শিবনগর সার্বজনীন কালী মন্দির কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ

  • Home
  • Bangladesh
  • Kaliganj
  • শিবনগর সার্বজনীন কালী মন্দির কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ

শিবনগর সার্বজনীন কালী মন্দির কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ॐ—ॐ—ॐ—ॐ ॐ—ॐ—ॐ

আজ মহান সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার তিরোধান দিবস।তার অমর বাণী—👉 "রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে—যখনই বিপদে পড়বে, আমাকে স্মরণ কর...
03/06/2026

আজ মহান সাধক লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার তিরোধান দিবস।

তার অমর বাণী—
👉 "রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে—যখনই বিপদে পড়বে, আমাকে স্মরণ করো, আমিই রক্ষা করব।"



শুভ নৃসিংহদেবের আবির্ভাব তিথি। জয় নৃসিংহদেব 🙏
30/04/2026

শুভ নৃসিংহদেবের আবির্ভাব তিথি।

জয় নৃসিংহদেব 🙏

শুভ অক্ষয় তৃতীয়া ❤️
20/04/2026

শুভ অক্ষয় তৃতীয়া ❤️

|| ভগবতী যাত্রা-গোয়াল পুজো ||চৈত্রের শেষ হল। আজকে ১লা বৈশাখ। গলদঘর্ম অবস্থায় নববর্ষ পালন। যত পুরাতন সব বর্জন করে নতুনক...
15/04/2026

|| ভগবতী যাত্রা-গোয়াল পুজো ||
চৈত্রের শেষ হল। আজকে ১লা বৈশাখ। গলদঘর্ম অবস্থায় নববর্ষ পালন। যত পুরাতন সব বর্জন করে নতুনকে গ্রহণ করা। আবার নতুন করে নিজেদের কাজে ফেরা। সদ্য গাজনের ঘোর না কাটা বাঙালির কাছে পার্বণ শেষ হয়না। নতুন সূত্রপাতের জন্য চাই মায়ের আশীর্বাদ। তারই একটা রূপ হল ভগবতী যাত্রা - গ্রামবাংলার একান্ত নিজস্ব অথচ হারাতে বসা রীতি।‌

পয়লা বোশেখের দিনে সকাল থেকে তোড়জোড় শুরু হয়ে যেত বাড়িগুলোতে। গোয়ালঘর থেকে সব গোরুদের বের করে এনে সুন্দর করে গোয়ালঘর পরিষ্কার করা হতো। বাড়ির পুরুষরা পুজোর যাবতীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আনতেন। সরঞ্জাম বলতে ঐ সামান্য একটি নৈবেদ্য, ধুনো, প্রদীপ।

একটি থালায় কিছুটা আতপ চাল, একটি মণ্ডা আর কিছু বাতাসা দিয়ে নৈবেদ্য তৈরি। গোটা কয়েকটা অতসী ফুল, করবী ফুল আর তুলসীপাতাও পুজোর জন্য জোগাড় করা থাকতো।
ঠাকুর মশাই আসবেন, পুজো শুরু হবে।‌ গোয়ালের গোরুদের ভগবতী জ্ঞানে পুজো করা হবে। পুজো শেষ হলেও আরেকটি আচার বাকি থাকে।

বিকালের পর এটি হয়, "দুধ উথলানো প্রথা" - একটা অস্থায়ী উনুন তৈরি করে তাতে পাটকাঠির জ্বাল দিয়ে মালসায় পায়েস রান্না হবে। জ্বাল দিতে দিতে দুধ উথলে গেলেই এই প্রথার সার্থকতা। আসলে এই দুধ উথলানো সংসারে সমৃদ্ধি আনে। খুবই শুভ। উথলানো দুধের গন্ধে ম ম করতো পাড়া।

পরের পর্বে গো-ভগবতীদের যত্ন করা, তাদের শিঙ এ তেল হলুদ মাখানো, কপালে টিপ দিয়ে আরতি করা - সবকিছুই যাতে গৃহে শান্তি বজায় থাকে, গৃহপালিত পশুরা যেন তাদের বাঁচিয়ে রাখে নিত্যদিনের উপকার দ্বারা।

গাজনের কাজে যে গ্রামবাসীরা যুক্ত হয়েছিল, আজ আবার নিজেদের কৃষিকাজে ফিরবেন তারা। এরই নাম পুণ্যাহ। সারাবছর কৃষিকাজ ভালো হবার জন্য ছোট করে পুজোর আয়োজন করে ।

বর্তমানে এই আচারগুলি সম্পূর্ণ বিলুপ্তির পথে। অল্প কিছু থাকলেও থাকবে। কিন্তু এই প্রথা আমাদের শেখায় মানুষ আর পশু- সহাবস্থান দ্বারাই জীবনযাপন উন্নত করা সম্ভব। জীবনে সকলের গুরুত্ব আছে। আমরা সকলে একে অপরের ওপর নির্ভর করি।
আজকের একটা নিরীহ প্রাণীকে কুমিরের সামনে ফেলে উল্লাস করা মানুষজন এসব ভুলে গেছে।

আজকে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা থাক, নতুন বছর সকলের ভালো কাটুক মায়ের কৃপায় এই কামনা করি‌ ।
জয় ভগবতী। শুভ নববর্ষ ১৪৩৩।

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩নতুন দিন শুরু হোক ভগবান কে স্মরণ করে । পুরানো সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু হোক সবার জীবন 🥰🧡
15/04/2026

শুভ নববর্ষ ১৪৩৩
নতুন দিন শুরু হোক ভগবান কে স্মরণ করে । পুরানো সব কিছু ভুলে নতুন করে শুরু হোক সবার জীবন 🥰🧡

|| চড়ক || এই গোটা চৈত্র মাস ধরে বিভিন্ন যে উপাচার চললো আমাদের সংস্কৃতিতে , সেসবের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। হাতে আছে...
14/04/2026

|| চড়ক ||
এই গোটা চৈত্র মাস ধরে বিভিন্ন যে উপাচার চললো আমাদের সংস্কৃতিতে , সেসবের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। হাতে আছে একটি দিন, আগামীকাল নববর্ষ। এখন যেকোনো বাংলা মাসের সংক্রান্তি বা শেষ দিনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়। চৈত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টা আরো বেশি গুরুত্ব বহন করে। এই একমাস ধরে চলা সেই বারুণীর সময় থেকে আজ চৈত্র সংক্রান্তি - এই গোটা মাসের সাধনা শেষ হবে চড়ক পূজায় এসে।

আজকের কথা শুরুর আগে বলে রাখি আজকে আলোচনা বহু ভয়াবহ দিক দেখাবে। তাই যারা দুর্বল চিত্তের অথবা ধর্মীয় আচার সম্বন্ধে যাদের অনেক বিরোধিতা, এ বিষয় আপনাদের মনোগ্রাহী হবেনা। ব্যস! সিগারেটের ক্ষতি সম্পর্কে ডিসক্লেইমার দেওয়া হয়ে গেল, এবার কেউ সেবন করলে তার নিজ দায়িত্ব।

প্রথমে বলবো এই "চড়ক" নামটা কি বা কেন? বহু ব্যাখ্যা আছে। এই যে আমাদের জীবন "চক্রবৎ", আমাদের বছরের মাসগুলি চক্রাকারে পরিবর্তন হয়ে আসে, এইভাবেই তো চৈত্র চলে আসে। এই "চক্রাকার আবর্তন" থেকে মনে করা হয় "চড়ক" নামটা এসেছে। আবার আরেকটা মত বলে চণ্ডার্ক (চণ্ড+অর্ক) অর্থাৎ শিব+সূর্য -এর থেকে অপভ্রংশ হয়ে চড়ক-এ দাঁড়িয়েছে শব্দটা। যদিও পূর্বের মতামতটা বেশি গ্রহণযোগ্য।

এখন গাজন জিনিসটাই হয়েছে আসন্ন সময়ে ফসলের ভালো উৎপাদনের কথা মাথায় রেখে ভগবানের উদ্দেশ্যে কৃচ্ছসাধন। কৃষিপ্রধান বাংলায় এ বিষয়টা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ধর্ম ঠাকুরের গাজন, মনসার গাজনের প্রধান হওয়ার পরিবর্তে শিবের গাজন বেশি প্রধান হয়ে গেছে আস্তে আস্তে। কেনই হবেনা? বাংলার শিব নিজেই কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। নিজের অভাব মেটাতে লাঙল ধরেছেন তা তো শিবায়নে আছেই। বাংলায় বুড়োশিব কৃষিপ্রধান দেবতা।

এই সমগ্র গাজনের শেষ ধাপ চড়ক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এতে বান ফোঁড়া, চড়ক গাছে পিঠে হুক গেঁথে ঘোরা, চামড়ায় শলাকা গাঁথা এগুলো থাকে।

অধিকাংশ যে লেখা পাবেন, তাতে খুব মিষ্টি করে বানরাজার একটা গল্প ঢোকানো আছে। পুরোটাই লৌকিক, পুরাণগত রেফারেন্স পাওয়া যাবেনা। শ্রীকৃষ্ণের বানাসুর বধকে বানরাজার সাথে যুদ্ধ আর শেষে আহত বানরাজার শিবকে তুষ্ট করার গল্প - এইটা প্রায় "মুখস্থের" মতো গড়গড়িয়ে লিখে যাবে। ঐ লৌকিক গল্পটায় আছে বানরাজার মেয়ে ঊষার সাথে শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধের প্রণয় সম্পর্ক হলে বানরাজা বাধা দিতে আসবে ( মানে ৯০ দশকের বাংলা সিনেমার মেয়ের বাবার মত, তুমি আমার মেয়ের জীবন থেকে ছেড়ে যেতে কত টাকা নেবে? এরকম ধরনের, যদিও তা নয়) । ফিল্ডে আসবেন শ্রীকৃষ্ণ, আর তিনি বানরাজার দুই হাত কেটে দেবেন।

এবার বানরাজার সম্পর্কিত অন্য যে লোককথা টি আছে, সেটি বেশি গ্রহণযোগ্য কারণ এতে গাজন বা চড়কের ধাপগুলির পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা আছে। এতে বাণরাজা মহাদেবকে তুষ্ট করতে কখনো গাছের তলায় আগুন জ্বেলে গাছের ডাল থেকে উল্টো ঝুলে পড়েন। এটা কিন্তু ঝুল-ঝাঁপের সমান। আবার একবার পাহাড় থেকে কাঁটাবনের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েন যেটা কাঁটা-ঝাঁপের সমতূল্য। কিন্তু মহেশ্বরের আশীর্বাদে রক্ষা পান। আবার একবার ধারালো অস্ত্রের ওপর ঝাঁপ দেবেন, সেবারও মহেশ্বরের দয়ায় তিনি রক্ষা পাবেন। (বঁটি ঝাঁপ) আর শেষে গায়ে শলাকা গেঁথে গাছের ডাল থেকে ঝুলে পড়া (চড়ক গাছের ঝুলা) এইবার মহাদেব তার সামনে আসবেন, বাণরাজার ইচ্ছামত কথা দেবেন যে বা যারা এই কৃচ্ছসাধন করবেন, তাদের প্রতি মহেশ্বর প্রীত হয়ে কৃপা করবেন। এখন যদি মানুষটার দু হাত শ্রীকৃষ্ণ ছেদন করতেন, এসব করতে পারতেন কি? তাই প্রথমের লোককথা টি একটুও গ্রাহ্য নয়।‌

যদিও এসম্পর্কে যা কিছু কাহিনি আছে, সবই লোককথা। পুরাণ রেফারেন্স সেরকম নেই। তবে গ্রামবাংলায় লোককথার জোর অনেক বেশি।

চড়কের নিয়মমতো প্রথমে চড়কগাছ স্থাপন করা হয়। এই গাছ বলতে নিম বা শাল কাঠের গুঁড়ি, যা প্রতিবার চড়কের পর জলাশয়ে নিমজ্জিত থাকে। এতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা থাকে যার জন্য অনেকে মনে করে জলাশয়ে এই কাঠ জীবন্ত থাকে। চড়কের আগের দিন মন্ত্র সহকারে এই কাঠের জাগরণ করানো হবে। গ্রামের নির্দিষ্ট জায়গায় মাটি খনন করে তা পোঁতা হবে। এই গুঁড়ি বা কাঠটিকে বলে "ভোক/ভক লিঙ্গ" । হ্যাঁ লিঙ্গ, কারণ এটিকে শিবের মতোই লিঙ্গ রূপে ধরা হয়। আর মাটিতে বসানো হচ্ছে, এখানে মাটি হল "মা" স্বয়ং। অর্থাৎ শিব ও শক্তির মিলন, যার উপরেই সৃষ্টি নির্ভর। শ্রাবণ মাসেও এই ধারণা অনেকটা পোষণ করা হয়। আর এই গাজন-চরকের সময় পূজিত ঠাকুর অনেকক্ষেত্রে দেখবেন "অর্ধনারীশ্বর"। আবার শিব-শক্তির মিলন। ইহা ছাড়া সৃষ্টি অসম্ভব। তাই গরম কেটে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এসে ফসল উৎপাদনের যাতে সহায়ক হয় ,সেই কথা মাথায় রেখে এই গাজন ও চড়ক পালন।

এক্ষেত্রে বলে রাখি গাজনের যারা প্রধান সন্ন্যাসী, তারা কেউই উচ্চস্তরের ব্রাহ্মণ নয়। সমাজের নিম্নস্তরের মানুষেরা একান্ত নিজের যোগ্যতায় সন্ন্যাসী হন, অন্যদের গাজন পালনের সহায়ক হন। বাবার এই যে সমাজের উচ্চস্তর থেকে নিম্নস্তর- সমস্ত স্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা এটাই বাবাকে সব দেবতার থেকে আলাদা করে। যেমন কৈলাসে উনি দেবতা ও অসুর - উভয়ের কাছেই পিতৃসম।

এখন ভয়াবহ জিনিসগুলো কি? আপনি দেখতে পাবেন বড় বড় দা দিয়ে জিভের ওপর চালিয়ে দিলেও জিভ কাটছেনা, কাঁটা ঝাড়ে ঝাঁপ দিচ্ছে , জিভে শলাকা গেঁথে দিচ্ছে, পিঠে হুক গেঁথে চড়ক গাছে বনবন করে ঘুরছে, কয়েকজন বলছে কিছুই কষ্ট হচ্ছেনা। আমি আজ পর্যন্ত এর কোনো ব্যাখ্যা পাইনি!

চড়কগাছে হুক গাঁথা অবস্থায় বনবন করে ঘোরা দেখলে মনে হবে গাছের চারদিকে পাখি ঘুরছে। ঐ অবস্থায় ওরা বাতাসা ছুঁড়বে, হাতে পায়রা রেখে তাকে ছেদন করবে । যদিও শেষটি এখন আর তেমন দেখা যায়না, অত্যন্ত ভয়াবহ। কিন্তু আমার দেখা বহু আগে এগুলি ছিল।

এর পাশাপাশি হবে সঙ সাজা, পালাগান। ব্রিটিশ আমলে মাঝে একবার এই চড়ক প্রথা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কারণ বহু মানুষের তখন ক্ষত থেকে মৃত্যু হত। কিন্তু পরে আবার চালু হয়, তবে আজকের দিনে একদম গ্রামাঞ্চল ছাড়া এ জিনিস দেখা যাবেনা।

পাটস্নান থেকে চড়ক এই সমগ্র বিষয়টি গোটা চৈত্র মাসকে আলাদা করেছে অন্য মাস গুলির থেকে। আরাধ্যের জন্য ঠিক কতটা এগোনো যায় এসব না দেখলে বিশ্বাস হয়না। আস্তে আস্তে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেকেই বলবেন এসব না থাকাই ভালো। কিন্তু লৌকিক আচার হারিয়ে যেতে দিতে নেই, এগুলো নৃশংস অবশ্যই, কিন্তু এগুলো আদিম। বাংলার নিজস্ব সম্পত্তি। এসবের বাইরেও চড়ক হোক বা গাজন - সবটাই আগামীতে যাতে ফসল উৎকৃষ্ট হয়, যাতে তেনাদের উপদ্রবে ক্ষতি না হয় সেই কথা ভেবেই উৎসব করা।

আমার বাবা-মা ছাড়া এ সংসার অচল, দুজনের এক হওয়াতেই জগতের কল্যাণ...

হর হর মহাদেব! জয় মা! আপনাদের কল্যাণ হোক। সকলে ভালো থাকুক।

|| নীলষষ্ঠী ব্রতকথা ||চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন গ্রামবাংলায় সর্বাধিক বেশি পরিচিত নীলষষ্ঠী নামে। অথচ পঞ্জিকা খুললে এ দি...
13/04/2026

|| নীলষষ্ঠী ব্রতকথা ||
চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন গ্রামবাংলায় সর্বাধিক বেশি পরিচিত নীলষষ্ঠী নামে। অথচ পঞ্জিকা খুললে এ দিনটা আদৌ ষষ্ঠী দেখাচ্ছেনা। এমাসে অশোকষষ্ঠী তো কবেই হয়ে গেছে, আবার নীলষষ্ঠী এলোই কি করে?
ধাপে ধাপে বিষয়গুলো জানলে পরিষ্কার হবে। প্রথমেই প্রশ্ন আসবে নীল কি? না, সেই নীল চাষের নীল নয়, মহেশ্বর। তিনি উগ্র বিষ পান করে নীলকণ্ঠ নাম নিয়েছেন। অনেকেই মনে করেন সেই থেকে মহেশ্বর কে এখানে নীল বলা হচ্ছে। আর আজকের দিনে তার বিয়ে হবে, মায়ের সাথে।

মা বলতে এখানে আমরা বলবো তাকে নীলাবতী বা নীলচণ্ডিকা‌। লোকমুখে শুনবেন ইনি হলেন সেই সতী মাতা, যিনি দক্ষযজ্ঞে প্রাণ বিসর্জন দিয়ে পুনরায় নীলধ্বজ রাজার গৃহে জন্মগ্রহণ করেন। লক্ষণীয় এই পার্বতী আর সতীর মাঝে লোককথা ঢুকিয়ে দিল নীলাবতীকে। আর নীল মহেশ্বরের সহিত আবার এনার বিবাহ হবে। এই সম্পূর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠান আজকের নীলষষ্ঠীর প্রধান আকর্ষণ।

গ্রামবাংলায় নীল বলতে যদি মূর্তি আকারে প্রকাশ বুঝি, তাহলে দেখবো একটা নিম কাঠে তৈরি বিগ্রহ, লালু শালু জড়িয়ে আজ বিয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে নির্দিষ্ট স্থানে। বিশেষ পুজোও হবে। বরযাত্রী থাকবে। পালাগান থাকবে। তবে হ্যাঁ গতকাল রাতে হয়ে গেছে হাজরা পুজো। এটা কি?
এ হল বিবাহ উপলক্ষে অন্যান্য দেবদেবীদের নিমন্ত্রণ।
এই নীলষষ্ঠীর যে লোককথা তা বলে নীলের সাথে নীলাবতীর অতি ধুমধামে বিবাহ হয়। দুজনের একান্ত সময় যাপনে হঠাৎ নীলাবতী তার প্রিয় স্বামীকে সন্তুষ্ট করতে গান ধরতে চান। এইখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন আঙ্গিক পাবেন কথায়, যে যেভাবে সাজিয়েছেন। তো হল কি, ঐ গান ধরতে গিয়ে নীলাবতী মাছির রূপ নিলেন। সেই মাছি বাবার কাছে গিয়ে গুনগুন করলে বাবা অত কিছু না ভেবে তাকে সরিয়ে ফেললেন। আর মাছিও অন্য ফুলে বসে পড়ে, পরবর্তীতে ঐ ফুল নদীতে পড়ে যায়, সাথে মাছির সলিল সমাধি ঘটে। আবার বাবার - মায়ের পূর্ণ মিলন সম্ভব হলনা। মেয়ের পরিণতিতে পিতা নীলধ্বজও প্রাণ বিসর্জন দিলেন। এখনো পর্যন্ত যতবার এই অংশটি শুনি, আমার যথাযথ লাগেনা। কিন্তু ভাবতে হবে দিনশেষে এটা লোককথা, তাই এতে বিসদৃশ জিনিসপত্র থাকবেই।

এই নীল-নীলাবতীর বিবাহে কিন্তু আজকে দুঃখের সেই অর্থে জায়গা নেই। গাজন - চড়ক সময়ে এ এক উৎসব। ভূতেদের উদ্দেশ্যে শোল মাছ পোড়া, সন্ন্যাসীদের নিরামিষ ভোগ সবকিছুর ব্যবস্থা থাকে বিভিন্ন জায়গায়।
এই পর্যন্ত যতটা দেখলাম, এটার সাথে সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ যোগ নেই। তবে অবশ্যই প্রত্যক্ষ যোগ আছে, সেই যোগসূত্র স্থাপন করছেন মা ষষ্ঠী স্বয়ং। শুক্লা ষষ্ঠী বিনাই তিনি প্রচার করেন এই মাহাত্ম্য।

এখন ক্যাপশনে দিয়েছি নীলষষ্ঠী ব্রতকথা, তো ব্রতকথা থাকবেই। এতটুকুতে মন যদি অধৈর্য্য না হয়, আসুন তাহলে শুনেই ফেলি।

যেরকম হয়, এক গ্রামে এক ব্রাহ্মণ দম্পতি আছেন। তারা সন্তানধারণ করতে চাইছেন। কিন্তু তা সফল হয়না। অথচ তারা ছিল ধর্মপ্রাণ। বহু ব্রত পালন করেও তাদের কোলে সন্তান আসেনা।

এখন দুজনেই সরযূ নদীর ধারে প্রাণ বিসর্জনে উদ্যত হলে, এক বৃদ্ধা তাদের আটকায়‌ । সবটা শোনে।
তখন ঐ বৃদ্ধা তাদের বলে যে তাদের আচারে ত্রুটি না থাকলেও ঐ ব্রাহ্মণী অন্য শিশুদের কান্না ও অন্যান্য ক্রিয়াকলাপ দেখে সহ্য করতে পারতেন না। এর ফলে মা ষষ্ঠীর কৃপা তাদের লাভ হয়না।

এতক্ষণে তারা বুঝে গেল এই বৃদ্ধা সাধারণ বৃদ্ধা নয়, ইনি মা ষষ্ঠী। তখন মা আবির্ভূত হয়ে নীলষষ্ঠী ব্রতপালন করতে বলেন‌ । এই ব্রত পালনে আবার তাদের সংসারে সন্তান আসে। সুস্থ সবল।
আর এভাবেই ছড়িয়ে যায় নীলমাহাত্ম। ছড়িয়ে দেন স্বয়ং মা ষষ্ঠী।

প্রধানত সাধারণ মানুষের জন্য এই ব্রত বলতে শিব আরাধনা, বাড়িতে শিবের আরাধনায় লাগবে বেলপাতা (মাস্ট) , এবার ধুতরো ফুল, আকন্দ মালা, নীলকণ্ঠ ফুল ইত্যাদিও ব্যবহার করা যায়‌ সাথে থাকবে ফল। ব্রত পালনকালে বাবাকে ও মা ষষ্ঠীকে স্মরণ করে পালন করতে হয়। খুবই সহজ। আসলে বাবার আরাধনা জটিল নয়, তবে আগ্রহ আর ধৈর্য থাকা দরকার।

গ্রামবাংলায় আজকেও সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা এই ব্রত করেন।উপোস থেকেও পালন করেন। ব্রত শেষ হয় সন্ধ্যায় নীলের কাছে বাতি দিয়ে।

এবার বাতি বলতে এখানে প্রদীপ। ঘিয়ের। তবে মোমবাতি ব্যবহার না করাই শ্রেয়‌।

দুটো জিনিস মনে রাখা দরকার - এই পুজো সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়েরা করেন- মেয়ে সন্তান ছেলে সন্তান ভাগ নেই।
আর দ্বিতীয় হল উপাচার সর্বস্ব আরাধনার পরিবর্তে নিজের বাড়িতে স্বল্প আয়োজনেও এই ব্রত পালন সম্ভব। আর পুরুষরাও নিজের মত বাবার আরাধনা করতে পারেন। তাই শুধুই মায়েদের একচেটিয়া আরাধনা নয় এটি।

সন্তানের মঙ্গল কামনা হোক, বা নিজেদের কোনো কামনা, যদি তা সৎ উদ্দেশ্যে হয়, আর আপনার ভক্তির যদি জোর থাকে, তাহলে বাবা তাকে ফেরাবেন না। অসাধ্য সাধন করতে পারেন মহেশ্বর এ বিষয়ে সন্দেহ নেই, আশা করি আপনাদের অনেকেরও নেই।

চেষ্টা করুন নিজের পুজো নিজের ঘরে করতে, এতে আপনার মনোযোগ নষ্ট হয়না, ভক্তিতে বাধা আসেনা। ব্রত শেষ করতে হয় সন্ধ্যায় বিশেষ মুহূর্তে দেবতার কাছে দীপদানের মাধ্যমে। এবারের ভালো যোগ সম্ভবত বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭:১৭

এই দীপ আসলে আমাদের জীবনের প্রতীক, সদা প্রজ্বলিত থাক। মায়ের সন্তানেরা ভালো থাক। সকলের কল্যাণ হোক বাবার কাছে এই প্রার্থনা। হর হর মহাদেব

হর হর মহাদেব 🕉️❤️চৈত্র সংক্রান্তিতে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবটি মূলত শিবের গাজন বা নীল পূজা...যা গ্রামবাংলার ধর্মীয় ...
12/04/2026

হর হর মহাদেব 🕉️❤️

চৈত্র সংক্রান্তিতে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসবটি মূলত শিবের গাজন বা নীল পূজা...যা গ্রামবাংলার ধর্মীয় ও লোকসংস্কৃতি ❤️🕉️

গাজন মূলত ভগবান শিবকে উৎসর্গ করা এক কঠোর তপস্যামূলক উৎসব। চৈত্র মাসের শেষ কয়েকদিন ভক্তরা “সন্ন্যাসী” রূপ ধারণ করে নানা ব্রত ও কষ্টসাধ্য আচার পালন করেন 🙏🕉️🔱
চৈত্র সংক্রান্তির গাজন উৎসবে ভক্তরা শিব, পার্বতী বা অন্যান্য দেব-দেবীর বেশ ধারণ করে ঢাকের তালে তালে যে নৃত্য পরিবেশন করেন, যা সাধারণত “ভক্ত নাচ” বা “হাজরা নাচ” নামে পরিচিত 🙏





শুভ হনুমান জয়ন্তীজয় বজরংবলী 🙏❤️
02/04/2026

শুভ হনুমান জয়ন্তী
জয় বজরংবলী 🙏❤️

ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের কৃপায় জীবনের সব দুঃখ দূর হয়ে যায়… 🙏শুভ রাম নবমী 🚩🙏🥰জয় শ্রী রাম 🙏🌻
27/03/2026

ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের কৃপায় জীবনের সব দুঃখ দূর হয়ে যায়… 🙏
শুভ রাম নবমী 🚩🙏🥰
জয় শ্রী রাম 🙏🌻

Address

শিবনগর সার্বজনীন কালী মন্দির কালীগঞ্জ
Kaliganj
7350

Telephone

01965060994

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শিবনগর সার্বজনীন কালী মন্দির কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category