13/03/2026
কদরের রাত গুলো চলে যাচ্ছে । লেখাটা পোস্ট করতে দেরি হয়ে গেছে । অলরেডি কদরের কয়েক রাত চলে গেছে, আসুন বাকি রাতগুলো অবহেলাই নষ্ট না করি ।
'কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে উত্তম । সূরা কদর : আয়াত ৩ ।'
অর্থাৎ এ রাতের এবাদত হাজার মাস বা টানা ৮৩ বছর ৪ মাসের চেয়েও অধিক উত্তম । অন্যভাবে বললে এক রাতের এবাদত ৩০ হাজার রাতের এবাদতের সমান ।
আমাদের রব ছাড়া আর কারো পক্ষে কি সম্ভব এরকম ব্যবসার সন্ধান দেয়া ।
আপনি একবার সুবাহানাল্লাহ বললেন তো ৮৩ বছর ৪ মাসের অধিক সময় ধরে একটানা সুবহানাল্লাহ বলার পুরস্কার পেয়ে গেলেন ।
এ দশটা রাত কি ইবাদত করা যেতে পারে সেটা বলে তো শেষ করা যাবে না, খুব সংক্ষিপ্তভাবে ক্ষুদ্র জ্ঞানে কয়েকটা টিপস দিতে পারি ।
১. প্রতি রাতে অন্তত দু'রাকাত তাহাজ্জুদ পড়তে পারেন । যদি সৌভাগ্যক্রমে লাইলাতুল কদরের রাত পেয়ে যান তবে আপনার দুই রাকাত নামাজ টানা ৮৩ বছর ৪ মাস দুই রাকাত করে নামাজ পড়ার সওয়াব আপনার আমল নামায় লিখা হয়ে গেল ।
২. সুবহানাল্লাহ , আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার- চারটা জিকির আমাদের রবের খুব প্রিয় । এই দশ রাত উঠতে বসতে এ জিকির চালিয়ে যান ।
৩. মানিব্যাগে টাকার স্বল্পতা থাকতে পারে, আচ্ছা ভাই অন্তত দুই টাকা তো দিতে পারবেন । এই দশটা রাত কমসে কম দুই টাকা করে দশ রাতে ২০ টাকা গেল । আচ্ছা যদি কদর রাত পেয়ে যান তবে হিসাব করতে এবার ক্যালকুলেটর নিয়ে বসুন ।
৪. সাধ্যমত কোরআন পড়ুন । এটা কোরআন নাজিলের রাত । যদি সূরা ইখলাছ জানা থাকে কম সে কম তিনবার পড়ুন । সূরা ইখলাসের ওজন সমগ্র কোরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান ।
৫. প্রিয় নবীজির উপর দরুদ পড়ুন । দরুদে ইব্রাহিম পড়তে যদি কষ্ট হয় অন্ততপক্ষে 'সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম' এতটুকু তো পড়তে পারেন।
৬. মোবাইলে হাদিসের অ্যাপস খুলে প্রতিদিন অন্তত দশটা হাদিস পড়ুন ।
৭. বেশি বেশি করে দোয়া করুন । আল্লাহর কাছে অযৌক্তিক অপরিমান বেহিসাব চাইতে থাকুন । আপনার দোয়ায় আপনি ব্যতীত অপর কাউকে সামিল করুন । যে দোয়ায় অন্যকে শামিল করা হয় সে দোয়া কবুল করা হয় । আর কিছুতেই ভুলবেন না ফিলিস্তিনকে, গা_জা সহ সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলিমদের আপনার দোয়ায় শামিল করুন ।
৮. আর আল্লাহর রাসূল সাঃ আয়েশা রাঃ কে কদরের রাতে যে দোয়াটি বেশি পড়তে বলেছেন সে দোয়াটি বেশি করে পড়ুন ।
'আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি ।
হে আল্লাহ আপনি ক্ষমাশীল । আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন । আমাকে আপনি ক্ষমা করুন ।'
'আফুউ' হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ লেভেলের ক্ষমা । আপনি যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে 'আফুউ' পেয়ে যান, তবে দয়াময় রব আপনাকে শুধু ক্ষমা করে দেননি বরং আপনার গুণগুলো মুছে দিয়েছেন । যেভাবে ইরেজার পেন্সিলের দাগগুলো মুছে দেয় । অর্থাৎ কেয়ামতের দিন আপনার আমলনামা থেকে এ গুনাগুলো অদৃশ্য হয়ে যাবে ।
৯. প্রতিদিন তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করুন, যদি দিনটি লাইলাতুল ক্বদরের মাঝে পড়ে, তবে আপনি ৮৪ বছর পর্যন্ত প্রতিদিন এক খতম ক্বুর'আন পাঠের সাওয়াব পাবেন।
১০. আর এ কথাগুলো সবার কাছে সাধ্যমত পৌঁছে দিন "ভালো কাজের পথপ্রদর্শনকারী আমলকারীর সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে, কিন্তু আমলকারীর সাওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না।" (মুসলিম, ২৬৭৪)
আল্লাহ আমাদেরকে সবাইকে 'আফুউ' দিন । হে আল্লাহ গুনাহ করতে করতে ক্লান্ত, বেহিসাব গুনাহে ভরপুর আমার হিসাবের খাতার বেহিসাব পাতা । কদরের রাতটা আমার খুব বেশি দরকার ।
ইয়া রব ।
Copypost