21/01/2025
পবিত্র ত্রিপিটক
খুদ্দকনিকায়,খুদ্দকপাঠ বই হতে বুদ্ধের মুখনিঃসৃত বাণী
৫. মঙ্গল সূত্র
দেবতা-মনুষ্যগণ বারো বছরব্যাপী চিন্তা করেও ইহ-পরকালে “কীসে প্রকৃত মঙ্গল হয়” তা জানতে পারেনি। সকল প্রকার পাপবিনাশক বুদ্ধদেশিত আটত্রিশ প্রকার মঙ্গল বিষয় দেব-মনুষ্যগণের হিতার্থে প্রকাশ করছি।
১. আমি এরূপ শুনেছি। একসময় ভগবান অনাথপিণ্ডিকের নির্মিত জেতবন বিহারে অবস্থান করছিলেন। অনন্তর এক জনৈক দেবতা রাতের শেষভাগে সমস্ত জেতবন চতুর্দিক আলোকিত করে যেখানে ভগবান তথায় উপস্থিত হলেন। উপস্থিত হয়ে ভগবানকে অভিবাদন (বন্দনা, নমস্কার) করে, একপার্শ্বে দাঁড়িয়েছিলেন। অতঃপর সেই দেবতা একপার্শ্বে স্থিত অবস্থায় ভগবানকে গাথায় মঙ্গল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন :
২. বহু দেবতা-মানুষ মঙ্গল সম্পর্কে চিন্তা করেছিলেন। কিন্তু কীসে মঙ্গল হয়? সেটি নির্ধারণ করতে পারেনি। সেই আকাঙ্ক্ষিত সুখদায়ক উত্তম মঙ্গল আমাদেরকে ব্যাখ্যা করুন।
৩. মূর্খ (অজ্ঞানী) ব্যক্তির সেবা না করা, পণ্ডিত (জ্ঞানী) ব্যক্তির সেবা করা। পূজনীয় ব্যক্তির পূজা করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৪. ধর্মত জীবন যাপনে প্রতিরূপ (বৌদ্ধপ্রধান) দেশে বাস করা, পূর্ব (অতীত) পূর্ব জন্মে সম্পাদিত পুণ্যের ফলে প্রভাবান্বিত থাকা ও নিজেকে সম্যক পথে নিয়োজিত রাখা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৫. বহু সত্য বিষয়ক গভীর জ্ঞান লাভ করা, বিবিধ শিল্প শিক্ষা করা ও বিনয়ে সুশিক্ষিত হওয়া। সুভাষিত (কর্ণসুখকর) বাক্য ভাষণ করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৬. মাতাপিতার সেবা, স্ত্রীপুত্রের ভরণপোষণ (রক্ষণাবেক্ষণ) অনাকুল (নিষ্পাপ, প্রশান্ত, শৃঙ্খল) কর্ম (জীবিকা) নির্বাহ করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৭. দান, ধর্ম আচরণ ও জ্ঞাতিদের বিবিধ কার্যে সাহায্য সহযোগিতা করা, অনবদ্য (নির্দোষ, পরিশুদ্ধ) কর্ম সম্পাদন করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৮. বিবিধ প্রকার পাপ কার্যে অনাসক্তি নিবৃত্তি (বিরাগ), মদ্য, নেশাজাতীয় দ্রব্যাদিতে সংযমতা (বিরত) থাকা, অপ্রমাদের সাথে পুণ্যকর্ম সম্পাদন করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
৯. গৌরবনীয় (শ্রদ্ধাসম্পন্ন) ব্যক্তির গৌরব (শ্রদ্ধা) প্রদর্শন করা, তাঁদের প্রতি নম্রতা (ভদ্রতা) পোষণ করা, সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। যথা সময়ে ধর্মশ্রবণ করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
১০. ক্ষমাশীল হওয়া, প্রীতিপূর্ণ ভিক্ষু-শ্রমণদের দর্শন লাভ করা, যথাসময়ে (যেকোনো উপযুক্ত সময়ে) ধর্মালোচনা করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
১১. তপশ্চর্যা (ভাবনা) করা, ব্রহ্মচর্য (শীল প্রতিপালন ও ভাবনাদিতে) নিজেকে নিয়োজিত থেকে চতুরার্যসত্যকে প্রত্যক্ষরূপে দর্শন করা এবং নির্বাণ সাক্ষাৎ করা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
১২. আট লোকধর্মের প্রতি চিত্তকে অবিচলিত রাখা। শোকহীন, নিষ্পাপ, পবিত্র ও নির্বিঘ্নে (নিরাপদে) থাকা, ইহাই উত্তম মঙ্গল।
১৩. যাঁরা এই সকল মঙ্গল কর্ম সম্পাদন করে, তাঁরাই সর্বত্রই অপরাজিত (জয়ী) হন। তাঁরা সর্বত্রই স্বস্তির সাথে নির্বিঘ্নে (নিরাপদে) থাকেন। ইহাই তাঁদের (দেব-মনুষ্যগণের) মঙ্গল কর্ম সম্পাদন করাই উত্তম মঙ্গল।
মঙ্গল সূত্র সমাপ্ত