12/08/2025
মুমিনের সকল খুশির কেন্দ্র বিন্দু
প্লিজ! লক্ষ লক্ষ মানুষের ভুল ভাঙতে লেখাটি মাত্র ৫ মিনিটে পড়ে ফেলুন ও শিয়ার করে দেন।
বিশ্ব জগতের মুক্তির দিশারী রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত আহমদ মুজতবা মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ১২ই রবিউল আওয়াল, সোমবার সোবহে সাদিকের সময় এ পৃথিবিতে শুভ আগমন করেন।
মুমিনের সকল খুশির কেন্দ্র বিন্দু হলো প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ পৃথিবীতে শুভ আগমন। যাঁকে আল্লাহ সকল জগৎ সমূহের রহমত করে সৃষ্টি করেছেন) সূরা আম্বিয়া:১০৭)। যিনি সর্ব শেষ নবী ও রাসূল (সূরা আল-আহযাব:৪০), যেই প্রিয় রাসূলকে প্রেরণ করে কিয়ামত পর্যন্ত গোটা মানব জাতির জন্য পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা দান করেছেন (সূরা আল-মায়েদা:৩) তিঁনি হলেন সকল নবী ও রাসূলগণের ইমাম নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
এই প্রিয় রাসূল এসেছেন বলেই আমরা কোরআন পেয়েছি, হাদিস পেয়েছি, ইসলাম পেয়েছি, হজ পেয়েছি, উমরা পেয়েছি, আজান পেয়েছি, ইকামত পেয়েছি, নামাজ পেয়েছি, রোজা পেয়েছি, জাকাত পেয়েছি, জুম্মার নামাজ পেয়েছি, রমজানের ঈদ পেয়েছি, কোরবানির ঈদ পেয়েছি। পৃথিবীতে যাঁর শুভ আগমনের কারণে উল্লেখিত আনন্দদায়ক বিষয় সমূহ সহ ইসলামের যাবতীয় সকল কিছু পেয়েছি, (সূরা হাশর : ৭) তাঁর আগমনে কি আমি একজন মুসলিম ও প্রিয় রাসূলের উম্মত হিসাবে খুশি হবোনা? এটি প্রতিটি মুসলমানের বিবেককে প্রশ্ন করা উচিত।আল্লাহ উৎসাহিত করেছেন প্রিয় নবীর শুভ আগমনকে কেন্দ্র করে ইসলামী শরিয়াহ সমর্থিত খুশি হওয়ার জন্য , খুশি প্রকাশ করার জন্য , প্রিয় নবীর শুভ আগমনে খুশি হওয়া হলো মুমিনের জীবনে সব শ্রেষ্ঠ অর্জন(ٍসূরা ইউনুস: ৫৮ তাফসীর সহ পড়ুন)। প্রিয় রাসূলের শুভ জন্ম দিনে সকল ফিরিস্তা, সকল নবী ও রাসূল সহ তামাম কোল কায়েনাত, গোটা সৃষ্টি জগৎ খুশি হয়েছিল। একমাত্র শয়তান সে দিন খুশি হয়নাই।
আজকে যারা নিজেকে মুসলিম দাবি করেন, রাসূলের উম্মত দাবি করেন নিশ্চয় আপনি পৃথিবীতে প্রিয় রাসূলের শুভ আগমনে খুশি। যদি খুশি হয়ে থাকেন, তাহলে যে দিনটিতে তিঁনি আগমন করেছেন এই দিনে আপনার অনুভতি কি? যাঁরা খুশি হয়ে প্রিয় রাসূলের শানে নাতে রাসূল গায়, যাঁরা রাসূলের সীরাত, জীবনী নিয়ে আলোচনা করেন ও শোনেন, রাসূলের আগমনের পূর্বের আরব বিশ্ব সহ গোটা পৃথিবীর কি করুন অবস্থা ছিল? নবীর আগমনের ফলে আরব বিশ্ব সহ গোটা পৃথিবীর কি লাভ হলো? নবীর শিক্ষা কি? আদর্শ কি? দনিয়া ও পরকালে সফল হওয়ার জন্য নবীজি গোটা বিশ্ব মানবতাকে কি দিয়ে গেলেন? প্রিয় রাসূলের শুভ আগমনে খুশি হয়ে এই মহা নিয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ নিশ্চয় এই বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করেন, শোনেন ও সমর্থন করেন।
এই দিনেই আল্লাহর অসীম কৃপায় তিঁনি এই পৃথিবীতে তাশরীফ এনেছিলেন, বিশ্ববাসীকে চির ধন্য করেছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর এই প্রিয় হাবীবের মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণ করিয়ে আবার এই দিনেই প্রিয় রাসূলের ওফাত ঘটিয়ে লোক চোখের বাহ্যিক দৃষ্টির আড়ালে নিয়ে গেছেন। অতএব, এই দিনে যেহেতো প্রিয় রাসূল তাশরীফ এনেছিলেন গোটা সৃষ্টিকুলকে হাসিয়ে, আবার চলে গেলেন আপন স্রষ্টার নিকট গোটা সৃষ্টিকুলকে কাঁদিয়ে। সে জন্য সারাদিন ব্যাপী আমরা প্রিয় রাসূলের শুভ আগমন, তাঁর জীবন, কর্ম ও নবুওয়াতের সুমহান দায়িত্ব আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী পালন করে আপন প্রভুর নিকট চলে যাওয়া নিয়ে আলোচনা করা অত্যান্ত উত্তম কাজ।
হজরত আব্বাস (রা) বর্ণনা করেন, " আবু লাহাবের মৃত্যুর এক বছর পর আমি তাকে স্বপ্নে দেখি| সে আমাকে বলে ভাই আব্বাস আমার মৃত্যুর পর থেকে কবরের জিন্দেগীতে আমি শান্তিতে নেই | কিন্তু প্রতি সোমবার এলেই আমার শাস্তি লাগব করে দেওয়া হয়, আমার শাহাদাত আঙুলের মাথা দিয়ে দুধ আসে আমি সেই দুধ পান করি। এই ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত আব্বাস (রা) বলেন আবু লাহাবের এই সোমবারের শাস্তি লাগবের কারণ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিন জন্ম গ্রহণ করেছিলেন আবু লাহাবের দাসী দৌড়ে এসে মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুভ বিলাদত শরীফের সংবাদ দিয়েছিলো, তখন আবু লাহাব খুশি হয়ে শাহাদাত আঙ্গুল উঁচু করে তার দাসী সুয়াইবাকে আজাদ করে দিয়েছিলো| (ফাতহুল বারি সরহে সহীহুল বুখারী , অম্দাতুল কারী শরহে সহীহুল বুখারী)|
প্রিয় রাসূলের শুভ আগমন, শান-মান, মুজেজা, সীরাত, জীবনী, আদর্শ, বিশ্বাবাসীকে কি দিয়ে গেলেন? কি করতে বলেছেন? কি করতে নিষেধ করেছেন? আদর্শ, সুন্দর, ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ ঘঠনে প্রিয় রাসূল কি কি দিক নির্দেশনা দিয়ে গেছেন? আল্লাহর হক, রাসূলের হক, কোরআনের হক, হাদিসের হক, আহলে বায়েতের হক, সাহাবীদের হক, আউলিয়াকেরামগণের হক, মা-বাবার হক, পরিবারে লোকদের হক, আত্মীয়দের হক, প্রতিবেশীর হক, এতিমের হক, গরিবের হক, শিক্ষকের হক, মুসাফিরের হক, মুজলুমের হক, বৃদ্ধদের হক, পীড়িত ব্যাক্তির হক, নারীর হক, বিধবার হক, স্বামীর হক, শিশুর হক, ভাইয়ের হক, বোনের হক, মুসলিমের হক, অমুসলিমের হক সম্পর্কে প্রিয় রাসূল কি বলে গেছেন? এছাড়াও, শিক্ষার অধিকার, ব্যবসার অধিকার, ইজ্জতের নিরাপত্তা, জীবনের নিরাপত্তা,সম্পদের নিরাপত্তা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পবিত্রতা, আত্মশুদ্ধি, সুস্থ, সুন্দর ও শান্তিময় জীবন যাপনে এক কথায় মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বমানবতার মুক্তির কান্ডারি প্রিয় রাসূল কি বলে গেছেন?
উল্লেখিত এই সকল বিষয় নিয়ে এই দিনে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, মিল-ফ্যাক্টরি, অফিস আদালতে, হাটে-বাজারে, মাঠে, ময়দানে, গ্রামে, গঞ্জে, শহরে আলোচনা করার ব্যবস্থা করা, কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাতে রাসূল ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করা, প্রিয় নবীর প্রতি দরূদ ও সালাম প্রেরণ ও সারা বিশ্বের মুসলিমদের জন্য দুআ করার যে অনুষ্ঠান এটা হলো নবীর শুভ আগমনে খুশির বহিঃপ্রকাশের একটি নমুনা। এছাড়াও, এই দিনে গরিব, অভাবী লোকদেরকে অর্থনৈতিক সাহায্য করা, সামর্থ অনুযায়ী মানুষকে খাবার খাওয়ানো, নফল রোজা রাখা, নবীর জীবনী পাঠ করা, প্রিয় নবীজির জীবনী গ্রন্থ গিফট করা খুবই উত্তম কাজ।
অপরপক্ষে, যারা উল্লেখিত বিষয় গুলির বিরোধিতা করে, এমনকি যাঁরা প্রিয় নবীর মহব্বতে কোরআন তেলাওয়াত, হামদ, নাত, ইসলামী সংগীত ও নবীর সীরাত, জীবনী ও শান মান নিয়ে আলোচনা করেন তাদের উপর আক্রমণ করে, এই সকল মানুষ মূলত কি করলো!?
সৌদিআরব সহ OIC-এর ৫৭টি দেশে রাষ্ট্রীয় ভাবে দিনটিকে উৎযাপন করা হয়। প্রিয় নবীর শুভ আগমনে খুশি হয়ে বিশ্বব্যাপী নবী প্রেমিক যে কোটি কোটি মানুষ আজ ঘরে থাকতে পারলো না, আনন্দে প্রিয় নবীর শানে নাত ও দুরুদ পড়তে পড়তে পথে বের হয়ে আসলো, ভোর হতে না হতেই শত শত, হাজার হাজার, আবার কোথাও লক্ষ লক্ষ মুসলিম এক সাথে নবীর শানে নাত ও দুরুদ পড়ে জশনে জুলুস করলো, প্রিয় রাসূলের জীবনী হতে আলোচনা করলো ও শোনালো, এভাবে দিনটিকে উৎযাপন করে সারা পৃথিবীতে একটি জাগরণ তৈরী করলো, সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম অমুসলিম মানুষ মিডিয়ার মাধ্যমে অন্তত নবীর নামটি শোনতে পারলো, শোনার ব্যবস্থা যাঁরা করলো তাঁরা কি গোনাহের কাজ করলো নাকি সাওয়াবের কাজ করলো?
আর যারা ঐ জশনে জুলুসে পাথর ছোড়ে মারলো, তীর ছোড়ে মারলো, ইট, পাথর ও লাঠির আঘাতে মাথা ফাঁটিয়ে দিলো, রক্তাক্ত করলো, আহত করলো এটা কি সাওয়াবের কাজ করলো নাকি গুনাহের কাজ করলো!? ঈদে মিলাদুন্নবী উঁৎযাপন অনুষ্ঠানে আক্রমণ করে এই লেবাসধারীরা কেমন মুসলিম, কেমন উম্মত, নিজেদেরকে কোন কাতারের বলে পরিচয় দিতে চায় তা জাতির কাছে স্পষ্ট।
প্রিয় নবীজি, তাঁর আহলে বায়েত ও সাহাবীগণ যখন মুক্কার কাফেরদের অত্যাচের চরম পর্যায়ে জুলমের শিকার হয়েছিলেন, কোরাইশদের অত্যাচারে প্রিয় নবীর জীবন পর্যন্ত হুমকির সম্মুখীন হলো এমন সময় আল্লাহর হুকুমে মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করছেন।মক্কা হতে বের হয়ে মদিনায় পৌঁছতে দশ দিন লেগেছিলো। মদিনার শিশু-কিশোর, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ হাজার হাজার লোক যাঁরা তখনো মুসলিম হন নাই ঐ সকল অমুসলিম মানুষেরা নবীর শুভ আগমনে নবীকে স্বাগত জানানোর জন্য অসংখ্য প্রকারের ফুল নিয়ে দিনের পর দিন খোলা মাঠে, পথে, উঁচু স্থানে, ঘরের ছাদে, গাছের উপরে উঠে তীব্র গরমের মধ্যে অপেক্ষা করেছিলো। প্রিয় নবীজিকে দূর থেকে দেখার সাথে সাথেই ছোট-বড়, নারী-পুরুষ হাজার হাজার লোক এক সাথে একই স্বরে গেয়ে উঠলো:
ত্বলা' আল-বদরু আলাইনা: আমাদের মাঝে চাঁদ উঠেছে (এখানে 'চাঁদ' দ্বারা নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে বোঝানো হয়েছে)
মিন সানিয়া-তিল ওয়াদা: ওয়াদার উপত্যকা থেকে
ওয়াজাবা শুকরু আলাইনা: আমাদের উপর শোকর (কৃতজ্ঞতা) ওয়াজিব হয়েছে
মা দা'আ লিল্লাহি দা': যতদিন আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী থাকবে, ততদিন আমাদের উপর শোকরিয়া ওয়াজিব।"
ঐ দিন ঐ সকল মুসলিম অমুসলিম নবী প্রেমিকগণের সম্মিলিত জশনে জুলুসে কোনো কাফেরও ইট, পাথর, তীর ছোড়ে মারেনি। কেউ কাউকে আঘাত করেনি। মক্কা হতে মদিনা আগমনের কারণে মদীনাবাসীগণ হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি সবাই যাঁরা তখনো মুসলিম হন নাই, এই অমুসলিমগন নবীর সংবাদ শোনে নবীর প্রতি মহব্বতে দেওয়ানা হয়ে গিয়েছিলো, প্রিয় নবীকে এত সম্মান, কদর, মহব্বত ও ভালোবাসা দিয়ে, তাঁর চলার পথে ফুল ছিটিয়ে, নাত গাইতে গাইতে ফুলের পাপড়ি গুলো কতটা আবেগ, ভালোবাসা, মহব্বত ও শ্রদ্ধার সাথে তাঁর নূরানী মাথা মোবারাক, নূরানী দেহ মোবারাক ও নূরানী চরণ মোবারকে ছিটিয়ে দিয়ে ছিলো! কতটা শ্রদ্ধা, আবেগ, ভালোবাসা ও মহব্বত করে ফুলের মালা দিয়ে প্রিয় নবীকে মদীনাবাসীগণ মদিনায় স্বাগত জানিয়েছিল তা কেউ কোনো দিন বলে লিখে শেষ করতে পারবেনা।
বাংলাদেশের মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশ হতে উচ্চ ডিগ্রি প্রাপ্ত বরণ্য আলেম উলামা ও পীর-মাশায়েখগণের উৎসাহ ও নেতৃত্বে প্রিয় রাসূলের শুভ জন্ম দিনে জশনে জুলুস সহ উল্লেখিত সাওয়াবের কাজ গুলো কোটি কোটি মুসলিমগণ প্রিয় রাসূলের মহব্বতে ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে করে থাকেন। অন্যদিকে, এ দেশেরই মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিদেশ হতে উচ্চ ডিগ্রি প্রাপ্ত কতিপয় আলেম উলামার নেতৃত্বে প্রিয় রাসূলের শুভ জন্ম দিনে উল্লেখিত সাওয়াবের কাজ গুলোতে বাধা দেয়, বিরোধিতা করে ও আক্রমণ করে।
আজ যদি ইয়াহুদী, খ্রিস্টান, অমুসলিমরা বিরোধিতা করতো, আক্রমণ করতো তাহলে মনটাকে একটা বুঝ দিতাম, কিন্তু মাদ্রাসায় পড়ে, কোরআন হাদিস পড়ে প্রিয় নবীর শুভ আগমনে খুশি প্রকাশে কোরআন হাদিসের আলোচনার প্রোগ্রামকে অবহেলা করলো , বিরোধিতা করলো, এমনকি আক্রমণ করলো, কারণটা কি?
কারণ হলো, যাঁরা ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে উল্লেখিত সাওয়াবের কাজ গুলো করেন তাঁরা হলেন শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত ও মারেফতের জ্ঞানী পীর-মাশায়েখ, আল্লাহর আউলিয়াগনের মুরিদ, শিষ্য ও সঙ্গী-সাথী। যাঁদের সঙ্গলাভের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলেছেন, উৎসাহিত করেছেন। আর যারা বিরোধিতা করে তারা শুধু শরীয়তের আলেম, তাদের অনুসারী ও সঙ্গী-সাথী। শরীয়াত ছাড়া বাকি তিন প্রকার জ্ঞান তাদের নাই, এই তিন প্রকারের জ্ঞান শিক্ষার কোনো শিক্ষক ও তাদের নাই।
কারবালার প্রান্তরে যাঁরা প্রিয় নবীর দৌহিত্র কলিজার টুকরা নয়নের মনি ইমাম হুসাইন, তাঁর পরিবারের সদস্য ও সাথীগণকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছিল যে এজীদ বাহিনী এরাও নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করে । ইমাম হুসাইনি মুসলিমগণের মধ্যে উক্ত চার প্রকার জ্ঞান ছিলো তাই তাঁরা নবীর পরিবারের আহলে বায়েতগণের পক্ষে যুদ্ধ করে শহীদ হলেন। পক্ষান্তরে, এজিদী মুসলিমদের মধ্যে কেবল মাত্র শরীয়তের যত কিঞ্চিৎ জ্ঞান ছিলো, বাকী তিন প্রকারের জ্ঞান না থাকার কারণে তাঁরা দুনিয়ার মোহে, এজিদের দেখানো প্রলোভন ও দুনিয়াবী পদ, পদবি, ক্ষমতা ও কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় নবীর আহলে বায়েতকে, নবীর কলিজার টুকরা নাতিকে পর্যন্ত হত্যা করতে একবারও ভাবেনি। এটাই হলো ইমাম হুসাইনি মুসলিম ও এজিদী মুসলিমের মধ্যে প্রার্থক্য। এখন কে ইমাম হুসাইনি মুসলিম হয়ে আর কে এজিদী মুসলিম হয়ে হাশরের ময়দানে আল্লাহর আদালতে দাঁড়াবে এটা নিজ নিজ চিন্তার বিষয়।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে কোরআন, হাদিস, আহলে বাইত ও তোমার আউলিয়াগনের পক্ষে থাকার তাওফিক দান করো, ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের ফয়েজ, বরকত, ও রহমত দান করো! আমিন!
-ড. মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম আজহারী
সাবেক লেকচারার: ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া