19/06/2026
কীভাবে ছোটবেলা থেকেই মেয়ের হৃদয়ে হিজাবের ভালোবাসা গড়ে তুলবেন?
অনেক মা-বাবার একটি সাধারণ প্রশ্ন—
"আমার মেয়েকে কীভাবে হিজাব ভালোবাসতে শেখাব?"
হিজাব কোনো কাপড়ের টুকরো নয়; এটি আল্লাহর আদেশ, লজ্জাশীলতার প্রতীক, মর্যাদার পরিচয় এবং একজন মুসলিম নারীর সম্মানের মুকুট। তবে হিজাবের প্রতি ভালোবাসা একদিনে তৈরি হয় না। এটি ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে হৃদয়ে বপন করতে হয়।
▪️১. হিজাবের শিক্ষা শুরু হোক ছোটবেলা থেকেই
অনেক অভিভাবক মেয়ের বয়ঃসন্ধি পর্যন্ত অপেক্ষা করেন, তারপর হঠাৎ করে হিজাবের নির্দেশ দেন। এতে শিশুর কাছে বিষয়টি চাপের মনে হতে পারে।
বরং ৭-৮ বছর বয়স থেকেই হিজাব, শালীনতা ও মুসলিম পরিচয়ের সৌন্দর্য সম্পর্কে তাকে সহজ ভাষায় জানানো শুরু করুন।
▪️ ২. শালীন পোশাকের অভ্যাস গড়ে তুলুন
ছোটবেলা থেকেই অতিরিক্ত আঁটসাঁট, খাটো বা অশালীন পোশাক পরানো থেকে বিরত থাকুন।
এতে সে বুঝবে যে একজন মুসলিম মেয়ের পোশাকেরও একটি সৌন্দর্য ও মর্যাদা আছে।
মনে রাখবেন, এটি হিজাব চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং হিজাবের জন্য মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করা।
▪️ ৩. নামাজের সাথে হিজাবের পরিচয় করিয়ে দিন
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়সে নামাজের আদেশ দাও।”
— সহীহ আবু দাউদ (৪৯৫)
যখন মেয়েকে নামাজের শিক্ষা দেবেন, তখন তার জন্য সুন্দর একটি শিশুদের হিজাব বা ওড়না কিনে দিন।
ঈদের নামাজ, ইসলামিক অনুষ্ঠান কিংবা মসজিদে যাওয়ার সময় সে যেন আনন্দের সাথে হিজাব পরতে পারে।
▪️ ৪. আগে আল্লাহর ভালোবাসা, তারপর হিজাবের ভালোবাসা
শিশুর হৃদয়ে আল্লাহর পরিচয় গড়ে তুলুন।
তাকে বলুন—
- আল্লাহ আমাদের কত নেয়ামত দিয়েছেন।
- আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন।
- আল্লাহ আমাদের দেখেন ও জানেন।
- আল্লাহর আদেশ মানা আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।
যে শিশু আল্লাহকে ভালোবাসতে শেখে, সে আল্লাহর আদেশও ভালোবেসে পালন করতে শেখে।
▪️ ৫. হিজাব নিয়ে ইতিবাচক গল্প বলুন
সাহাবিয়াদের জীবন, নেককার নারীদের ঘটনা এবং ইসলামের ইতিহাস থেকে হিজাবের মর্যাদা সম্পর্কিত গল্প শোনান।
কখনো এমন কথা বলবেন না—
❌ "হিজাব খুব কষ্টের।"
❌ "হিজাব পরলে কিছু করা যায় না।"
❌ "এখনই মজা কর, পরে তো হিজাব পরতে হবে।"
এ ধরনের কথা শিশুর মনে হিজাব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
▪️ ৬. হিজাবকে আনন্দের উপলক্ষ বানান
ছোটবেলায় মেয়েরা কখনো হিজাব পরবে, কখনো খুলবে—এটি স্বাভাবিক।
কিন্তু যখন সে স্থায়ীভাবে হিজাব শুরু করবে, তখন তার জন্য একটি বিশেষ দিন আয়োজন করুন।
ছোট্ট পারিবারিক অনুষ্ঠান, উপহার, কেক বা শুভেচ্ছা দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিন—
এটি তার জীবনের একটি সম্মানজনক অর্জন।
▪️ ৭. মা-ই মেয়ের প্রথম আদর্শ
শিশুরা কথা কম শোনে, কিন্তু কাজ বেশি দেখে।
যদি মা নিজে শালীন পোশাক ও সঠিক হিজাব মেনে চলেন, তাহলে মেয়ের জন্য হিজাব গ্রহণ অনেক সহজ হয়ে যায়।
মায়ের আচরণই মেয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
▪️ ৮. দোয়ার শক্তিকে অবহেলা করবেন না
সন্তানের হেদায়েত আল্লাহর হাতে।
তাই নিয়মিত দোয়া করুন—
"হে আল্লাহ! আমার মেয়ের হৃদয়ে ঈমান, নামাজ ও হিজাবের ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিন।"
নবী ﷺ সন্তানদের জন্য দোয়া করতেন, সাহাবিরাও করতেন। তাই দোয়া কখনো ছেড়ে দেবেন না।
▪️৯. নেক সঙ্গী নির্বাচন করুন
বন্ধু মানুষের চরিত্রে গভীর প্রভাব ফেলে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর থাকে।”
— সুনান আবু দাউদ (৪৮৩৩), তিরমিযী (২৩৭৮)
তাই চেষ্টা করুন মেয়ের বন্ধুদের মধ্যে দ্বীনদার ও ভদ্র মেয়েরা থাকুক।
কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র, মক্তব বা ইসলামিক পরিবেশে তাকে যুক্ত করুন।
▪️ ১০. আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন
অনেক মেয়ে হিজাব পরতে চায়, কিন্তু মানুষের কথার ভয়ে পিছিয়ে যায়।
তাকে বুঝিয়ে বলুন—
- হিজাব দুর্বলতার নয়, আত্মমর্যাদার প্রতীক।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত কখনো লজ্জার নয়।
- কেউ উপহাস করলে ধৈর্য ধরতে হবে।
তার আত্মবিশ্বাস বাড়ান এবং তাকে জানান যে সে আল্লাহর আদেশ পালন করে গর্বিত হতে পারে।
▪️ ১১. হিজাবকে শাস্তি নয়, ভালোবাসার উপহার বানান
কখনো বলবেন না—
"হিজাব না পরলে তুমি খারাপ মেয়ে।"
"হিজাব না পরলে আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসবেন না।"
বরং বলুন—
"তুমি আল্লাহকে ভালোবাসো বলেই হিজাব পরছ।"
"হিজাব তোমার সম্মান ও সৌন্দর্যকে আরও বৃদ্ধি করে।"
▪️ ১২. কুরআনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন
যে শিশুর হৃদয় কুরআনের সাথে যুক্ত হয়, তার জন্য আল্লাহর আদেশ মানা সহজ হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
"নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সর্বাধিক সরল।"
— সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৯
তাই ছোটবেলা থেকেই কুরআন তিলাওয়াত, মুখস্থ ও অর্থ শেখার পরিবেশ তৈরি করুন।
----লেখাঃ আইন উদ্দিন আইনী
---- আরবি থেকে অনূদিত
:
📌 হারামে ভরপুর এই সোশ্যাল মিডিয়ায়, একটা সুন্দরতম হালাল পোস্ট উপহার দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
ফলো করতে পারেন:👉 Musaafir - ﻣُﺴَﺎﻓِﺮ