ইসলামী জীবন-ধারা

ইসলামী জীবন-ধারা Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ইসলামী জীবন-ধারা, Religious Center, Kalaroa.

01/05/2026

হেদায়েত থেকে ছিটকে পড়া কি বোঝেন?

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এবং প্রধান বিচারপতি শাইখ সালিহ আল লুহাইদান রহিমাহুল্লাহ গণতন্ত্র, বর্তম...
30/01/2026

সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এবং প্রধান বিচারপতি শাইখ সালিহ আল লুহাইদান রহিমাহুল্লাহ গণতন্ত্র, বর্তমানের কতিপয় ইসলামি রাষ্ট্র (যেখানে গণতন্ত্র প্রচলিত আছে) যেমন: আলজেরিয়া, লিবিয়া ইত্যাদিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং উক্ত নির্বাচনসমূহে ভোটদান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন । এ বিষয়ে উনার মোট ৫ টি ফাতাওয়া আছে, যার মধ্যে ৪ টি ইসলামি রাষ্ট্রের ব্যাপারে আর অবশিষ্ট টি দারুল কুফরে অবস্থানরত সংখ্যালঘু মুসলিম কমিউনিটির ব্যাপারে । নিচে এগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হলো:

১.

উপস্থাপক: প্রশ্নকারী বলছেন: আসসালামু আলাইকুম, সম্মানিত পিতা! গণতন্ত্র কি কুফর? রাজনৈতিক দল গঠন করা ও এরূপ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা কি জায়েয? আর একজন সালাফি কি নির্বাচনে তার ভোট দিতে পারবে?

শাইখের উত্তর: প্রথমে আমাদেরকে বুঝতে হবে, গণতন্ত্রের অর্থ কী। গণতন্ত্র মানে যদি বুঝায় যে - সবকিছু জনগণের হাতে ন্যস্ত করা, এবং জনগণ এর যা ইচ্ছা সেটাকেই আইন হিসেবে নির্ধারণ করবে, যাতে মানুষ সেই অনুযায়ী শাসন পরিচালনা করতে পারে - তাহলে আমি বলবো: নিঃসন্দেহে এটি ইসলামের মধ্যে গ্রহণযোগ্য নয়। মুসলিম রাষ্ট্রে হুকুম প্রণয়নের অধিকার একমাত্র আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী ﷺ–এর সুন্নাহর জন্য নির্দিষ্ট। অর্থাৎ, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ–এর কথার ভিত্তিতেই শাসন চলবে।

কিন্তু বর্তমানের জটিল পরিস্থিতিতে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় , তাহলে যদি সম্ভব হয় এমন ব্যক্তিকে নির্বাচিত করা উচিত, যে দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে দেশের জন্য বেশি উপকারী। অতএব, এরূপ অবস্থায় ভোট দেওয়া জরুরি হয়ে যায়।

আর যদি কাউকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে অধিকতর খারাপ অবস্থাকে কমিয়ে আনা যায়, তাহলে একজন মুসলিম ব্যক্তি তার কাজ ও অবস্থান এমনভাবে নির্ধারণ করবে, যাতে সাধ্য অনুযায়ী হককে সম্মানিত করা যায় এবং বাতিলকে কমানো যায়। এটাই মূল কথা।আমরা আল্লাহ তা‘আলার কাছে কায়মনোবাক্যে চাই-তিনি যেন আমাদের সকল বিষয়ে পরিণাম উত্তম করে দেন।

২.

প্রশ্নকারী বলছেন: নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার হুকুম কী?

শাইখের উত্তর: নিঃসন্দেহে নির্বাচনের পদ্ধতিটাই এক ধরনের অনিষ্টকর পদ্ধতি; কেননা এতে অনেক সময় এমন লোকের ওপর নির্ভর করা হয়, যাদের ওপর শরীয়তসম্মতভাবে কোনো বিষয়ে নির্ভর করা ঠিক নয়। কোনো প্রার্থী বেশি ভোট পেলে বলা হয়—এই ব্যক্তি ভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছে। কিন্তু এরপর তারা এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হয়, যেগুলোর শরীয়তে কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা এসবের ব্যাপারে সচেতনও থাকে না।যদি কোনো ব্যক্তি জানে যে - সে কাউকে মনোনীত করলে বা সমর্থন করলে এবং তার প্রার্থী জয়ী হলে অনিষ্ট সংঘটিত হবে, সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির উচিত এমন পথ অবলম্বন করা যা অনিষ্ট কমায় এবং কল্যাণকে বৃদ্ধি করে। আর হ্যাঁ, মূলনীতি হলো—মন্দকে যতটা সম্ভব কমানো এবং ভালোকে যতটা সম্ভব বাড়ানো।

৩.

প্রশ্নকারী: আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন, হে শাইখ! আমাদের আলজেরিয়ায় বর্তমানে সংসদীয় নির্বাচন চলছে।শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলো পশ্চিমা ব্যবস্থা, যার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই—এর হুকুম তো সকলেরই জানা।

শাইখ: হ্যাঁ, জানা আছে। তাহলে সমস্যাটা কী?

প্রশ্নকারী: এখন কিছু দল আছে যারা শাসক দলের বিরোধী এবং তারা ক্ষমতায় আসতে চায়। আমরা যদি ভোট না দিই, তাহলে এমন একটি দল ক্ষমতায় আসতে পারে, যে দল সালাফি দাওয়াতের ক্ষতি করবে। এই অবস্থায় কি আমরা বর্তমান প্রেসিডেন্টের দলের পক্ষে ভোট দিতে পারি?

শাইখ: শোনো, যে দলটি জিতলে তোমাদের ক্ষতি হবে বলে আশঙ্কা করছো সেই দলের বিরুদ্ধে ভোট দাও।

প্রশ্নকারী:প্রেসিডেন্টের দল ইনশাআল্লাহ ভালো।
শাইখ: যদি তা-ই হয়, তাহলে দেখো—সবচেয়ে ভালো দল কোনটি, তার পক্ষেই ভোট দাও।

প্রশ্নকারী: অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের দলই ইনশাআল্লাহ?
শাইখ: আল্লাহর কসম! আমি জানি না।তোমরা বিষয়টি বিবেচনা করো, যে দলটি সবচেয়ে ভালো, তার পক্ষেই ভোট দাও। ব্যস ।

৪.

প্রশ্নকারী: শায়খ সালেহ ! আপনি কি ফোনকলে আছেন, শায়খ?
শাইখ: জি,

প্রশ্নকারী: শায়খ সালেহ।
শাইখ: জি , বলছি

প্রশ্নকারী: শায়খ। আমি লিবিয়া থেকে বলছি, শায়খ।
শাইখ: ঠিক আছে, বলুন । আপনার কী প্রশ্ন?

প্রশ্নকারী: শায়খ, আমাদের দেশে সামনে যে নির্বাচন আসছে, সে বিষয়েই আমার প্রশ্ন। এই নির্বাচন, শায়খ—আপনি জানেন—আমাদের এতে কোনো পছন্দই নেই; বরং এটি আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই এটি অনিবার্যভাবেই অনুষ্ঠিত হবেই। আর শায়খ, প্রায় এক মাস পর একটি জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হবে, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ২০০ জন নির্বাচিত হবেন। এই ২০০ জন এমন ক্ষমতা পাবে যা—

শাইখ: দেখুন ভাই, আপনারা যাকে দেশের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে উপযোগী মনে করেন—তাকেই নির্বাচিত করুন। জি,নির্বাচনে অংশ নিন।

প্রশ্নকারী: কিন্তু শায়খ, আমাদের এখানে কিছু তালিবুল ইলম আছেন—তারা আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। তারা বলেন, “ভোট দিও না।”

শাইখ: আমি বলছি—আমার কথা শুনুন।
যদি ভোট দিতে যান, তাহলে সেই ব্যক্তিকে দেখুন যাকে আপনি জানেন, অন্যরাও জানে—যে ব্যক্তি দেশের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে উপকারী।
যদি সে প্রার্থী হয়, তাকে ভোট দিন।

প্রশ্নকারী: ঠিক আছে শাইখ, আমাদের এখানে কিছু সেক্যুলার (ধর্মনিরপেক্ষ) লোকও আছে। আমরা সেক্যুলারদের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করি, শায়খ।আমার কাছে জনসাধারণকে বোঝানোর মতো খুব কথা নেই।

শাইখ: কিন্তু আমি এটুকু বলি—যে ব্যক্তি দেশের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে উপকারী, সে কখনোই সেক্যুলার হতে পারে না। সে কখনোই দ্বীন ও দুনিয়ায় উপকারী হতে পারে না যদি সে সেক্যুলার হয়—কখনোই না।

প্রশ্নকারী: কিন্তু কিছু যুবক ও তালিবুল ইলম বলেন, “সেক্যুলারদের ব্যাপারে সতর্ক করো না, কারণ এতে তোমরা ইখওয়ানদের (মুসলিম ব্রাদারহুড) উত্থান ঘটাবে, আর তারা ক্ষমতায় চলে আসবে।

শাইখ: এ বিষয়ে-আল্লাহর কসম-আমার কাছে কোনো উত্তর নেই। আপনারা লিবিয়ার মানুষ, আপনারাই লিবিয়াকে সবচেয়ে ভালো জানেন। আপনারা কেবল তাকেই নির্বাচিত করুন যাকে আপনারা নিশ্চিতভাবে জানেন—সে দেশের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে উপকারী।এটাকে একটি মূলনীতি বানিয়ে নিন—হ্যাঁ।

প্রশ্নকারী: শাইখ, তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই—আমরা যাকে উপকারী মনে করি তাকে ভোট দেব?
শাইখ: যাকে আপনারা মনে করেন দেশের জন্য দ্বীন ও দুনিয়ার দিক থেকে সবচেয়ে উপকারী তাকেই নির্বাচিত করুন।

প্রশ্নকারী: শাইখ, যারা নির্বাচনে বিশ্বাসই করে না এবং মানুষকে অংশগ্রহণের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করে—তাদের ব্যাপারে আপনার নির্দেশনা কী?

শাইখ: আমি বলি—যে ভোট দেয় না, সে তার নিজের ব্যাপারে স্বাধীন। কিন্তু যদি কেউ ভোট দেয় এবং তার মাধ্যমে দেশের উপকার হয়—তাহলে সেটাই সঠিক।

প্রশ্নকারী: জি, শাইখ।আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন শাইখ যেন আমরা সফল হই।

শাইখ: আল্লাহ তাওফিক দিন সেই কাজে, যা তিনি ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন।আল্লাহ আপনাকে বরকত দিন। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

©

প্রশ্ন: গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ, পার্লামেন্টে বা গণতান্ত্রিক সরকারের অন্য কোনো স্তরে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করার বিধান কী? গ...
29/01/2026

প্রশ্ন: গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ, পার্লামেন্টে বা গণতান্ত্রিক সরকারের অন্য কোনো স্তরে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করার বিধান কী? গণতন্ত্রে কাউকে ভোট দেওয়ার বিধানই বা কী? প্রাচীনকালে ইসলামি রাষ্ট্র কীভাবে সংগঠিত ও পরিচালিত হতো?

​উত্তর: ​সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর:
​প্রথমত: গণতন্ত্র একটি মানবসৃষ্ট ব্যবস্থা, যার অর্থ হলো জনগণের দ্বারা জনগণের শাসন। সুতরাং এটি ইসলামের পরিপন্থী, কারণ শাসনের অধিকার একমাত্র আল্লাহর, যিনি সর্বোচ্চ ও সর্বশক্তিমান। কোনো মানুষের জন্য আইন প্রণয়নের (Legislative) অধিকার দেওয়া বৈধ নয়, তিনি যেই হোন না কেন।

​'মাওসুয়াত আল-আদিয়ান ওয়াল-মাযাহিব আল-মুয়াসিরাহ' (২/১০৬৬, ১০৬৭)-এ বলা হয়েছে:
নিঃসন্দেহে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আনুগত্য, অনুসরণ বা আইন প্রণয়নের দিক থেকে আধুনিক শিরকের একটি রূপ; যেহেতু এটি স্রষ্টার সার্বভৌমত্ব এবং আইন জারি করার তাঁর নিরঙ্কুশ অধিকারকে অস্বীকার করে এবং সেই অধিকার মানুষের ওপর অর্পণ করে। আল্লাহ বলেন (অর্থের অনুবাদ):

​“তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে কেবল এমন কতগুলো নামের ইবাদত করছ, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষেরা রেখেছ, যার কোনো প্রমাণ আল্লাহ অবতীর্ণ করেননি। বিধান দেওয়ার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না; এটাই সঠিক ধর্ম, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।” [ইউসুফ ১২:৪০]

​“ফয়সালা কেবল আল্লাহরই।” [আল-আনআম ৬:৫৭]

​দ্বিতীয়ত: যে ব্যক্তি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রকৃত প্রকৃতি ও এর বিধান বোঝেন, এরপরও তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হন বা অন্য কাউকে মনোনীত করেন—তিনি এই ব্যবস্থাকে অনুমোদন দিচ্ছেন এবং এর সাথে কাজ করছেন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক, কারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ইসলামের পরিপন্থী। একে অনুমোদন দেওয়া এবং এতে অংশগ্রহণ করা এমন কাজ যা কুফরি বা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

​তবে যারা এই ব্যবস্থায় নিজেকে বা অন্যকে মনোনীত করেন এই উদ্দেশ্যে যে, পার্লামেন্টে যোগ দিয়ে তারা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ (Hujjah) প্রতিষ্ঠা করবেন এবং সাধ্যমতো মন্দ ও ফাসাদ কমিয়ে আনবেন—যাতে দুর্নীতিবাজ ও কাফিররা দেশে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর এবং মানুষের দুনিয়াবি ও ধর্মীয় স্বার্থ নষ্ট করার অবাধ সুযোগ না পায়—তবে এটি একটি ইজতিহাদি বিষয় (গবেষণার অবকাশ রাখে), যা এর মাধ্যমে অর্জিত হতে যাওয়া সম্ভাব্য কল্যাণের ওপর নির্ভরশীল।

​এমনকি কোনো কোনো আলেম মনে করেন এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ওয়াজিব বা আবশ্যিক।

​শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে উসাইমীন (রহ.)-কে নির্বাচনের বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: “আমি মনে করি নির্বাচন ওয়াজিব; আমাদের উচিত যাকে আমরা ভালো মনে করি তাকে নিয়োগ দেওয়া। কারণ ভালো মানুষেরা যদি পিছিয়ে থাকে, তবে তাদের জায়গা কারা নেবে? মন্দ লোকেরা তাদের জায়গা দখল করবে, অথবা নিরপেক্ষ লোকেরা—যাদের মধ্যে ভালো-মন্দ কিছুই নেই বরং তারা কেবল হৈচৈকারীদের অনুসরণ করে। তাই আমাদের যোগ্য মনে হয় এমন কাউকে বেছে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।”

​যদি কেউ বলে: “আমরা একজনকে বেছে নিলাম কিন্তু পার্লামেন্টের অধিকাংশ লোক তো তার মতো নয়।”

​আমরা বলব: “তাতে কিছু যায় আসে না। আল্লাহ যদি এই একজন ব্যক্তির ওপর বরকত দান করেন এবং তাকে পার্লামেন্টে সত্য কথা বলার তাওফিক দেন, তবে নিঃসন্দেহে তার প্রভাব থাকবে। কিন্তু আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো আল্লাহর প্রতি ইখলাস বা আন্তরিকতা। সমস্যা হলো আমরা জাগতিক উপায়ের ওপর খুব বেশি নির্ভর করি এবং আল্লাহ যা বলেন তা শুনি না। সুতরাং যাকে আপনি ভালো মনে করেন তাকে মনোনীত করুন এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন।” [লিক্বা-আত আল-বাব আল-মাফতুহ, নং ২১]

​স্থায়ী কমিটির (Lajnah Da'imah) আলেমদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল:

“নির্বাচনে ভোট দেওয়া এবং কাউকে মনোনীত করা কি জায়েজ? উল্লেখ্য যে, আমাদের দেশ আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে শাসিত হয়।”

​তারা উত্তর দিয়েছিলেন:“একজন মুসলমানের জন্য এমন কোনো সিস্টেমে নিজেকে মনোনীত করা বৈধ নয় যা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে শাসন করে এবং ইসলামের শরীয়াহ বহির্ভূত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। কোনো মুসলমানের জন্য নিজেকে বা অন্য কাউকে ভোট দেওয়া বৈধ নয় যারা সেই সরকারে কাজ করবে; যদি না প্রার্থী বা ভোটাররা এই আশা করেন যে, এতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা ব্যবস্থাটিকে ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন এবং একে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অতিক্রম করার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবেন। তবে শর্ত হলো, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই ব্যক্তি এমন কোনো পদ গ্রহণ করবেন না যা ইসলামি শরীয়াহর পরিপন্থী।” [ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ২৩/৪০৬, ৪০৭]

​তাদের আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: “আলজেরিয়ায় আমাদের এখানে তথাকথিত আইনসভা নির্বাচন হয়। সেখানে এমন কিছু দল আছে যারা ইসলামি শাসনের ডাক দেয়, আবার কিছু দল আছে যারা তা চায় না। যে ব্যক্তি নামাজ পড়া সত্ত্বেও ইসলামি শাসন ছাড়া অন্য কিছুর পক্ষে ভোট দেয়, তার বিধান কী?”

​তারা উত্তর দিয়েছিলেন: “যে দেশ ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী শাসিত নয়, সেখানকার মুসলমানদের উচিত তাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করা যাতে ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা কায়েম হয়। তাদের উচিত সেই দলকে সাহায্য করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া যারা ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী শাসন করবে বলে পরিচিত। আর যারা ইসলামি শরীয়াহ বাস্তবায়ন না করার ডাক দেয়, তাদের সমর্থন করা বৈধ নয়; বরং এটি একজন ব্যক্তিকে কুফরি পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

কারণ আল্লাহ বলেন (অর্থের অনুবাদ): ​“আর আপনি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী বিচার করুন এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না... তারা কি তবে জাহেলিয়াতের বিচার চায়? দৃঢ় বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহর চেয়ে উত্তম ফয়সালাকারী আর কে হতে পারে?”
[আল-মায়িদাহ ৫:৪৯-৫০]

​অতএব, যখন আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে যারা ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী বিচার করে না তারা কুফরিতে লিপ্ত, তখন তিনি তাদের সাহায্য করা বা তাদের বন্ধু ও মিত্র হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তিনি মুমিনদের নির্দেশ দিয়েছেন তাকে ভয় করতে যদি তারা প্রকৃত মুমিন হয়।

আল্লাহ বলেন:
​“হে মুমিনগণ! তোমাদের আগে যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে উপহাস ও খেল-তামাশার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে তাদেরকে এবং কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; আর আল্লাহকে ভয় করো যদি তোমরা মুমিন হও।” [আল-মায়িদাহ ৫:৫৭]
​আল্লাহই শক্তির উৎস। আমাদের নবী মুহাম্মদ ﷺ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। [ফাতাওয়া আল-লাজনাহ আদ-দায়িমাহ, ১/৩৭৩]

​©
​ইসলাম কিউএ (Islam Q&A)
শাইখ মুহাম্মাদ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ

নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদান সম্পর্কে শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর প্রকৃত অবস্থান এবং উনার সবগুলো ফাতাওয়ার সারমর্ম নিম্নে ...
29/01/2026

নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ভোটদান সম্পর্কে শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর প্রকৃত অবস্থান এবং উনার সবগুলো ফাতাওয়ার সারমর্ম নিম্নে ব্যক্ত করা হলো।

শাইখ আল-আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন:

“নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের দুটি অবস্থান রয়েছে, যা অজ্ঞ মানুষের কাছে—প্রথম দৃষ্টিতেই— পরস্পরবিরোধী মনে হতে পারে; অথচ বাস্তবে এ দুটি অবস্থানের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

i) প্রথম অবস্থান:
আমরা কোনো মুসলিমকে —সে ব্যক্তি হোক অথবা কোনো রাজনৈতিক দল হোক—এই ধরনের পার্লামেন্টে নিজেকে প্রার্থী হতে উপদেশ দিই না। এর কারণ আগেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে…

ii) দ্বিতীয় অবস্থান:
আমরা সব মুসলিমকে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন , এ কথা বলি—যদি শাসক রাষ্ট্র এই ব্যবস্থা (নির্বাচনী ব্যবস্থা) জনগণের উপর আরোপ করে, এবং বিভিন্ন দল ও মতাদর্শের লোক তাদের প্রার্থী দাঁড় করিয়ে পার্লামেন্টে সর্বাধিক আসন নিশ্চিত করতে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, তখন এই পরিস্থিতিতে যদি কিছু মুসলিম ব্যক্তি প্রার্থী হয়, আমরা তাদেরকে এতে অংশগ্রহণ করতে নিরুৎসাহিত করি। তবে এখানে আমাদের আরেকটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

আমরা বলি: ফিকহের একটি মূলনীতি হলো—“ যদি একজন মুসলিম ব্যক্তি দুটি অনিষ্টের মুখোমুখি হয়, তবে সে অপেক্ষাকৃত কম অনিষ্টটিই বেছে নেবে।”

সব ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পার্লামেন্ট গঠিত হবেই —মুসলিমরা তা পছন্দ করুক বা না করুক। সম্পূর্ণ অমুসলিমদের নিয়ে গঠিত একটি পার্লামেন্ট এবং সম্পূর্ণ মুসলিমদের নিয়ে গঠিত একটি পার্লামেন্টের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।এছাড়াও পার্থক্য রয়েছে সেই পরিস্থিতিতে, যখন সব প্রার্থীই মুসলিম—কিন্তু তাদের মধ্যকার কেউ সৎ, কেউ অসৎ; কেউ ইসলামের কল্যাণে কাজ করে, আর কেউ ইসলামের স্বার্থকে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থ, নিজের দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কাজ করে। এ অবস্থায় মুসলিম ভোটারদের জন্য আবশ্যক হলো—ইসলামের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও উপকারী প্রার্থীকে নির্বাচিত করা।

একই সঙ্গে আমরা এ কথাও বলি যে, একজন মুসলিমের জন্য উচিত নয় নিজেকে প্রার্থী করে পার্লামেন্টে যোগদান করা; কারণ এতে আত্মবিনাশ রয়েছে এবং শরিয়তের বিধান লঙ্ঘনের স্বীকৃতি রয়েছে।

কিন্তু যদিও আমাদের এই মতামত শতভাগ সঠিক, আমরা সবাইকে আমাদের এই মতের প্রতি সন্তুষ্ট করতে পারব না ।বাস্তবতা হলো—অনেকেই তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও মতামত পেশ করবে, তারা সঠিক হোক বা ভুল, কিংবা তারা ইজতিহাদের যোগ্য হোক বা না হোক।বাস্তবতা হচ্ছে—অনেক সৎ মুসলিমই পার্লামেন্টে প্রার্থী হবে। সেক্ষেত্রে আমরা মুসলিম সমাজকে বলি: “তোমরা অসৎ মুসলিমদের বিরুদ্ধে, এবং কাফিরদের (যেমন কমিউনিস্ট ও অন্যান্যদের) বিরুদ্ধে তাদেরকেই নির্বাচিত করো।কারণ এটি (নির্বাচন বয়কট করে) ঘরে বসে থাকা এবং প্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার চেয়ে কম অনিষ্টকর।”

[সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান-নূর” সিরিজের টেপ নং ৩৪৪ থেকে]

©

Address

Kalaroa
9410

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ইসলামী জীবন-ধারা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share