বাংলাদেশ অগ্নিবীর - জয়পুরহাট জেলা

  • Home
  • Bangladesh
  • Joypur
  • বাংলাদেশ অগ্নিবীর - জয়পুরহাট জেলা

বাংলাদেশ অগ্নিবীর - জয়পুরহাট জেলা সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক। 🙏
বাংলাদেশ অগ্নিবীর, জয়পুরহাট জেলা।

একনজরে বাংলাদেশ অগ্নিবীরের মূলনীতি, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

🌼 মূলনীতি 🌼

অগ্নিবীর বৈশ্বিক মানবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধে বিশ্বাসী এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে যে কোনো ধরনের বৈষম্যকে প্রত্যাখ্যান করে। অগ্নিবীর “বসুধৈব কুটুম্বকম্” সভ্যতার গর্বিত উত্তরসূরী, আমরা এক জাতি, এক পরিবার ও এক মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী এবং সেটি হলো এক ও অদ্বিতীয় বৈদিক ধর্ম যা সকল মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখে, যার অনুপ্রেরণা এক ও অদ্বি

তীয় নিরাকার সর্বব্যাপক পরমেশ্বর।

১. অগ্নিবীর বৈদিক মানবতার ধর্মে বিশ্বাসী যা পবিত্র বেদে বর্ণিত হয়েছে এবং যা শান্তি, সহিষ্ণুতা, একতা, সত্যবাদীতা ও সততাকে সমর্থন দেয়। কেউ যদি এর সাথে দ্বিমত হয় তবে তার সাথে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা ঐকমত্যে আসতে বিশ্বাসী; অর্বাচীন বাক্যালাপ কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনে নয়। যদিও আজ পর্যন্ত বৈদিক মানবতাবাদের ত্রুটি কেউ প্রমাণ করতে সক্ষম হয় নি।

২. অগ্নিবীর পবিত্র বেদে বিশ্বাসী যা মানবজাতির প্রথম ও একমাত্র গ্রন্থ যা ঈশ্বরের প্রেরণায় প্রাপ্ত। অগ্নিবীর অন্য কোনো গ্রন্থকেই ঐশ্বরিক বলে বিশ্বাস করে না এবং এর পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে বলেই তা করে না।

৩. তবে অগ্নিবীর কাউকে অন্ধভাবে বেদ গ্রহণ করতে বাধ্য করে না, কেননা এটি বেদের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে। বেদকে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিসেবে মানা সিদ্ধান্ত হবে, পূর্বনির্ধারিত অন্ধ বিশ্বাস নয়; এটাই বেদের নীতি। তাই বেদকে ঐশ্বরিক হিসেবে বিশ্বাস করে না এমন লোকদেরও আমরা সমানভাবে মহৎ ও পুণ্যবান মনে করি যদি তারা সৎ ও চরিত্রবান হয় এবং “শুধু সত্যকে স্বীকার আর মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান” এই নীতিতে বিশ্বাসী হয়।

৪. অগ্নিবীর ঈশ্বর উপাসনা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য যোগের অষ্ট নিয়মে বিশ্বাসী।

যম- অহিংসা, সত্যবাদিতা, চুরি না করা, অবৈধ সঞ্চয় না করা, আত্মসংযম।

নিয়ম - চিন্তা এবং মনের বিশুদ্ধতা, আত্মতৃপ্তি, ‘আমি, এই বোধকে’ দ্রবীভূত করে ঈশ্বরে সবকিছু উৎসর্গ করা, পরিশ্রম, অন্তর্দর্শন এবং স্বশিক্ষা।

আসন - দীর্ঘ সময়ের জন্য ধীরভাবে মনঃসংযোগ ক্ষমতা।

প্রাণায়াম- শ্বাস প্রক্রিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা।

প্রত্যাহার - বহিরাগত ব্যাঘাতের থেকে মনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।

ধারণা – ঈশ্বর ধারণায় মনোনিবেশ।

ধ্যান- ধারাবাহিকভাবে নির্দিষ্ট কিছুতে মনোযোগী হওয়া।

সমাধি – এমন বিশ্বাস অর্জন যে ঈশ্বর আমাদের মধ্যেই।

৫. অগ্নিবীর জ্ঞানভিত্তিক বিবর্তন পদ্ধতিতে বিশ্বাস করে এবং জোরপূর্বক বিশ্বাস ও অন্ধবিশ্বাসের পরিণতি সর্বদা বিপরীত ও অনাকাঙ্ক্ষিতই হয় বলে মনে করে। সেহেতু অগ্নিবীর এর পদ্ধতি হলো সবচেয়ে সৎ এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জ্ঞান এবং মানসিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া।

৬. অগ্নিবীর বিশ্বাস করে যে “নারীরা পুরুষদের চেয়ে তুলনামূলক অযোগ্য এবং নারীদের পুরুষদের তুলনায় স্বল্প অধিকার প্রাপ্য” এরূপ যারা বিবেচনা করে তারা বেদবিরুদ্ধ মানসিকতা লালন করে এবং মানবতার সর্ববৃহৎ শত্রু।

৭. অগ্নিবীর সম্পূর্ণরূপে সেইসব বিকৃতমস্তিস্কদের বিরুদ্ধে যারা জন্মভিত্তিক বর্ণপ্রথা এবং যোগ্যতাবিহীন বংশপরম্পরার ভিত্তিতে নির্ধারিত গুরুবাদে বিশ্বাস করে এবং এর মাধ্যমে বৈষম্যের সৃষ্টি করে। অগ্নিবীর পবিত্র বেদ বর্ণিত কর্ম ও গুণভিত্তিক শ্রমবিভাজন তথা বর্ণাশ্রম ধর্মে বিশ্বাসী। মানবসৃষ্ট ভ্রান্ত অমানবিক জন্মভিত্তিক বর্ণপ্রথায় নয়।

৮.অগ্নিবীর দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ‘মাতৃবৎ পরদারেসু’ অর্থাৎ শুধুমাত্র নিজ স্ত্রী [একজন] ছাড়া সকল নারী মাতৃস্বরূপ। যে সকল প্রতিষ্ঠান বা অনুষ্ঠান নারীদের ভোগপণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে আমরা তাদের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করি।

৯. আমরা বেদের ভ্রান্ত, অশুদ্ধ ভাষ্য-ব্যাখ্যাকে অগ্রহণযোগ্য মনে করি এবং মহর্ষি-বিদ্বানগণ দ্বারা বৈদিক প্রমাণ আশ্রিত রূপসমৃদ্ধ বেদ ভাষ্য - ব্যাখ্যা অনুসরণ করি।

১০. অগ্নিবীর বদ্ধ মানসিকতায় বিশ্বাসী নয় এবং কোনো মানবীয় মতকে চূড়ান্ত বলে মনে করে না। মানবীয় সকল মতের সমীক্ষা একমাত্র ঈশ্বরের বাণী বেদ দ্বারাই হতে পারে। তাই অগ্নিবীর সর্বদাই বেদ ও বৈদিক শাস্ত্রের আলোকে আলোচনা ও শাস্ত্রার্থের মাধ্যমে সত্য গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সত্য গ্রহণের ক্ষেত্রে বেদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত এবং অভ্রান্ত; তবে অন্যান্য মার্গকেও আমরা সন্মান করি ও ভ্রাতৃসুলভ বলে মনে করি।

১১. সমালোচনা অর্থই ঘৃণা নয়। আমরা এমনকি আমাদের পিতা-মাতার সাথেও কোনো বিষয়ে বিতর্ক করতে পারি কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা তাঁদের ঘৃণা করি। তাই প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আমাদের বেদের আদর্শভিত্তিক বক্তব্যসমূহকে নিন্দা বা ঘৃণার চোখে না দেখে যৌক্তিকতার চোখে দেখার আহ্বান জানাই। বৈদিক সত্যের শুভ্র সৈনিক অগ্নিবীরেরা কোনপ্রকারেই কারো সাথে অশালীন তর্ক, অযৌক্তিক বাক্যালাপ, কারো মতকে কুৎসিতভাবে আঘাত করতে পারে না; বরং শান্তিপূর্ণ সুন্দর আলোচনা করতে পারে মাত্র।

১২. সর্বশেষে অগ্নিবীর কোন বদ্ধ সংগঠন নয়, বরং এটি একটি উন্মুক্ত ধারণা। আপনি যদি বৈদিক যৌক্তিকতার মতে বিশ্বাসী হন ও বাংলাদেশ অগ্নিবীর এর মূলনীতির অনুসারী হন, তবে আপনিও একজন অগ্নিবীর! আমরা সকলে অহিংস হই, আমরা একে অপরের শত্রুভাবাপন্ন না হই, আমরা সকলের কল্যাণ কামনা করি, আমরা সকলকে নিজ পরিবারের সদস্য মনে করি। শান্তি, সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা হোক আমাদের অস্ত্র।

🌼 লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 🌼

১. সনাতন ধর্ম বেদমূলক। “বেদঽখিলো ধর্মমূলম্” - তাই সকল শাস্ত্র বৈদিক সিদ্ধান্তের অনুকুল ভাবেই মান্য করা বিহিত। বর্তমানে বৈদিক সিদ্ধান্তের নামে এবং আড়ালে অনেক সংস্কার ও বিচারধারা প্রবর্তিত হয়েছে যা কুসংস্কার ও সম্প্রদায়গত মতভেদের জন্ম দিয়েছে। তাই বেদের সর্ব প্রামাণ্যতা কথায় নয় বরং কাজে প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের সর্বপ্রথম লক্ষ্য।

২.

**স এষ পূর্বেষামপি গুরুঃ কালেনানবচ্ছেদাৎ। **

**যোগ দর্শন ১.২৬**

সেই ঈশ্বরই সকল গুরুরও গুরু, কেননা কালের দ্বারা তার অবচ্ছেদ নেই।

বর্তমানে অন্ধবিশ্বাসী গুরুবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করা। যোগী, তপস্বী, বেদজ্ঞ গুরুদেব বা আচার্য শিষ্যকে পরমাত্মা প্রাপ্তির পথ দেখাতে পারেন, ভগবদ্ভক্ত করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন, বেদানুকূলভাবে পঞ্চমহাযজ্ঞ সম্বলিত জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে পারেন কিন্তু তাঁর বক্তব্যই শেষ কথা নয় সাথে যুক্তি ও শাস্ত্রীয় প্রামাণ্যতাও আবশ্যক।

বর্তমানে অনেক নিজস্ব মতবাদপুষ্ট, বেদবিরোধী গুরুবাদ ও তাঁকেই ঈশ্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে বৈদিক সনাতন সিদ্ধান্তে অনৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে যা দূর করা আবশ্যক।

৩. বলি প্রথার বিলোপ এবং বেদানুকূল সাত্ত্বিক খাদ্য গ্রহণে উৎসাহ খাদ্য বিচার নিয়ে সম্প্রদায়গত মতভেদ নির্মূল।

৪. ***“জন্ম নয় বরং কর্ম ও গুণেই বর্ণ” ***- এই মূলনীতিকে সামনে রেখে কর্ম ও গুণের ক্রমবিকাশের ওপর ভিত্তি করে উপনয়ন, বিবাহ সংস্কারাদি পরিচালনা করা এবং পর্যায়ক্রমে সকল সনাতনীকে ষোড়শ সংস্কারের আওতায় আনা।

৫. সর্বস্তরে বেদ ও তদানুকূল শাস্ত্রের প্রচার-প্রসার এবং সংস্কৃত শিক্ষা প্রদান, তার জন্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও কর্মসূত্রানুযায়ী পাঠদান। বর্তমান শাস্ত্রবিমুখদের মধ্যে শাস্ত্র সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি করা। পারিবারিকভাবে সন্তানদের শাস্ত্রশিক্ষার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।

৬. সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অর্থনৈতিক ও কর্মক্ষেত্রীয় মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা।

৭. নারী পুরুষের সমান মৌলিক অধিকার-যজ্ঞ, পেশা,সংস্কার থেকে শুরু করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারপর্যন্ত নিশ্চিত করা। বিশেষতঃ সম্পত্তির উত্তরাধিকার সনাতন ধর্মাবলম্বনকারী সন্তানই হবে, ব্যতিক্রমীরা নয় তা নিশ্চিতকরণ।

৮. বাল্যবিবাহ বিলোপ, সমাজ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিজ সুরক্ষায় নিজেদেরই সমর্থ করা এবং সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠাকরণ।

৯. ভিন্ন উগ্রবাদী মতবাদ কর্তৃক প্রচারিত অপপ্রচার ও চেতনা পরিবর্তনের মাধ্যমে ধর্মান্তরকরণ [পড়ুন মতবাদের অনুসারীকরণ; কারণ মানবধর্ম একমাত্র বৈদিক সনাতন ধর্ম, অন্য সকল “ধর্ম” মতবাদ মাত্র] রোধ ও সত্য প্রতিষ্ঠা।

১০. সদ্ গ্রন্থ পাঠ ও বিবেকীপুরুষের মাধ্যমে অতীতে “ধর্মান্তরিত” বা নতুন শুভাগতদের শুদ্ধি যজ্ঞের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা ও ধর্মীয়ভাবে মানসিক পরিশুদ্ধিকরণ বাস্তবায়ন করে সামাজিক ভাবে গ্রহণ।

১১. পরমেশ্বর ও বেদমাতার বাক্য শিরোধার্য করে “এক মত, এক চিত্ত, এক আহার, এক লক্ষ্য ও এক মিলন ভূমি” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সনাতনের ঐক্য সাধন৷

১২.

***পরমেশ্বরের শ্রেষ্ঠ নাম - ও৩ম্***

***এক মহামন্ত্র - গায়ত্রী***

এই লক্ষ্যদ্বয় বাস্তবায়ন করে ঐক্য সাধন।

ও৩ম্ কৃণ্বন্তোবিশ্বমার্যম 🙏

ও৩ম্যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ।যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্ ॥                                        ...
26/02/2026

ও৩ম্
যজ্ঞদানতপঃকর্ম ন ত্যাজ্যং কার্যমেব তৎ।
যজ্ঞো দানং তপশ্চৈব পাবনানি মনীষিণাম্ ॥
[গীতা১৮/৫]

🌿যজ্ঞ, দান ও তপস্যাদি কর্ম পরিত্যাজ্য নয়, এগুলো পালন করাই কর্তব্য। কেননা, যজ্ঞ, দান ও তপস্যাই পণ্ডিতগণের চিত্ত-শুদ্ধিকর কর্ম।

💐💐💐পঞ্চমহাযজ্ঞ💐💐💐

🌿প্রথম ব্রহ্মযজ্ঞ, [ঋগ্বেদ ১/৬/১] ব্রহ্মযজ্ঞ হলো ব্রহ্মকে জানার প্রচেষ্টা। পশুজন্মের সাথে মানবজন্মের পার্থক্য কী? একটি পশু আহার করে, ঘুমায়, মৈথুন করে। একজন মানুষের জীবনও যদি আহার, নিদ্রা, মৈথুনেই কেটে যায়, তাহলে পশুর সাথে তার পার্থক্য কী! ঈশ্বর আমাদের শ্রেষ্ঠ মনুষ্যযোনী দিয়েছেন, বর্তমান মনুষ্য জন্মকে সার্থক তখনই করতে পারি, যদি আমরা এই দুর্লভ জন্মকে ব্রহ্ম সাধনার কাজে লাগাই। তমেব বিদিত্বাতি মৃত্যুমেতি নান্যঃ পন্থা বিদ্যতেহয়নায়। [যজুর্বেদ ৩১।১৮]। এই ব্রহ্মকে জানলেই মৃত্যুকে অতিক্রম করা যায়, মুক্তিলাভের আর কোনো উপায় নেই। এভাবেই আমরা ক্রমান্বয়ে জন্মমৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তিরূপ মোক্ষের দিকে ধাবমান হতে পারব। ব্রহ্মকে জানার যেকোনো প্রচেষ্টাই ব্রহ্মযজ্ঞ। সাধারণত যোগ, প্রাণায়াম, স্বাধ্যায় [শাস্ত্রাদি অধ্যয়ন], অধ্যাপনা, ঈশ্বরের স্তুতি, প্রার্থনা, উপাসনা এসকলই ব্রহ্মযজ্ঞের অন্তর্ভুক্ত।

🌿দ্বিতীয় দেবযজ্ঞ, [ঋগ্বেদ ৮।৪৪।১, যজুর্বেদ ৩।১, যজুর্বেদ ১২।৩০] নিত্য অগ্নিহোত্রসহ সকল যজ্ঞ, প্রাকৃতিক দেবের পরিশুদ্ধির উদ্দেশ্যে হবি অর্পণ, বিদ্বানগণের সংসর্গ লাভ ও সেবা করাই দেবযজ্ঞ। গীতায় আছে, তাই প্রতিদিন কিংবা বিশেষ তিথিতে কাষ্ঠ, নানা আহার্য শস্যদ্রব্য, ঘৃত, সুগন্ধি মশলা, কেসর, জাফরান, পুষ্প প্রভৃতি দিয়ে যজ্ঞ করতে হবে। নানা সুগন্ধি দ্রব্য হবি দেয়ার ফলে বায়ু বিশুদ্ধ ও নিরোগ থাকে।

🌿তৃতীয় পিতৃযজ্ঞ, [যজুর্বেদ ২।৩৪] আমাদের প্রপিতামহ-প্রপিতামহী, পিতামহ-পিতামহী, মাতা-পিতা, স্বগোত্রীয় কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ, গুরু বা আচার্য তথা অন্য যেকোনো বিদ্বান্ বা শিক্ষিত ব্যক্তি যাঁরা অনুভবপ্রবীণ, জ্ঞানপ্রবীণ ও মান-সম্মান পাওয়ার যোগ্য তাদেরকে 'পিতর' বলা হয়। তাদের যথাযথভাবে সন্মান প্রদর্শন, তাঁদের সাথে ভালো আচরণ ও তাঁদের শ্রদ্ধা করাই পিতৃযজ্ঞ। 'য়ে সমানাঃ সমনসঃ পিতরো য়মরাজ্যে', [যজুর্বেদ ১৯।৪৫] 'পিতৃভ্যঃ স্বধায়িভ্যঃ স্বধা নমঃ', [যজুর্বেদ ১৯।৩৬] পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহাদির তথা 'নমো বঃ পিতরো রসায়' ইত্যাদি মন্ত্র [যজুর্বেদ ২।৩২] পিতরদের সেবা ও সৎকার করার পক্ষে প্রমাণস্বরূপ। 'অহতৌ পিতরৌ ময়া' [যজুর্বেদ ১৯।১১] = আমার মাধ্যমে যেন আমার মা-বাবা কষ্ট না পায়। এ বিষয়ে মহর্ষি মনু বলেছেন- “কুয়াদহরহঃ শ্রাদ্ধমন্নাদ্যেনোদকেন বা। পয়োমূলফলৈর্বাংপি পিতৃভ্যঃ প্রীতিমাবহন। [মনুস্মৃতি ৩।৮২]” অর্থাৎ গৃহস্থ ব্যক্তি অন্নাদি ভোজ্য পদার্থ এবং জল, দুধ, কন্দমূল, ফল ইত্যাদি দ্বারা পিতরদের প্রসন্নতার জন্য প্রতিদিন শ্রাদ্ধ করবে অর্থাৎ শ্রদ্ধা সহকারে পিতামাতার সেবা-সৎকার করবে। এখানে ভগবান মনু। জীবিত পিতরদের সেবা করার জন্য বিধান দিয়েছেন এবং সেটি প্রতিদিন করতে বলেছেন। প্রসঙ্গত অন্ত্যেষ্টি কর্ম ব্যতীত পৃথক কোনো কর্ম মৃতের জন্য দ্বিতীয়বার কর্তব্য নয়। মূলত শ্রাদ্ধ' শব্দের মূল অর্থ শ্রদ্ধা, "শ্রৎ সত্যং দধাতি য়য়া ক্রিয়য়া সা শ্রদ্ধা, শ্রদ্ধয়া যৎ ক্রিয়তে তন্ত্রাদ্ধম্।” অর্থাৎ যে ক্রিয়া দ্বারা সত্যকে গ্রহণ করা যায় তার নাম শ্রদ্ধা এবং যা শ্রদ্ধা সহকারে করা যায়, তার নাম শ্রাদ্ধ। মৃত্যুর পরে তো জীব কর্মানুসারে বিভিন্ন যোনিতে গমন করে, অতএব মৃত্যুর ১৫ দিন বা ১ মাস পরে কোনো অনুষ্ঠান করে তাদের তৃপ্তি বা সেবা কখনো সম্ভব নয়। আর মাতা, পিতা, পুত্রাদি সম্বন্ধ শারীরিক। শরীর নষ্ট হওয়ার পর কে কার পিতা আর কে কার পুত্র? অতএব জীবিতকালে শ্রাদ্ধ করাই বৈদিক নিত্যকর্ম।

🌿চতুর্থ ভূতযজ্ঞ হলো জগতের সকল মানুষ ও পশুপাখির কল্যাণ কামনা ও তাদের সর্বদাই যথাসাধ্য সাহায্য করা [ঋগ্বেদ ২।১৩।৪]। "দ্বিপাদব চতুষ্পাৎ পাহি" [যজুর্বেদ ১৪।৮] দ্বিপাদ ও চতুষ্পাদ প্রাণীদের সংরক্ষণ করো। "ঊর্জম্ নো ধেহি দ্বিপদে চতুষ্পদে" [যজুর্বেদ ১১।৮৩] সকল দ্বিপদী ও চতুষ্পদী বৃদ্ধি ও পুষ্টিপ্রাপ্ত হোক- এভাবেই পবিত্র বেদে সকল প্রাণীর সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে। মানব ও পশুর প্রতি আমাদের সর্বদাই উত্তম আচরণ করা উচিত। আমরা অসুস্থ মানবের সেবা করতে পারি, দুঃস্থদের সাহায্য করতে পারি, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দিতে পারি, অবলা প্রাণীর জন্যও আহার, আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে পারি। এসবই ভূতযজ্ঞ। শুনাং চ পতিতানাং চ শ্বপচাং পাপরোগিণাম্। বয়সানাং কৃমীণাং চ শনকৈর্নির্বপেদ্ ভুবি। [মনু ৩।৯২] কুকুরাদি পশু, পতিত ব্যক্তি, অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তি, কুষ্ঠাদি ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগী, কাক আদি পক্ষী ও পিঁপড়া আদি কীটের জন্যে খাদ্যদ্রব্যের ছয় ভাগ আলাদাভাবে ভাগ করে দেওয়া ও তাদেরকে সদা প্রসন্ন রাখা উচিত।

🌿পঞ্চম 'অতিথিযজ্ঞ' অতিথিদের যথাযথ সেবা। যিনি পূর্ণ বিদ্বান, পরোপকারী, জিতেন্দ্রিয়, ধার্মিক, সত্যবাদী, ছল-কপট-রহিত, নিত্য ভ্রমণকারী মানুষ, তিনিই 'অতিথি'। [অথর্ববেদ ৯।৬।[৩]১-৮] কারো ঘরে যখন এসব গুণযুক্ত, সেবা করার যোগ্য অতিথি আসেন; তখন তাঁকে গৃহস্থ দাঁড়িয়ে নমস্কার করে, উত্তম আসনে বসাবেন। পরে গৃহস্থ তাঁকে জিজ্ঞাসা করবেন, "আপনার জল, খাদ্য বা অন্য কোনো বস্তুর ইচ্ছা হয় সেটা বলুন। হে অতিথি! যেভাবে আপনার কামনা পূর্ণ হয়, আমরা সেভাবেই আপনার সেবা করবো।" এভাবেই আমরা পরস্পর সেবা ও সৎসঙ্গপূর্বক বিদ্যাবৃদ্ধি দ্বারা সর্বদা আনন্দে থাকতে পারি।

পাম্প কর্মী রিপন সাহার ঘটনায় কোনো কেস ফাইল করার দরকার নাই, রিপন সাহার পক্ষে কোন উকিল ধরার দরকার নাই । প্রশাসনের উচিত হবে...
16/01/2026

পাম্প কর্মী রিপন সাহার ঘটনায় কোনো কেস ফাইল করার দরকার নাই, রিপন সাহার পক্ষে কোন উকিল ধরার দরকার নাই । প্রশাসনের উচিত হবে সরাসরি দুটাকে নগদে ক্র স ফায়ার দেওয়া ।

এখানে কোনো যুক্তিতর্ক হবে না... হবেনা মানে হবেনা !

এখানে শুধু রিপন সাহাকে হ/ত্যা করেনি, এরা পুরা পরিবারটাকে শেষ করে দিসে । একটা ছেলে লেখাপড়া হয়তো কম করছে তাই পাম্পে তেল দেওয়ার ডিউটির চাকরী করতেছে । সারারাত নাইট ডিউটি করে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা হয়তো পাবে ।

পাম্পে শীতের মধ্যে সারা রাত জেগে নাইট ডিউটি করা কি কষ্টের কাজ, এটা যারা করে তারা জানে । তার মধ্যে টাকার হিসাব যদি ১০০ টাকা ভুল হলে ওই দিনের বেতনের থেকে মালিক সেটা কেটে রাখে ।

সামান্য ৫ হাজার টাকার জন্য একটা মানুষসহ পুরা একটা পরিবারকে এরা শেষ করে দিলো ।

“সনাতন ধর্মসভা”নমস্কার সকল অমৃতের সন্তানগণ 🙏 বাংলাদেশ অগ্নিবীর রাজশাহী বিভাগীয় শাখার অন্তর্গত জয়পুরহাট জেলায় মাঠপর্যায...
16/01/2026

“সনাতন ধর্মসভা”
নমস্কার সকল অমৃতের সন্তানগণ 🙏
বাংলাদেশ অগ্নিবীর রাজশাহী বিভাগীয় শাখার অন্তর্গত জয়পুরহাট জেলায় মাঠপর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে বেদের প্রচার এবং প্রসারের জন্য গ্রামকেন্দ্রিক মন্দিরভিত্তিক সনাতন ধর্মসভার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় আমরা জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলার হাতিয়র গ্রামে প্রথম বৈদিক আলোচনা সভার আয়োজন করেছি।
আলোচনার স্থান : হাতিয়র, কালাই, জয়পুরহাট।
তারিখ: ২৩-০১-২০২৬ খ্রি.
রোজ: শুক্রবার।
সময়: সকাল ১১:০০ ঘটিকা।
উক্ত আলোচনা সভায় আপনারা সকলে সাদরে আমন্ত্রিত।

ন হি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে
(শ্রীমদ্ভগবদগীতা ৪/৩৮)
অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে এই সংসারে জ্ঞানের ন্যায় পবিত্র আর কিছুই নেই।

বেদ ও একেশ্বরবাদবেদের শিক্ষা কি বহু-ঈশ্বরবাদ (Polytheism), অদ্বয়বাদ (Monism), হেনোথিজম (Henotheism) নাকি একেশ্বরবাদ (Mon...
12/01/2026

বেদ ও একেশ্বরবাদ

বেদের শিক্ষা কি বহু-ঈশ্বরবাদ (Polytheism), অদ্বয়বাদ (Monism), হেনোথিজম (Henotheism) নাকি একেশ্বরবাদ (Monotheism) এই নিয়ে পণ্ডিত মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। এই বিতর্কে প্রবেশের আগে শব্দগুলোর প্রকৃত অর্থ বুঝে নেওয়া প্রয়োজন:

▪️ বহু-ঈশ্বরবাদ (Polytheism): এই মহাবিশ্ব পরিচালনায় একাধিক স্বতন্ত্র সম-সত্ত্বা বা সম-ঈশ্বর রয়েছে।
▪️ অদ্বয়বাদ (Monism): মহাবিশ্বের উৎপত্তি একটি একক পরম সত্তা থেকে।
▪️হেনোথিজম (Henotheism): যেখানে অনেক সত্ত্বাকে মানা হয়, কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী যখন যার স্তুতি করা হয়, তাকেই সর্বোচ্চ মনে করা হয়।

▪️ একেশ্বরবাদ (Monotheism): কেবলমাত্র এক এবং অদ্বিতীয় ঈশ্বরের অস্তিত্বে বিশ্বাস।

🔰ক্লেটনের মতো অনেক পাশ্চাত্য পণ্ডিত দাবি করেছেন যে, বেদে বহু-ঈশ্বরবাদ রয়েছে। এমনকি ম্যাক্স মুলার, যিনি ঋগ্বেদের একটি বিশেষ অংশে এক ঈশ্বরের শক্তিশালী প্রকাশ দেখেছিলেন ‘কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম’ [ঋগ্বেদ ১০।১২১।১] আমরা সেই সুখস্বরূপ এবং সৃজনকর্তা পরমাত্মা ব্যতিরেকে আর কোন প্রকাশমান দেবতাকে উপাসনা করব? (অর্থাৎ, কেবলমাত্র সেই এক ঈশ্বরেরই উপাসনা করব)। ম্যাক্স মুলার স্বীকার করেছিলেন যে, এই বাণীটি এতই সিদ্ধান্তমূলক যে আর্যদের সহজাত একেশ্বরবাদকে অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও তিনি একটি নেতিবাচক মন্তব্যও যোগ করেছেন যে, ‘ইউরোপীয় ব্যাখ্যাকারীদের মতে এই অংশটি তুলনামূলক 'আধুনিক' এবং সন্দেহজনক’।

📍ক্লেটনসহ পাশ্চাত্য ও তদানুগামী প্রাচ্য আরও কিছু পণ্ডিতগণ বেদে একেশ্বরবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করেছেন। তাঁদের মতে, ঋষিরা যখন কোনো বিশেষ দেবতাকে সর্বোচ্চ হিসেবে প্রশংসা করেন, সেটি আসলে "কবিসুলভ স্বাধীনতা" (Poetic Licence) ছাড়া আর কিছুই নয়। তাঁদের দাবি, ‘যে কবি বা ঋষি স্তুতি করছেন, তিনি কেবল সেই মুহূর্তের আবেগে সেই দেবতাকে বড় করে দেখাচ্ছেন; এর মানে এই নয় যে তিনি ওই দেবতাকেই বাস্তবের একমাত্র অধিপতি বলে দাবি করছেন’।

আমরা কিন্তু ক্লেটন বা অন্যান্য পণ্ডিতদের এই "কাব্যিক স্বাধীনতা"র তত্ত্বের সাথে একমত নই। বেদে একেশ্বরবাদের এত অকাট্য এবং বিপুল প্রমাণ রয়েছে যে, সেখানে এমন কোনো আলঙ্কারিক অতিরঞ্জনের সুযোগ নেই। বেদ অত্যন্ত বিশুদ্ধভাবে একেশ্বরবাদ বা এক ঈশ্বরের উপাসনা শিক্ষা দেয়। বেদের শিক্ষা অনুযায়ী, ঈশ্বর এই মহাবিশ্বের-

সর্বব্যাপী (Omnipresent): তিনি কণা কণা এবং সর্বত্র বিদ্যমান।
সর্বজ্ঞ (Omniscient): তিনি ভূত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমানের সবকিছু জানেন।
সর্বশক্তিমান (Omnipotent): জগতের সকল শক্তির উৎস তিনিই।
নিরাকার ও পূর্ণ (Formless and Perfect): তাঁর কোনো শারীরিক অবয়ব নেই এবং তিনি সকল দোষমুক্ত ও পরম পূর্ণ সত্তা।

🔸ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। বেদে সর্বত্র এই পরম সত্যটি পুনঃপুনঃ কথিত হয়েছে। “একং সন্তং বহুধা কল্পয়ন্তি” ঋগ্বেদ ১০।১১৪।৫ = এক ঈশ্বরকেই বিভিন্ন নামে সম্বোধন করা হয়। আমরা আরো দেখতে পাই-

☀️ অদ্বিতীয় পরমাত্মার মহিমা ☀️

ন দ্বিতীয়ো ন তৃতীয়শ্চতুর্থো নাপ্যুচ্যতে। য এতং দেবমেকবৃতং বেদ॥
ন পঞ্চমো ন ষষ্ঠঃ সপ্তমো নাপ্যুচ্যতে। য এতং দেবমেকবৃতং বেদ॥
নাষ্টমো ন নবমো দশমো নাপ্যুচ্যতে। য এতং দেবমেকবৃতং বেদ॥

স সর্বস্মৈ বি পশ্যতি যচ্চ প্রাণতি যচ্চ ন। য এতং দেবমেকবৃতং বেদ॥
অথর্ববেদ ১৩.৪[২].১৫-২১

ভাবানুবাদ: যশ, মান ও গৌরব; বীরত্ব ও তেজ; অলঙ্ঘনীয় স্বরূপ ও ব্রহ্মতেজ; অন্ন ও সমৃদ্ধি; এবং সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ রক্ষার সামর্থ্য - এই সমস্তই সেই পরমেশ্বরের। যিনি এই সৃষ্টিকর্তা পরমাত্মাকে একমাত্র সর্ব-কেন্দ্রীভূত সত্তা হিসেবে জানেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানবান।

তাঁকে কখনও দ্বিতীয় বলা হয় না, তৃতীয় বলা হয় না, এমনকি চতুর্থও বলা হয় না। যিনি পরমাত্মাকে এক হিসেবে জানেন, তিনিই প্রকৃত সত্য জানেন।

তাঁকে না পঞ্চম, না ষষ্ঠ, এমনকি না সপ্তম বলা হয়। যিনি পরমাত্মাকে এক হিসেবে জানেন, তিনিই প্রকৃতপক্ষে জানেন।

তাঁকে না অষ্টম, না নবম, এমনকি না দশম বলা হয়। যিনি পরমাত্মাকে এমনভাবে জানেন ‘পরমাত্মা এক এবং কেবল এক’, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী।

তিনি সবার কল্যাণের জন্য এই বিশ্বের সমস্ত চরাচর [যাদের প্রাণ আছে এবং যারা প্রাণহীন] সম্পূর্ণ ও ব্যাপকভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন। যিনি পরমাত্মাকে এমনভাবে জানেন যে, ‘পরমাত্মা যিনি এক এবং কেবল এক’, তিনিই প্রকৃতপক্ষে সত্যের সন্ধান পেয়েছেন।

🙏 এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বরের আবাহন 🙏

য এক ইত্তমু ষ্টুহি কৃষ্টীনাং বিচর্ষণিঃ।
পতির্জজ্ঞে বৃষক্রতুঃ ॥
ঋগ্বেদ ৬.৪৫.১৬

ভাবানুবাদ: হে মানব! তুমি কেবল সেই একজনেরই আবাহন করো, তাঁরই প্রশংসা করো এবং তাঁকে ঘিরেই উৎসব করো যিনি স্বীয় মহিমায় অদ্বিতীয় এবং স্বয়ংসিদ্ধ; যিনি জনগণের সদা জাগ্রত রক্ষক ও অভিভাবক; যিনি মহান কর্মের সম্পাদক এবং নিজ কর্মের আনন্দময় ফল বর্ষণকারী এবং যিনি নিখিল বিশ্বের রক্ষাকর্তা ও অধিপতি হিসেবে প্রকটিত ও উদিত হন।

🌌 এক জগদীশ্বরের মহিমার বর্ণনা 🌌

সমেত বিশ্বা ওজসা পতিং দিবো য এক ইদ্ভূরতিথির্জনানাম্ ।
স পূর্ব্যো নূতনমাজিগীষন্ তং বর্ত্তনীরনু বাবৃত এক ইৎ ॥
সামবেদ ৩৭২

ভাবানুবাদ: হে প্রজাজন ! তোমরা সকলে তেজ ও বলের সাথে সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, নীহারিকা প্রভৃতি সহ সকল কিছুর অধিপতি জগদীশ্বরকে প্রাপ্ত করো, যিনি এক ও সব স্ত্রী-পুরুষের নিকট অতিথিবৎ পূজনীয় হন। তিনি পুরাতন হয়েও নতুন উৎপন্ন জড় ও চেতন জগৎকে জয় করেন, কারণ সেই পুরাণপুরুষ সর্বাধিক মহিমাযুক্ত৷ সেই জগদীশ্বরের নিকট একটিই পথ তা হলো অধ্যাত্মপথ, ভোগের পথ নয়। সেই পথে চলেই তাঁকে পাওয়া যেতে পারে।

🔹 সর্বদ্রষ্টা, সর্বস্রষ্টা পরমেশ্বর 🔹

বিশ্বতশ্চক্ষুরুত বিশ্বতোমুখো বিশ্বতোবাহুরুত বিশ্বতস্পাৎ।
সং বাহুভ্যাং ধমতি সং পতত্রৈর্দ্যাবাভূমী জনয়ন্দেব একঃ॥
ঋগ্বেদ ১০.৮১.৩

ভাবানুবাদ: যিনি সর্বদ্রষ্টা, সর্ববক্তা, সর্বধারক ও সর্বগত, তিনি এক ও অদ্বিতীয় পরমাত্মদেব। তিনিই প্রকৃতির ত্রিগুণাত্মক পরমাণুসমূহ দ্বারা সূর্যাদি প্রকাশমান লোকসমূহ ও পৃথিবীকে যথার্থরূপে উৎপন্ন করে, স্বীয় অনন্ত সামর্থ্য দ্বারা সম্পূর্ণ জগৎকে চালনা করছেন।

🌌 পরমেশ্বরের অনন্ত মহিমা ও অদ্বিতীয়ত্বের স্তুতি 🌌

ন যস্য দ্যাবাপৃথিবী অনু ব্যচো ন সিন্ধবো রজসো অন্তমানশুঃ।
নোত স্ববৃষ্টিং মদে অস্য যুধ্যত একো অন্যচ্চকৃষে বিশ্বমানুষক্ ॥
ঋগ্বেদ ১.৫২.১৪

ভাবানুবাদ: হে পরম পরাক্রমশালী ঈশ্বর! আপনিই সমস্ত উচ্চ ও নীচ ঐশ্বর্যের একমাত্র অধিপতি। আপনার সত্তার ব্যাপকতা পরিমাপ করার সাধ্য কারো নেই। সূর্য এবং অন্যান্য গ্রহগণ, দ্যুলোক, এই পৃথিবী এবং তাদের মধ্যবর্তী ক্ষুদ্রতম জ্যোতিষ্কসমূহও আপনার অসীম সত্তার অন্ত খুঁজে পায় না; কারণ আপনি আপনার সম্পূর্ণ অস্তিত্ব নিয়ে সমস্ত কিছুর ভেতরে এবং বাইরে ওতপ্রোতভাবে বিরাজ করছেন।

🌞 হিরণ্যগর্ভ: সৃষ্টির আদি ও অদ্বিতীয় পতি 🌞

হিরণ্যগর্ভঃ সমবর্ততাগ্রে ভূতস্য জাতঃ পতিরেক আসীৎ ।
স দাধার পৃথিবীং দ্যামুতেমাং কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম ॥
ঋগ্বেদ ১০.১২১.১

ভাবানুবাদ: সৃষ্টির প্রারম্ভে এবং তিনি সর্বদা যেমন আছেন সেই জ্যোতির্ময় লোকসমূহের একমাত্র অধিপতি এবং সূর্যতূল্য তেজস্বী পদার্থসমূহের (একঃ+পতিঃ, আসীৎ) অদ্বিতীয় স্রষ্টা বিদ্যমান ছিলেন। তিনিই একমাত্র উৎপন্ন সমস্ত চরাচর জগতের স্বামী ও ধারক ছিলেন এবং আছেন। তিনি এই পৃথিবী ও দ্যুলোককে ধারণ করে আছেন এবং সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডকে স্থিতি প্রদান করেন। আমরা সেই এক ও অদ্বিতীয় প্রভুর উপাসনা করি এবং সুগন্ধিত ও পবিত্র দ্রব্যের আহুতির মাধ্যমে তাঁকে ভক্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

🛡️ অমরত্বের আধার ও বলদাতা পরমেশ্বর 🛡️

য আত্মদা বলদা যস্য বিশ্ব উপাসতে প্রশিষং যস্য দেবাঃ ।
যস্য ছায়ামৃতং যস্য মৃত্যুঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম ॥
ঋগ্বেদ ১০.১২১.২

ভাবানুবাদ: যিনি আত্মজ্ঞান প্রদানকারী এবং শরীরের শক্তি ও সামর্থ্যের দাতা; যাঁর শাসন বা অনুশাসন এই বিশ্বের বিদ্বান ও প্রাকৃতিক শক্তিসমূহ সানন্দে মেনে চলে; যাঁর শরণাপন্ন হওয়া বা যাঁর ছায়াতলে থাকাই হলো অমরত্ব তথা মোক্ষ, আর যাঁকে ভুলে যাওয়া বা যাঁর থেকে বিচ্যুত হওয়াই হলো মৃত্যু; আমরা সেই (মহিঽত্বা-একঃ) আনন্দময় অদ্বিতীয় প্রভুকেই আমাদের স্তুতিগান এবং যজ্ঞীয় হবির মাধ্যমে পূজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

👑 নিখিল বিশ্বের একমাত্র সম্রাট 👑

যঃ প্রাণতো নিমিষতো মহিত্বৈক ইদ্রাজা জগতো বভূব ।
য ঈশে অস্য দ্বিপদশ্চতুষ্পদঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম ॥
ঋগ্বেদ ১০.১২১.৩

ভাবানুবাদ: যিনি স্বীয় মহিমা ও সামর্থ্যে এই প্রাণবান ও দর্শনশীল তথা জাগরূক জগতের (মহিঽত্বা-একঃ) একমাত্র অধিপতি ও রাজা হয়েছেন; যিনি এই দ্বিপদ ও চতুষ্পদ সকল প্রাণীর ওপর শাসন করেন; সেই আনন্দময় ও ঐশ্বর্যশালী সার্বভৌম প্রভুকে আমরা কায়মনোবাক্যে এবং যজ্ঞীয় হবির মাধ্যমে পূজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

🔥 মহাজাগতিক অগ্নি ও প্রাণের আদি উৎস 🔥

আপো হ যদ্বৃহতীর্বিশ্বমায়ন্গর্ভং দধানা জনয়ন্তীরগ্নিম্ ।
ততো দেবানাং সমবর্ততাসুরেকঃ কস্মৈ দেবায় হবিষা বিধেম ॥
ঋগ্বেদ ১০.১২১.৭

ভাবানুবাদ: যখন বিশ্বের সেই নীল নকশা বীজরূপে ধারণ করে গতিশক্তির আধানযুক্ত কণা বা বিশাল মহাজাগতিক রসতত্ত্ব অস্তিত্বে এল এবং অস্তিত্বের তাপীয় মাধ্যম বা অগ্নিকে প্রজ্জ্বলিত করল, তখন সমস্ত মহাজাগতিক রূপ প্রকটিত হওয়ার পূর্বেই সেই দিব্য গুণাবলীর আধার, স্বয়ং প্রাণস্বরূপ অদ্বিতীয় (সম্+অবর্তত+অসুঃ+একঃ) পরমাত্মা প্রকটিত হলেন। সেই সর্বব্যাপী আনন্দময় পরমেশ্বর ছাড়া আর কার আমরা হবির দ্বারা আরাধনা করব? তিনিই হিরণ্যগর্ভ।

✨ সর্বব্যাপী দিব্যজ্যোতি ও পরমেশ্বর ✨

দিবি স্পৃষ্টো যজতঃ সূর্যত্বগবয়াতা হরসো দৈব্যস্য।
মৃডাদ্গন্ধর্বো ভুবনস্য যস্পতিরেক এব নমস্যঃ সুশেবাঃ ॥

অথর্ববেদ ২.২.২

ভাবানুবাদ: যিনি প্রতি কর্মে প্রাপ্ত ও উপলব্ধ, যিনি চেতনার অন্তরে এবং এই মহাবিশ্বের বাইরেও পরিব্যাপ্ত; সেই পূজনীয় প্রভু, যিনি সহস্র সূর্যের প্রকাশক ও স্বয়ং-প্রকাশিত এবং যাঁর মহিমা মহাকাশের নক্ষত্ররাজির আলো ও শক্তিকেও ম্লান করে দেয়। যিনি পৃথিবীর আধার ও ধারক, সূর্যাদির আলোকদাতা এবং বৈদবাণীর অধিপতি—আমরা প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের প্রতি দয়ালু ও প্রসন্ন হন। তিনিই পিতা এবং রক্ষক রূপে এই নিখিল ব্রহ্মাণ্ডের স্বামী; এবং সেই পরমেশ্বরকেই বন্দনা, প্রার্থনা এবং যজ্ঞীয় সেবার মাধ্যমে আরাধনা করা একমাত্র কর্তব্য।

🔰 সামবেদীয় ছান্দোগ্য উপনিষদে [৬।২।১-২] দৃঢ়ভাবে বলা হয়েছে যে, ঈশ্বর একজনই এবং দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই “একমেবাদ্বিতীয়ম্” = [ঈশ্বর] কেবল এক এবং অদ্বিতীয়। তাঁর অনেক গুণবাচক নাম থাকা সত্ত্বেও তিনি যে এক-এ বিষয়টি উক্ত মন্ত্রগুলোতে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে।

▪️এছাড়াও বেদের শতাধিক মন্ত্রে একম্ বা এক শব্দের ব্যবহার না করে “কেবল তিনিই”, “একমাত্র তুমিই”, “তিনি ছাড়া আর কেউ না” এ ধরনের বচনের মাধ্যমে ঈশ্বরের একত্বকে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা হয়েছে - ঋগ্বেদ ২।১।৩-৪, ঋগ্বেদ ২।১।৬, ঋগ্বেদ ৬।১৮।১২, ঋগ্বেদ ৭।৩২।২৩, ঋগ্বেদ ৮।৬৪।৩, ঋগ্বেদ ৮।৯৫।৩, ঋগ্বেদ ৮।৯৮।১১, ঋগ্বেদ ১০।১২১।১০, যজুর্বেদ ৩২।১, অথর্ববেদ ১০।৮।৪৪।

১] ন ত্বাবাঁ অন্যো দিব্যো ন পার্থিবো ন জাতো ন জনিষ্যতে [ঋগ্বেদ ৭।৩২।২৩] অর্থাৎ, হে ঈশ্বর! দিব্য শক্তিসম্পন্ন তোমার মতো আর কোনো সত্তা বা পদার্থ নেই। এমন কোনো সত্তা বা পদার্থ এই পৃথিবীতে কখনো জন্মগ্রহণ করে নি, আর কখনো জন্মগ্রহণ করবেও না।

২] প্রজাপতে ন ত্বদেতান্যন্যো বিশ্বা জাতানি পরি তা বভূব [ঋগ্বেদ ১০।১২১।১০] অর্থাৎ, সকল প্রজার বা মানবজাতির অধিপতি ঈশ্বর! তুমি ছাড়া আর কেউ না অর্থাৎ,একমাত্র তুমিই পালন ও নিয়ন্ত্রণ করছ এই সমগ্র উৎপন্ন মহাবিশ্বকে।

৩] স নো বন্ধুর্জনিতা স বিধাতা ধামানি বেদ ভূবনানি বিশ্বা [যজুর্বেদ ৩২।১০]

অর্থাৎ, তিনি একাই অর্থাৎ একমাত্র ঈশ্বর আমাদের নিকটতম মিত্র একমাত্র তিনিই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা, ধারণকর্তা। মহাবিশ্বের সকল পদার্থ সম্বন্ধেই তিনি অবগত আছেন। ঈশ্বরের বৈশিষ্ট্য ও গুণ অনন্ত।

৪] বিশ্বমাপ্রা অন্তরিক্ষং মহিত্বা সত্যমদ্ধা নকিরন্যস্ত্বাবান্ [ঋগ্বেদ ১।৫২।১৩] অর্থাৎ,পরমেশ্বর এই ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিটি লোকে, সর্বদিকে এবং সমস্ত কিছুর মাঝে ব্যাপ্ত হয়ে আছেন। তিনি চতুর্বেদে প্রকাশিত ও প্রতিপাদিত এবং মহাকাশের অসীমতা ও অন্তরীক্ষের স্থিরতা তাঁরই অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়। তিনি সর্বব্যাপী এবং পরম পূর্ণ সত্তা। সেই কারণেই, হে প্রভু! আপনার তুল্য দ্বিতীয় আর কোনো সত্তার অস্তিত্ব নেই।

🔹উপর্যুক্ত বেদমন্ত্রসমূহের সমন্বিত বিশ্লেষণ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, বেদের ঈশ্বরতত্ত্ব কোনোভাবেই বহু-ঈশ্বরবাদ বা কেবলমাত্র কাব্যিক হেনোথিজমের ধারণার মধ্যে আবদ্ধ নয়। বেদ এক সর্বশক্তিমান, সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ, নিরাকার ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বরের অস্তিত্বকে নীতিগত ও সিদ্ধান্তমূলকভাবে ঘোষণা করেছে। ইন্দ্র, অগ্নি, বরুণ, সূর্য প্রভৃতি নাম আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে সত্তাগতভাবে কোনো স্বতন্ত্র ঈশ্বরসত্তার নির্দেশক নয়; বরং সেই এক পরমেশ্বরেরই বিভিন্ন কার্যগত, গুণগত ও প্রকাশগত নামমাত্র। এই কারণেই বেদে একই সঙ্গে বিভিন্ন নামে পরমাত্মার স্তুতি থাকলেও একেশ্বরবাদের স্পষ্টার্থে সর্বত্র “এক”, “একমাত্র”, “তাঁর তুল্য কেউ নেই”, “দ্বিতীয় নেই” এই ধরনের ঘোষণা পুনঃপুন উচ্চারিত হয়েছে।

📍পাশ্চাত্য কিছু পণ্ডিতের তথাকথিত Poetic Licence তত্ত্ব বেদের স্পষ্ট দার্শনিক ঘোষণার সামনে টেকে না। কারণ, কাব্যিক অতিরঞ্জন হলে তা কখনোই এতো সুসংগত, পুনরাবৃত্ত ও সর্ববেদব্যাপী সিদ্ধান্তরূপে প্রকাশিত হতে পারে না। ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ এবং উপনিষদ- সকল স্থানে একই সত্যের পুনর্নিশ্চয়তা প্রমাণ করে যে একেশ্বরবাদ বেদের অন্তর্নিহিত ও মৌল দর্শন। অতএব বলা যায়, বেদ মানবজাতিকে বিভ্রান্ত বহুদেবতার দিকে নয়, বরং এক ও অদ্বিতীয় পরমেশ্বরের জ্ঞান, উপাসনা ও অনুশাসনের দিকেই আহ্বান জানিয়েছে, এটাই বেদের ঈশ্বরতত্ত্বের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

🖋 শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
ব্যাকরণ-বেদান্ত-স্মৃতি-পৌরোহিত্যতীর্থ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর

⛔ফেসবুকে হঠাৎ এক নিকটাত্মীয়ের সন্তানের অর্জনের পোস্ট চোখে পড়লো। প্রথমত অর্জনকারীর জন্য শুভকামনা।কিন্তু নোটিস করার বিষয় হ...
08/01/2026

⛔ফেসবুকে হঠাৎ এক নিকটাত্মীয়ের সন্তানের অর্জনের পোস্ট চোখে পড়লো। প্রথমত অর্জনকারীর জন্য শুভকামনা।

কিন্তু নোটিস করার বিষয় হলো এই ক্রেস্টের বানানগত ত্রুটির দিকটি। জেলা পর্যায়ের মতো জায়গায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ প্রতিযোগীতার ক্রেস্টে যদি "শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা" বানান টাই ভুল লিখা হয়, সেখানে আর কি বলবো! সত্যি বলার কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের ভবিষ্যৎ ধর্ম রক্ষার কারিগর যারা,তাদের মনের মধ্যে এভাবেই সংকোচ তৈরি হচ্ছে না কি?

আয়োজকরা যদি সময় স্বল্পতার কারণে তাড়াহুড়ো করে আয়োজন করে, তারপরও তো এরকম একটা জায়গায় দায়িত্বহীনতা, জ্ঞানহীনতা আশা করা যায় না।

©

প্রথমে দীপু দাস কে জ্বা  লিয়ে দেওয়া হলো। তাও জীবন্ত অবস্থায়।তারপর? শরিয়তপুরের খোকন দাসকে আ গুনে পুড়ি  য়ে… তারপর? হো...
08/01/2026

প্রথমে দীপু দাস কে জ্বা লিয়ে দেওয়া হলো। তাও জীবন্ত অবস্থায়।

তারপর? শরিয়তপুরের খোকন দাসকে আ গুনে পুড়ি য়ে…

তারপর? হোসেনডাঙার অমৃত মন্ডলকে অপবাদ দিয়ে পি টিয়ে…

তারপর? ময়মনসিংহের ভালুকায় বজেন্দ্র বিশ্বাসকে দাদা একটু gu লি করে দেই বলে সহকর্মী নোমান মিয়াঁ জাস্ট gu। লি করেই দিল।

তারপর? নরসিংদির মণি চক্রবর্তী আর প্রাণতোষ সরকার

তারপর? যশোরের রানা প্রতাপ বৈরাগীকে gu লি করে…

তারপর? চরসিন্ধুর শরতমণিকে কু পিয়ে

তারপর? ঝিনাইদহের হিন্দু বিধবাকে ঽর্ষণ করে চুল কেটে গাছে বেঁধে প্র হার।

তারপর? শ্রাবন্তী ঘোষ, বয়স -12 বছর, ধ*। র্ষণ করে গলা টিপে ₹ ত্যা,,স্থান - চট্টগ্রাম,,গত রোববারের ঘটনা...

তারপর? হবিগঞ্জের কামদেব দাসকে জলে ডুবিয়ে…

তারপর? নওগাঁর মিঠুন সরকারকে ধাওয়া করে খালে ডুবিয়ে…

তারপর? পীরগঞ্জের ধনেশ্বর বর্মণের জমি কেড়ে নেওয়া হলো প্রকাশ্যে

তারপর? লক্ষ্মীপুরে সত্যরঞ্জন দাসের পাকা ধান পু। ড়িয়ে দেওয়া হলো।

তারপর? কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসনে কর্মরত অন্নপূর্ণা দেবনাথের উপর হামলা

তারপর? শুভ পোদ্দারের দোকান থেকে তিরিশ ভরি সোনা ছিনতাই।

তারপর? আরও কয়েকটা জিনিস জেনে রাখুন সাতটা gu লি শরীরে নেওয়ার আগে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে বেঁচে থাকার জন্য কর দিতে হতো। বরফ কলের মালিককে তিন লাখ টাকা প্রোটেকশন মানি দিতে হতো। একে কি বলে জানেন? জিজিয়া। আরবী হানাদারদের জিনবহনকারী কনভার্টেডগুলো জিজিয়া টিকিয়ে রেখেছে। জিজিয়া দিয়েও শেষ পর্যন্ত বাঁচা যাচ্ছে না। এছাড়াও অসংখ্য মহিলার সম্মানহানি করা হচ্ছে যারা ভয়ে কমপ্লেইন করছেন না। যেগুলো উপরে লিখলাম সেগুলো সংবাদ মাধ্যমের খবর।

আর এইগুলো বাংলাদেশে ভাতের জন্য হচ্ছে না ইনভেডর গুলো তাদের মতে ইনফিডেলদের ভ্যানিশ করে দিয়ে জান্নাতের টিকিট কনফার্ম করতে চাইছে। কারণ এইভাবেই হ্যাপিনেস ইনডেক্সে ওরা এগিয়ে থাকতে চায়।

অমর্ত্য সেন অবশ্য বলেছিল ভারতের মতো ধর্মীয় সংকীর্ণতা বাংলাদেশে নেই। সহিনীর মতো কয়েকটা মুজরোওয়ালি এরকম দেশেই সন্তানজন্ম দিতে চায়।

এই ইনফরমেশন বুমের যুগে এগুলো দেখুন। ১৯৯১ সালে কাশ্মীরের ভূমি সংস্কার কিরকম ছিল, কিরকম ভাবে হয়েছিল অনেকেরই জানা নেই। ভারতের স্বাধীনতার চুয়াল্লিশ বছর পরেও হিন্দুরা কাশ্মীর থেকে বিতাড়িত হয়ে নিজের দেশে উদ্বাস্তু হয়েছিল। ১৯৪৬ থেকে কিভাবে হিন্দুরা ভূমি সংস্কারের পর পূর্বপুরুষের ভিটেছাড়া হয়, কিভাবে পাশের বাড়ির চাচা কাঁদতে কাঁদতে কাঁটাতার অবধি এগিয়ে দেয় কিন্তু থেকে যেতে বলে না আর বোনকে আদর করে রেখে দেয় ঠিক এই ঘটনাগুলো দেখে এইবার অন্তত এইবার অনুভব করতে আরম্ভ করুন।

নাহলে? তারপর?

অনেক দেরি হয়ে যাবে…

বাংলাদেশ এর সনাতনী ধর্মীয় পাঠ্যবই নামে হিপোক্রেসি যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত।পবিত্র চার বেদ এর ২০৩৭৯টি মন্ত্রের মধ্যে সামবেদ...
07/01/2026

বাংলাদেশ এর সনাতনী ধর্মীয় পাঠ্যবই নামে হিপোক্রেসি যুগ যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত।
পবিত্র চার বেদ এর ২০৩৭৯টি মন্ত্রের মধ্যে সামবেদের মন্ত্র সংখ্যা হলো ১৮৭৫ টি অথচ এখানে দেওয়া ১৮০১ টি নাকি।আবার অথর্ববেদের মন্ত্র সংখ্যা হলো ৫৯৭৭ অথচ এখানে দেওয়া প্রায় ৬০০০ কি নাকি।আরেকটা বিষয় এই পাঠ্যবই এর মধ্যে উল্লেখ করেছে সেটা হলো পবিত্র বেদ এর প্রতিটা সুক্তের দেবতা তথা বিষয়বস্তু নাকী পৌরাণিক দেবদেবীর স্তুতির কথা উল্লেখ করে।পবিত্র বেদ প্রতিটা মন্ত্র আধ্যাত্মিক আধিদৈবিক আধিভৌতিক ত্রিবিধ অর্থের প্রতিষ্ঠিত বিষয় সেখানে বেদ এর মতো অপৌরুষেয় গ্রন্থকে এভাবেই অযৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করে আসছে আর তার বিনিময়ে সনাতনী তাদের মহাগ্রন্থ থেকে বঞ্চিত। আরেকটি বিষয় উল্লেখ পবিত্র চারবেদকে নাকি মহর্ষি কৃষ্ণ দৈপায়ন ব্যাস নাকি আলাদা করেছে। অথচ এই বিদ্বান ব্যসদেব ৫০০০ বছর আগের অথচ রামায়ণ তার ও আগের ইতিহাসগ্রন্থ সেখানেও চারবেদ এর কথা উল্লেখ পাওয়া যায়।

বাল্মীকি রামায়নে যখন শ্রীরাম এবং লক্ষ্মণ কিষ্কিন্ধা পর্বতে ছিলো, তখন রামচন্দ্র হনুমান জীর কথা শুনে এ কথা বলেন

ন অন ঋগ্বেদ বিনীতস্য ন অ যজুর্বেদ- ধারিন। ন অ সামবেদ বিদুষ শক্যম এবম বিভাষিতু মদম৷৷

(বাল্মীকি রামায়ন ৪৷৩৷২৮)

ঋগ্বেদ অধ্যয়নে অনভিজ্ঞ এবং যজুর্বেদে যার বোধ নেই তথা যার সামবেদ অধ্যয়ন নেই, সেই ব্যক্তি এইরূপ পরিষ্কৃত বাক্য বলতে পারবে না।

পবিত্র বেদ স্বয়ং চারবেদকে স্বীকৃতি দিয়ে গিয়েছে -

তস্মাৎ যজ্ঞাত্ সর্বহুত ঋচঃ সামানি জজ্ঞিরে। ছন্দাংসি জজ্ঞিরে তস্মাৎ যজুস্তস্মাদজায়ত।।

(ঋঃ ১০।৯০।৯, যজুঃ ৩১।৭, অথর্বঃ ১৯।৬।১৩)

অর্থাৎ সেই পূজনীয় পরমেশ্বর হতে ঋগবেদ, সামবেদ উৎপন্ন হয়েছে এবং অথর্ববেদ ও যজুর্বেদ তাহা হতে উৎপন্ন হয়েছে।

সেখানে প্রজন্মকে শিক্ষার নামে এই ধরনের অপরিপক্কতা হতাশার।এইজন্যই একটা বৃহৎ সনাতনী প্রজন্ম ধর্মজ্ঞানহীন। এই পাঠ্যবই এর রচিয়তাদের ধর্মীয় জ্ঞান কতটা এই হলো তার প্রমাণ।

শরীয়তপুরের ডামুড্যার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক ...
03/01/2026

শরীয়তপুরের ডামুড্যার ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার তিলই এলাকায় খোকনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এরপর দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে পেট্রল–জাতীয় দ্রব্য দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

খোকন চন্দ্র উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও এজেন্ট ব্যাংকিং করতেন।

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো

কাদের কথায় ক্রোধিত ও কাদের প্রতারণায় পড়া উচিত না??"অনসূয়ুর্দুষ্প্রলম্ভঃ স্যাৎকুহকশঠনাস্তিকবালবাদেষু" -- দুষ্ট, শঠ, নাস্ত...
02/01/2026

কাদের কথায় ক্রোধিত ও কাদের প্রতারণায় পড়া উচিত না??

"অনসূয়ুর্দুষ্প্রলম্ভঃ স্যাৎকুহকশঠনাস্তিকবালবাদেষু"

-- দুষ্ট, শঠ, নাস্তিক, বেদজ্ঞানহীন ব্যক্তিগণের কথা দ্বারা ক্রোধিত হওয়া উচিত না এবং তাদের ধূর্ততা ও প্রতারণায় পড়াও উচিত না। [আপস্তম্ব ধর্মসূত্র ৭।১।৫]

...​ব্রহ্মকে পাওয়ার জন্য সোনা পাওয়ার মতো চেষ্টা না করে আলো পাওয়ার মতো চেষ্টা করতে হয়। সোনা পাওয়ার মতো চেষ্টা করতে গেলে ন...
02/01/2026

...​ব্রহ্মকে পাওয়ার জন্য সোনা পাওয়ার মতো চেষ্টা না করে আলো পাওয়ার মতো চেষ্টা করতে হয়। সোনা পাওয়ার মতো চেষ্টা করতে গেলে নানা বিরোধ-বিদ্বেষ-বাধা-বিপত্তির প্রাদুর্ভাব হয়, আর, আলো পাওয়ার মতো চেষ্টা করলে সমস্ত সহজ সরল হয়ে যায়। আমরা জানি বা না জানি, ব্রহ্মের সঙ্গে আমাদের যে নিত্য সম্বন্ধ আছে, সেই সম্বন্ধের মধ্যে নিজের চিত্তকে জাগিয়ে তোলাই ব্রহ্মপ্রাপ্তির সাধনা।
​ভারতবর্ষে এই জেগে ওঠার যে মন্ত্র আছে, তাও অত্যন্ত সরল। তা একনিশ্বাসেই উচ্চারিত হয়, তা গায়ত্রীমন্ত্র।

“ওঁ ভূর্ভুবঃ স্ব” গায়ত্রীর এই অংশটুকুর নাম ব্যাহৃতি। ব্যাহৃতি শব্দের অর্থ, চারদিক থেকে আহরণ করে আনা। প্রথমত ভূলোক-ভুবর্লোক-স্বর্লোক অর্থাৎ সমস্ত বিশ্বজগৎকে মনের মধ্যে আহরণ করে আনতে হয়, মনে করতে হয়, আমি বিশ্বভুবনের অধিবাসী। আমি কোনো বিশেষ প্রদেশবাসী নই, আমি যে রাজ-অট্টালিকার মধ্যে বাসস্থান পেয়েছি, লোক-লোকান্তর তার এক-একটি কক্ষ। এইরূপে, যিনি যথার্থ আর্য, তিনি অন্তত রোজ একবার চন্দ্রসূর্য গ্রহতারকার মাঝখানে নিজেকে দাঁড় করান, পৃথিবীকে অতিক্রম করে নিখিল জগতের সঙ্গে নিজের চিরসম্বন্ধ একবার উপলব্ধি করে নেন, স্বাস্থ্যকামী যেমন বন্ধ ঘর ছেড়ে ভোরে একবার খোলা মাঠের বাতাস খেয়ে আসেন, তেমনই আর্য সাধু দিনের মধ্যে একবার নিখিলের মধ্যে, ভূর্ভুবঃস্বর্লোকের মধ্যে নিজের চিত্তকে পাঠান। তিনি সেই অগণ্যজ্যোতিষ্কখচিত বিশ্বলোকের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কী মন্ত্র উচ্চারণ করেন,

“​তৎসবিতুর্বরেণ্যং। ভর্গো দেবস্য ধীমহি।”

​এই বিশ্বপ্রসবিতা দেবতার বরণীয় শক্তি ধ্যান করি।
​এই বিশ্বলোকের মধ্যে সেই বিশ্বলোকেশ্বরের যে শক্তি প্রত্যক্ষ, তাকেই ধ্যান করি। একবার উপলব্ধি করি বিপুল বিশ্বজগৎ একসঙ্গে এই মুহূর্তে এবং প্রতিমুহূর্তেই তা থেকে অবিশ্রাম বিচ্ছুরিত হচ্ছে। আমরা যাকে দেখে শেষ করতে পারি না, জেনে শেষ করতে পারি না, তা সমগ্রভাবে প্রতিনিয়ত তিনি পাঠাচ্ছেন। এই বিশ্বপ্রকাশক অসীম শক্তির সঙ্গে আমার সরাসরি সম্পর্ক কী সূত্রে? কোন্ সূত্র অবলম্বন করে তাঁকে ধ্যান করব?

“​ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ”

​যিনি আমদের বুদ্ধিবৃত্তি সব পাঠাচ্ছেন, তাঁর পাঠানো সেই ধী-সূত্রেই তাঁকে ধ্যান করব। সূর্যের প্রকাশ আমরা প্রত্যক্ষভাবে কিসের দ্বারা জানি? সূর্য নিজে আমাদের যে কিরণ পাঠাচ্ছেন, সেই কিরণেরই দ্বারা। সেইরকম বিশ্বজগতের সবিতা আমাদের মধ্যে অহরহ যে ধীশক্তি পাঠাচ্ছেন, যে শক্তি থাকাতেই আমি নিজেকে ও বাইরের সমস্ত প্রত্যক্ষ ব্যাপারকে উপলব্ধি করছি, সেই ধীশক্তি তাঁরই শক্তি, এবং সেই ধীশক্তি দ্বারাই তাঁরই শক্তি প্রত্যক্ষভাবে অন্তরের মধ্যে অন্তরতমরূপে অনুভব করতে পারি। বাইরে যেমন ভূর্ভুবঃস্বর্লোকের সবিতৃরূপে তাঁকে জগৎচরাচরের মধ্যে উপলব্ধি করি, অন্তরের মধ্যেও সেইরকম আমার ধীশক্তির অবিশ্রাম প্রেরণকারী বলে তাঁকে সরাসরিভাবে উপলব্ধি করতে পারি। বাইরে জগৎ এবং আমার অন্তরে ধী, এই দুইই একই শক্তির বিকাশ, এটা জানলে জগতের সঙ্গে আমার চিত্তের এবং আমার চিত্তের সঙ্গে সেই সচ্চিদানন্দের ঘনিষ্ঠ যোগ অনুভব করে সংকীর্ণতা থেকে স্বার্থ থেকে ভয় থেকে বিষাদ থেকে মুক্তিলাভ করি। এইরূপে গায়ত্রীমন্ত্র বাইরের সঙ্গে অন্তরের, এবং অন্তরের সঙ্গে অন্তরতমের যোগসাধন করে।

​ব্রহ্মকে ধ্যান করার এই যে প্রাচীন বৈদিক পদ্ধতি এটা যেমন উদার, তেমনই সরল। এটা সবরকম কৃত্রিমতা শূন্য। বাইরের বিশ্বজগৎ এবং অন্তরের ধী, এটা কাউকেই কোথাও খুঁজে বেড়াতে হয় না— এটা ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। এই জগৎকে এবং এই বুদ্ধিকে তাঁরই অশ্রান্ত শক্তি দ্বারা তিনি অহরহ পাঠাচ্ছেন, এই কথা স্মরণ করলে তাঁর সঙ্গে আমাদের সম্বন্ধ যেমন গভীরভাবে সমগ্রভাবে একান্তভাবে হৃদয়ঙ্গম হয়, এমন আর কোন্ কৌশলে, কোন্ আয়োজনে, কোন্ কৃত্রিম উপায়ে, কোন্ কল্পনানৈপুণ্যে হতে পারে, তা আমি জানি না। এর মধ্যে তর্কবিতর্কের কোনো স্থান নেই, মতবাদ নেই, ব্যক্তিবিশেষগত প্রকৃতির কোনো সংকীর্ণতা নেই।...

সূত্র: (প্রবন্ধ) “ধর্মের সরল আদর্শ”। লেখক: শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
সাধু বাংলা থেকে চলিত বাংলায় রূপান্তরিত।
সৌজন্যে: বাংলাদেশ অগ্নিবীর, সিলেট শাখা।

01/01/2026

এবার অল্পের জন্য বেঁচে গেলেন শরিয়তপুরের খোকন চন্দ্র।

তাকে প্রথমে তল পেটে ছুরি মারা হয়, পরে শরীরে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কোনোমতে পাশের পুকুরে ঝাঁপিয়ে জীবন বাঁচান তিনি৷

এভাবেই চলছে নিরব সংখ্যালঘু গণহত্যার ঘটনা!

তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত।

🍁কেন আমি মহর্ষি দয়ানন্দের শিক্ষাকে অনুসরণ করবো ❓১। মহর্ষির সত্যিকারের অনুসারী ভূত-প্রেত, পিশাচ, ডাকিনী-শাকিনী ইত্যাদি কল...
01/01/2026

🍁কেন আমি মহর্ষি দয়ানন্দের শিক্ষাকে অনুসরণ করবো ❓
১। মহর্ষির সত্যিকারের অনুসারী ভূত-প্রেত, পিশাচ, ডাকিনী-শাকিনী ইত্যাদি কল্পিত সত্ত্বাকে কখনো ভয় পায় না । সত্য তো এটাই - ' ভূত প্রেত নিকট নহী আবে, আর্যসমাজ জব নাম সুনাবে ' ।

২। আপনি ফলিত জ্যোতিষ, জন্মপত্র, মুহুর্ত, শুভ-অশুভ গ্রহের ফল, মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণীর জালে পড়ে নিজের অর্থ ও সময় নষ্ট করবেন না ।

৩। কোন পাষণ্ড, ভণ্ড, মিথ্যুক সহজে পুণ্য আর মুক্তির লোভ দেখিয়ে নিজের উদরপূর্তি করতে পারবে না ।

৪। তান্ত্রিক ভূতপ্রেতসহ যে অন্যাদি কাল্পনিক সত্ত্বা আপনার অনিষ্ট করবে এই ভেবে ভীত হবেন না ।

৫। আপনি মদ্যপান, ধূমপান বিভিন্ন মাদকদ্রব্য থেকে দূরে থাকবেন ।

৬। বাল্যবিবাহ, বৃদ্ধবিবাহ, নারী নিপীড়ন, জাতপ্রথা, অস্পৃশ্যতা ইত্যাদি সামাজিক কুসংস্কার থেকে মুক্ত থাকবেন ও বৈদিক সাম্যবাদের চেতনায় সমুজ্জ্বল থাকবেন

৭। জীবনের লক্ষ্য সরল হবে ও মিতব্যয়ী হবেন । যৌতুক আদি কুসংস্কার ও অপব্যয় রোধ হবে এবং অর্থ-সম্পদ ভালোকাজে মানুষের কল্যাণে ব্যয় করবেন ।

৮। স্বদেশ - স্বভাষা - স্বধর্ম ও মানবপ্রেমী হবেন ।

৯। অন্ধানুকরণে নৈতিকতাহীন তথাকথিত সংস্কৃতি ও দুর্ব্যসন থেকে দূরে থাকবেন ।

১০। সন্তানদের মধ্যে উত্তম সংস্কারের বীজ রোপিত হবে, ভবিষ্যতে যা তাকে শিষ্টাচার, বয়োজ্যেষ্ঠদের আজ্ঞাপালক, অনুশাসিত ও আদর্শ মানবের প্রতিমূর্তি হিসেবে গড়ে তুলবে ।

১১। নিজের কর্মক্ষেত্র যার যেটাই হোক না কেন তাতে সময়ানুবর্তী, নিয়মতান্ত্রিক ও সৎ হবেন ।

১২। বেদাদি সৎ-শাস্ত্রের স্বাধ্যায়ে আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি হবে ।

১৩। জীবন ও জগৎ বিষয়ে আপনার চিন্তাধারা মানবীয় মূল্যবোধ ও অধিকাধিক বৈজ্ঞানিক হবে । একেই মহর্ষি 'সৃষ্টিক্রমের অবিরোধী ' বলেছেন । আপনি এই ভিত্তিতেই কিছু স্বতঃপ্রমাণের ভিত্তিতে যুক্তি, তর্ক ও বিবেকের মানদণ্ডে সত্যকে স্বীকার করবেন ।

১৪। মহর্ষির শিক্ষাপ্রণালী আপনাকে সম্পূর্ণ আদর্শ মানব হিসেবে প্রস্তুতের জন্য যথাযথ । আপনি তথাকথিত মতবাদ বা সাম্প্রদায়িক বেড়াজাল ভেদ করে সত্য সনাতন ধর্মের ছায়া বিশুদ্ধ মানব হবেন যে কিনা কেবল শারীরিক গঠনে নয় বরং চিন্তাশীলতার দিক দিয়েই মানব ।

১৫। নিন্দা - স্তুতি, লাভ-ক্ষতি, সুখ-দুঃখ প্রভৃতির বশীভূত না হয়ে স্থিতপ্রজ্ঞ হতে পারবেন ।

১৬। নানা মতপথের বিভ্রান্তি ত্যাগ করে এক অদ্বিতীয়া সচ্চিদানন্দ পরমেশ্বরের উপাসক হবেন ।

১৭। সমগ্র জীবন বেদপ্রতিপাদিত পঞ্চমহাযজ্ঞ পালন করবেন যা কিনা আপনার ব্যক্তিগত - পারিবারিক - সামাজিক - রাষ্ট্রীয় উন্নতি ঘটিয়ে বিশ্বমানবতার কল্যাণ করে আপনাকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে ।

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতীর এই শিক্ষা লাভ করে নিজেকে বেদের আলোয় আলোকিত করে মানবজন্ম সফল করতে কি আপনি চান না ? তাহলে আজই মহর্ষির সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে যোগ দিন আমাদের সাথে ও সনাতন ধর্মের প্রচার - প্রসার করে সমগ্র জগতকে করুন শ্রেষ্ঠ ❝ কৃণ্বন্তো বিশ্বমার্যম্ ❞ ।

🖋️ শ্রী দীপংকর সিংহ দীপ
শিক্ষা ও শাস্ত্রার্থ সমন্বয়ক
বাংলাদেশ অগ্নিবীর

Address

Joypur
5900

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাংলাদেশ অগ্নিবীর - জয়পুরহাট জেলা posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

“Save Hindu - সেভ হিন্দু” পরিবারে সবাইকে স্বাগতম

বাংলাদেশে চলমান সংখ্যালঘু তথা হিন্দু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। এছাড়াও আপনারা হয়ত অনেকেই জানেননা এদেশে প্রত্যহ কোথাও না কোথাও হিন্দুদের উপর দমন পীড়ন, জমি দখল, হুমকি, গুম, হত্যা চলতেই থাকে। সেসব বেশিরভাগ খবরগুলো মিডিয়া এড়িয়ে যায়। এসব প্রচার করে আপনাদের সচেতন করার সামান্য প্রয়াস আমাদের।

আশা করি প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমাদের পাশে দাঁড়াবেন। সমর্থন জানাবেন আমাদের এই প্রতিবাদ। পেইজে লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করে হিন্দুত্বের সাথেই থাকুন।

নমস্কার।