি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সোহাগ, মমতা, নিজের উপর অন্যকে প্রাধান্য দেয়ার গুণ ফুটে উঠে।

- সূত্র : মাওয়াহিবে এলাহিয়া শরহে শামায়েলে নববিয়া, পৃষ্ঠা ৪৫১-৪৫২
- কবির আহমেদ কাসেমী হাফি.

#ইসলামের_ইতিহাস #বাংলার_ইসলামি_ইতিহাস #বাংলার_মুসলিম_জাগরণ #মাদরাসা #ইসলামি_শিক্ষা #মুসলিমবীর #অন্যায়েরবিরুদ্ধে #ইতিহাসেরপাঠ

উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন আবুল মুনযিরকে লক্ষ্য করে বললেন,— “হে আবুল মুনযির! তুমি কি ...
20/05/2026

উবাই ইবনে কা‘ব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—
রাসূলুল্লাহ ﷺ একদিন আবুল মুনযিরকে লক্ষ্য করে বললেন,

— “হে আবুল মুনযির! তুমি কি জানো, আল্লাহর কিতাবের যে আয়াতগুলো তুমি হিফয করেছ, তার মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?”

আবুল মুনযির বলেন, আমি বললাম—
“আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন।”

তিনি আবার বললেন—
“হে আবুল মুনযির! তুমি কি জানো, আল্লাহর কিতাবের যে আয়াতগুলো তুমি হিফয করেছ, তার মধ্যে কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?”

তখন আমি বললাম—

﴿ ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلْحَيُّ ٱلْقَيُّومُ ﴾
“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক ও নিয়ন্ত্রক...”

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমার বুকে আলতো চাপড় দিয়ে বললেন—
“হে আবুল মুনযির! ইলম তোমার জন্য কল্যাণময় হোক।”

📖 সহীহ মুসলিম — ৮১০

──────────────────

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসে এসেছে, এক আগন্তুকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের এক পর্যায়ে সে বলল—

﴿ إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ، لَنْ يَزَالَ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ، وَلَا يَقْرَبُكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ ﴾

“তুমি যখন রাতে শয্যায় যাবে, তখন আয়াতুল কুরসি পড়বে। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাযতকারী তোমার সঙ্গে থাকবেন এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার নিকটবর্তী হতে পারবে না।”

পুরো ঘটনা শুনে রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন—

﴿ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ، ذَاكَ شَيْطَانٌ ﴾

“সে মিথ্যাবাদী হলেও এবার সত্য বলেছে। সে ছিল শয়তান।”

📖 সহীহ বুখারী — ৫০১০

সুরা আল ফাতিহাকে যদি আমরা কুরআনের ভূমিকা হিশেবে ধরি, তাহলে কুরআনের মূল কনটেক্সট শুরু হয় মূলত সুরা আল বাকারাহ থেকে।সুরা আ...
19/05/2026

সুরা আল ফাতিহাকে যদি আমরা কুরআনের ভূমিকা হিশেবে ধরি, তাহলে কুরআনের মূল কনটেক্সট শুরু হয় মূলত সুরা আল বাকারাহ থেকে।
সুরা আল বাকারার একেবারে শুরুটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা করেছেন সফলতা আর ব্যর্থতার উদাহরণ দিয়ে। কারা সফল এটা জানাতে গিয়ে তিন নাম্বার আয়াতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলছেন—

‘যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত প্রতিষ্ঠা করে এবং আমার দেওয়া রিযিক থেকে খরচ করে।’
অদৃশ্যে বিশ্বাস মানে তো সহজেই বোঝা যায়—আল্লাহ, ফেরেশতা, আখিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদিতে বিশ্বাস স্থাপন। সালাত প্রতিষ্ঠা করাও সহজে বোধগম্য। কুরআনে অসংখ্য অসংখ্যবার এই শব্দটার পুনরাবৃত্তি আছে৷ কিন্তু, আমার সবসময় একটা কৌতূহল ছিল আয়াতের শেষের অংশটি নিয়ে। আল্লাহ কেন বললেন যে—‘আমার দেওয়া রিযিক থেকে খরচ করে?’ তিনি তো বলতে পারতেন ‘যারা যাকাত দেয়’, অথবা ’যারা দান সাদাকা করে’, কিংবা ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে।’
এইসব না বলে, তিনি কেন বললেন যে—‘যারা আমার দেওয়া রিযিক থেকে খরচ করে?’
এখানে একটা অসাধারণ ব্যাপার আছে বোঝার মতো।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই আয়াতে সেই সকল বিশ্বাসী মানুষদের প্রশংসা করছেন এবং সফলকাম বলে উল্লেখ করছেন যারা খরচ করে। এই খরচটা কি কেবলই দান সাদাকা যেভাবে আমরা গরিব অসহায়দের দান করে থাকি? এটা কি কেবলই যাকাত যেটা সাধারণত রামাদান মাস এলে আমরা পরিশোধ করে থাকি?
একদম তা নয়৷ এটা তারচেয়েও বেশি কিছু। আমি যতগুলো ক্ল্যাসিক্যাল তাফসির পড়েছি, প্রায় সকল তাফসিরেই আমি দেখেছি, আয়াতের এই অংশে ‘খরচ করা’ বলতে সকল তাফসিরকারক যাকাত দেওয়া, সাধারণ দান সাদাকা করার পাশাপাশি খুবই জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন নিজ পরিবারের সদস্যদের জন্য খরচ করার ব্যাপারটি।

অর্থাৎ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন ‘যারা আমার দেওয়া রিযিক হতে খরচ করে’ বলছেন, এই খরচ করার মানে কেবল দান করা, যাকাত দেওয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়৷ নিজের বাবা-মা’র জন্য, স্ত্রীর জন্য, সন্তানদের জন্য, ভাই-বোনদের জন্য যে খরচাগুলো একজন সাধারণ মানুষ করে থাকেন জীবনে, সেই খরচটাও এখানে অন্তর্ভুক্ত।
আমি কিছু মানুষকে চিনি যাদের আয় উপার্জন খুব বেশি নয়৷ পরিবারের জন্য খরচ করার পরে তাদের হাতে কোনোরকম বাড়তি টাকা অবশিষ্ট থাকে না দান সাদাকা করার মতো। এমনকি, রাস্তাঘাটে একজন সাধারণ ভিক্ষুককেও ১০/২০ টাকা দিতে তাদের অনেক হিশেবনিকেষ করতে হয়।

তারা হয়তো এক ধরণের আত্মপীড়ায় ভুগেন৷ হয়তো ভাবেন, ‘চারপাশে কতো মানুষ কতো কতো সাদাকা করে, অথচ আমি কিছুই করতে পারি না।’
এধরণের মর্মপীড়ায় পীড়িত বিশ্বাসী মানুষদের জন্য এই আয়াতে রয়েছে দারুন সু-সংবাদ। অন্যদের মতো দুহাত ভরে দান সাদাকা করতে না পারলেও কোনো অসুবিধা নেই।
বাবা-মা’র দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন?
সঠিকভাবে স্ত্রী, সন্তানদের ভরণপোষণ সামলাচ্ছেন?
ভাই-বোনদের জন্যেও খরচা করছেন সাধ্যমতো?
যথেষ্ট!

এসব সামলিয়ে যদি কূলোতে না পারেন, যদি সাধারণ দান সাদাকা করার মতো আপনার সামনে আর সুযোগ না থাকে, তাহলে দুঃখ নেই৷ কারণ, যারা হালাল উপার্জন থেকে নিজের ঘরের, বাবা-মা’র, স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ বহন করে, তাদের জন্য খরচ করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইতোমধ্যেই তাদের জন্য সু-সংবাদ জানিয়ে রেখেছেন৷ তা-ও কোথায় সেই সু-সংবাদ জানেন? কুরআনের একেবারে শুরুতে। প্রথম তিন আয়াতের একটিতে।

তার মানে এই না যে, টাকাপয়সা থাকলে সাধারণ দান সাদাকা থেকে হাত গুটিয়ে রাখতে হবে৷ তা তো কোনোভাবেই করা যাবে না। এখানে বরং তাদের কথাই আলোচ্য যারা সীমিত উপার্জন দিয়ে কেবল নিজের আপন মানুষগুলোর ভরণপোষণ সামলান।
নিঃসন্দেহে, এইটাই তো সবচেয়ে বড় সাদাকাহ 💚

Address

৩৪৯, উত্তর গোড়ান, আদর্শবাগ, খিলগাঁও, Dhaka
Khilgaon
1219

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মাদরাসা আশারায়ে মুবাশশারাহ রাযিঃ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share