06/04/2026
🇸🇦অনেকেই এখনো বলে-সৌদি আরবে আমেরিকার ঘাঁটি আছে,সৌদি পুরোপুরি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে-বাস্তবতা জানলে আপনি ও আরএই কথা বলবেন না!
✔️প্রথমে বুঝতে হবে,সৌদি আরবে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ছিল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য,স্থায়ী কোনো বিষয় না..
🇮🇷ইরানের রাফিজি শিয়া বিপ্লবের পরে খমুনি সরকার আরব দেশগুলো দখল করার পরিকল্পনা শুরু করে!
⚔️১৯৯০ সালের গালফ যুদ্ধের সময় ইরাকের হুমকির কারণে সৌদি আরব সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ভূখণ্ডে সামরিকভাবে থাকতে দেয়.এটা ছিল জরুরি নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত..
♦️কিন্তু পরে পরিস্থিতি বদলে যায়..
২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে,যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় সামরিক ঘাঁটি সৌদি আরব থেকে সরিয়ে নেয় এবং অন্য অঞ্চলে স্থানান্তর করে-কারণ তখন তাদের অপারেশনের কেন্দ্র পরিবর্তন হয়ে যায়..
এরপর থেকে সৌদি আরবে আগের মতো কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই..
🇸🇦বর্তমানে সৌদি আরবে যে সামরিক স্থাপনা আছে-সেগুলো সম্পূর্ণ সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণে-সৌদি নিজস্ব বাহিনী, নিজস্ব কমান্ড এবং নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলো পরিচালনা করে..
👑আর প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাটিতে কিছু আমেরিকান সৈন্য রেখে দিয়েছে-সৌদি সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য-
শুধু তাই নয়-চীন এবং পাকিস্তানের সৈন্য ও সৌদি আরব এ মজুত আছে সৌদি সৈন্যদের প্রশিক্ষন দেয়ার জন্য-
🇸🇦সৌদি আরব কোনো দেশের উপনিবেশ না,কাউকে জমি দিয়ে বসিয়ে রাখেনি,এবং নিজের নিরাপত্তা নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে.যারা এখনো বলে সৌদি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে তারা হয় বাস্তব ইতিহাস জানে না,না হয় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়ায়!
🔴যদি আরবরা আমেরিকান ট্যাঙ্কের পিঠে চড়ে তেহরানে ঢুকে পড়ত—যেমনটি শিয়ারা করেছিল, যখন তারা আমেরিকান ট্যাঙ্কের ওপর ভর করে বাগদাদে প্রবেশ করেছিল—তাহলে কী হতো?
✅শুধু এটুকু বুঝার জন্যই যথেষ্ট যে সুন্নি ও শিয়ার মধ্যে পার্থক্য কত বড়।
বর্তমানে ইরানকে নিয়ন্ত্রণ করতে আমেরিকার যে জিনিসটি ঘাটতি, তা হলো স্থলবাহিনী। আর শিয়াদের বিরোধী পক্ষগুলোর মধ্যে এমন একজনকেও আমেরিকা পায়নি, যে এই নোংরা দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছে। অথচ যখন ইরাককে পতন ঘটাতে আমেরিকার স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হয়েছিল, তখন শিয়ারা স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব নেয়। তারা চারদিক থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে, এবং তাদের বড়-ছোট, নেতা-নেত্রী ও ধর্মীয় নেতারা সবাই অগ্রভাগে ছিল।
♦️তুমি ফিরে যাও তারেক হাশেমী, ইয়াদ আলাওয়ী, ফায়েক শাইখ আলী প্রমুখ সেই সময়ের নেতাদের সাক্ষ্যগুলোর দিকে। আর দেখো “বূল ব্রিমার” এর স্মৃতিকথা ও সাক্ষ্য—তুমি বিস্মিত হবে সেই সহযোগিতা, বরং আমেরিকা ও শিয়াদের মধ্যে সম্পূর্ণ মিশে যাওয়ার মতো সম্পর্ক দেখে, যা ইরাক দখলের পর ঘটেছিল।
পড়ো সেই যৌথ অপারেশন রুম সম্পর্কে, যেখানে আমেরিকান বাহিনী ও শিয়া নেতারা একসাথে কাজ করত ইরাকি প্রতিরোধকে দমন করার জন্য—ফালুজা ও অন্যান্য অঞ্চলে। কীভাবে শিয়া মিলিশিয়ারা প্রতিরোধকারীদের খুঁজে বের করে আমেরিকান গোয়েন্দাদের কাছে তুলে দিত, তারপর আবার তাদের ফিরিয়ে নিয়ে এসে হত্যা করত—যখন সি আই এ প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করত।
🔰আর একটি কথা—এই সহযোগিতা, সমন্বয় ও এই ধরনের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি; বরং এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই লেখাটি লেখা পর্যন্তও ইরাকের তেল বিক্রির অর্থ ফেডারেল রিজার্ভ-এর নিউইয়র্ক ব্যাংকে জমা হয়, তারপর আমেরিকা নির্ধারিত বাজেট অনুযায়ী তা ইরাকে পাঠানো হয়।
কয়েক সপ্তাহ আগে নূরী আল মালেকী আবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং হুমকি দেন যে ইরাকের তেলের অর্থ আটকে দেওয়া হবে। তখন তোমরা নিজেদেরকে প্রশ্ন করো: কীভাবে এই অঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আমেরিকার হাতে থাকে? এবং কেন শিয়ারা তাদের সম্পদ আমেরিকার হাত থেকে মুক্ত করতে বিদ্রোহ করে না?
✔️সবশেষে—একবার কল্পনা করো, যদি ইরানের সুন্নিরা কোনো বিবৃতি দিত যে আমেরিকান দখলদারের বিরুদ্ধে অস্ত্র তোলা জায়েয নয়। তখন স্মরণ করো ২০০৩ সালে ইরাক দখলের সময় শিয়া মারজাআ আলী সীস্তানীর-এর সেই ফতোয়া, যেখানে তিনি আমেরিকার বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
🇮🇷তাই শীয়াদের ব্যাপারে এটাই বলবো যে,
তোমাদের ইতিহাস ও সাম্প্রতিক অতীত লজ্জা ও সহযোগিতার কলঙ্কে দাগযুক্ত। তাই এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকাই শোভন—কারণ যার কাছে কিছু নেই, সে তা অন্যকে দিতে পারে না।